আনন্দবিহারে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্ভোগের দৃশ্য ফিরে এলো মুম্বাইতে। এর আগে সুরাটে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করার দাবিতে রাস্তায় নামেন পরিযায়ী শ্রমিকরা, তাঁদের বেশিরভাগের বাড়ি ওডিশাতে। ভাঙচুর চালানোর দায়ে তাঁদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল বান্দ্রায় পুলিশের লাঠির বাড়ি খেতে হলো বাংলা, উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের। তাঁদের একটাই আবেদন ছিল বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করার।
তাঁরা আশায় ছিলেন লকডাউন শেষে হয়তো ট্রেন বা বাস চলবে, তাঁরা ফিরতে পারবেন। কিন্তু মোদীবাবু কারও কথা না ভেবেই লকডাউন বাড়িয়ে দিতেই উদ্বেগ বাড়ে শ্রমিকদের।
বান্দ্রা স্টেশনের কাছে বাসস্ট্যান্ডে হাজির হন এক হাজার শ্রমিক। একে কাজ বন্ধ, তারপর মহারাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি খুব খারাপ। এই অবস্থায় পরিযায়ী শ্রমিকরা দাবি জানাতে থাকেন, তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক। লকডাউনের বিধিনিষেধ ভঙ্গ হওয়ায় জমায়েত হঠাতে লাঠি চালায় পুলিশ।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের পুত্র আদিত্য পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ওঁরা খাওয়া বা থাকার জায়গা চান না, চান বাড়ি ফিরতে। সুরাট বা বান্দ্রার ঘটনার জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় সরকার। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যবস্থা করতে। তা কেন্দ্র করেনি। মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা ধৈর্যশীল থেকে সব নিয়ম মেনে সহযোগিতা করে আসছেন। অমিত শাহ বলেছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যবস্থা হবে। কোথায় কী? মহারাষ্ট্রের সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। অসুবিধা নেই। কিন্তু হঠকারী লকডাউন, শুরু থেকে ট্রেন বন্ধ, এ সব চিন্তা বাড়াচ্ছে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের। মোদীর ভাষণের পর প্রথম ঘোষিত প্যাকেজ এখনও দিনের আলো দেখেনি। আর আজ ভাষণবাবুর ভাষণবাজিতে তো পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোনও দিশাই নেই। বদলে জুটছে লাঠির বাড়ি।