| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

আমিনুল ইসলামের কাব্যভাবনায় নদী

Reporter Default
রিপোর্টার / ২০৩৮ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

মিল্টন বিশ্বাস

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কবি আমিনুল ইসলামের জন্ম ১৯৬৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর।তাঁর বেড়ে ওঠা রাজধানীর বাইরে গ্রাম, উপশহর ও শহরে।বাল্যকাল থেকে লিখতে শুরু করলেও তাঁর গ্রন্থসমূহের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বিলম্বে।তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো- তন্ত্র থেকে দূরে (২০০২), মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম (২০০৪),  শেষ হেমন্তের জোছনা (২০০৮),  কুয়াশার বর্ণমালা (২০০৯), পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি (২০১০) স্বপ্নের হালখাতা (২০১১),  প্র্রেমসমগ্র (২০১১), জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার (২০১২), শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ (২০১৩), কবিতাসমগ্র (২০১৩),  জোছনার রাত বেদনার বেহালা (২০১৪),  আমার ভালোবাসা তোমার সেভিংস অ্যাকাউন্ট (২০১৫) প্রণয়ী নদীর কাছে (২০১৬), ভালোবাসার ভূগোলে (২০১৭), অভিবাসী ভালোবাসা (২০১৮), জলের অক্ষরে লেখা প্রেমপত্র (২০১৯), বাছাই কবিতা (২০১৯)।  কাব্যের বিচিত্র সুর, সংগীত ও ব্যঞ্জনার পরিসরের বাইরেও আমিনুল ইসলামের ছড়া গ্রন্থ দাদুর বাড়ি (২০০৮), ফাগুন এলো শহরে (২০১২) রেলের গাড়ি লিচুর দেশ (২০১৫) এবং প্রবন্ধ গ্রন্থ বিশ্বায়ন বাংলা কবিতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০১০) গুরুত্বপূর্ণ রচনা। সরকারি চাকরিজীবী হলেও আমিনুল ইসলামের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য কবিতা। বাল্যকাল থেকেই তিনি আত্মনিয়োগ করেছেন কাব্যচর্চায় এবং নিজের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বাংলা কবিতায় তাঁর আত্মপ্রকাশ বর্তমানে অভিনন্দিত।

২.

আমিনুল ইসলামের কাব্যভাবনায় প্রেম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বলা যায়, আমিনুল ইসলামের কাব্যবিশ্বের কেন্দ্র হচ্ছে প্রেম।তিনি প্রেমের ভেতর দিয়ে জীবন ও জগতকে দেখতে চেয়েছেন। “আমার ভালোবাসা- জলের জীবনচক্র/ মেঘ হয়ে- বৃষ্টি হয়ে- জল হয়ে/ বারবার আছড়ে পড়ে তোমার স্রোতের শরীরে।” (কীর্তনখোলার ঢেউ/ জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার) এভাবেই আমিনুল ইসলাম সমসাময়িক কাব্যস্রোতের অনেকটা বিপরীতে প্রেমের কবিতা লেখেন। তাঁর প্রেমের কবিতাগুলো প্রচলিত প্রেমের কবিতার চেয়ে কিছুটা আলাদা। একবিংশ শতাব্দির উঠোনে দাঁড়িয়ে অতোটা রোমান্টিক হওয়ার সুযোগ নেই, যুক্তি তো নেই-ই। সেজন্য তাঁর প্রেমের কবিতা নিছক প্রেমের কবিতা হয়ে থাকেনি। প্রেমের কবিতায় আমিনুল ইসলাম স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দিয়েছেন। অনুরাগের ছোঁয়ায় তাপিত হয়েছেন তিনি। অন্তরঙ্গ অনুভূতির স্পর্শে প্রাণিত তাঁর কাব্য। মূলত নিছক প্রেমের কবিতায় আবদ্ধ থাকেননি তিনি। নর-নারীর লীলালাস্য নেই সেখানে। প্রেমের ভেতর সংঘাত সংকট আছে। অন্তর্লোকে আছে বেদনা, জীবনতৃষ্ণা তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড সংবেদনায় সবকিছু উথলে উঠেছে কবিতায়। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রেমের পরিধি থেকে তা ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজ্ঞান ও লৌকিকজীবনে প্রসারিত। বিষয় ভিন্ন বলেই ভাষিক জগৎ ভিন্ন তাঁর। গঠন সৌষ্ঠব ব্যতিক্রমী। জীবনের জয়গান করেন প্রেমের দায়বদ্ধতায়। প্রেম জীবনের বাস্তব আকাঙ্ক্ষায় অবিনাশী রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। আর্তনাদ থাকলেও তা আনন্দে উদ্ভাসিত। অসম প্রেমের দৃশ্য আছে কোনো কোনো কবিতায়। আছে অসহায় প্রেমিক প্রেমিকার জীবন। গবেষক-প্রাবন্ধিক সরকার আবদুল মান্নান মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করেছেন:‌‍‍‍‍‍ ‘‘প্রেমের‍ কবিতার একটি প্রথাগত রূপৈশ্বর্য ও বিষয় বৈভবের সঙ্গে আমাদের পরিচয় আছে। বিচিত্র অনুষঙ্গে মানব-মানবীর লীলালাস্যই সেখানে মুখ্য। আমিনুল ইসলাম মোহন প্রেমের এই প্রথাগত আখ্যান রচনা করেন না। সংঘাতময় জীবনের বিচিত্র ক্ষতকে তিনি তুলে ধরেন জীবন-প্রেমিকের বিস্ময়কর অন্তর্লোক থেকে। ফলে নারী নয়, পুরুষ নয়, আটপৌরে প্রতিদিন নয় বরং এসবকিছু নিয়েই সৃষ্টি হয় তাঁর প্রেমের কবিতার প্রবল জীবন-তৃষ্ণা। প্রচণ্ড এক সংবেদনার মধ্যে কবি আমিনুল ইসলামের কবিতা প্রাণময় হয়ে ওঠে। এই সংবেদনা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রেমের সীমা অতিক্রম করে যায় অবলীলায় এবং ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজ্ঞান ও লোকজীবন তাৎপর্যপূর্ণ সফলতায় ধরা দেয় কবির প্রেমভাবনার অবয়বে। ফলে পাল্টে যায় পরিচিত ডিকশন, প্রবল প্রতাপান্বিত ফর্ম। আর সেই বিচূর্ণ কবিভাষার সমাধিস্থলে গজিয়ে ওঠে আমিনুল ইসলামের প্রেমের কবিতার নতুন এক ভাষিক জগৎ, স্বতন্ত্র এক গঠনসৌষ্ঠব। জীবনের প্রতি গভীর মমত্ববোধ আমিনুল ইসলামের কবিতার অন্তর্গত শক্তি। ফলে সমকালের বিচিত্র দুর্দৈবের মধ্যেও তাঁর কবিতায় মূর্ত হয়ে ওঠে অবিনাশী জীবনের গান। বোধের এই সততা ও দায়বদ্ধতায় আমিনুল ইসলামের প্রেমসমগ্র হয়ে ওঠে জীবনসমগ্র “আর্তনাদের মধ্যে আনন্দিত উত্থান।’’(আমিনুল ইসলামের কবিতা: প্রকৃতির দ্বৈরথে জীবনের পাঠ/ সরকার আবদুল মান্নান)

আমিনুল ইসলাম নীতিগতভাবে প্রগতিশীল বাম রাজনীতিকেই সমর্থন করে এসেছেন। এজন্য প্রেমের কবিতায় ঢুকে পড়েছে কবির অনুধ্যানের রাজনৈতিক চিত্রকল্প, একান্ত অনুভূতি রঞ্জিত হয়ে উঠেছে নবতর উপমার রঙে। সে কারণে তাঁর অধিকাংশ কবিতা ভাব ও ব্যঞ্জনায় বহুমাত্রিক বা মাল্টি-ডাইমেনশনাল।

৩.

