কলকাতা পৌরসংস্থার স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনস্থ ফুড সেল ৬ আগস্ট ২০২২ ‘ইট রাইট’ কর্মসূচী উপলক্ষে একটি বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করে। কলকাতা পুরসভার মূল ভবন থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও বিধায়ক তথা কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ফুড সেফটি কমিশনার তপন কান্তি রুদ্র, কলকাতা পুরসভার কমিশনার বিনোদ কুমার, সেক্রেটারি হরিহরপ্রসাদ মণ্ডল, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুব্রত রায়চৌধুরী, উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ বিভাকর ভট্টাচার্য সহ বিশিষ্টগণ।

এই বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগকে। গত কাল ইট রাইট মেলায় আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করেছে কলকাতা পুরসভা। এর জন্য আমরা গর্বিত। কলকাতা পুরসভা শতাব্দী প্রাচীন এক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মানুষকে সুস্থ ভাবে বাঁচাবার প্রয়াসটির প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হবার পর বিশেষ ভাবে নজর দিয়েছেন। ঠিক একই ভাবে কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্র অতীন ঘোষ এই কাজটি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দায়িত্বসহকারে করছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে সম্ভবত ১৯৯৫ বা ১৯৯৬ সালে বেহালায় ভেজাল তেল কাণ্ড হয়েছিল। কয়েকশো মানুষ তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই সময় ফুড সেফটি ছিল না। তাই আজও অনেক মানুষ সেই ঘটনার ফল ভোগ করছেন। কিন্তু এখন আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি কলকাতা পুরসভার পরীক্ষাগারটি বিশ্বমানের। এর ব্যবহার সঠিক ভাবে হলে কলকাতায় আমরা একটি বিপ্লব ঘটাতে পারব। আজ শুধু ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া দমনের লড়াই নয়, ফুড সেফটিকেও একই ভাবে আমাদের নজর দিতে হবে এবং আমরা তা করছি। মানুষকেও আরও সচেতন হতে হবে।’

এই কর্মসূচি উপলক্ষ্যে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানান, ‘আজ কলকাতা পুরসভার ফুড সেফটি বিভাগ ও রাজ্য সরকারের ফুড সেফটি বিভাগের যৌথ সহযোগিতায় খাওয়ার জন্য হাঁটা বা ইট রাইট — নামক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। খাওয়া আমাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এই কারণে আজ আমরা হাঁটব। ২০১৫ সাল থেকে কলকাতার ফুড সেফটি বিভাগ শহরের খাদ্যের গুণগত মানের আমূল পরিবর্তন করেছে। বিশেষ করে কলকাতার স্ট্রিট ফুডে গুণগত মাণে বিশ্বের নজর কেড়েছে। শরীর খারাপ হবার একটি অন্যতম কারণ খাদ্য। খাদ্যের গুণগত মান ঠিক না থাকলে শরীর অসুস্থ হতে বাধ্য। সচেতন বা অসেচন ভাবে খাদ্য বিক্রেতারা এমন কিছু নিম্নমানের তেল বা মশলাপাতি ব্যবহার করেন যার ফলে খাদ্যের গুণমান কমে যায়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়ে আমি দেখেছি ফুড সেফটি অ্যাক্ট এত কড়া যে এই বিষয়ে অপরাধ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে খাদ্য বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েই খুব সচেতন থাকেন। ক্রেতা হিসেবে কোনো রেস্তোঁরায় গেলে আমাদের দেখার অধিকার আছে সেখানে কী রকম মশলা বা তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতের মতো ১৩৫ কোটি দেশবাসী সমৃদ্ধ দেশের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা খুবই প্রয়োজনীয়।আজকে আমাদের হাঁটার উদ্দেশ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।’