চন্দনপুরের বাড়িটা প্রোমোটারের হাতে দেবার আগে কিছু ফার্নিচার বিক্রি করার ছিল। কেয়ারটেকার দুলালবাবু বললেন,
— একবার ঘুরে যান ম্যাডাম। পুরোনো জিনিসপত্রের মধ্যে আপনার কিছু পছন্দের জিনিসও তো থাকতে পারে।
— আপনি যা ভালো বুঝবেন তাই করুন। আমি আবার কি করতে এতদূর যাব?
দুলালবাবুকে আর নয়নিকা বলল না, যে বাড়ির স্মৃতিই তার অধরা, সেখানে আবার পছন্দ আর অপছন্দ!
— তা হয়না ম্যাডাম। এটা আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি। আপনার একবার আসা উচিৎ।
— এতদিন বন্ধ ছিল বাড়িটা। ধুলোবালিতে আমার আবার এলার্জি।
— চিন্তা করবেন না ম্যাডাম। আমি সব পরিষ্কার করিয়ে রাখব।
কোলকাতা থেকে চন্দনপুর পৌঁছতে নয়নিকার প্রায় দু-ঘন্টা লাগল। শক্তিপীঠের লোহার মস্ত গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুলালবাবু। বাড়ির নাম শক্তিপীঠ!
নয়নিকার মনে হল, অদ্ভুত! বাড়ির এমন নাম কেউ রাখে নাকি! এ নিশ্চয়ই ঠাকুমার দেওয়া নাম।
ঢোকার মুখে গেটের পাশের একফালি জমি থেকে উঠেছে লতানে গাছ। গেটের মাথায় করা উঁচু আর্চে থোকা থোকা আঙুরের মত ঝুলছে উজ্জ্বল কমলা রঙের ফুল। নয়নিকা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। ফুলগুলো যেন তাকে ওয়েলকাম করছে। স্পর্শ করতে চাইছে তার মাথা। গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করতে চাইছে।
— এটা কি ঠাকুমার লাগানো গাছ?
— বলতে পারব না ম্যাডাম। আমি আর কতদিন এ বাড়ির দেখাশোনা করছি বলুন? তবে এ বাড়িতে উনিই যখন বেশিদিন ছিলেন, তখন ওঁর ইচ্ছেতেই লাগানো হবে।
চলুন ভেতরে যাই। এই গাড়ি বারান্দাটা বর্ষার জলে, গাছের পাতা পড়ে এত স্লিপারি হয়ে গেছিল! সব পরিষ্কার করাতে হল।
গেটের পরেই যে গাড়ি বারান্দা, সে জায়গাটা বেশ চওড়া। অন্ততপক্ষে তিনটে বড়ো বড়ো গাড়ি সেখানে থাকতে পারবে। নয়নিকা মনে করার চেষ্টা করল, ঠাকুমা বাসবী ওরফে সিদ্ধেশ্বরী দেবীর কি নিজের গাড়ি ছিল? মায়ের মুখে তো কোনদিনও শুনিনি। হয়তো বড়লোক ভক্তদের গাড়ি রাখার জন্যে এই ব্যবস্থা!
উঠোন পেরিয়ে আবার একটা কোলাপসিবল গেট। একতলাটা অন্ধকার। একটা বিশাল হলঘর শূন্য পড়ে আছে। নিচেই বুঝি রান্নাঘর ছিল। অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িকুড়ির মাঝে কিছু স্টীলের বাসন আর বিবর্ণ হয়ে যাওয়া কাঁসার বাসনপত্রও রয়েছে।
একতলায় একটা কলঘর আছে। সঙ্গে বড় চৌবাচ্চা। একপাশ দিয়ে দোতলা ওঠার সিঁড়ি। সিঁড়িটাও অন্ধকার বলে ল্যান্ডিংয়ে একটা ছোট্ট জানলা, আলো দেওয়ার জন্যে। একতলায়, সিঁড়িতে জায়গায় জায়গায় প্লাস্টার খসে পোড়ো বাড়ির মত হতশ্রী চেহারা হয়েছে।
এই বাড়িটা তার? সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে নয়নিকার মনে হল, এ যেন অচেনা অজানা এক বাড়িতে তার অনধিকার প্রবেশ!
শক্তিপীঠের দোতলাটায় আলো হাওয়া ঢোকে বলে তুলনায় ভালো অবস্থা। পেছনের ব্যালকনি থেকেও গঙ্গা দেখা যায়। গঙ্গার ফুরফুরে হাওয়া কোথাও কোনো বাধা না পেয়ে সোজা ঘরে এসে ঢোকে। সামনে পিছনের দুটো বারান্দাতেই গ্রিল লাগানো। গ্রীলেও দৈবী শক্তির মহিমা! দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করতে উদ্যত। কাঠের জানলার খড়খড়িতে, সীলিঙের কড়িবরগায় কত যে কলঙ্কিত ইতিহাস!
দোতলায় দুটো পেল্লায় পেল্লায় ঘর। ঘরের লাগোয়া টানা বারান্দা। ঘরে ঢুকে তো অবাক নয়নিকা।
কি ভালো অ্যান্টিক ডিজাইনের কাঠের খাট, আলমারি। খাট তো নয়, এতো পুরনো সিনেমায় দেখা পালঙ্ক! খাটের গায়ে লতাপাতা, রাণী ভিক্টোরিয়ার মুখ খোদাই করা।
এই খাটেই কি বাবার শৈশব রয়ে গেছে? এই খাটেই কি কেটেছিল এককালের দোর্দন্ডপ্রতাপ অঙ্কের প্রোফেসর ঠাকুর্দার অসহায় বার্ধক্য! যাঁকে বশীকরণ, তুকতাকে ব্যক্তিত্বহীন, মৌন করে রাখা হয়েছিল। নয়নিকার মন ভারী হয়ে গেল।
খাটের একপাশে মেহগনি কাঠের বড় আলমারি। পাল্লায় লম্বা আয়না। আলমারিটা খুলে দেখতে ইচ্ছে হল নয়নিকার।
— আলমারির চাবি আছে দুলাল বাবু?
— হ্যাঁ ম্যাডাম, চাবি আছে আমার কাছে। খুলে দিচ্ছি।
আলমারি খুলতেই ন্যাপথালিন মেশানো একটা হাল্কা পুরনো গন্ধ নাকে এসে লাগল। মোটামুটি গোছানো আলমারি। একটা তাকে পেটিকোট, ব্লাউজ টুকিটাকি। অন্য তাকে গরম জামাকাপড়। শাড়িবিলাসিনী নয়নিকার চোখ আটকে গেল শাড়ির তাকে। থাকে থাকে অনেক কাচানো শাড়ি রয়েছে। বেশিরভাগই সাদা লাল পাড়। সময়ের ব্যবধানে হলদেটে ছাপ ধরেছে সাদায়।
আরিব্বাস, একটা আসামের মুগা সিল্কও রয়েছে! শাড়ি চিনতে ভুল হয়না নয়নিকার। ষাট/সত্তর হাজারের এই শাড়ি কতবার কিনতে গিয়ে পিছু হটেছে সে। পুরনো হলেও তার ঔজ্জ্বল্য একেবারেই কমেনি। কোনো ভক্তের দেওয়া প্রণামী নিশ্চয়ই। নেব কি নেবনা’র দোনামনায় শেষ পর্যন্ত কমলিকা শাড়িটা নিয়েই ফেলল।
— আলমারিতে যা আছে, সেগুলো এখানকার গরীব-দুঃখীদের বিতরণ করে দিলে হয় না দুলালবাবু?
— হ্যাঁ ম্যাডাম নিশ্চয়ই হয়। আমি ব্যবস্থা করব।
শোবার ঘরের দেওয়ালে টাঙানো অনেকগুলো পারিবারিক ছবি। কালস্রোতে বিবর্ণ। এরই মধ্যে কোনো ছবিতে হয়তো বাবার ছোটোবেলা ধরা আছে। আজ সে ছবি চিনিয়ে দেবার মত কোনো লোক আর বেঁচে নেই।
একটা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল নয়নিকা। ইনিই তাহলে যত কান্ড, পারিবারিক অশান্তির মূল। ছবিটা হাল আমলের। রঙিন ছবিতে কপালের লাল-বড় সিঁদূরের টিপ, পান খাওয়া টুসটুসে ঠোঁট, মাথায় জটা সব পরিষ্কার। নিজের চেহারার সঙ্গে মিল পেয়ে বিব্রত হল নয়নিকা।
মা বলেছিল বটে, তুই তোর ঠাকুমার মুখের আদল পেয়েছিস। ঠাকুমার সঙ্গে আমার কোনো মিল না থাকলেই ভালো, মনে মনে এইকথা উচ্চারণ করতে করতে পাশের ঘরে গেল নয়নিকা আর দুলালবাবু।
এই সেই পুজোর ঘর! ক্যালেন্ডারে, বাঁধানো ছবিতে, বিগ্রহে প্রায় তেত্রিশ কোটি দেবদেবী রয়ে গেছেন এঘরে। কবেকার চাঁদমালা, ঘট, লাল কাপড়ের টুকরো এখনো কোন স্মৃতি বহন করে চলেছে কে জানে!
দুলালবাবু বললেন, এঘরের জিনিসপত্রে বিশেষ হাত দিইনি ম্যাডাম। যতই হোক, উনি তন্ত্রসাধিকা ছিলেন।
সাধিকা! মারণ, উচাটন, বশীকরণের মত ভুলভাল জিনিসের ব্যবসা করতেন তিনি। ভর হওয়ার ভড়ং ছিল মাতা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর। হাত দেখতেন। পাথর দিতেন। নৃত্যগীত পটিয়সী সুন্দরী মহিলা নাচতেন, গাইতেন। ভাবে বিভোর হলে তাঁর নাকি পরনের শাড়ি খুলে যেত। সেই রঙ্গ দেখতে ভিড় জমাত ভক্তের দল। জন সম্মোহিনী ক্ষমতা ছিল ভদ্রমহিলার। কথাও বলতে পারতেন খুব ভালো।
মায়ের কাছে এইসব গল্প শুনে শুনে ভদ্রমহিলার প্রতি একরকম বিদ্বেষ জন্মেছে নয়নিকার। তার বাবা ছোটো থেকেই হোস্টেলে পড়াশোনা করেছেন। তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পি ডব্লিউ ডির চাকরি নিয়ে বাইরে বাইরে পোস্টিং । ঠাকুমার এইসব কান্ডকারখানায় লজ্জায়-ঘেন্নায় বাড়িমুখো হতেন না বাবা। ঠাকুর্দাকেও পুরোপুরি বশ করে ফেলেছিল ঠাকুমা। বাড়ির প্রতি বাবার টানটাই আর ছিল না। বিয়ের পর অনেক জোরাজুরিতে মা’কে নিয়ে একবার এসেছিলেন। নয়নিকাকে কোনোদিনও আসতে দেননি। নয়নিকার আগ্রহ ছিল না। সে নিজের পড়াশোনা, কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত ছিল।
বাবা কোনোদিন মেয়ের কাছে পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন নি। মায়ের মুখেই যতটুকু শোনা।
বাড়ি দেখতে দেখতে শীতের সন্ধ্যে ঝুপ করে নেমে এসেছে। গাড়িতে উঠতে নয়নিকা দুলাল বাবুকে বলল,
— আজ আসি দুলাল বাবু। আপনার কথায় এখানে এসে ভালোই করলাম। কাঠের ফার্নিচারগুলো অ্যান্টিক। ওগুলো যেমন তেমন করে বিক্রি করা উচিত হবে না। আমি কোলকাতার বড় দোকানে খুব তাড়াতাড়ি যোগাযোগ করছি। বাকি যা সব আছে, আপনি তার বিলিব্যবস্থা করে ফেলুন।
— ঠিক আছে ম্যাডাম। সাবধানে যাবেন।
চন্দনপুরের রাস্তায় সাইকেল রিক্সার প্যাঁপোঁ হর্ন, টোটোর ভিড়, সাইকেল আরোহী আর রাস্তার খানাখন্দ কাটিয়ে হাইওয়েতে উঠে নয়নিকা নিশ্চিন্ত বোধ করল। যদিও আজ সে চালক সঙ্গে এনেছে। মফস্বল শহরের গলিঘুঁজিতে গাড়ি চালাতে সে মোটেই স্বচ্ছন্দ হত না।
— আমাদের পৌঁছতে কতক্ষণ সময় লাগবে বাবলু? বেশি রাত হলে মা আবার চিন্তা করবে।
— অন্ধকার হয়ে গেছে তো একটু বেশি সময় লাগবে দিদি।
— একটু দাঁড়িও। কোথাও চা খেয়ে নেব। মাথাটা ধরেছে।
মাথাটা শুধু ধরে নেই নয়নিকার, মাথার মধ্যে অজস্র চিন্তা কিলবিল করছে। ঠাকুমার এই সমস্ত কান্ডকারখানা লোকে যে কি করে বিশ্বাস করত কে জানে! বহুবছর ধরে মানুষকে তিনি এভাবে ঠকিয়েছেন! কি অন্যায়!
নয়নিকা বিজ্ঞানের কৃতি ছাত্রী ছিল। কোলকাতার নামকরা কলেজে এখন ফিজিক্স পড়ায়। তাঁর যুক্তিবাদী মন এইসব তন্ত্রমন্ত্র কিছুতেই মেনে নেয় না। তাঁর পরলোকগত বাবাও ঠাকুমার এইসব কার্যকলাপে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ছিল। ঠাকুমার সম্পত্তি বেচার টাকা সে নেবে না। কোথাও দানধ্যান করে দেবে। নিজেদের যা আছে তাই দিয়ে মা আর অবিবাহিত মেয়ের সংসার দিব্যি চলে যায়।
বাড়ি ফিরে খাবার টেবিলে বসে মাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিল নয়নিকা। সম্পত্তি টাকাপয়সা নিয়ে তার যে বিন্দুমাত্র লোভ নেই, সেকথাও জানিয়ে দিল। মা শুধু দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “যা ভালো বুঝিস তাই করবি। আমি আর কি বলব!”
নিজের ঘরে ঢুকে উজ্জ্বল সোনালী মুগা রঙের ওপর লাল বুটি, চওড়া রেশম পাড় শাড়িটায় একবার হাত বুলিয়ে আলমারিতে রেখে দিল নয়নিকা। ভারি সুন্দর, এলিগ্যান্ট শাড়ি। বারবার চোখ টানছে।
ইতিমধ্যে পার্ক স্ট্রিটের এক অ্যান্টিক ফার্নিচারের দোকানে কথা বলেছে নয়নিকা। ভদ্রলোক নিজেই চলে যাবেন চন্দনপুর। দুলালবাবু থাকলেই হবে। নয়নিকার আর যাবার দরকার নেই।
সেদিন তাড়াতাড়ি কলেজ থেকে ফিরে এসেছে নয়নিকা। কলিগের মেয়ের বিয়ে। আলমারি খুলতেই ঠাকুমার শাড়িতেই চোখটা আটকে গেল। এটা আজকে পরে গেলে কেমন হয়। শাড়িটা বার করে নাকের কাছে চেপে ধরল। ঠাকুমার আলমারির সেই গন্ধটা শাড়িতে এখনো লেগে আছে। ম্যাচিং লাল ব্লাউজ খুঁজে শাড়িটা পরল নয়নিকা। কপালে একটা লাল টিপ পরে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই চমকে উঠল সে। এতো ঠাকুমা দাঁড়িয়ে আছে! মাথা ঝিমঝিম করে উঠল তার। কেমন ঘোরলাগা ভাব। গোটা ঘরটা যেন ধুনোর ধোঁওয়া, ধূপের গন্ধ অধিকার করে নিল! সেই ঘন ধোঁওয়াকে ভেদ করে আলো তার পথটি খুঁজে পাচ্ছে না। আলোআঁধারির রহস্যের সঙ্গে কাঁসরঘন্টার ধ্বনি ভারী করে তুলছে ঘরের গোটা পরিবেশ। নয়নিকা জোরে জোরে মন্ত্র বলতে শুরু করল,
ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তাকেশী চতুর্ভূজাং।
কালিকাং দক্ষিণাং দিব্যাং মুন্ডমালা বিভূষিতাম্…
কাজের মেয়ে শিখা আর মায়ের আয়া মাসির মন্ত্রপাঠ শুনতেই কানখাড়া হয়ে গেল। দরজা ভেজিয়ে দিদি এসব কি বলছে! এবাড়িতে তো পুজো পাঠের কোনো চল নেই!
দরজা একটু ঠেলতেই খুলে গেল।
শিখা আর আয়া মাসিকে দেখে নয়নিকার কি বকাবকি!
— মায়া, বাণী তোমাদের দিয়ে যদি একটা কাজ ঠিকভাবে হয়! চন্দন বেটে রাখতে বলেছিলাম! করনি কেন? সাজিতে জবাফুল আর অপরাজিতা কই?