আমিনুল ইসলাম তাঁর আত্মজৈবনিক লেখা ‘আমার কবিতা লেখার পেছনে’ শিরোনামের গদ্যে নদীর কথা দিয়ে সর্বান্তে অনুভূতিমালা সাজিয়েছেন। নদী তাঁর কাব্যভাবনায় স্থায়ী প্রভাব রেখেছে। একাধিক গ্রন্থের নাম নদীর নামে কিংবা নদী শব্দ রয়েছে অসংখ্য কবিতায়।‘মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম’ (২০০৪) এবং   ‘প্রণয়ী নদীর কাছে’(২০১৬) দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। কবি জলের সন্তান, চরাঞ্চলে জন্ম। এজন্য তিনি বলেছেন, “যে কোনো অর্থেই আমি জলের সন্তান- কোনো জনমে জলদাস ছিলাম কি না জানি না। নদী আমার জন্মদাত্রী থেকে খেলার সাথি হয়ে প্রথম যৌবনে প্রেমিকার স্থান দখল করে। ভরাবর্ষায় আমি তরঙ্গায়িত পাঙ্গাশমারীর বুকে গাঙচিলের মতো ঝাঁপ দিতাম আর স্রোত ও ঢেউয়ের দোলায় ভেসে যেতাম মাইলের পর মাইল। বহুবার নাকানিচুবানি খেয়েছি, তবে কখনো সে আমাকে মাঝগাঙে ডুবিয়ে মারেনি। পরবর্তীতে ইটসিমেন্টের পাষাণ উঠোনে বসে পাঙ্গাশমারীকে নিয়ে স্মৃতিকাতর কবিতা লিখেছি। নদী আমার ব্যক্তিগত জীবনে, আমার স্বপ্নের উঠোনে এবং আমার কাব্যভাবনায় প্রায় স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে আছে। নদী নিয়ে আমি প্রায় স্বপ্ন এবং দুঃস্বপ্ন দেখি। নদী সিরিজে আমার অনেক কটি কবিতা আছে। পাঙ্গাশমারী নদীকে নিয়ে লেখা আমার একটি কবিতার কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি:

“অথচ এই তো সেদিন- আমি সবে উত্তীর্ণকৈশোর,

তুমি জলের যুবতী ডেকে নিতে উন্মাতাল

যৌবনের প্রথম শিহরে (মনে আছে!) উড়িয়ে দিয়ে

ভরাবুকে ঢেউয়ের আঁচল! ভুলে ডাঙার ভ্রূকুটি

ঝাঁপ দিয়া জলে কতদিন ভেসে গেছি নগ্নবক্ষ গাঙচিল!

ইচ্ছে হলে নিতে পারতে ভাসিয়ে অকূলে

ওই অষ্টাদশীর জলাবর্ত তোমারও তো ছিল

আর আশৈশব আমিও তো জলপাগলই ছিলাম!”

(পাঙ্গাশমারী/ জলের অক্ষরে লেখা প্রেমপত্র)

নদীবর্তী কৃষক পরিবারে আমার জন্ম। আমার সহপাঠী ও খেলার সাথিরাও তাই ছিল। সকল প্রকার কৃষিকাজ স্বহস্তে করার সহজ অভিজ্ঞতা আমার অতীত ভান্ডারকে ভরে রেখেছে। নৌকোর মাঝি, মাঠের রাখাল, সকলেরই সহসাথি ছিলাম আমি।”

নদী তীরবর্তী প্রাচীন জনপদও কবিকে প্রাণিত করেছে। বিশেষত মহানন্দার পাড়ে গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদ সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে অতুলনীয় ঐশ্বর্যের অধিকারী, অথচ আমাদের সাহিত্যে তার ছবি প্রায় অনুপস্থিত। এই বেদনার উপলব্ধি তাঁকে ‘মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম’ কবিতাটি লিখতে উৎসাহী করে। যার সমাপনী ঘটেছে খেদোক্তির মতো চরণ দিয়ে, “আমাদের একজন অদ্বৈতমল্ল নেই, থাকলে আমরাও পেতাম/ কালের স্রোতে মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম।”  অনুরূপভাবে রংপুর অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাহিত্য-সংস্কৃতির নিকট অতীত, তার বর্তমান দৈন্য ও দারিদ্র তাঁকে ব্যথিত করেছে। তিনি লিখেছেন, ‘তিস্তার কোল ঘেঁষে মাঘ’-এর মতো প্রতীকধর্মী সমাজমনস্ক কবিতা। আবার নওগাঁর আত্রাই-নাগর নদীর আদর তাঁর চোখে মুগ্ধ গভীর দৃষ্টির প্রলেপ এঁকে দিয়েছে। তিনি মুগ্ধ উচ্চারণে বলে উঠেছেন-

“শরৎ ছুঁতে চায় হেমন্ত; আমনের ক্ষেতে আঁচল উড়িয়ে

ভোরের হাওয়ায় ভাসে বাংলাদেশ।

আত্রাইয়ের জল এসে আলতো হাতে ধুয়ে দেয় তার প্রত্নরাঙা পা।”

(ভোরের হাওয়ায় ভাসে বাংলাদেশ/ মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম)

৪.

নদী আমিনুল ইসলামের কাছে মায়ের মতো। সে তাঁর প্রথম যৌবনের খেলার সাথি এবং প্রেমিকাও। মনের দিক থেকে তিনি পুরোপুরি প্রকৃতি-লগ্ন। ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপে সেই নদী আজ ধু-ধু বালুচর। মূলত নদী প্রসঙ্গ এবং বরেন্দ্রভূমিতে জীবনযাপনের নানা আবহ তাঁর কবিতায় বারবার এসেছে। আমিনুল ইসলামের কবিতায় প্রকৃতি এসেছে নানাভাবে, নানাপর্যায়ে, ভাবের আবেগে এবং দ্বৈরথেও। প্রকৃতির এক প্রধান রূপকার হচ্ছে নদী। আমাদের তৃষ্ণা, অভিমান ও কান্না বারবার ছুটে যায় নদীর কাছে। নদীর সঙ্গে মানুষের নাড়ির যোগাযোগ আছে বললে ভুল বলা হয় না। নদী এক প্রিয় বিষয় কবিদের। কবি নিজেই বলেছেন, নদী নিয়ে অনেকগুলো কবিতা লিখেছেন তিনি।  ‘শেষ হেমন্তের জোছনা’  কাব্যগ্রন্থে বেশ কয়েকটি কবিতা নদীকে নিয়ে। তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থের নামকরণও নদীকে ঘিরে ‘মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম’ । ‘কুয়াশার বর্ণমালা’ বইয়েও ঠাঁই পেয়েছে বেশ কটি নদীর কবিতা। খানিকটা উদ্ধৃত করা যাক নদীর কবিতা থেকে-

“…যে আমগাছের তলায়

আমার নাড়ি পোতা, শৈশবের এ নদী সেখানে সঙ্গোপনে

সন্ধ্যাজল দিয়ে আসে; আমের পাতা শিশুর গালের

মতো হয়ে এলে জলের পাঠ নিতে ব্রীজের ওপর

দাঁড়িয়ে আছি বাতাসে মেলে দেয়া- আরব্য-

উপন্যাসের পাতার মতো গড়িয়ে চলেছে ঢেউয়ের

পর ঢেউ পুরো পাঠ নেয়ার আগেই উল্টে যায় পাতা।

দু’একটি মোটাদাগের শিরোনাম ছাড়া টুকে রাখা

যায় না কোনো বিবরণ। নর্তকীর ঘুঙুর আর সদাগরী

জাহাজের ছাপ স্পষ্ট হলেও প্লাবনসদৃশ একটা ছবি

দ্রুততায় দৃষ্টির অগোচর হয়েছে। অবাক করার

মতো ব্যাপার এই যে জলপুস্তকের ভেতর হতে

বিচ্ছুরিত শুকনো ফুলের সুবাস ভরে তুলেছে সিক্ত

বাতাসের শরীর, নদী দু’পাড়।” (নদী-দুই/শেষ হেমন্তের জোছনা)

নদীর যেমন নানা রকম খেলা থাকে জলের শরীর নিয়ে বাতাসের তালে, দু’পাড় আর বালুচরের সঙ্গে, নদীর যেমন বহুদূরের পরিভ্রমণ ও বহু ইতিহাসের গোপনকে ধারণ করা ঐশ্বর্য থাকে, তেমনি সেইসব পাঠকে রপ্ত করার মতো করে এই কবিতাটিও গ্রহণ করেছে শব্দের সুসজ্জা। অনুভবের রঙ, উপমা, চিত্রকল্প দিয়ে অতীত ও বর্তমানকে অর্থময়ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি এই কবিতায়। প্রকৃতির ক্যানভাসে কবি সময়ের বহুমাত্রিক ছবি এঁকেছেন কিন্তু চূড়ান্ত অর্থ রহস্যমন্ডিত রয়ে গেছে। ‘স্রোত ও ঢেউ-তিন’ শিরোনামের কবিতাটি এর পাশাপাশি উদ্ধৃত করা যেতে পারে-

“গন্তব্য উজানে জেনে

ঢেউয়ের পিঠে সওয়ার হওয়া

গন্তব্যের কাছাকাছি যখন

থেমে গেছে হাওয়া

এখন একান্ত অনুনয় শুনে

হেসে ওঠে স্রোত।” (স্রোত ও ঢেউ-তিন/ কুয়াশার বর্ণমালা)

আমিনুল ইসলামের কবিতায় নদী শুধু নদী থাকে না। নদী হয়ে ওঠে ঘটনার সমীকরণ, নদী হয়ে ওঠে জীবনের আরেকরূপ, নদী হয়ে ওঠে নারী। কিন্তু হৃদয়ের অর্ধেকটা নদীকে দিয়ে দিলেও বাকী অর্ধেকটা কবি রাখতে চান প্রকৃতির অন্য সুন্দর জিনিসগুলোর জন্য। স্বদেশের প্রতিটি নদী যেন তাকে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে রাখে, বৃক্ষের সুশীতল ছায়ায় তিনি অনেক দগ্ধতাকেই ভুলতে পারেন। কিছু দেখা, কিছু শোনা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা তার কবিতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে, গৌরবের অতীত হয়ে উঠেছে রোমাঞ্চকর বর্তমান। সেখানেও আছে নদী।

“…মনে আছে প্রতিজ্ঞার মতো মাথায় বাঁধা

লাল গামছা, পরনে নিত্যপ্রস্তুতির মতো লুঙ্গির মালকোচা

কিংবা হাফপ্যান্ট, কাঁধে স্টেনগান আর বুকে লুকিয়ে

দেশপ্রেমের গ্রেনেড, পড়ন্ত বিকেলে নৌকায় আসতেন

তীরহারা সেই ঢেউসাগরের নবীন মাঝিরা: নজরুলভাই-

আমজাদচাচা, সামাদকাকা-ইসমাইলমামা, ওমরভাই এবং

আরও অনেকেই। তারা সকলেই ছিলেন তরুণ টগবগে এবং

অকুতোভয়; এখন বুঝি তাদের কেউ কেউ ছিলেন ‘বিদ্রোহী’

কবিতার নায়ক; তাদের বেয়াড়া চুল হতে বেরিয়ে আসতো

ছাত্রজীবনের ঘ্রাণ। কাজের বাহানায় বের হয়ে তাদের একনজর

দেখে নিতেন গেরস্তঘরের বউয়েরাও; আমরা আন্দাসা আর

চালভাজা দিয়ে আসতাম বৈঠকের কাছে বাঁধা ভালোবাসার নৌকায়।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথেসাথে তারা উধাও হয়ে যেতেন

অকূল প্লাবনে সঙ্গে নিয়ে নৌকামার্কা হৃদয়, হৃদয়ভর্তি নৌকা।

রাতের অন্ধকারে গুড়িয়ে যেতো দূরে কোথাও কোনো

রাজাকার-ক্যাম্প, কিংবা দালালের আস্তানা, অথবা মহানন্দায়

অস্ত্রবোঝাই শত্রুজাহাজের গলুই। কোনো কোনো বার                     

মুক্তিযোদ্ধারা সাঁতার কেটে উঠে আসতেন সফল ভোরের মোহনায়;

তাদের ক্ষুধার্ত চোখেমুখে ফুটে থাকতো রাতজাগার ছাপ,

আর পরবর্তী অপারেশনের বাজখাই প্রতিজ্ঞা।”

(আমার মুক্তিযোদ্ধা হতে পারা না পারার গল্প/ জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার)

আরো কিছু উদ্ধৃতি দিচ্ছি যেখানে নদীর কীর্তিনাশা রূপ বর্ণিত হয়েছে-

ক)

‘‘হাঙর-গ্রাসিত গাঙচিলের মতো

এখন তুমি মহা-আগ্রাসীর পেটে

হে আমার জন্মসুতোর লাটাই

মননের উৎসভূমি- টিকলীচর!

আর অধম আমি জন্মের ঋণ নিয়ে

অক্ষম দূরত্বের আঙিনায়

ফলে তো আজ নিজেই ঠিকানাহীন

অঘোষিত উদ্বাস্তু ফেরার।

যে মাটিতে নাড়ি পোতা

যে ধুলো স্বপ্নের কণা দিনে দিনে

আমার শৈশব ঘিরে

কল্পিত স্বর্গের মতো রচেছে প্রাসাদ

আজ তা অনস্তিত্বের সোনা।”

(পদ্মার পাড়ে বসে/ মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম)

খ)

“ভাঙতে ভাঙতে পলিময় পয়স্তি

ত্যক্ত উঠোনে তাই তো নবান্ন;

ঢেউ হানো- এপারে চর জাগে

আমার পূর্বপুরুষ নদীবাসী ছিলেন

তাই বারোমাসের ভাবনাও বাসি।

দেখে যাও–সোনালি দানায় ভরে

গেছে ঘরদোর। তবু জমে আছে

কতিপয় বেয়াড়া বিচালির গোড়া;

চৈতের খৈলানে এবার বহ্নুৎসব।”

(স্রোতের ভাঙন চরের উৎসব/ শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ)

৫.

প্রকৃতিময়তায় আমিনুল ইসলাম নদীবিধৌত টিকলীরচর গ্রামের কথা বলেছেন। পদ্মা নদীতে বিলীন গ্রাম খুঁজে ফিরেছেন। এখনও ভিটেমাটি হারা মানুষের দীর্ঘশ্বাস শোনেন তিনি। আগেই বলা হয়েছে, নদী তাঁর কাছে মায়ের মতো। খেলার সাথি। ফারাক্কা বাঁধের জন্য নদী ধূধূ বালুচর। তাঁর কাব্যে নদী প্রসঙ্গ দিয়েই বরেন্দ্রভূমির জীবনযাপন এসেছে। আর প্রকৃতির প্রধান রূপকার হিসেবে নদী এসেছে অসংখ্য কবিতায়। কবির তৃষ্ণা, অভিমান, কান্নার স্বর ধ্বনিত হয়েছে কবিতায়। নদী ও মানুষের অদ্বৈত সম্পর্কের রূপও আছে। ‘শেষ হেমন্তের জোছনা’ কাব্যের কয়েকটি কবিতা নদী নিয়ে। ‘নদী- দুই’ (শেষ হেমন্তের জোছনা) শৈশবের নদীর সঙ্গে কবির নাড়ির সংযোগ ব্যাপ্ত, যেখানে স্মৃতি টেনে আনে তার রূপের পাঠ নেবার জন্য। নদীর জলে ভেসে চলা পাতার সৌন্দর্যে উদ্বেল কবি। নদী তাঁর কাছে ‘জলপুস্তক’ যার ভেতর থেকে বিচ্ছুরিত হয় ফুলের সুবাস। জলের শরীর, দুপাড়ের বালুচর, তার বয়ে চলা বহুদূরের পথ, ইতিহাসের গোপন অলিন্দ নদীর ঐশ্বর্য হিসেবে খ্যাত। প্রকৃতির ক্যানভাসে নদী রহস্যমন্ডিত হয়ে পাঠকের কাছে আত্মপ্রকাশ করে।  ‘স্রোত ও ঢেউ-তিন’  (কুয়াশার বর্ণমালা) কবিতায় নদী ঘটনা নিয়ে হাজির হয়েছে। জীবনের ভিন্নতর রূপ দেখা যায় এখানে। নদী মানে নারী। এজন্য হৃদয়ের অর্ধেক নদীকে এবং বাকিটা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে দিতে চান কবি।

