বছর দুই আগে একটা সংবাদে খুব আনন্দ হয়েছিল। আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথ যে বাড়িতে ছিলেন, সে বাড়ি কিনে নিয়েছিলেন দুই বাঙালি, কাজল মুখোপাধ্যায় ও মৌসুমী দত্ত রায়। বাড়ির ঠিকানা ৫০৮ হাই স্ট্রিট, আর্বানা, ইলিনয়, ইউএসএ। এটা এক ঐতিহাসিক বাড়ি। এখানে বসে রবীন্দ্রনাথ করেছিলেন ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদ, ইয়েটস-সহ একাধিক খ্যাতনামাদের লিখেছেন চিঠি, পড়াতে গিয়েছেন হার্ভাডে, এখান থেকে গিয়েছেন আইওয়া-শিকাগোতে। ইংল্যাণ্ডের পুরানো বাড়ির ধাঁচে তৈরি এই দোতলা সাদা রঙের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের ছেলে রথীন্দ্রনাথ থেকেছেন, থেকেছেন প্রতিমাদেবীও। এ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ প্রথমে আসেন ১৯০৬ সালে। তারপরে আবার আসেন ১৯১২ সালে। কাজল-মৌসুমী এ বাড়ির খোঁজ পেয়ে ছুটে যান বাড়ির মালিকের কাছে, নাম তাঁর স্ট্যান শার্লো। বহু কষ্টে তাঁরা বাড়িটি বিক্রি করার জন্য রাজি করেন শার্লোকে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘সিলেক্টেড লেটার্স অব রবীন্দ্রনাথ টেগোর’ বই থেকে কাজল-মৌসুমী জানতে পারেন বাড়িটির কথা।

এ বছর আর একটা আনন্দের খবর পাওয়া গেল ঢাকার এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে। আমেরিকায় দুই দিন ব্যাপী রবীন্দ্র উৎসবের আয়োজন করেছেন ইউএসএ-র রবীন্দ্র সম্মিলনী পরিষদ। এই রবীন্দ্র উৎসবে কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্য থেকে কবি, লেখক, শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। উৎসবের প্রধান অতিথি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড. গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর নিউইয়র্কের প্রখ্যাত গ্যালারিস্ট, শিল্প-ইতিহাসবিদ সুন্দরম ঠাকুরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন পূরবী বসু, চন্দ্রিল ভট্টাচার্য, নাজমুন নেসা পিয়ারী, শাহরিয়ার কবীর, হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, আলোলিকা মুখোপাধ্যায়, ড. নূরুন নবী প্রমুখেরা।
উৎসবে রবীন্দ্রনাথকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরার জন্য আমেরিকাবাসী বাংলাদেশী শিল্পীরা চারুশিল্পের আয়োজন করেছেন। যে তিনটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে সেগুলি হল : নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ-তর্কে-বিতর্কে, বিদেশিদের চোখে রবীন্দ্রনাথ।
লেখক সিনিয়র ফেলোশিপপ্রাপ্ত গবেষক