১৯৪৭ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে রবীন্দ্রবিষয়ক বই ও প্রবন্ধের তালিকা আমরা পেশ করেছি। পরবর্তীকালে, বিশেষ করে ২০১১ সাল থেকে রবীন্দ্রবিষয়ক বই ও প্রবন্ধ প্রচুর পরিমাণে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশে। একজন প্রকাশক (মূর্ধন্য) তো ২০১২ সালে ১০০-র বেশি রবীন্দ্রবিষয়ক বই প্রকাশ করেছিলেন। এই কালপর্বে প্রকাশিত বই-এর একটি অসম্পূর্ণ তালিকা আমরা তুলে ধরলাম : —
উপনিবেশায়ন ও রবীন্দ্রনাথ / মোহাম্মদ আজম / আদর্শ।। দক্ষিণে সূর্যোদয় : ইস্পানো-আমেরিকায় রবীন্দ্রচর্চার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস / রাজু আলাউদ্দিন / অবসর।। বিচিত্র ও দুরবগাহ রবীন্দ্রপ্রতিভা / আনু মাহমুদ / সাহিত্যকথা।। রবীন্দ্রনাথের সচিত্র বনবাণী / মোকাররম হোসেন / অনিন্দ্য।। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শ : তত্ত্ব ও প্রয়োগ / সরওয়ার মুর্শেদ / ঝিনুক।। রবীন্দ্রনাথ / আবদুল মান্নান সৈয়দ / অবসর।। রবীন্দ্রনাথ : শ্রেণিদৃষ্টিকোণ থেকে / হায়দার আকবর খান বনো।। রবীন্দ্রনাথের নারী ভাবনা / গোলাম মুরশিদ / অবসর।। রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ : পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রচর্চা / গোলাম মুরশিদ / বাংলা একাডেমি।।দুর্ভাবনা ও ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে / আকবর আলি খান / প্রথমা।। ঠাকুরের মাৎস্যন্যায় / সলিমুল্লাহ খান / মধুপোক।। রবীন্দ্রমানস ও সৃষ্টিকর্মে পূর্ববঙ্গ / গোলাম মুরশিদ / অবসর।। অনন্য রবীন্দ্রনাথ / হোসেন উদ্দিন / কথাপ্রকাশ।। রবীন্দ্রনাথ : মানুষটি / সাযযাদ কাদির / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : কৌতুকনাট্য / আহমেদ আমিনুল ইসলাম / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / আহমেদ মাওলা / ভাষাপ্রকাশ।। রবীন্দ্রনাথ : চিত্রকর / মাহমুদ আল জামাল।। ছন্দশিল্প : রবীন্দ্রনাথ / মুজিবুল হক কবীর / পুঁথিনিলয়।। রবীন্দ্রনাথ : ‘শ্যামলী’ / শাহনাজ মুন্নী / মূর্ধন্য।। আমার রবীন্দ্রনাথ / আজহারুল হক ফরাজি / অনিন্দ্য।। রবীন্দ্রনাথ : ‘গোরা’ / তানভির আহমেদ সিডনি / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : ‘অচলায়তন’ / লুৎফর রহমান / মূর্ধন্য।। অন্তরালের রবীন্দ্রনাথ / অমিতাভ বিশ্বাস / অনিনদ্যপ্রকাশ।। রবীন্দ্রনাট্য বীক্ষণ ও মানবমুক্তি প্রসঙ্গ / আহমেদ আমিনুল ইসলাম / ভাষাচিত্র।
রবীন্দ্রনাথ : প্রেমের গান / মুস্তাফা জামান আব্বাসী / নন্দিতাপ্রকাশ।। রবীন্দ্রনাথ : ‘চারঅধ্যায়’ / শান্তনু কায়সার / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : ইংরেজি শেখানো / সুব্রতকুমার দাস / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ / মাহবুবুল হক / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : ‘মানুষের ধর্ম’ / শিহাব সরকার / মূর্ধন্য।। তিরিশে কবিদের কাছে রবীন্দ্রনাথের চিঠি / মামুনুর রহমান / সমাচার।। রবীন্দ্রনাথ ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায় / মাসুদ রহমান / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : মুসলমান চিন্তা / শামসুল আলম সাইদ / দ্য ইউনিভার্সাল একাডেমি।। