লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আলুর দাম। স্বভাবতই চাষিদের মুখে হাসি। অবশ্যই ব্যবসায়ীরাও খুশি। কিন্তু গৃহস্থ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। অন্যান্য সবজির তুলনায় এতদিন আলুর দামটা খুবই কম ছিল। তাই মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের ঘরে ভাতের সঙ্গে ডাল প্রধান ব্যঞ্জন হয়ে উঠেছিল।এবার সেটাতেও গৃহস্থ রাশ টানতে চলেছে। গত দু-বছর আলুর দাম প্রায় কম ছিল বলা চলে। গত দু-মাস আগেও যে আলুর বস্তা প্রতি (৫০ কেজি ) দাম ছিল ৮০০ টাকা। এবারে সেই আলুর এখন দাম প্রতি বস্তা ১১০০-১২০০ টাকা (জ্যোতি) এবং চন্দ্রমুখী প্রতি বস্তা ১৫০০ টাকা। অর্থাৎ বাজারে এখন প্রতি কেজি (জ্যোতি ) আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং চন্দ্রমুখী ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকাশছোঁয়া দাম কার্যত গৃহস্থের রান্নাঘরে চোখের জল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত কেন এবারে এত আলুর দাম? এরপর কি আলুর দাম আরও বাড়বে ? এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানান কথাবার্তা ভেসে আসছে। চাষিদের বক্তব্য এবারে বেশিরভাগ আলু অসময়ে অর্থাৎ নাবি চাষ হয়েছিল। ফলে ফলনও অনেক কম হয়েছে। একটাই কারণ একনাগাড়ে বৃষ্টি। উল্লেখ্য, এ বছর রাজ্যে আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯৫ লক্ষ মেট্রিক টন। গত বছর হয়েছে এক কোটি মেট্রিক টন। ফলে রাজ্যে এবারে আলুর ঘাটতি একটা থেকেই যাচ্ছে। ঘাটতি মেটাতে বাইরের রাজ্যের উপর নির্ভর করতেই হবে। আর তা যদি না হয় তাহলে আলুর দাম আরও বাড়তে থাকবে। এমনটাই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজ্য প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় বলেন, এবারে হিমঘরে আলু মজুত করতে গিয়ে আলুর দাম সহ খরচ হয়েছে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি ) ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। এখন হিমঘর ভাড়া, বাছাই খরচ ও পরিবহন ভাড়া ধরলে প্রতি বস্তা আলু বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ১২০০ টাকায় (জ্যোতি)। চন্দ্রমুখী ১৫০০ টাকায়। এই দাম আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। এমনকী প্রতি কেজি ৫০ টাকাও হলে আশ্চর্যের কিছু নেই।যদি না রাজ্যের বাইরে থেকে আলু আসে।

এদিকে এক হিমঘর মালিক দিলীপ শেঠ জানান আগামী দিনে আলুর দাম কমতে পারে। এখনো সমস্ত হিমঘর খোলেনি। জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সমস্ত হিমঘর থেকে আলু বের হতে শুরু হলে দাম কমতে থাকবে। রাজ্যের ৪৬৬ টি হিমঘরে এবারে আলু সংরক্ষণ হয়েছে ৬৩ লক্ষ মেট্রিক টন। রাজ্যে প্রয়োজন ৬০ লক্ষ মেট্রিক টনের মতো আলু। দেখা যাচ্ছে হিমঘরগুলিতে ৮৭ শতাংশ আলু সংরক্ষিত হয়েছে। গতবছর যেখানে প্রায় ১০০ শতাংশ সংরক্ষিত হয়েছিল। স্বভাবতই ব্যবসায়ী ও চাষিরা উভয়েই আলুতে মুনাফা পেতে চাইছেন। আর তার ফলে হিমঘর থেকে পর্যাপ্ত আলু না বের করে বাজারে কম পরিমাণে আলু আনছেন। ফলে আলুর দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।