মোদি সরকারের বিরুদ্ধে পূর্বে অরুণাচল থেকে পশ্চিমে গোয়া, উত্তরে কাশ্মীর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা মানুষের অসন্তোষ গণবিদ্রোহে পরিণত হচ্ছে। কবি সুকান্তর কথায় মনে পড়ে— বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে/ এত শত বিদ্রোহ দেখেনি কখনও কেউ/ দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ। জনগণ কার ফরমানকে মানছে না? মোদি-অমিত শাহের ফরমানকে মানছে না। ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর এনআরসি-সিএবি-র বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন নতুন ফর্মে আন্দোলন হচ্ছে।
দিল্লির শাহিনবাগে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে মহিলারা কেন্দ্রীয় সরকারের ফরমানের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে বসে অবস্থান শুরু করেন। দিল্লিতে যেদিন তীব্র শীত, তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি, সেদিনও শাহিনবাগে কয়েকশো মহিলা সারারাত বসেছিলেন। আজও বসে আছেন। কারওর কোলে দুধের শিশু আছে। দেশের অন্য প্রান্তেও এখন রোজ শাহিনবাগ তৈরি হচ্ছে। ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে গর্জে উঠছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা সমাবর্তনে এনআরসি-র কাগজ ছিড়ে ফেলে বলছেন, ‘হাম কাগজ নাহি দিখায়েঙ্গে’। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিবাদ করছে। কিন্তু দলগুলির বাইরে এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ দেখা যায় না। ছাত্র-ছাত্রী ও মহিলারাই এই আন্দোলনের পুরোভাগে আছেন। বিদ্রোহীদের হাতিয়ার হল ভারতের সংবিধান এবং জাতীয় পতাকা। পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলছেন, উই দ্য পিপল অব ইন্ডিয়া। স্বাধীনতার পর এমন বিদ্রোহ আগে কখনও দেখা যায়নি। ২০১১ সালে আন্না হাজারের নেতৃত্বে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও লোকপাল নিয়োগের দাবিতে যখন একটানা সত্যাগ্রহ চলে, তখনও মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আজকের আলোড়ন দিকে দিকে বিদ্রোহে পরিণত হচ্ছে। মোদি-অমিত শাহ দেওয়ালের লিখন পড়তে না পারলে ভুল করবেন। বরং বিজেপি নেতাদের মধ্যে রাজনাথ সিং কিছুটা সংযত কথা বলছেন। বিদ্রোহের চোটেই মোদি জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, এনআরসি-র কথা কোনওদিনই হয়নি। যা শুনে অমিত শাহ অবাক হয়ে গেছেন।