মাস দেড় আগে দেশের আরো কয়েকটি বিমান বন্দরের সঙ্গে আগরতলার নবনির্মিত বিমানবন্দর বিক্রি করে দেওয়া হয় আদানি গোষ্ঠির কাছে। এই বিমানবন্দর এ দিন উদ্বোধন করে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। এর সঙ্গে দুইটি সরকারি প্রকল্পও উদ্বোধন করলেন, যা মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায় ত্রিপুরার জন্য তিন ‘আনমোল’ উপহার। অবাক করার বিষয়, সরকারি এই অনুষ্ঠানে এদিন ব্রাত্য ছিলেন ত্রিপুরার দুই সাংসদ। সিপিএমের রাজ্যসভা সাংসদ ঝর্ণা দাস বৈদ্যকে আমন্ত্রন জানানো হয় নি, এমনকি বাদ গেছেন বিজেপির সাংসদ রেবতি ত্রিপুরাও।
সকালে এই নিয়ে ফেসবুকে লিখলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। কোনও রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী এলে সব কিছুতেই সাংসদদের অগ্রাধিকার থাকে। কিন্তু রেবতী কেন বাদ গেলেন এ নিয়ে খানিক গুঞ্জনও হয়। বাদ পড়ার তো কথা নয় কোন ভাবেই, কারন তিনি আবার বিজেপির জনজাতি মোর্চার সভাপতি। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা রেবতী ত্রিপুরাকে জানতে চাইলে তিনিও বিষ্ময় প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের জানান, তাঁকে মাঠে যাওয়ার জন্য কোন সাধারন চিঠিও দেওয়া হয় নি। এর পর মাঠে যদি যানও বা, তাহলে কোথায় বসবেন তা তো তিনি জানেন না।

রেবতি ত্রিপুরা
যদিও শেষ পর্যন্ত মাঠে তাঁকে পাওয়া গেল বিধায়কদের সারিতে। রেবতী আমন্ত্রন পেলেও কোন আমন্ত্রন পান নি সিপিএমের রাজ্যসভা সাংসদ ঝর্ণা দাস বৈদ্য। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আগরতলা বিমানবন্দর পর্যন্ত দীর্ঘ পথ তোরন, ফ্ল্যাগ- ফেস্টুন ব্যানার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার কোথাও বিজেপির সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা কিংবা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুশ্রী প্রতিমা ভৌমিকের ছবি রাখা হয় নি। মন্ত্রিসভার সব সদস্য এবং রাজ্যদলের প্রায় সবার ছবি থাকলেও ছিলেন না এই দুইজনের ছবি।
এদিকে আগরতলায় বিবেকানন্দ মিনি স্টেডিয়ামের জনসভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী যখন বোতাম টিপে বিমানবন্দর-সহ পরপর তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন সেখানে প্রকল্পগুলি নিয়ে তিন তিনটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র দেখানো হয়। সেখানে যথারীতি বিজেপি সাংসদের নাম থাকলেও তাঁকে ময়দানে কোথাও রাখা হয় নি। এ নিয়ে জোর বিতর্ক এখন। পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা আসনের বিজেপি সাংসদ প্রতিমা ভৌমিকের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্তির খবর জানতেনই না মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বা ত্রিপুরা বিজেপির কেউ। দিল্লি থেকে অন্তর্ভূক্তির খবর আসার প্রায় পঞ্চাশ মিনিট পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন সে দিন মুখ্যমন্ত্রী। তার সুপারিশ ছাড়া এই ভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রতিমা স্থান করে নেওয়ায় যথেষ্ট বিব্রত বিপ্লব কুমার দেব ধরেই নিয়েছিলেন তার চেয়ারেও যে কোন দিন টান পরতে পারে।

প্রতিমা ভৌমিক
সেই বিপদ আপাতত প্রতিমার তরফে কেটে গেলেও একেবারে তো কেটে যায় নি। কারন বিজেপির আশিস দাস, সুদীপ রায় বর্মন, আশিস সাহার মতো সংস্কারবাদী বিজেপি বিধায়কেরা কার্যত আজ গৃহবন্দি হয়েও বিপ্লব দেবকে শিরপীড়া দিয়ে চলেছে। দিল্লিতে, ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের কাছাকাছি বসবাসকারী সাংসদ রেবতি ত্রিপুরাও না তার শিরপীড়ার কারন হয়ে উঠে সেই আশঙ্কাতেও তাঁকে ঘেষতে দেওয়া হল না প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে।