বাংলার লোকশিল্পের অঙ্গ পটশিল্প। মূলত মেদিনীপুরের পিংলায় পটচিত্রের শিল্পীরা থাকেন। ঘরে ঘরে সকলেই পটচিত্রের শিল্পী। এই শিল্পীরাই এবার রং-তুলি হাতে তুলে নিয়েছেন শিলিগুড়ি সুভাষপল্লী সঙ্ঘশ্রীর পূজামণ্ডপের মন্ডপ সজ্জায়। এই পট চিত্র আঁকার জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে শিলিগুড়িতে এসেছেন পট শিল্পী কার্ত্তিক চিত্রকর। করোনা সঙ্কট কাটিয়ে শিলিগুড়িতে এসে পুজোর মন্ডপ সজ্জায় তুলি ধরতে পারার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে কার্তিক বাবু বলেন, গত দু-বছর ধরে করোনা সংক্রমণের কারণে বহু মানুষ তাদের পেশা বদলেছে রুজি-রোজগার নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু আমাদের পিঙলা-নয়া গ্রামের পট শিল্পীরা তাদের পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে পাওয়া এই শিল্পকে কেউ ছেড়ে যাননি। গ্রামে ২৫০ জন শিল্পী লড়াই করেছেন সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্য। চরম সঙ্কটের দিনে জীবিকা হারিয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও আমাদের হাত থেকে হারায়নি রঙতুলি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে শিল্প ভাতা চালু করেছিলেন তাতে আমরা প্রতি মাসে হাজার টাকা করে শিল্পী ভাতা নিয়মিত পেয়ে আসছি। সেই সঙ্গে সরকার থেকে মিলেছে রেশন ও অন্যান্য সহযোগিতা। ফলে কাজ না থাকলেও আমরা না খেয়ে মরে যাইনি ভেসেও যাইনি। আমার মত গ্রামের ২৫০ পট শিল্পীর হাত থেকে রঙতুলি হারিয়ে যায়নি।

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিঙলা নয়া গ্রামের পট শিল্পীরা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া শিল্পকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। করোনা সংকটের প্রথম দিকে কাজ বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতেই তারা অনলাইনে কাজ করতে শুরু করেন। সেইমতো অর্ডার নিয়ে বাড়িতে পটচিত্র এঁকে জায়গা মতো পৌঁছে দিতেন। প্রথমদিকে ডাকযোগে পাঠাতেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতে নিজেরাই সরাসরি কলকাতায় গিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পটচিত্র দিয়ে আবার উপার্জন করছেন বলে জানান কার্তিক চিত্রকর।
তাঁর সেই শিল্প কর্মে এবার আকর্ষনীয় হয়ে উঠছে সুভাষপল্লীর সঙ্ঘশ্রীর পুজো। ক্লাব সদস্য সপ্তশিব সেনগুপ্তের ভাবনা ঘটের পট থিমে মন্ড সাজাচ্ছেন কার্তিক চিত্রকর। মাটির ভাঁড়, কলসি, টব, পাখা গামছায় গ্রামীণ কাহিনী অবলম্বনে পটচিত্র মেলে ধরেছেন কার্তিকবাবু। আর তার তুলির টানে জীবন্ত হয়ে উঠছে গ্রাম বাংলার কাহিনী। এবার করোনা আবহের মধ্যেও সুভাষপল্লীর সঙ্ঘশ্রীর পুজো যে সাধারন মানুষের নজর কাড়বে, সেই সম্পর্কে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।