এই নিয়ে চতুর্থবার দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সোমবার ২৭ এপ্রিল সকালে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম এমন বৈঠক হয়েছিল ২০ মার্চ, তারপর ২ ও ১১ এপ্রিল। এদিন বৈঠকের শেষে জানা গিয়েছে, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ছে। তবে যে জেলাগুলিতে সংক্রমণ নেই বা কমেছে সেখানে পর্যায়ক্রমে লকডাউন শিথিল করা হবে। ওডিশা চাইছে, পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে আরও এক মাস লকডাউন বাড়ানো হোক।

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন মার্চের প্রথম দিকে ভারত-সহ অন্য অনেক দেশে করোনা পরিস্থিতি একই রকম জায়গায় ছিল। ভারতের জনসংখ্যা যা তা আবার অন্য কয়েকটি দেশের মোট জনসংখ্যার সমান। ফলে সময়মতো পদক্ষেপ করায় ভারতের অবস্থা অন্য দেশগুলির তুলনায় ভালো। দেড় মাস ধরে লকডাউন চালানোয় কয়েক হাজার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে করোনার প্রভাব আগামী দিনগুলিতে বোঝা যাবে। করোনার সঙ্গে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। ‘দো গজ দূরি’ বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পাশাপাশি আগামী দিনেও মাস্ক ও ফেস কভার নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হতে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, হটস্পট, বিশেষ করে রেড জোনগুলিতে কঠোরভাবে লকডাউন সুনিশ্চিত করতে হবে। রেড জোনকে অরেঞ্জ ও তারপর গ্রিন জোনে আনতে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ করতে হবে রাজ্যগুলিকে। লকডাউন প্রয়োগের মাধ্যমে বেশিরভাগ মানুষের জীবন বাঁচানোর পক্ষে সওয়াল করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

জানা গিয়েছে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসংগঠিত ক্ষেত্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলেছেন। নজরদারি চালাতে বলেছেন প্রতিবেশী দেশগুলির সীমান্তবর্তী এলাকায়। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও ভালো করতেও মুখ্যমন্ত্রীরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানান। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা কীভাবে করা যায় তা নিয়েও মতামত ব্যক্ত করেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এদিনের বৈঠকে যোগ দেননি কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ছিলেন ওই রাজ্যের মুখ্য সচিব।