প্রেমের কবি হিসেবেও আমিনুল ইসলাম নদীর মতো বহমান অনুভবে মাতোয়ারা। এজন্য তাঁর প্রেমানভূতির কথায় নদী এসেছে। কবির হৃদয়ে অন্তরঙ্গ অনুভূতির ধারা নিশুতি বসন্তরাতের নদীর মতোই নিয়ত প্রবহমান। সে নদীতে কখনো চর জাগে, কখনো ঢেউ; কখনো শুকায়, কখনো বা নবধারা এসে তাকে বেগবান করে তোলে। এ নদী শুধু আনন্দের উচ্ছল-ধারায় নয়, একইসঙ্গে চোখের জলের গভীর-স্রোতও। তাঁর বুকের মাঝে এক চির-অচেনা বিরহী-আত্মার বসবাস। তিনি প্রায়শ নজরুলের গান উদ্ধৃত করেছেন: “মোর অন্তরে বহে সদা অন্তঃসলিলা অশ্রু-নদী / সেই যমুনার তীরে করো তুমি লীলা নিরবধি।’’ কবির স্বদেশ প্রেমের কবিতায় নদী আছে। এদেশের প্রতিটি নদী তাকে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে রেখেছে। আবার মুক্তিযুদ্ধের কবিতায় নদী এসেছে। ‘আমার মুক্তিযোদ্ধা হতে পারা না পারার গল্প’ (জলচিঠি নীল স্বপ্নের দুয়ার)- এ আছে :

“তীরহারা সেই ঢেউ সাগরের নবীন মাঝিরা।  

আসতেন পড়ন্ত বিকেলে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে

তারা উধাও হয়ে যেতেন/ অকূল প্লাবনে-

সঙ্গে নিয়ে নৌকামার্কা হৃদয়-, হৃদয়ভর্তি নৌকা”

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নদীর সূত্রে জীবন্ত হয়ে উঠেছে এভাবেই। কবি বারবার ফিরেছেন শৈশবের স্মৃতির কাছে। অতীত পৃথিবী কেবল নয় বর্তমান জগত আছে সেই স্মৃতিতে। আর তিনি প্রতিদিনকার জীবনের গল্প বলেছেন নদীর কাছে। প্রেম-প্রকৃতি মিলেমিশে একাকার হয়েছে। মিথ হিসেবে এসেছে ‘নূহের নৌকা’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, ধ্বংস ও হত্যার চিত্র সূত্রে। সময়ের সংকট উন্মোচনে তাঁর এ ব্যবহার তাৎপর্যবহ। কবির কবিতায় নদী এসেছে নারীর প্রসঙ্গে যৌবনের উপস্থাপনায়; রুচি মনন বুদ্ধির প্রাখর্যে যা অনন্য। আলাদা তিনি এখানে। মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির আর্তি যেখানে মূলসুর। কবি আত্ম অভিজ্ঞতায় সমকালীন জীবন সংলগ্ন। ‘বাবার খাটে শুয়ে’  কবিতায় নদী আছে, ‘জলশূন্য নদীর খোলস’  -এর প্রতীকে।আবার আখ্যানধর্মিতার মধ্য দিয়ে কবি নদীর প্রসঙ্গ এনেছেন।‘ঘোড়া ও রাজকন্যার গল্প’ কবিতাটিতে আছে পরিবেশ, প্রকৃতি, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য চিত্র। একটি অংশ স্মরণীয়-

“উপসংহার রঙের একটি পাঞ্জাবী-

কবি তাতে নিজহাতে নক্ষত্রের বোতাম লাগিয়ে জড়িয়ে নেন গায়ে;

অতঃপর দিগন্তমুখি হাঁটতে হাঁটতে বিকেলের রোদের মতো

মিলিয়ে যান উদ্ভাসিত নদীর মোহনায়।”

(ঘোড়া ও রাজকন্যার গল্প/ শেষ হেমন্তের জোছনা)

আমিনুল ইসলামের ‘শেষ হেমন্তের জোছনা’ কাব্যের নামকবিতায় পরাবাস্তবতায় অভিব্যক্ত হয়েছে গভীর বক্তব্য। এখানেও নদী আছে ভিন্নার্থে।

“বায়ুস্পর্শে পর্ণমোচীর পাতায় হলদে শিহরণ;

নন্দিনীর কোমরে হাত দিতে দেখি:

নদী নেই,

পার্কের খালে ঘুরে মরে রাতেলা অস্তিত্ব;

হয়তোবা মৌসুমও এসে যায় মেনোপজে!

আর শ্যামলীকে চাঁদকানা করবে-

এমত প্রকল্পে

উত্তরের হাওয়া ওড়ায় লাল ইটের গুঁড়ো।

তবু এই ঘোরলাগা সন্ধ্যায়

জোছনা কুড়োবো বলে

‘সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে’

মাইক্রো-ক্রেডিটের মতো মন বিছিয়েছি।’’

(শেষ হেমন্তের জোছনা, শেষ হেমন্তের জোছনা)

এখানে অসংলগ্নতার মধ্যে খোঁজা হয়েছে অর্থময়তাকে, বিশৃঙ্খলতার মধ্যে শৃঙ্খলাকে। যা এক আশাবাদে উচ্চকিত ‘‘সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে/ মাইক্রো-ক্রেডিটের মতো মন বিছিয়েছি।’’ তাঁর কবিতায় জাতীয় ভূগোলের পাশাপাশি সংমিশ্রিত হয়ে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক ভূগোল, মিথ ও ইতিহাস। ‘বেহুলার ভিটা’র (জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার) মতো কিংবদন্তিমূলক কবিতায় আছে নদীর কথা।

“মহাকালের বুকে ধূসর আঁচলে আবৃত স্তন

স্তন হতে চুয়ে নামা দুধ

ঝরনার মতো মিশে যায়

কালের করতোয়ায়

সেই জল পান করে দুইতীরে বেড়ে ওঠে শিশুরা

তাদের পরনে ইস্কুল-ড্রেসের মতো ভালোবাসার ইউনিফর্ম।”

(বেহুলার ভিটা/ জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার) 

দেশবিদেশ ভ্রমণ অত্যন্ত সুফলদায়ক হয়েছে কবির জীবনে। তিনি বরিশালের স্মৃতি নিয়ে লিখেছেন, ‘কীর্তনখোলার ঢেউ’; কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত দেখে মুগ্ধ বর্ণমালায় লিখেছেন ‘ভোরের কুয়াকাটায়’। ‘স্বপ্নের হালখাতা’ কাব্যগ্রন্থে ‘পিছিয়ে যাওয়া মানুষ’ শিরোনামে কবিতাতে অস্ট্রেলিয়া-ইন্দেনেশিয়া-মালেশিয়া-ফিলিপাইনস-ভারত ভ্রমণের উপরে বর্ণিত অভিজ্ঞতার ছোঁয়া আছে। করতোয়া নদীর প্রসঙ্গ এসেছে সেখানেও।

“আমি ঘুরি পথে ও প্রান্তরে;

সিডনির ব্লু মাউন্টেনে

কৃষ্ণকায় আদিবাসি সাইমনকে দেখে

মনে হয়েছিল-

পুরোনো পুঁথির মতো গায়ে তার পরিচিত ঘ্রাণ;

যেন সে আমারই সেই আদিবংশধর-

শিমুলের ফুল গুঁজে চেয়ে থাকতো

শবরীর চুলের খোঁপায়;

তুফানের ঢেউ লেগে নৃতাত্ত্বিক তরীখানা

পর্বতের কোল ছেড়ে

ভিড়েছিল একদিন করতোয়া তীরবর্তী বৃক্ষের পাড়ায়।”

(পিছিয়ে যাওয়া মানুষ/ স্বপ্নের হালখাতা)

এভাবে মহিমান্বিত অতীত কাব্যিক প্রসাধনে উন্মোচন করেছেন আমিনুল ইসলাম। ‘মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম’  কবিতায় দেখা যায় এই নদীর আরশীতে মহাজীবনের জলচ্ছবি দেখেছেন কবি। তুর্কী সেনাদের মাঝিশূন্য ঘাটে এসে উপস্থিত হয়ে মাটিতে চুমো খাওয়ার কথাও লিখেছেন তিনি। আবার বিশ্ব পর্যটনে বের হয়ে কবি নদীর কথা বলেন অকপটে। যমুনা পার হয়ে এসে প্রাচীন নগরের ঠিকানা খুঁজে পান তিনি। শহরের কোল ঘেঁষে বিস্তীর্ণ বন্দর ছিল, সেখানে নোঙর করত বিদেশি জাহাজ। এভাবে ‘পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি’  কবিতার নামকবিতায় নানা প্রসঙ্গের অবতারণা হয়। অন্যদিকে ‘কুয়াশার বর্ণমালা’য় নদীর এক ভিন্নতর রূপ উন্মোচন হতে দেখা যায়।

নদী চিত্রণের বিশেষত্ব থেকে দেখা যাচ্ছে, স্পন্দমান আবগের ভূগোল, দেশজচেতনা, লোককাহিনি ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সৌন্দর্যে আপ্লুত আমিনুল ইসলাম একজন আধুনিক কবি। তিনি মাতৃভূমির ইতিহাস খননে মিথিক জগতে ভ্রমণ করেছেন তবে এসব ক্ষেত্রে তাঁর রোমান্টিক চেতনা সর্বদা আত্মপ্রকাশ করেছে। আসলে আমিনুল ইসলাম আমাদের প্রকৃতি এবং বিপুল জনসমষ্টির জীবনধারার অভিজ্ঞতাকে কবিতায় ব্যবহার করেছেন।

৬.