— দিদি তুমি এসব কি বলছ! মায়া, বাণী এরা কে? চন্দন, ফুলের কথা আবার কখন বললে?
আয়ামাসি অবাক হয়ে দেখছে নয়নিকার শাড়ির আঁচল মেঝেতে লুটোচ্ছে। তাঁর কোনো হিতাহিত জ্ঞান নেই।
নয়নিকার মাও চেঁচামেচি শুনে ধীরে ধীরে মেয়ের ঘরে পৌঁছলেন। ভয় পেয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে তিনিও চিৎকার করে বললেন, “এসব কি বলছিস নয়ন! তুই এসব মন্ত্র কোত্থেকে শিখলি! শান্ত হ মা, শান্ত হ তুই।”
মায়ের ঝাঁকুনিতে খানিকটা যেন সম্বিত ফিরে এল নয়নিকার। মায়ের বুকে মুখ গুঁজে সে অনেকক্ষণ কাঁদল। তারপর একসময় শান্ত হয়ে মুখ তুলে বলল,
— “আমি কি সত্যিই কিছু বলছিলাম মা! কি জানি, কি করছিলাম, জানিনা!”
এক শূন্য, উদাস দৃষ্টি নিয়ে সামনে তাকিয়ে রইল নয়নিকা।
অসাধারণ ছোটগল্প !!
পুরনো বার্মা টিকের ভারী দরজা খোলার শব্দে পৌঁছে গেলাম জমিদারীর শেষ পর্বে লাভপুরে। কড়ি বরগায় প্রতিধ্বনিত হলো ” এসেছিস !! এ যে রক্তের নীল টান , যেমন অনন্ত তেমনই বিষাক্ত !
আধিদৈবিক নাকি আধিভৌতিক…….”
তোমার কলম নিজস্ব ছন্দে এগিয়ে চলুক মাসিমণি????????????????।
ভাল থেকো সবসময় ।
❤️❤️
ভালোবাসা অরুণিমা। শুভেচ্ছা অপার
বা:! ভালো লাগলো।
খুব খুশি হলাম ♥️
খুব খুশি হলাম ♥️
ভালো লাগলো কিন্তু পরবর্তী অংশ তাড়াতাড়ি লিখে ফেলুন।
ভাবিনি। তবে এবার ভাবব ????
সকাল বেলায় একটা সুন্দর গল্প পড়লাম। বাস্তব আর পরাবাস্তবের মধ্যে অনায়াস যাতায়াত।
আপ্লুত। সতত শুভেচ্ছা????
পরতে পরতে টান টান উত্তেজনা,নীরব অথচ রোমহর্ষক!…..’কিছু বুঝি একটা রহস্য’!!!…..দুরন্ত সাবলীল লেখনী,গল্পের লয় উথালপাতাল-গতিময় অথচ কি ভীষণই স্বাভাবিক!
নন্দিনীর ‘প্রতিচ্ছায়া’ নন্দিনীর কলমের ভিতর আগামীর নামী লেখিকার প্রতিচ্ছায়া ফুটিয়ে তুললো।
ধন্যবাদ।আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানবেন????
বেশ আধিভৌতিক নাকি আধিদৈবিক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে এগোলাম। এর সাথে কিছু মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেরও প্রত্যাশী রইলাম। বিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপিকা নয়নিকার নিশ্চয় সেই বিশ্লেষণ এর দিকে ঝোঁক থাকবে। লেখনী চলুক বাধাহীনভাবে।
এর শেষ কিছু ভাবিনি,কারণটা বোধহয় সেটা আর গল্প হবে না বিশ্লেষণ হয়ে যাবে। এই পরাবাস্তব ঘটনার ব্যাখ্যা হয় না বলেই জানি।
সুন্দর গল্প। অনেক কিছুই থাকে বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা মেলে না।
সেখানেই রহস্য দানা বেঁধে ওঠে। ভালোবাসা মৌসুমী ♥️
বাপরে ,তবে এরপরও গল্প আরো এগিয়ে চলুক
মনের মাঝে যে চিন্তা বা ভাবনা অবদমিত থাকে তাই কোন সময় স্বপ্ন আকার নেয়। আর এ লেখার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে পুরনো দিনের স্মৃতি। ভালো লাগা একরাশ।