এটা কি করলেন জো বাইডেন! এই ছিল তব মনে! এই যে কিছু দুর্মুখ সাংবাদিক বলছেন , এটা না কি আপনার মাস্টার স্ট্রোক। বারাক ওবামাও এমনটা খেলতে পারেন নি! আমাদের প্রধানমন্ত্রী, ছাতি যাঁর ছাপান্ন ইঞ্চি, যিনি দেশবাসীকে ভেজালমুক্ত ঘোল খাওয়ান নিরন্তর , তাঁকে আপনি ঘোল খাইয়ে দিলেন!
অথচ বাইরের দিক থেকে দেখলে সব ঠিক আছে। আপনার অভ্যর্থনার খামতি নেই কোন। মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে আপনি আমাদের মোদিজির ভাষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এভাবে তাঁকে স্থান দিয়েছেন ইতিহাসে। মোদিজি এশিয়ার প্রথম মানুষ যিনি এই সম্মান লাভ করলেন। এর আগে চার্চিল ও নেলসন ম্যাণ্ডেলার মতো মাত্র চার জন বিদেশি রাষ্ট্রনেতা মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন।
আর তাই দেখে ‘গোদি মিডিয়া’ (মাপ করবেন, এই অভিধা আমার নয়, সাংবাদিক রাভিশকুমারের) রটাতে শুরু করল আমেরিকায় তৈরি হয়েছে মোদি ম্যানিয়া।
যৌথ কংগ্রেসে ভাষণ দিলেন আমাদের নমো, তারপর আপনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। আপনার দেশে গিয়ে আমাদের নমো গণতন্ত্রের খই ফোটাতে শুরু করলেন। এমন কি বলে বসলেন যে আমেরিকা আর ভারতের ডিএনএ-তেই গণতন্ত্রের অধিষ্ঠান। উঃ, কি কথা! শুনে রোমাঞ্চ লাগে।
তা এসব যখন করলেন, তখন যা করার নয় তা করতে দিলেন কেন!
তাহলে কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোদিজির মাখামাখির কথাটা পুষে রেখেছিলেন মনে! তাই আপনি আর আপনার ডেমোক্র্যাট দল প্রতিশোধ নিল একটু অন্যভাবে! আপনি সাংবাদিক সম্মেলনে ভিড়িয়ে দিলেন আমাদের নমোকে!
নিশ্চয়ই আপনি জানতেন যে নমো পছন্দ করেন না সাংবাদিকদের। গত ন’বছরে তিনি কোন সাংবাদিকদের মুখোমুখী হন নি। বড় নিন্দুক এই সাংবাদিকরা। তর্ক করে। প্রশ্ন করে। বাগড়া দেয় ভীষণ। নোটবন্দির সময়, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের সময়, সার্জিকাল স্ট্রাইকের সময় সাংবাদিকরা কি রকম বেয়াড়া প্রশ্ন করেছিল, আপনি তা জানেন। মোদিজি সহ্য করতে পারেন নি। জেলে পুরেছেন অনেককে। তারপরে তিনি মিডিয়াগুলোকে নিজের তাঁবে নিয়ে আসার চেষ্টা করলেন। গড়ে উঠল ‘মোদি মিডিয়া’; অভব্য রাভিশকুমার যাকে ‘গোদি মিডিয়া’ বলে ব্যঙ্গ করেন।
জো বাইডেন মশায়, আপনি জেনেশুনেই আমাদের নমোকে ঠেলে দিলেন কুমিরের গর্তে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেন, এখানে আপনি গণতন্ত্রের ঢক্কানিনাদ করছেন, কিন্তু আপনার দেশে কি হচ্ছে মশায়? সংবাদপত্রের, সাংবাদিকের স্বাধীনতা আছে সেখানে? গণতন্ত্রের চারটে স্তম্ভকে কি আপনি নিজের তাঁবে নিয়ে আসতে চেষ্টা করছেন না? কি হচ্ছে উত্তরপ্রদেশে? কি হচ্ছে মণিপুরে? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, বিশেষ করে মুসলমানরা কেন নির্যাতিত হচ্ছে বারবার?
প্রশ্নের পর প্রশ্ন ।
আমাদের নমো বড় অপ্রস্তুত।
আপনি, জো বাইডেন মশায়, বিশ্বগুরুকে এরকম বেকায়দায় ফেলে দিলেন কেন? কেন সাংবাদিকদের বলে দিলেন না : ইউ আর নট টু কোশ্চেন হোয়াই, ইউ আর রেডি টু ডু আর ডাই?
বড় অকৃতজ্ঞ আপনি। আপনার ধর্মপত্নীকে আমাদের নমো হিরের আংটি উপহার দিলেন, ভুলে গেলেন সে কথা! একজন ফকির কত কষ্ট করে এই হিরের আংটি সংগ্রহ করেছেন, বলুন তো!
অসাধারন। এই রকম দুচারটে লেখাতেই “পুরানো আপনি” বেরিয়ে আসেন। আমরা অপেক্ষা করতে থাকি।
না, তোমাকে ধন্যবাদ জানাবো না । সেটা বড় কেতাবি হবে ।