আমিনুল ইসলাম ‘একমুখী’ লেখক নন, তিনি কবিতায় বৈচিত্র্য সন্ধানী। তিনি বেশ কিছু গদ্যরচনা করেছেন। গদ্য রচনায় তাঁর যে কাব্যচিন্তার স্বাক্ষর মুদ্রিত হয়ে আছে তাঁর কবিতায় সেই কাব্যজিজ্ঞাসা জারিত হয়েছে। কিন্তু কবিতার বিষয় ও রচনাশৈলিতে তিনি একদিকে যেমন কলাকৈবল্যবাদী অন্যদিকে তেমনি শিল্পের একধরনের উপযোগিতায়ও বিশ্বাসী। আবার সাহিত্যে দেশকাল-সচেতনতার পক্ষে তাঁর অবস্থান। মূলত আধুনিক কবিতায় বিষয়ের সর্বগ্রাহিতার স্বীকৃতি ধ্বনিত হলেও আমিনুল ইসলাম তর্কাতীতরূপে শিল্পসৃষ্টি প্রক্রিয়ায়- কেমন করে জীবন রূপান্তরিত হয় শব্দে ও ছন্দে বন্ধে, অপসৃয়মাণ মুহূর্তগুলি স্থায়িত্ব পায় কোনো না কোনো শিল্পরূপে সেই রহস্যের অন্তঃপুর স্থিত। উপমা, রূপক, প্রতীক,  চিত্রকল্প রচনায় তিনি নানা পর্যায়ের কাব্যগ্রন্থে হয়ে উঠেছেন প্রাণোজ্জ্বল পারঙ্গম স্রষ্টা। চিত্রকল্পের ব্যঞ্জনায় পুরাণের অন্তঃগ্রন্থনে ও প্রতীকের তাৎপর্যে তিনি বাংলাদেশের কবিদের কাব্যজিজ্ঞাসার পরিবৃত্তে অনন্য। কবি আমিনুল ইসলামের কবিতায় মধ্যবিত্ত ও শহুরে জীবনের পাশাপাশি গ্রামীণ জনজীবনের কথকতা শিল্পিত রূপ পেয়েছে তাঁর সমকালীন অনেক কবির চেয়েই প্রাগ্রসর বোধ ও বিশ্বাসে- এ কথা স্বীকার্য। আমিনুল ইসলামকে বিশিষ্ট কাব্য পাঠকরা বলেছেন ইতিহাস, ঐতিহ্যের কবি, চিত্রময়তা ও প্রতীকী কবি, সমাজসচেতনতার কবি, মৌলিক কবি। কারণ তিনি বিষয়বস্তুকে আত্মস্থ করে কলম করেছেন স্বীয় মননশীলতায়। আমাদের মতে, কবি আমিনুল ইসলাম সংবেদনঋদ্ধ মানুষ। কবি বাস্তবজীবনকে তুলে ধরেন জীবনের মর্মে প্রবেশ করে। আপাত উপরিস্তর পরিহার করে হয়ে ওঠেন লক্ষ্যাভিমুখি।

(লেখক : ড. মিল্টন বিশ্বাস,  বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, email-writermiltonbiswas@gmail.com)

আপনার মতামত লিখুন :

14 responses to “আমিনুল ইসলামের কাব্যভাবনায় নদী”

  1. Ashish K Barua says:

    বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী বাংলাদেশের প্রথিতযশা কবি আমিনুল ইসলামের লিখা কবিতা সম্পর্কে দেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক, গবেষক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস এর সুলিখিত প্রবন্ধটি পশ্চিম বাংলার ‘বাংলার মা মাটি মানুষ’ নামের অন-লাইন পত্রিকায় ‘আমিনুল ইসলামের কাব্যভাবনায় নদী’ শীষর্ক প্রবন্ধ নামে প্রকাশিত হয়েছ। এতে কবি আমিনুল ইসলামের লিখা কবিতার বিভিন্ন বিষয় সমূহ অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ড. মিল্টন বিশ্বাসের লেখায় কবি আমিনুল ইসলাম সম্পর্কে ”আমিনুল ইসলাম ‘একমুখী’ লেখক নন, তিনি কবিতায় বৈচিত্র্য সন্ধানী। তিনি বেশ কিছু গদ্যরচনা করেছেন। গদ্য রচনায় তাঁর যে কাব্যচিন্তার স্বাক্ষর মুদ্রিত হয়ে আছে তাঁর কবিতায় সেই কাব্যজিজ্ঞাসা জারিত হয়েছে। কিন্তু কবিতার বিষয় ও রচনাশৈলিতে তিনি একদিকে যেমন কলাকৈবল্যবাদী অন্যদিকে তেমনি শিল্পের একধরনের উপযোগিতায়ও বিশ্বাসী” লিখাটি ভাল লেগেছে। এজন্য কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

  2. ZillurRahman says:

    মিল্টন বিশ্বাসের প্রবন্ধটি পড়লাম। প্রবন্ধটি “আমিনুল ইসলামের কাব্য ভাবনায় নদী” নিয়ে লিখিত হলেও আমিনুল ইসলামের কাব্যের সামগ্রিক মূল্যায়নও করা হয়েছে।
    প্রবন্ধের প্রথমে আমিনুল ইসলামের কবিতায় প্রেমের একটি মূল্যায়ন করা হয়েছে। কবিতার বোদ্ধা না হলেও আমিনুল ইসলামের অধিকংশ কবিতা পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমার মনে হয়েছে আমিনুল ইসলাম মোটাদাগে প্রেমের কবি। নদী ও প্রেম দুটিকে অপূর্ব দক্ষতায় আমিন ইসলাম এক সুতোয় গাঁথতেে পেরেছেন। তাঁর কাব্যে প্রেম বহতা নদীর মত। উপচে পড়া জলের স্পর্শে ভালবাসার ভূগোল হয়ে ওঠে এক ফসলী মাঠ। তিনি কি চমৎকারভাবে বলেন,”শুধু তোমার চুল জড়িয়ে শ্রাবণের এক যমুনা”। আমিনুল ইসলামকে নিয়ে প্রাবন্ধিক যথার্থই বলেছেন, ” প্রেমসমগ্র হয়ে ওঠে জীবনসমগ্র”।
    আর নদী? নদীর প্রতি আমিনুল ইসলামের ভালবাসা প্রেমিকার প্রতি ভালবাসার মতোই। আমিনুল ইসলামের অনেক কবিতায় হৃদয় যন্ত্রণার হাহাকার শোনা যায়। কিন্তু নদী তাকে ফেলে যায়নি। নদীকে উদ্দেশ্যকরে কবি নিজেই বলেন,”কখনো সে আমাকে মাঝগাঙে ডুবিয়ে মারেনি”।
    মিল্টন বিশ্বাস আমিনুল ইসলামের কাব্যের গভীরে প্রবেশ করে কবির নদী ভাবনাকে শৈল্পিক দক্ষতায় পাঠকের সামনে নিয়ে এসেছেন। প্রবন্ধটি পাঠে ক্লান্তি আসেনি। সাগর থেকে নেমে আসা বহতা নদীর মত প্রবন্ধটিও শুরু থেকে শেষ হয়েছে প্রবাহমানতা ধরে রেখেই। চমৎকার একটি প্রবন্ধের জন্য প্রাবন্ধিক মিল্টন বিশ্বাসকে অশেষ ধন্যবাদ।