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথের মতোই / সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী / জাগৃতি।। রবীন্দ্রনাথ এবং স্পিনোজা, আইনস্টাইন ও রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর / ভুঁইয়া সফিকুল ইসলাম / জাগৃতি।। রবীন্দ্রনাথের জাপান, জাপানে রবীন্দ্রনাথ / মনজুরুল হক / প্রথমা।। রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্প / আহমদ রফিক / অনিন্দ্যপ্রকাশ।। রবীন্দ্রনাথ ও লালন / আবুল আহসান চৌধুরী। মূর্ধন্য।
রবীন্দ্রনাথের সেই কলম / রফিকুল ইসলাম প্রিন্স / নোলক।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বদিউর রহমান / কথাপ্রকাশ।। রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ সংগীত / সাবরিনা আক্তার টিনা / বাংলানামা।। রবীন্দ্রনাথের চাকর-বাকর / এস. এম. আফজাল হোসেন / অনুপ্রাণন।। রবীন্দ্রনাথের জীবনে নারী / আরেফিন বাদল পলল।। রবীন্দ্রনাথের ভাঙা গান / আহমেদ রেজা / নৈঋতা কাফে।। বৃষ্টির ভেতরে রবীন্দ্রনাথ / আনোয়ারা সৈয়দ হক / পাঠক সমাবেশ।। এক মোড়কে রবীন্দ্রনাথ / সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ / হাসি।। বিচিত্র বিভায় রবীন্দ্রনাথ / বেলাল বাঙালি / গণপ্রকাশন।। সিলেটে রবীন্দ্রনাথ / ঊষারঞ্জন ভট্টাচার্য / বাতিঘর।। রবীন্দ্রনাথ : রঙ্গ রসিকতা / তিতাশ চৌধুরী / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : দেশে ভাষণ / হাসান হাফিজ / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : গ্রামের ছবি / শুভাশিস সিনহা / মূর্ধন্য।। শেক্সপীয়ারের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ / মীযান রহমান / আবির।। রবীন্দ্রনাথ যশোরের জামাইবাবু / মুহা. আবুল কালাম আজাদ / তৃণলতা প্রকাশ।
বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথ / হাসান হাফিজ / অনিন্দ্যপ্রকাশ।। বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথ / আহমদ রফিক। অনিন্দ্যপ্রকাশ।। গ্রামোন্নয়নে রবীন্দ্রনাথ / হাসনাত আবদুল হাই / বাংলা একাডেমি।। রবীন্দ্রনাথ : একালের চোখে / আনিসুজ্জামান / সন্ধানী।। রবীন্দ্রনাথ / আনিসুজ্জামান / অবসর।। রবীন্দ্রনাথ থেকে শহিদুল জহির / লেখালেখি।। আবদুল মান্নান সৈয়দ।। রবীন্দ্রনাথ / আবদুল মান্নান সৈয়দ / অবসর।। গ্রামোন্নয়নে রবীন্দ্রনাথ / শেখর দত্ত / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : ‘নবজাতক / মিল্টন বিশ্বাস /মূর্ধন্য।। ফোকলোরিক রবীন্দ্রনাথ / বেলাল হোসেন / শোভাপ্রকাশ।। মরণচাঁদের রবীন্দ্রনাথ / নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর / আগামী।। মহাজীবন রবীন্দ্রনাথ / মাহমুদুল্লাহ / সাহিত্যমালা।। রবীন্দ্রনাথ : ‘জন্মদিনে’ / শামীম আজাদ / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : