ভারতে দারিদ্র কমছে ঠিকই কিন্তু তার গতি বড়ই শ্লথ। এই বিশ্লেষণ বিশ্ব ব্যাঙ্কের। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত পরিসংখ্যানের অভাবে তাদের এব্যাপারে এগোতে অসুবিধা হচ্ছে। এ বছরের ১৫ই সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক বিশ্বের নতুন দারিদ্ররেখা স্থির করেছে ইনইকুয়ালিটি প্ল্যাটফর্মের সহায়তায়। কিন্তু এতে আমাদের দেশ থেকে প্রয়োজনীয় তেমন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি বলে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

গত একদশক ধরেই এব্যাপারে আমাদের দেশ থেকে সরকারি তথ্য ঠিকঠাক দেওয়া হচ্ছে না বলে বিশ্ব ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে। এবছরও একই ঘটনা ঘটেছে। ভারতের দারিদ্র সংক্রান্ত পরিসংখ্যান এবারও অনুপস্থিত। অথচ আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অবস্থানটা এক্ষেত্রে কোথায় তা জানার জন্য এই পরিসংখ্যান জরুরি। তবে বিশ্ব ব্যাঙ্কের হিসেব থেকে দেখা যাচ্ছে ২০১১’র তুলনায় ২০১৯ এ দেশে দারিদ্র কমেছে। ২০১১তে দেশে দরিদ্র ছিলেন ২২.৫ শতাংশ মানুষ। ২০১৯ এ তা দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশ মানুষে।

তবে বিশ্ব ব্যাঙ্কের হিসেবে গ্রামে এখনও গরীব বেশি, ১১.৯ শতাংশ। তুলনায় শহরে গরিবী কম, সেখানে দারিদ্রের অনুপাত ৬.৪ শতাংশ। বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, ভারতের দারিদ্র যতটা দ্রুত গতিতে কমবে বলে আশা করা গিয়েছিল ততটা দ্রুত গতিতে কমেনি। তবে সামগ্রিকভাবে তা কমেছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের হয়ে আমাদের দেশের দারিদ্রের এই হিসেব কষেছেন সুতীর্থ সিংহ রায় এবং রয় ভ্যানডার ওয়েভ। বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, ২০১১’র তুলনায় ভারতে ভোগের অসাম্য কমেছে।

২০১১ সালে ভারত দারিদ্রের হিসেব দেয়নি। তাই বিশ্ব ব্যাঙ্ক ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশনের (এনএসএসও) পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দারিদ্র মাপার চেষ্টা করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৫-১৯ দেশে দারিদ্র যে গতিতে কমেছিল পরবর্তীকালে তার গতি শ্লথ হয়েছে। ২০১৭-১৮তে দারিদ্র কমেছিল সবচেয়ে বেশি। তারপর থেকে তা চোখে পড়ার মত কমেছে বলেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সারা বিশ্বের হিসেব কষলে দেখা যাবে এই কালপর্বে বিশ্বে দারিদ্রের হার ৮.৭ শতাংশ থেকে হয়েছে ৮.৯ শতাংশ। বিশ্ব ব্যাঙ্কের পলিসি রিসার্চ গ্রুপের হিসেব দেখাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র ও দরিদ্রের হার দুটোই কমেছে।