  3. মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন says:

    শ্রদ্ধেয় প্রফেসর মিলটন বিশ্বাস আধুনিক কবিতার ধারায় নন্দিত কবি শ্রদ্ধেয় আমিনুল ইসলাম এর কবিতা নিয়ে ” আমিনুল ইসলামের কাব্যভাবনায় নদী” শিরোনামে লিখাটি পড়ে মন ভরে গেল। কবি আমিনুল ইসলাম নদীকে বহুমাত্রিক রূপে ধারণ ও লালন করে অনুভবে যে অবাধ বিচরণ করেছেন তাঁর কবিতায়, লেখাটি তারই এক অনবদ্য প্রকাশনা। অনেক ঋদ্য, সমৃদ্ধ লেখাটিতে কবির কাব্য সম্পর্কে গ্রন্থকার যথার্থই মূল্যায়ন করেছেন। প্রিয় কবি সম্পর্কে অসাধারণ এ লেখনির জন্য কৃতজ্ঞ শ্রদ্ধেয় মিলটন বিশ্বাস, আপনার কাছে। নদীর প্রতি কবির প্রীতি মুগ্ধতা ও প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয় দেহ, মনে, মননে। প্রমত্তা নদী, সর্বনাশা নদী, সর্বখেকো নদী এসব বিশেষণে বিশেষায়িত না হয়ে কবির কাছে নদী হয়ে ওঠেছে জলের নদী, ঢেউয়ের নদী, যৌবনের নদী। নদীর দু’পাড় যে প্রেয়সীর দু’ঠোঁটের মতোও হতে পারে, তা কবির কবিতা পড়ে উপলব্ধি করা যায়। সমসাময়িক কবিদের মধ্যে একমাত্র তিনিই নদীকে উপজীব্য করে বহু কবিতা লিখেছেন। এদিক থেকে তিনি অগ্রজ, অগ্রগণ্য। বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কবিকে নিয়ে প্রফেসর মিলটন বিশ্বাস এর অসাধারণ এ লেখাটি প্রকাশ করবার জন্য কোলকাতার অনলাইন পত্রিকা “বাংলার মা মাটি মানুষ ডটকম”কে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

  4. প্রত্যয় হামিদ says:

    কবি আমিনুলকে নিয়ে আমিও লিখেছি। তিনি আমার প্রিয় কবিদের একজন।
    বিদেশভ্রমণের কারণেই কিছু কিছু লেখায় কিন্তু সেসব অভিজ্ঞতার ছটাও পাওয়া যায় তাঁর লেখায়। আপনার লেখা পড়েও অনেক কিছু জানা গেল। এবং আপনার সাথে আমি একমত ‘তিনি কবিতায় বৈচিত্র্য সন্ধানী’। ধন্যবাদ আপনাকে।

  5. Saddam Hossain says:

    লেখক, কবি কলামিস্ট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসের লেখা বাংলাদেশের জনপ্রিয় কবি ‘আমিনুল ইসলামের কাব্যভাবনায় নদী’ শীর্ষক প্রবন্ধটি পড়লাম। অসাধারণ উপস্থাপনা। ‘বহুমুখী’ বৈচিত্র সন্ধানী এই কবির কাব্যে নদী ও প্রেমের গুরুত্ব ছিল সবসময়ই বেশি। লেখকের ভাষায় ‘তিনি প্রেমের ভেতর দিয়ে জীবন ও জগতকে দেখতে চেয়েছেন’। তবে কবি সমকালীন কাব্যস্রোতের বিপরীতে প্রেমের কবিতা রচনা করে শুধু প্রচন্ড সাহসের পরিচয়ই দেননি বরং নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। এখানেই তিনি স্বতন্ত্র, এখানেই তিনি মৌলিক। এখানেই কবির সাফল্য বিরাজমান। অন্যদিকে নদী কবির জীবনে কতটা দাগ কেটে গেছে তার প্রমাণ রয়েছে এই লেখায়। নদীকে প্রধান উপজীব্য করে শুধু দুটি কাব্যগ্রুন্থই নয় বরং নদী কবির কাছে মায়ের মত। কখনো বা খেলার সাথী কিংবা প্রেমিকা। নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা কবির দুরন্ত শৈশবের স্মৃতি, ফারাক্কা বাঁধের ভয়াল প্রভাব কিংবা বরেন্দ্রভুমির মানুষের জীবনযাপন সহ অসংখ্য বিষয় উঠে এসেছে এই লেখায়। কবির সমগ্র জীবনের দেখা ও গভীর উপলব্ধির বিষয়গুলোর সন্নিবেশ ঘটেছে তার কবিতায় সেটা বলাই যায়। নদী, গ্রাম, মানুষ তথা এদেশের নদীকেন্দ্রিক মানুষের প্রতি এক পরম মমত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায় কবির কাব্যে। প্রবন্ধটির লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ কবি আমিনুল ইসলামের কবি জীবনের কিছু দিক অত্যন্ত বিস্তারিত ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য। মধ্যবিত্ত ও শহরের মানুষের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবন ও মানুষ নিয়ে কবির গভীর মমত্ববোধ তার কবি জীবনকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছে এবং অবশ্যই একজন বহুমুখী কবি হতে সাহায্য করেছে। এধরনের লেখা আমাদের শীকড়ের কাছে নিয়ে যায়, নিজ মাটি মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। সমাজসচেতন ও মৌলিক কবি আমিনুল ইসলামের দীর্ঘায়ূ কামনা করি এবং অনেক অনেক শুভকামনা জানাই।

    • Robu Sheth says:

      কিছু কিছু ভালোলাগা থেকে উৎসারিত হয় অসীম আনন্দ। কবি আমিনুল ইসলাম-এঁর কবিতা নিয়ে মিল্টন বিশ্বাস-এঁর গদ্য পাঠে অসীম আনন্দিত বোধ করছি। প্রিয় অগ্রজ কবি আমিনুল ইসলাম-এঁর কবিতার সাথে আমার পরিচয় ঘটে কুড়ি বছর আগে। ‘তন্ত্র থেকে দূরে’ কবিতাগ্রন্থের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন কবি আমিনুল ইসলাম। তারপর প্রকাশ পায় তাঁর দ্বিতীয় কবিতা গ্রন্থ ‘মহানন্দা এক সোনালী নদীর নাম’। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ-১৭টি, ছড়াগ্রন্থ- ৩টি, প্রবন্ধগ্রন্থ-১টি। কী প্রকার নদীমুগ্ধতা থাকলে গ্রন্থের শিরোনামে চলে আসে নদীর কথা। যদিও মহানন্দা মানে কবির জন্মের উঠোন। তবু, এক আকাশ মমতা না থাকলে বোধ হয় তা আসতে পারে না গ্রন্থের শিরোনামে। নদীকে লালন করে সেই নদীর জলে জীবনের তাল-লয়, সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন-বাস্তবতাকে অর্জন করা এক শক্তিমান কবির নাম- আমিনুল ইসলাম।ড. মিল্টন বিশ্বাস কবির হৃদয়ের গোপন ভালোবাসার ‘নদী’-টাকে নিয়ে তুমুল/তুঙ্গে তুলেছেন প্রবন্ধ, কবির এমন সুন্দর কবিতার দিক নিয়ে ঝরঝরে দীর্ঘতর লেখাটির জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধন্যযোগ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি লেখকের কাছে।

      কবি আমিনুল ইসলাম বিগত কুড়ি বছরের মধ্যে যত কবিতা লিখেছেন, বলতে পারি- সবগুলোই পাঠ করার সুযোগ আমার হয়েছে।বাঙলা কবিতায় এই কবির নিজস্ব স্বরে নির্মিত নিজস্ব পরিচয় বহু বহু দূরের কবিতাপাঠককে জয় করবে …
      বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সব ধরণের উল্লেখযোগ্য কাগজে, ওয়েব ম্যাগে কবি আমিনুল ইসলাম-এঁর কবিতা কিংবা তাঁর কবিতা নিয়ে লেখা কারও গদ্য প্রকাশ আর নতুন কোনো সমাচার না হলেও ভারতীয় ‘বাঙলার মা মাটি মানুষ’ ওয়েব ম্যাগে প্রিয় এই কবিকে ঘিরে প্রবন্ধ প্রকাশ এক চমকপ্রদ ঘটনা।‘বাঙলার মা মাটি মানুষ’ কর্তপক্ষকে জানাই চিত্ত থেকে অথৈ জলের ঢেউ তোলা শুভেচ্ছা।জয়তু কবি আমিনুল ইসলাম …