নদীগুলো / মাকিদ হায়দার / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : শিল্পভাবনা / বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বদিউর রহমান / কথাপ্রকাশ।। রবীন্দ্রনাথের অনুবাদ কবিতা / বোরহানউদ্দিন / মধ্যমা।। স্বাদিত রবীন্দ্রনাথ / সৈয়দ শামসুল হক / নবযুগ।। রবীন্দ্রনাথ : ‘মহুয়া’ / সিদ্দিকা মাহমুদ / মুর্ধন্য।। চিত্রাপ্রেমে রবীন্দ্রনাথ / আবদুল্লাহ জাহিদ / ভাষাচিত্র।। রবীন্দ্রনাথ / রাজু আলাউদ্দিন / সংহতি।। রবীন্দ্রনাথ অনন্য অন্যত্র / সাদ কামালি / অভিযান।। শ্রীভূমির রবীন্দ্রনাথ / জফির সেতু / নাগরী।। রবীন্দ্রনাথ : বিজ্ঞানমনস্কতা / তপন চক্রবর্তী / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : ‘প্রহাসিনী’ / শেখ রজিকুল ইসলাম / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : আত্মপ্রতিকৃতি / আবুল মনসুর। মূর্ধন্য।। রবীন্দ্র ভাবনা / আহমদ শরীফ / সময় প্রকাশন।
নো নেশন এবং রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি / স্বপন পাল / ভাষাচিত্র।। জগদীশ বসুর কাছে রবীন্দ্রনাথের চিঠি / মামুনুর রহমান / সমাচার।। কালজয়ী রবীন্দ্রনাথ / মুহাম্মদ মিজানুর রহমান / পুঁথিনিলয়।। রবীন্দ্রনাথ বিচিত্রের দূত / কামরুল ইসলাম / ধ্রুবপদ।। আমার রবীন্দ্রনাথ / হাসান আজিজুল হক / ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ।। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ / সৈয়দ নজমুল আবদাল / পাঞ্জেরি।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রধান কবিতা / হুমায়ুন আজাদ (স.) / আগামী।। সভ্যতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ / মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান / অনন্যা।। রবীন্দ্রনাথ : ভাষাচিন্তা / মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ কেন জরুরি / সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী / অবসর।। আমার রবীন্দ্রনাথ / কবীর চৌধুরী / মাওলা ব্রাদার্স।। রবীন্দ্র বিবাহকথা / সাদ কামালী / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : চলচ্চিত্র / মূর্ধন্য।। রবীন্দ্রনাথ : গীতিনাট্য / সানোয়ার হোসেন।। ভ্রামণিক রবীন্দ্রনাথ / পুঁথিনিলয়।। রবীন্দ্রনাথ : ‘রাজা’ / জাকির তালুকদার / মূর্ধন্য।। নিহত রবীন্দ্রনাথ / রাজীব সরকার / অনুপম।। রবীন্দ্রনাথ : ‘ক্ষণিকা’ / সরকার আমিন / মূর্ধন্য।। আত্মজৈবনিক রবীন্দ্রনাথ / বেগম আকতার কামাল / অবসর।। পরম্পরাহীন রবীন্দ্রনাথ / আবদুশ শাকুর / মাওলা ব্রাদার্স।। রবীন্দ্রনাথ : আন্তর্জাতিকতাবাদ / কবীর চৌধুরী / মূর্ধন্য।
