দেশজোড়া করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অতিমারীতে আক্রন্ত মানুষের ত্রাণ ও সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পিএম কেয়ার্স ফান্ড নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই তহবিলে অর্থ দান করেছিলেন বিভিন্ন বিশিষ্ট শিল্পপতি থেকে শুরু করে বলিউড অভিনেতারা। পি.এম কেয়ার্স ফান্ডের বিষয়ে কখনও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি সরকারি ফান্ড। কিন্তু আরটিআই-এর আওতায় পড়ে না। আবার কখনও বলা হচ্ছে, সরকারি ফান্ড নয়।
প্রশ্ন :—
১) সরকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দেশের মানুষকে ঐ ফান্ডের মেমোরান্ডাম অফ ট্রাস্ট দলিলের নির্দিষ্ট অংশ দেখিয়ে বলুন এটি বক, কচ্ছপ না বকচ্ছপ?
২) আরটিআইয়ের আওতায় আসবে না কেন? মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, সরকারি কর্মচারী তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ব্যয়ের হিসেব দেবেন, আর প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন ট্রাষ্ট দেবে না? স্বচ্ছ ভারত কি শুধু শৌচাগারে আটকে থাকবে? লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লেনদেনে কেন স্বচ্ছতা থাকবে না? ঘোটালা বেরিয়ে পড়তে পারে এই আশংকায়?
৩) সরকারি বয়ানে বলা হয়েছে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সংস্থা, এন আর আই, ব্যক্তি দান করেছে? এরা কারা? দানের বিনিময়ে তারা কী কী সরকারি সুবিধে পেলেন?
৪) এটা কি ঠিক যে বিদেশের সমস্ত ভারতীয় দূতাবাসকে কাজে লাগানো হয়েছে এন আর আই ও বিদেশী কোম্পানীর ‘দান’ যোগাড় করতে এবং এর মধ্যে দুবাই ও চীনা কোম্পানীও নাকি প্রভূত টাকা দান করেছে ?
৫) ২৭ মার্চ তৈরী হওয়া এই ট্রাস্ট দলিলের ৩-এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “এই ট্রাস্টে কোনওভাবেই কোনও সরকার বা সরকারি সংস্হার মালিকানা, অর্থ বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের বা কোনও রাজ্য সরকারেরও ট্রাস্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই।” তার মানে দাঁড়াল ট্রাস্টের নথিভুক্ত দলিলই বলছে, এটি অ-সরকারি ট্রাস্ট। অথচ, নথিভুক্ত হওয়ার পরের দিনই অর্থাৎ এবছর ২৮ মার্চ কেন্দ্রের কোম্পানি বিষয়ক মন্ত্রক অফিস মেমো জারী করে বলল, এই ফান্ড সি এস আর-এর অনুদান নিতে পারবে। অথচ, কোম্পানী আইনে শুধুমাত্র সরকারি সংস্থা কল্যাণমূলক কাজের জন্য কোম্পানীগুলির কাছ থেকে দান নিতে পারে। ঐ অফিস মেমোও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। তাহলেই জানা যাবে ঐ ফান্ডে সরকারি সংস্থার টাকা ঢুকেছে কিনা। নইলে এই দুমুখো সরকারি অবস্থানের বিষাক্ত ধোঁয়াশা কাটবে না।

দাবী :—
১) অবিলম্বে এই ফান্ডের গঠন, আয়ব্যয়ের সূত্র ও পরিমাণ নিয়ে সিএজি ফোরেনসিক তদন্ত করুক।
২) তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ফান্ডকে অ্যাটাচ করা হোক।
৩) অন্যথায় ট্রাস্ট ভেঙে দিয়ে সরকার সমস্ত টাকা বাজেয়াপ্ত করুক এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।
আর কোনও পদক্ষেপ না করে যদি শুধু এভাবে বিভ্রান্তি ছডানো হয় তাহলে বুঝতে হবে যে কোভিডকালে এটি মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় ঘোটালা যা দেশের মানুষকে জানতে দেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং সরকার মুখোশ খুলে মুখ খুলুন।
লেখক : জাতীয় মুখপাত্র ও মুখ্য সচেতক, তৃণমূল সংসদীয় দল( রাজ্যসভা)