কোভিড সময়ে বহু বেসরকারি হাসপাতাল ভ্যাকসিন মজুত করেছিল। সংক্রমণ কমতে থাকায় তারা পড়ে গেছেন মহা চিন্তায়। প্রয়োজন ফুরনোর পর এত ভ্যাকসিন নিয়ে কি করবেন — অতিমারি তো কমতে শুরু করেছে। এদিকে বেশিরভাগ ভ্যাকসিনের মেয়াদ ফুরোবে এই মার্চ-এপ্রিলে। এটা সত্যিই একটা বড় সমস্যা। কোভিডের শুরু থেকেই দেশের বহু বেসরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন মজুত করা শুরু হয়েছিল। ২০২১ এর ১৭ জানুয়ারি টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর থেকে তার মাত্র ৪.৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে বলে ২০২১-২২ এর এক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় জানা গেছে। মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এই ভ্যাকসিন কাজে লাগানো সত্যিই কঠিন। কারণ চাহিদাই তো কম। এমনকি বুস্টার ডোজ এর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। টিকাকরণের ব্যবসার মধু ইতিমধ্যেই কমতে শুরু করেছে।

অব্যবহৃত ভ্যাকসিন সারা পৃথিবীতেই একটা সমস্যা। মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় কিছুদিন আগেই প্রায় ১ মিলিয়ন অ্যাস্ট্রাজেনেকা নষ্ট করে দিতে বাধ্য হয়েছে নাইজেরিয়া। একই ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়াতে। এদিকে ইউনিসেফ জানিয়েছে গত ডিসেম্বরে ১০০ মিলিয়ন ডোজ মেয়াদ ফুরনোর সময়ের খুব কাছাকাছি চলে আসার ফলে তা বাতিল করতে হয়েছে। প্রশ্ন হল, এই মেয়াদ ফুরনোর ব্যাপারটা ঠিক করা হয় কীভাবে? মেয়াদ ফুরনোর পর ওষুধের সময়সীমা বাড়ানোর ব্যাপারটা কি নিয়মিতভাবেই ঘটে? কোভিডের ওষুধের ক্ষেত্রে এব্যাপারে কি নির্দিষ্ট কোন কড়াকড়ি আছে?

ঘটনা হল, ওষুধ তৈরি হওয়ার পর তা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তাপমাত্রায় রাখা হয়। একেকটা ওষুধের চরিত্র ও প্রয়োজন একেকরকম। তাই সেগুলিকে বিভিন্ন গোত্রে ভাগ করে নানাভাবে সংরক্ষণ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদ ফুরোতে অনেক দেরি আছে এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এমন ওষুধই ব্যবহার করা উচিৎ। গত বছরই সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন কোভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ডের মেয়াদ বাড়িয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট তাপমানে ওষুধ সংরক্ষণ করলে তার গুণমান বজায় থাকে। এর ওপরই নির্ভর করে ওষুধের কার্যকারিতা। পুনের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ইমিউনোলজিস্ট সত্যজিৎ রথ বলেছেন, মেয়াদ ফুরনোর পরই ওষুধটি রাতারাতি বিপজ্জনক হয়ে যায় তা নয়, তবে এতে কাজ হয় খুব সামান্য। তবে মেয়াদ ফুরনোর পর তা বাড়ানোর ঘটনা আগেও ঘটেছে। এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারি সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন।