করোনার থাবা থেকে মুক্তি পেতে সবাই যখন সামাজিক দূরত্ব কিংবা বাড়িতে থাকাটাই একমাত্র পথ বলে মনে করছি, তখনও ওরা ক্লান্তিহীনভাবে মাইলের পর মাইল পথ হাঁটছেন নিজের বাড়ি ফেরার জন্য। প্রিয়জনদের কাছে পাওয়ার জন্য। অনেকে আবার বিভিন্ন রাজ্যে কোনোক্রমে হয়তো মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু পেয়েছেন। কিন্তু গালভরা শব্দ সোশ্যাল ডিস্টানসিং তাঁদের কাছে যেন অর্থহীন। ঘরবন্দি নয় তাঁদের অসহায় প্রাণ যেন কেউ বন্দি করে রেখেছে। দু বেলা দুমুঠো খাবারই জোটানোই যেন ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে চ্যালেঞ্জ। করোনা নয় অনাহার থেকে মুক্তি পেতে বাড়ি ফিরতে চান তাঁরা। এ দৃশ্যই প্রতিদিন আমরা দেশের বুকে দেখে চলেছি।
এই ভয়ঙ্কর অবস্থায় সাহায্য পেয়ে অনেকটা নিশ্চিন্ত হতে পেরেছেন পুরুলিয়ার শ্রমিকরা।
লকডাউনের জেরে হরিয়ানার গুরুগ্রামে বাগমুন্ডি বিধানসভার ঝালদা-সহ একাদিক ব্লকের প্রায় ৭০ জন আটকে পড়া অসহায় শ্রমিক পুরুলিয়া জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুশান্ত মাহাতোর সাথে যোগাযোগ করেন। সুশান্ত তাঁদের থেকে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তাঁদের সাহায্যের আশ্বাস দেন। এর পরই তাদের সবাইকে ৫ কেজি চাল ,৫ কেজি আটা ,১ কেজি ডাল, ৫০০ গ্রাম তেল,২ কেজি আলু, বিভিন্ন মশলার প্যাকেট-সহ বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সুশান্ত মাহাত বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প নিয়েছে পুরুলিয়া জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস। আমাদের বাংলাতেও বহু ভিন রাজ্যের শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের খাওয়া, থাকার কোনো অভাব রাখেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অসহায় মানুষদের হাতে খাবার তুলে দিয়েছেন তিনি। বাংলার গরিব, প্রান্তিক মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে ৬ মাস বিনা মূল্যে রেশন দিচ্ছে মা মাটি মানুষ সরকার। করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে লড়াই করছেন তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন বাংলার মানুষ। তাঁর দেখানো পথে ভবিষ্যতেও এইভাবে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া জেলার মানুষদের সাহায্য করা হবে বলে জানান সুশান্ত মাহাত।