বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের ১২৬ তম জন্মতিথি যথোচিত মর্যাদায় পালিত হলো হুগলির আরামবাগ মহকুমার মায়াপুর কল্যাণ কেন্দ্রে। মায়াপুর প্রফুল্ল চন্দ্র সেন স্মৃতি রক্ষা সমিতি এই উপলক্ষে একটি বর্ণময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রসঙ্গত, প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের প্রয়াণের অব্যবহিত পরে ড. প্রতাপচন্দ্র চন্দ্রের উদ্যোগে তাঁর বাসভবনে এই স্মৃতি রক্ষা কমিটি স্থাপিত হয়।

এদিন প্রফুল্ল চন্দ্রের প্রিয় বাসস্থান মায়াপুর কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের অসংখ্য তরুণ তরুণী উপস্থিত হয় তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা অর্পন করেন। বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি আলহাজ্ব সেখ মেহেবুব রহমান, আরামবাগের সংসদ অপরুপা পোদ্দার, আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী, বিশিষ্ট সমাজসেবী পলাশ রায় প্রমুখ।

এদিন প্রিয় জননেতার জীবন ও আদর্শ নিয়ে নানান আলোচনা হয়। সংসদ অপরুপা পোদ্দার প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের স্মৃতি কে সামনে রেখে বিভিন্ন জনমুখী কাজে আত্মনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান। তিনি তার উন্নয়ন তহবিল থেকে আরামবাগ পুরসভাকে দেওয়া একটি ট্রমা কেয়ার এম্বুলেন্স এখানে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সভাধিপতি শেখ মেহেবুব রহমান প্রফুল্ল চন্দ্র সেনের নামাঙ্কিত এই স্থানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, প্রফুল্ল চন্দ্রের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে। পিতার কর্মসূত্রে তিনি মানুষ হয়েছিলেন বিহার এর সাসারাম এলাকায়। শিক্ষাজীবন শেষ করে বিলেত যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন সময় গান্ধীজীর ডাকে সাড়া দিয়ে হুগলি বিদ্যামন্দিরে যোগ দেন স্বদেশী আন্দোলনের অংশ হিসেবে। দুর্গম অনুন্নত আরামবাগ এলাকায় এসে তিনি স্বদেশী আন্দোলনের শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তোলেন। এখান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে হুগলি জেলার আন্দোলন পরিচালিত হয়। ১৯৪৮ শালী বিধান রায়ের মন্ত্রিসভায় প্রথমে অসামরিক সরবরাহ ও পরে খাদ্য ও পুনর্বাসন দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আরামবাগ মহকুমা তথা সারা বাংলায় তার অবদান আজও মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তার রাজনৈতিক সততা, জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আজও আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।