আন্তর্জাতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও রবীন্দ্রনাথ / বিশ্বজিৎ ঘোষ / আগামী।। নানা আলোয় রবীন্দ্রনাথ / আহমদ রফিক / অনিন্দ্যপ্রকাশ।। রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ / ফরহাদ মজহার / আগামী।। পূর্ণ ছবির মগ্নতা / সেলিনা হোসেন / আনন্দ পাবলিশার্স।। এক প্রাচ্যচিত্তে প্রতীচ্য প্রতীতি / মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান / অনুপম।। রবীন্দ্রবিদূষণ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ / মুহাম্মদ জমির হোসেন / অয়ন।। রবীন্দ্রনাথের প্রথম আশ্রম শিলাইদহ / আহসানুল কবির / অর্পিতা।। বিশ্বকবির সোনার বাংলা / সালাম আজাদ / আফসার ব্রাদার্স।। রবীন্দ্রনাথের নোবেল ভাষণ / রতন সিদ্দিকী।। রবীন্দ্র দর্শন : সংশয় ও সমন্বয় / সিদ্ধার্থশংকর জোয়ার্দার / জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ।। রবীন্দ্রনাথের দর্শনচিন্তা –বঙ্গবিদ্যা গ্রন্থমালা / সন্দীপ পাল / ওই।। আমার রবীন্দ্র অবলোকন / যতীন সরকার / ওই।। রম্য রবীন্দ্রনাথ / আলম তালুকদার / ওই।। বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথ / সুরঞ্জন মিদ্দে / ওই।। রবীন্দ্রনাথ : অভিন্ন ভাবনার ভিন্ন উপস্থাপন / ওই
রবীন্দ্রনাথ : পদ্মা ও অন্যান্য / রেজাউর রহমান / আত্মপ্রকাশ।। দিনযাপনের ভূগোলে রবীন্দ্রনাথ / হায়াত মামুদ / অবসর।। তর্ক তদন্তে পাওয়া রবীন্দ্রনাথ / শামসুজ্জামান খান।। রবীন্দ্রনাথ : অন্য আলোয় / শফিউল হাসান / অনুপম।। রবীন্দ্রনাথের রাষ্ট্রচিন্তা ও বাংলাদেশ / আহমদ রফিক / অনিন্দ্যপ্রকাশ।। রবীন্দ্রনাথ ও আমরা / আতাহার আলি খান / অনিন্দ্যপ্রকাশ।। গ্যেয়টে ও রবীন্দ্রনাথ এবং অন্যান্য প্রবন্ধ / কবীর চৌধুরী / অন্বেষা।। রবীন্দ্রনাথ, গীতাঞ্জলি ও নোবেল পুরস্কার / আ্হমদ রফিক / অন্যপ্রকাশ।। রবীন্দ্র রাজনীতি / সৈয়দ আবুল মকসুদ / আজকাল।। রবীন্দ্রনাথের সমবায় নীতি ও পল্লিপ্রকৃতি / মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ / আজমাইন পাবলিকেশন্স।
‘বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা নিয়ে কিছু কথা’ নিবন্ধে আহমদ রফিক বলেছেন যে, — রবীন্দ্রবিষয়ক রচনার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি শুধু সংখ্যাতেই নয়, উৎকর্ষ বিচারেও। রবীন্দ্রসাহিত্যের চর্চায় যেমন বৈচিত্র্যের প্রকাশ ঘটেছে, তেমনি মননশীলতার পরিচয়ও পরিস্ফুট হয়েছে। প্রাধান্য লাভ করেছে ভক্তির চেয়ে যুক্তি। রবীন্দ্রসৃষ্টির পাশাপাশি ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথকেও নানা দিক থেকে মূল্যায়নের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
এ রকম মূল্যায়ন করতে গিয়ে আহমদ শরীফ লিখলেন ‘রবীন্দ্রোত্তর তৃতীয় প্রজন্মে রবীন্দ্র মূল্যায়ন’ নামে একটি প্রবন্ধ। সে প্রবন্ধে তিনি রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করলেন। যেমন : তাঁর রচনায় এমন কিছু নেই যা পাশ্চাত্য চিন্তা ও সংস্কৃতিতে ছিল না, তিনি উপনিষদের ভুল ব্যাখ্যাতা, পৌরাণিক মোহে আচ্ছন্ন, মুসলমানদের প্রতি বিদ্বিষ্ট ছিলেন ও ইংরেজদের প্রতি ছিল তাঁর অপরিমেয় অনুরাগ, তাঁর রচনায় স্থান হয়নি গণমানবের। তিনি জমিদারি উচ্ছেদের বিরোধী ছিলেন, সামন্তবাদের প্রতি তাঁর মোহ ছিল …। বলা বাহুল্য বাংলাদেশের কিছু বুদ্ধিজীবী আহমদ শরীফের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। আবার আহমদ শরীফের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন হায়াৎ মামুদ। তিনি শরীফের বক্তব্য খণ্ডন করে বলেছেন যে এ ধরণের সমালোচনা রবীন্দ্রনাথের চরিত্র হনন ছাড়া আর কিছু নয়।
আহমদ শরীফের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন অনেকে। সৈয়দ শামসুল হক আহমদ শরীফের রচনাটিকে চিহ্নিত করেছেন — “রবীন্দ্রনাথের জন্মের একশো পঁচিশতম বার্ষিকীতে বাংলাদেশে আমাদের সবচেয়ে কলঙ্কিত কাজ” বলে। রবীন্দ্রনাথের প্রতি বিরূপতা এখনও মাঝে মাঝে প্রকাশ পায়, কিন্তু সে বিরূপতা নিছক চরিত্র হনন হলে তার তীব্র প্রতিবাদও হয়। আনিসুজ্জামান তাই বলেছেন, “এ সব কথার যে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়, তা থেকেই কিন্তু বোঝা যায় যে, সাধারণ মানুষের কাছে রবীন্দ্রনাথের আসনটি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিয়ে গড়া। রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবর্ষের প্রাক্কালে বাংলাদেশে তার বহুতর প্রকাশ আমরা দেখেছি।”
গবেষক ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবিনিউজের নওশাদ জামিলের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে (০৬/০৮/ ২০২২) রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বাংলাদেশে নানা সময়ে বিতর্ক সৃষ্টির ব্যাপারে বলেছেন, ‘সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিতর্ক থাকা ভালো, তাতে বোঝা যায়, মনোযোগের কেন্দ্রে আছে সাহিত্য। বিতর্ক যদি হয় জেনে-বুঝে, যাকে আমরা বলি বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক, তাহলে তাকে স্বাগত জানানো উচিত। পূবে-পশ্চিমে তাকালে দেখতে পাব কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীকে নিয়ে নিরন্তর বিতর্ক হচ্ছে। শেক্সপীয়ারকে নিয়ে যুগের পর যুগ বিতর্ক হয়েছে। তাতে দিনশেষে পাঠকদের উপকার হয়, নতুন করে জানার ও চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি হয়। অন্য দিকে মানুষ যখন না জেনে-বুঝে বিতর্ক করে, তখন সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ রকম বিতর্ক উপকারী নয়। এটাই বাংলাদেশে হচ্ছে বলা যায়। রবীন্দ্রনাথকে কতজন গভীরভাবে পড়েছেন, জেনেছেন, সে প্রশ্ন থেকে যায়। রবীন্দ্রনাথকে পড়া মানে কয়েক শো থেকে কয়েক হাজার পৃষ্টা পড়া, এ পরিশ্রম অনেকেই করছেন না। পড়ার গভীরতা না থাকলে বিতর্কের কোন মানে নেই, অর্থ নেই। এটা শুধু কিছু মানুষকে উত্তেজিত করবে। উত্তেজনা প্রয়োজন বটে, কিন্তু অর্থহীন উত্তেজনা মানুষকে কিছুই দেয় না।’
একই সঙ্গে মনজুরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে রক্ষণশীলদের (যাকে কেউ কেউ ‘রবীন্দ্র-মৌলবাদ’ আখ্যা দিয়েছেন) সম্পর্কে বলেছেন, ‘অতি রক্ষণশীলতা কখনও কখনও ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে নতুন সময়টাকে অনুধাবন করা যায় না, নতুন চিন্তার বিস্তার ঘটে না, অন্তত তাঁদের ক্ষেত্রে এ কথাটা বলা যায়।’ (চলবে)
লেখক সিনিয়র ফেলোশিপপ্রাপ্ত গবেষক