ছোটবেলায় জানতাম ১ জুলাই ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন এবং মৃত্যু দিন। তারপর জানলাম, ১৪ জুলাই ফরাসী বিপ্লবের দিন। পৃথিবীর প্রথম বিপ্লব। ২০ জুলাই হলো ভিয়েতনাম দিবস। তারপরে জানা গেল জুলাই মাসের ৮ তারিখ যেমন জ্যোতি বসুর জন্মদিন, ১৩ জুলাই তেমনি প্রমোদ দাশগুপ্তের জন্মদিন। ১৯১০ সালের ১৩ জুলাই অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে প্রমোদ দাশগুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বয়সে জ্যোতিবাবুর থেকে ৪ বছরের বড়ো ছিলেন। প্রমোদবাবু কিশোর বয়স থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন, তারপর মার্ক্সবাদে দীক্ষিত হন এবং কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির রাজ্যসম্পাদক ছিলেন। ১৯৫১ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত জ্যোতি বসু ওই পদে ছিলেন।
১৯৬১ সালে অবিভক্ত সিপিআই-এ রাজ্য সম্মেলন হয় বর্ধমানে। সেই সম্মেলনে প্রমোদ দাশগুপ্ত রাজ্য কমিটির সম্পাদক হন। পার্টি ভাগ হওয়ার পর, ১৯৬৪ সাল থেকে আমৃত্যু প্রমোদ দাশগুপ্ত ওই পদে ছিলেন। ১৯৮২ সালের ২৯ নভেম্বর চীনের রাজধানী বেজিং-এ তিনি মারা যান। সে সময় তাঁর সঙ্গী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। প্রমোদ দাশগুপ্ত, অতুল্য ঘোষ এমন সব নাম মনে পড়লেই ভেসে ওঠে দৃঢ়চেতা সংগঠকের কথা। প্রমোদবাবুকে সবাই পিডিজি বলে জানতেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বামফ্রন্ট গঠনের সময় সিপিআইএম কত আসনে লড়বে কোন আসনে সিপিআইএম-এর কে প্রার্থী হবেন, লোকসভায় ও রাজ্য সভায় কে প্রার্থী হবেন এ সব ব্যাপারে প্রমোদবাবুর বিবেচনাই ছিল চূড়ান্ত। অবশ্যই তার আগে জেলা কমিটি নাম পাঠাতো।
প্রমোদবাবু কমবেশি সব জেলার নেতাদেরকে চিনতেন, হয়ত তখন রাজ্যে সিপিআইএম-এর সদস্য সংখ্যা ৪০ হাজার। প্রমোদবাবুর লক্ষ্য ছিল সংগঠনকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়া করানো। কিছু ব্যাপারে দলের মধ্যে কারুর সঙ্গে মতবিরোধ হলেও প্রমোদবাবু দলীয় লাইন ও শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিতেন বেশি। এ কারণে ১৯৭৪ সালে সিপিআইএম-এর তাত্বিক নেতা পীযূষ দাশগুপ্তকে দল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়েছিল। এই বহিষ্কার ঠিক ছিল কিনা তা নিয়ে আজও প্রশ্ন ওঠে। তখন এটাকে বলা হতো দুই পিডিজির লড়াই। যাই হোক নিজের জন্য কিছু না করা পার্টির জন্য নিবেদিত প্রাণ ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন প্রমোদ দাশগুপ্ত। তিনি নিজে পার্টি কমিউনে থাকতেন। নিজের ধুতি-গেঞ্জি-পাঞ্জাবী নিজে হাতে কাচতেন। আজ যাদের বয়স ৫০-এর কম তাদের অনেকেই প্রমোদ দাশগুপ্তের নাম শোনেননি। ১১৩তম জন্মদিনে ১৩ জুলাই তাঁকে আমরা স্মরণ করলাম।