  6. Md Abdul Wahed says:

    নদী প্রেম বা প্রেমের জন্য নদী যেভাবে বলিনা কেন নদীর প্রতি ভালোবাসা,প্রেম কবিদের সহজাত প্রবৃত্তি। যদিও এ নদীই অনেকের বুকের ধন, সম্পত্তি ঘর-বাড়ি ভেসে,ভেঙ্গে নিয়ে অনেকের স্বপ্নকে করে তছনছ। নদী প্রেম,বন্ধনা ছাড়া যেন কবি স্বত্বার বিকাশই হয় না! ”আমিনুল ইসলামের কাব্যভাবনায় নদী” দীর্ঘ প্রবন্ধে ড. মিল্টন বিশ্বাসের মত একজন প্রতিযশা অধ্যাপক(কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক) যথার্থভাবে কবির নদী বন্ধনা,নদী প্রেম,নদী ভালোবাসা তথা নদী কেন্দ্রিক কাব্যের অনুরণন তুলে ধরতে পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন। তিনি বলেন,”প্রেমের কবি হিসেবেও আমিনুল ইসলাম নদীর মতো বহমান অনুভবে মাতোয়ারা। এজন্য তাঁর প্রেমানভূতির কথায় নদী এসেছে। কবির হৃদয়ে অন্তরঙ্গ অনুভূতির ধারা নিশুতি বসন্তরাতের নদীর মতোই নিয়ত প্রবহমান। সে নদীতে কখনো চর জাগে, কখনো ঢেউ; কখনো শুকায়, কখনো বা নবধারা এসে তাকে বেগবান করে তোলে। এ নদী শুধু আনন্দের উচ্ছল-ধারায় নয়, একইসঙ্গে চোখের জলের গভীর-স্রোতও। তাঁর বুকের মাঝে এক চির-অচেনা বিরহী-আত্মার বসবাস।” কবিকে এ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কাব্য ভাবনায় সার্বিকভাবেও তুলে ধরেছেন।কাব্য দর্শনে কবিকে স্বতঃস্ফূর্তার কবি, ইতিহাস-ঐতিহ্যের কবি, স্বাধীন কবি,বিপ্লবী কবি, শেঁকড় অন্বেষার কবি, পরিবেশ সচেতনাতার কবি, নদী বন্ধনার
    কবি, নারি অধিকার সচেতন কবি,আধুনিক রোমান্টিকতার কবি, প্রকৃতি প্রেমী
    কবি, নিভৃতচারী জীবন নিষ্ঠের কবি, রাজনৈতিক কবি, গণমানুষের কবি হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। নদীভিত্তিক কাব্য বাংলা সাহিত্যের স্থান অগ্রগণ্য। কবিদের প্রকৃতির প্রতি নিসর্গ ভালোবাসা সীমাহীন। আর প্রকৃতির অন্যতম উপাদান হচ্ছে নদী। নদীর প্রতি কবির কাব্যিক ভালোবাসা অকৃত্রিম। কবির শৈশব-কৈশর জুড়ে রয়েছে নদীর অস্তিত্ব। নদীর সাথে কবির রয়েছে নাড়ির সম্পর্ক। কবি আমিনুল ইসলামের কবি হয়ে উঠার পেছনে রয়েছে নদীবিধৌত। কবি শিশুকাল হতেই বৃষ্টি ও নদীর অক্লান্ত ভক্ত। বৃষ্টি হলে কবিকে ঘরে রাখা অসম্ভব ছিল। বৃষ্টির নূপুর বেজে ওঠার সাথে সাথে কবির হৃদয় শিখা নেচে উঠতো। কবির নদী প্রেম প্রথম যৌবনে প্রেমিকার স্থান দখল করে। ব্যক্তিগত জীবনে নদী যেমন প্রভাব রেখেছে তেমনি কাব্যভাবনায়ও প্রায় স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করেছে। কবির ভিটা মাটি জমিজমা সব তলিয়ে গেছে নদীর গর্ভে। তাই নদী নিয়ে কবি স্বপ্ন এবং দুঃস্বপ্ন দেখেন। কবি শিকঁড় অন্বেষার কবি বলে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত অসংখ্য নদীর নামে কবিতা রচনা করেন যা কবির বিভিন্ন কাব্যে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ‘মহানন্দা’, ‘মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম,’‘নদীর
    গল্প,’‘নদী ও খালের গল্প,’ ‘নদী-এক,’ ‘নদী-দুই’, ‘নদী-তি’ন’, “নদী-চার’,’সিকস্তি-পয়স্তি’, ‘একটি নদীর আত্মকথা’, ‘নদী সামনে নদী পেছনে’ প্রভৃতি অসংখ্য কবিতা অন্যতম। ড. মিল্টন বিশ্বাসের মতে, ”আমিনুল ইসলামের কবিতায় নদী শুধু নদী থাকে না। নদী হয়ে ওঠে ঘটনার সমীকরণ, নদী হয়ে ওঠে জীবনের আরেকরূপ, নদী হয়ে ওঠে নারী। কিন্তু হৃদয়ের অর্ধেকটা নদীকে দিয়ে দিলেও বাকী অর্ধেকটা কবি রাখতে চান প্রকৃতির অন্য সুন্দর জিনিসগুলোর জন্য। স্বদেশের প্রতিটি নদী যেন তাকে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে রাখে, বৃক্ষের সুশীতল ছায়ায় তিনি অনেক দগ্ধতাকেই ভুলতে পারেন”। প্রবন্ধটি পাঠে একজন দেশ প্রেমিক কবির নদী মাতৃক দেশের নদী প্রেম নিয়ে আবহমান বাংলার প্রকৃতির নৈসর্গিকী রূপ ও জীবন গাঁথা সম্পর্কে কবির কবিতার মাধ্যমে আমরা বিশদ জানতে পারি। ধন্যবাদ ড. মিল্টন বিশ্বাসকে মাটি ও মানুষের কবিকে নদী কাব্যভাবনায় যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য।পশ্চিম বাংলার “বাংলার মা,মাটি ও মানুষ” এর সম্পাদকে ধন্যবাদ।অনেক ধন্যবাদ কবিকে।

  7. Babla Das Gupta says:

    এসময়ের লেখক সম্মানিত পাঠক প্রিয় কবি জনাব আমিনুল ইসলাম মহোদয় কে নিয়ে কবি মিল্টন বিশ্বাস এর অসাধারণ লেখা আমাদের বিমুগ্ধ করেছে। প্রিয় কবি কে নিয়ে এতো সুন্দর উপস্থাপন আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা কবি আমিনুল ইসলাম এর কবিতা র নিয়মিত পাঠক তিনি সহজ সরল ভাষায় কবিতা লিখেন তা সবাই উপভোগ করতে পারেন। কবি মিল্টন বিশ্বাস এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। তিনি অধ্যাপক হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। মিল্টন বিশ্বাস আমিনুল ইসলাম এর কবিতায় অনেক মিষ্টি ও সাবলীল ভাষায় প্রকাশ করেছেন। এভাবে সুন্দর সুন্দর লেখা আমাদের উপহার দিবেন এ কামনা করি এবং আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা ও অভিনন্দন রইলো।

  8. Das Gupta says:

    এসময়ের লেখক সম্মানিত পাঠক প্রিয় কবি আমিনুল ইসলাম কে নিয়ে কবি মিল্টন বিশ্বাস এর অসাধারণ লেখা আমাদের বিমুগ্ধ করেছে। প্রতিথযশা সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক কে নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ সময়ের দুঃসাহসীক কথা সাহিত্যিক মিল্টন বিশ্বাস এতো সুন্দর করে গল্পটি ব্যাখ্যা সহ উপস্থাপন করেছেন মা আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা এ খ্যাতিমান কবির একজন নিয়মিত পাঠক। কবিতা টি বহুল প্রকাশিত পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পত্রিকার সম্পাদক এবং প্রকাশককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এরকম একজন প্রথিতযশা কবিকে মূল্যায়ন করেছেন। এরকম সুন্দর লেখা গুলো সবসময় আপনার পত্রিকায় প্রকাশ করে আমাদের মতো কবিতা পাঠকদের উৎসাহিত করবেন এ আশা করি। মিল্টন বিশ্বাস একজন এসময়ের বিজ্ঞ লেখক। তাঁর সুখ্যাতি সর্বজন স্বীকৃত। আমিনুল ইসলাম একজন প্রেমের কবি, নদী নিয়ে কবিতা লিখেন। গাছ ও পাখি নিয়ে সুন্দর কবিতা লিখেন এবং তিনি সহজ সরল ভাষায় কবিতা লিখেন যা সকল শ্রেণীর পেশার মানুষ উপভোগ করতে পারেন। কবি মিল্টন বিশ্বাস এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। তিনি অধ্যাপক হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। মিল্টন বিশ্বাস আমিনুল ইসলাম এর কবিতায় অনেক মিষ্টি ও সাবলীল ভাষায় প্রকাশ করেছেন। এভাবে সুন্দর সুন্দর লেখা আমাদের উপহার দিবেন এ কামনা করি। সাহসী কবি মিল্টন বিশ্বাস কে শুভ কামনা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

  9. Robu Sheth says:

    মন্তব্যগাথা-০১
    কিছু কিছু ভালোলাগা থেকে উৎসারিত হয় অসীম আনন্দ। কবি আমিনুল ইসলাম-এঁর কবিতা নিয়ে মিল্টন বিশ্বাস-এঁর গদ্য পাঠে অসীম আনন্দিত বোধ করছি। প্রিয় অগ্রজ কবি আমিনুল ইসলাম-এঁর কবিতার সাথে আমার পরিচয় ঘটে কুড়ি বছর আগে। ‘তন্ত্র থেকে দূরে’ কবিতাগ্রন্থের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন কবি আমিনুল ইসলাম। তারপর প্রকাশ পায় তাঁর দ্বিতীয় কবিতা গ্রন্থ ‘মহানন্দা এক সোনালী নদীর নাম’। বর্তমানে তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ-১৭টি, ছড়াগ্রন্থ- ৩টি, প্রবন্ধগ্রন্থ-১টি। কী প্রকার নদীমুগ্ধতা থাকলে গ্রন্থের শিরোনামে চলে আসে নদীর কথা। যদিও মহানন্দা মানে কবির জন্মের উঠোন। তবু, এক আকাশ মমতা না থাকলে বোধ হয় তা আসতে পারে না গ্রন্থের শিরোনামে। নদীকে লালন করে সেই নদীর জলে জীবনের তাল-লয়, সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন-বাস্তবতাকে অর্জন করা এক শক্তিমান কবির নাম- আমিনুল ইসলাম।ড. মিল্টন বিশ্বাস কবির হৃদয়ের গোপন ভালোবাসার ‘নদী’-টাকে নিয়ে তুমুল/তুঙ্গে তুলেছেন প্রবন্ধ, কবির এমন সুন্দর কবিতার দিক নিয়ে ঝরঝরে দীর্ঘতর লেখাটির জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধন্যযোগ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি লেখকের কাছে।

  10. Robu Sheth says:

    মন্তব্যগাথা-০2
    কবি আমিনুল ইসলাম বিগত কুড়ি বছরের মধ্যে যত কবিতা লিখেছেন, বলতে পারি- সবগুলোই পাঠ করার সুযোগ আমার হয়েছে।বাঙলা কবিতায় এই কবির নিজস্ব স্বরে নির্মিত নিজস্ব পরিচয় বহু বহু দূরের কবিতাপাঠককে জয় করবে …
    বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সব ধরণের উল্লেখযোগ্য কাগজে, ওয়েব ম্যাগে কবি আমিনুল ইসলাম-এঁর কবিতা কিংবা তাঁর কবিতা নিয়ে লেখা কারও গদ্য প্রকাশ আর নতুন কোনো সমাচার না হলেও ভারতীয় ‘বাঙলার মা মাটি মানুষ’ ওয়েব ম্যাগে প্রিয় এই কবিকে ঘিরে প্রবন্ধ প্রকাশ এক চমকপ্রদ ঘটনা।‘বাঙলার মা মাটি মানুষ’ কর্তপক্ষকে জানাই চিত্ত থেকে অথৈ জলের ঢেউ তোলা শুভেচ্ছা।জয়তু কবি আমিনুল ইসলাম …

  11. Rashed says:

    As a poet Aminul Islam is Unique and exceptional. His passionate thinking for common people is different than others. The poet is a caring and adorable Person, moreover his every poetry itself classy. History of literature will always remember him as a great poet. Best wishes for the poet. Thanks Professor Milton Biswas for his appreciable write up.

  12. Masydar Rahman says:

    নদী বাংলা সাহিত্যে এক অনিবার্য অনুসঙ্গ। আবহমান বাংলা কবিতায় নদীর প্রভাব যে কোনো পাঠকের খুব সহজেই চোখে পড়বে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতাকে এক আলাদা মাত্রা দান করেছে পদ্মা। মাইকেলের কপতাক্ষ, জীবনানন্দের কবিতায় ধানসিঁড়ি, আল মাহমুদের তিতাস। সমকালেও উৎপল কুমারবসু কাব্যগ্রন্থের নাম ‘বকসিগঞ্জ পদ্মারপাড়ে’। এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়, বাংলা কবিতা লিখতে এসেছে কিন্তু তাঁর কবিতায় নদী অনুসঙ্গ নেই এমন কোনো কবি নেই। তা তিনি তরুণ হোন কিংবা প্রবীণ। কবি আমিনুল ইসলামের কবিতাও অনেক-অংশে নদী শাসিত। এ প্রবন্ধের শিরোনাম অনুসারে সেই প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয়েছে বলে পাঠ শুরু করেছিলাম। কিন্তু কবি আমিনুল ইসলামের নদী অনুসঙ্গ এখানে পাইনি। বরং এখানে তাঁর কবিতার শিল্পগুন উন্মোচিত হয়েছে। লেখাটি নিঃসন্দেহে ভালো। লেখাটি নদী প্রাসঙ্গিকরণে আলোচক ভবিষ্যতে ভূমিকা ও আলোচনার ভেতরে নদী অনুসঙ্গ কেন্দ্রিক কিছু কাজ করেন তো যথার্থ ও সার্থক হয়ে উঠবে। প্রত্যাশায় রইলাম।

  13. Md.Abdul Hannan says:

    The essay written by Milton Visas, Professor of Bangla department,Jagannath University about “Poetic Thought on River of Aminul Islam is very informative.I would like to say that such type of essay is one kind of preface which will uphold Honorable poet Aminul Islam and his work forever. The more the such type of essay will be informative, the more the creative writing will be remembered no doubt. In the history of the world the most famous writers are still alive because of such type of essayor preface whatever it may be. For example, Samuel Johnsonhas been able to uphold Shakespeare through the ” Preface to Shakespeare” By going through this essay what seems to me is that honorable Milton Visas with his keen eyesight has reflected the influence of river in human life deeply.And there is touch of love in different perspective also, which is not totally vulgar rather it is one kind of tasting love acceptable in the door of Bangali society. Bangladesh is riverine country. Rivers are everywhere in our life, literature,economy and culture. Dynamic authors like Kazi Nazrul Islam, Rabindranat Tagore, Waddotto Mallobormon,Al Mahmud, Manik Bondho Padhoy,have refleced the influence of rivers in
    human life closely in their respective poem, novels and others branch of literatur. So if Honorable Milton visas inserted a little bit preface on river at the beginning and if he discussed the similarity and dissimilarity with other authors like Nazrul, Robi Tagore, Al Mahmud about rivers, the title of this eassy would be more befitting.This is my personal opinion which may be incorrect. But the way of reflecting pattern of human life centraling river is really marvelous. For this I wish heartiest welcome to honorable professor Milton Visas for presenting this eassy before us. We look forward to seeing more thoughtful eassy on Aminul Islam more in future. In this place I also wish my heartiet thanks to honorable poet Aminul Islam for his creative writing.May Allah bless both of you for your splendid writing which will enrich our Bangla literature.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev