খুনের মামালার আগে ও পরে
১৯২৮ সালের ৩ ফেব্রয়ারি। খুনের মামলার রায় দান করলেন বিচারক। বিচারক কে? ফরাসি ভাষা গুলে খাওয়া, ‘সবুজপত্রে’র সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী মশায়। অভিযুক্ত হাবিলদার কবি কাজি নজরুল ইসলাম। অভিযগকারী নোবেল পুরস্কারধন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমি মামলাটাকে শুধু ‘খুনের মামলা’ বলেছি, বিচারক চৌধুরীমশায় বলেছিলেন ‘বঙ্গ সাহিত্যে খুনের মামলা’ (সাপ্তাহিক ‘আত্মশক্তি’ পত্রিকা)। তা সেই খুনের মামলার ইতিবৃত্তটা একটু খুলে বলা যাক।
১৯২৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের রবীন্দ্র পরিষদে রবীন্দ্রনাথকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনার উত্তর রবীন্দ্রনাথ ভাষণ দেন। তখন তো আর টেপ ছিল না, তাই সে ভাষণ কেউ রেকর্ড করে রাখেন নি। তবে কলেজের ছাত্ররা ভাষণের সার সংক্ষেপ টুকে রেখেছিলেন। এর মধ্যে বিভিন্ন কাগজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় কবির ভাষণের। প্রতিবেদনগুলিতে কবির বক্তব্য বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়। মাস তিনেক পরে প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্রদের নোটস সংগ্রহ করে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় (ফাল্গুন, ১৩৩৪) প্রকাশিত হয় ‘রবীন্দ্র পরিষদে কবির অভিভাষণ’। রবীন্দ্রনাথ সে ভাষণ অনুমোদন করেন।
কি বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ?

মজাহরুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম।
—“সৃষ্টিশক্তিতে যখন দৈন্য ঘটে তখনই মানুষ তাল ঠুকে নূতনত্বের আস্ফালন করে। পুরাতনের পাত্রে নবীনতার অমৃতরস পরিবেশন করার শক্তি যাদের নেই, তারা শক্তির অপূর্বতা চড়া গলায় প্রমাণ করবার জন্য সৃষ্টিছাড়া অদ্ভুতের সন্ধান করতে থাকে। সেদিন কোন একজন বাঙালি কবির কাব্যে দেখলুম, তিনি রক্ত শব্দের জায়গায় ব্যবহার করেছেন ‘খুন’। পুরাতন ‘রক্ত’ শব্দে তাঁর কাব্যে রাঙা রঙ যদি না ধরে, তা হলে বুঝব সেটাতে তাঁরই অকৃতিত্ব। তিনি রঙ লাগাতে পারেন না বলেই তাক লাগাতে চান’।
আরও অনেক কথা বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু আমাদের মামলার জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকুই আমরা তুলে ধরেছি। এবার খোঁজ খোঁজ, কোন সে বাঙালি কবি যিনি ‘রক্তে’র বদলে ব্যবহার করেছেন ‘খুন’। ‘সাপ্তাহিক বাঙ্গালার কথা’ একটা ইঙ্গিত দিল। কেন, সে কবি নজরুল ইসলাম। আবেগপ্রবণ নজরুলকে তাতিয়ে দিলেন অনেকে। তাঁরা সব নেপথ্য নায়ক। নজরুলেরও মনে পড়ে গেল একটা ঘটনার কথা। এই তো বছর খানেক আগে, ১৯২৬ সালের ২২ মে, তিনি রবীন্দ্রনাথকে শুনিয়ে এসেছিলেন একটা কবিতা। ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’। সে কবিতায় ‘ খুন’ আছে :
‘বাঙালির খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর’ / ‘আমাদেরই খুনে উদিবে সে রবি রাঙিয়া পুনর্বার’—
তাহলে তো গুরুদেব নজরুলকেই সমালোচনার বাণে বিদ্ধ করেছেন। এত স্নেহ যিনি করেছেন, তিনি কেন এমন সমালোচনা করলেন! বড় অভিমানকাতর হলেন নজরুল। তিনি একটা বড়সড় প্রবন্ধ লিখে ফেললেন। তার নাম দিলেন : ‘বড়র পিরীতি বালির বাঁধ’। ১৯২৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ‘আত্মশক্তি’ পত্রিকায় প্রকাশিত হল সে প্রবন্ধ।

মুজফফর আহমদ ও নজরুল ইসলাম।
আবেগ ও উচ্ছ্বাসপ্রবণ হলেও নজরুল এই প্রবন্ধটিতে যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিয়েছেন। সমালোচনা মানে যে নিছক গালাগালি নয়, সে কথা তিনি মনে রেখেছেন। তাই রবীন্দ্র-বক্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি প্রথমাংশে রবীন্দ্রনাথের প্রতি নিবেদন করেছেন অন্তরের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তারপর বক্তব্যের যে সমালোচনা তিনি করেছেন, সেখানে যুক্তির প্রাধান্য। যুক্তিগুলি সাজিয়ে দিচ্ছি :
১। রচনায় আরবি-ফারসি শব্দ শুধু তিনি করেন নি; ভারতচন্দ্র, সত্যেন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথও করেছেন।
২। ‘খুন’ শব্দের ব্যবহার বাংলায় আছে। তিনি কবিতায় ‘খুনে’র বদলে ‘রক্ত’ ব্যবহার করলে ‘ওতে ওর অর্ধেক ফোর্স কমে যেত’।
৩। কবিগুরু যেন তাঁদের ‘দারিদ্র্য যন্ত্রণাকে উপহাস করে যেন আর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে না দেন’।
প্রবন্ধের উপসংহারে নজরুল বললেন, “কবিগুরুর চরণে ভক্তের আর একটি সশ্রদ্ধ নিবেদন — যদি আমাদের দোষ-ত্রুটি হয়েই থাকে, গুরুর অধিকারে সস্নেহে তা দেখিয়ে দিন। আমরা শ্রদ্ধাবনত শিরে তাকে মেনে নেব। “তারপরে নজরুল যে কথা বলেছেন সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে চাই। নজরুল বলেছেন, “কিন্তু যারা শুধু কুৎসিত বিদ্রূপ আর গালি-গালাজই করতে শিখেছে, তাঁকে তাঁদের বাহন হতে দেখলে আমাদের মাথা লজ্জায়, বেদনায় আপনি হেঁট হয়ে যায়”। যাঁদের দিকে নজরুলের ইঙ্গিত, তাঁরা বিশ্বসৃষ্টির প্রথম থেকেই আছেন, তাঁরা স্তাবকশ্রেণির মানুষ। তাঁরাই বেশি কর জল ঘোলা করেন।
এবার দেখি কি রায় দিলেন বিচারকমশাই :
১। প্রত্যক্ষদর্শীর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলতে পারেন যে রবীন্দ্রনাথ ‘উদীয়মান তরুণ কবির’ কথা বলেছিলেন, নজরুলের মতো ‘উদিত কবি’র কথা বলেন নি।
২। বাংলা কবিতায় ‘খুন’ অচল, এ কথা রবীন্দ্রনাথ বলতে পারেন না; কেননা তাঁর ‘বাল্মীকি প্রতিভা’তে সে শব্দের ব্যবহার আছে।
৩। ব্যাকরণে ‘খুন’ ও ‘রক্ত’ এক নয়।
৪। ‘কবিতায় যদি খুন বাদ দিতে হয় তা হলে reason-এর খাতিরে rhyme-কে তালাক দিতে হয়। আর কে না জানে — rhyme-এর খাতিরে reason-এর সাত খুন মাপ’।

খুনের মামলার অনেক আগে থেকেই নজরুল রবীন্দ্রভক্ত। স্কুলে পড়ার সময়ে সতীশচন্দ্র কাঞ্জিলাল তাঁকে দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানের ভাণ্ডারের খবর। সে সময়েই তিনি গাইতেন ‘অগ্নিবীণা বাজাও তুমি কেমন করে’। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’ আর ‘চয়নিকা’ নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি করাচিতে। সৈন্যবাহিনীতে থাকার সময়ে অবসরের সময় রবীন্দ্র সংগীত গাইতেন। শান্তিনিকেতনের সুধাকান্ত রায়চৌধুরী ছিলেন নজরুলের অনুরাগী। সম্ভবত তাঁর সাহায্যে নজরুল রবীন্দ্রনাথের মুখোমুখী হতে পেরেছিলেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের তারিখ নিয়ে গোলমাল আছে। তবে এই সাক্ষাতে যে তিনি রবীন্দ্রনাথকে ‘আগমনী’ কবিতাটি শুনিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। ঢাকায় গিয়ে নজরুল শফিকুন্নেসা, প্রতিভা সোম, উমা মৈত্রদের রবীন্দ্রসংগীত শিখিয়ে এসেছিলেন। ‘সওগাতে’র গ্রন্থাগারে রবীন্দ্রনাথের বই দেখতে না পেয়ে বিরক্ত হয়েছিলেন তিনি। তারপরে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার প্রকাশ। রবীন্দ্রনাথের কাছে আশীর্বাণী প্রার্থনা করে টেলিগ্রাম করা হয় নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শে। পত্রিকা প্রকাশের ঠিক আগের দিন এসে যায় রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী।
১৯২৩ সালের ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন তাঁর ঋতুনাট্য ‘বসন্ত’। সেটি তিনি উৎসর্গ করেন নজরুলকে। এটাও রবীন্দ্রনাথের নজরুলের প্রতি স্নেহ-দুর্বলতার কারণ। এমন স্বল্পদিনের পরিচিত, এমন তরুণকে বই উৎসর্গ করা বোধকরি প্রথম। জেলখানায় থাকাকালীন পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় নজরুলের কাছে রবীন্দ্রের উপহার পৌছেঁ দেন।কারাগারে নজরুল অব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনশন করলে রবীন্দ্রনাথ উদ্বিগ্ন হয়ে টেলিগ্রাম করেন : Give up hunger strike, our literature claims you। ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয় শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ দলের মুখপত্র ‘লাঙল’। এর প্রধান পরিচালক ছিলেন নজরুল ইসলাম। এর জন্যও রবীন্দ্রনাথ তাঁর আশীর্বাণী পাঠিয়ে দেন।
এবার খুনের মামলার পরের ঘটনা।
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে যে বিরোধ হয়েছিল নজরুলের, বা যে বিরোধ তৈরি হতে মদত দেওয়া হয়েছিল (বিশেষ করে ‘শনিবারের চিঠি’), তা কি স্থায়ী হয়েছিল?
না, তা স্থায়ী হয় নি। চিড় খায় নি নজরুলের রবীন্দ্রভক্তি। নজরুল তাঁর ‘সঞ্চিতা’ উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে :
বিশ্বকবিসম্রাট
শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শ্রীশ্রী চরণারবিন্দেষু
১৯৩১ সালের গ্রীষ্মকালে রবীন্দ্রনাথ দার্জিলিং-এ এলে সেখানে নজরুলের সঙ্গে দেখা হব রবীন্দ্রনাথের। অখিল নিয়োগী (স্বপনবুড়ো) সে স্মৃতিচারণে লিখেছেন, ‘কবি যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন সেটা আমাদের অঞ্চল থেকে বেশ খানিকটা উঁচু। তাই আমাদের ওপরের দিকে উঠে যেতে হল। যথা সময়ে সেখানে পৌঁছে খবর পাঠাতেই কবি তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এলেন। তিনি হয়তো কিছু লিখছিলেন, কিন্তু কবি নজরুলের নাম শুনেই আমাদের তাড়াতাড়ি দর্শন দান করলেন’।
এই বিবরণে দেখছি নজরুলের নাম শুনে রবীন্দ্রনাথের তাড়াতাড়ি নেমে আসা। আসলে নজরুলের ডাকের মধ্যে যেমন ছিল জোর, তেমনি আন্তরিকতা। সে ডাককে উপেক্ষা করার সাধ্য নেই। অকপট, উদ্দাম, আবেগপ্রবণ নজরুলকে এড়িয়ে যাবারও উপায় নেই। সবুজ সংসদের গুরু রবীন্দ্রনাথ এই দামাল ছেলেটিকে স্নেহ করতেন খুব।

১৯৩৫ সালে ‘নাগরিক’ পত্রিকার জন্য নজরুল রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রার্থনা করে চিঠি দেন। রবীন্দ্রনাথ লিখলেন, ‘কিছুদিন পরে তোমার সাড়া পেয়ে মন খুব খুশি হল। কিছু দাবি করেছ — তোমার দাবি অস্বীকার করা আমার পক্ষে কঠিন। আমার মুশকিল এই, পঁচাত্তরে পড়তে তোমার অনেক দেরি আছে, সেই জন্যে আমার শীর্ণ-শক্তি ও জীর্ণ-দেহের পরে তোমার দরদ নেই’। আর চিঠির শেষাংশে কবি লিখলেন, ‘শুনেছি বর্ধমান অঞ্চলে তোমার জন্ম। আমরা থাকি তার পাশের জিলায়, কখনও যদি ওই সীমানা পেরিয়ে আমাদের এদিকে আসতে পারো, খুশি হব’।
‘নাগরিক’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ লেখা দিতে পারেন নি। নজরুল তাঁর অবস্থা বুঝে আর তাঁকে বিরক্ত করেন নি। তিনি নিজেই ‘তীর্থপথিক’ নামে একটি কবিতা লিখে রবীন্দ্রনাথের কাছে ক্ষমা-প্রার্থনা করলেন :
হে কবি, হে ঋষি অন্তর্যামী, আমারে করিও ক্ষমা !
পর্বত-সম শত দোষ-ত্রুটি ও চরণে হল জমা।
জানি জানি তার ক্ষমা নাই, দেব, তবু কেন মনে জাগে
তুমি মহর্ষি করিয়াছ ক্ষমা আমি চাহিবার আগে।
১৯৩৬ সালে রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাসের চলচ্চিত্ররূপ দান করেছিলেন দেবদত্ত ফিল্মস। সেখানে সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নজরুল। তিনি সে ছবিতে রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি গান অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের অনুমতি নেন নি। ছবি মুক্তি পাওয়ার অব্যবহিত আগে বিশ্বভারতীর পর্যবেক্ষক এসে বাধা দিলেন। নজরুল ছুটে এলেন রবীন্দ্রনাথের কাছে। অনুমতিপত্র লিখে দিলেন রবীন্দ্রনাথ।
১৯৪০ সালে রবীন্দ্রনাথের ৮০তম জন্মদিনে নজরুল লিখলেন একটি অসাধারণ কবিতা — ‘অশ্রু পুষ্পাঞ্জলি’। তারপরে এল ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। চলে গেলেন রবীন্দ্রনাথ। নজরুল লিখলেন ‘রবি হারা’ কবিতা; আকাশবাণী কলকাতা থেকে নজরুলের আবৃত্তি সম্প্রচারিত হল। রচনা করলেন বিষাদ-বিধুর একটি গান : ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে জাগায়ো না জাগায়ো না’।
ঋণ:
কাজি নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা / মুজফফর আহমদ। আমারে দেব না ভুলিতে / মজহারুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথের চোখে নজরুল / বাঁধন সেনগুপ্ত
লেখক সিনিয়র ফেলোশিপপ্রাপ্ত গবেষক
১৯২১ সাল থেকে ১৯৩৬ সালের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নজরুলের অন্তত ৭ বার দেখা হয়েছে। তার মধ্যে ১৯২১ সালের অক্টোবর মাসে ড. মহমদ শহিদুল্লাহের সঙ্গে নজরুল শান্তি নিকেতনে রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়েছিলেন। তারপরও কী করে ১৯৩৫ সালে ‘নাগরিক’ পত্রিকার সূত্রে নজরলরুলকে শান্তিনিকেতনের ঠিকানা দিতে হয় ও আমন্ত্রণ জানাতে হয় রবীন্দ্রনাথকে?
১৯২১ সাল থেকে ১৯৩৬ সালের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নজরুলের অন্তত ৭ বার দেখা হয়েছে। তার মধ্যে ১৯২১ সালের অক্টোবর মাসে ড. মহমদ শহিদুল্লাহের সঙ্গে নজরুল শান্তি নিকেতনে রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়েছিলেন। তারপরও কী করে ১৯৩৫ সালে ‘নাগরিক’ পত্রিকার সূত্রে নজরুলকে শান্তিনিকেতনের ঠিকানা দিতে হয় ও আমন্ত্রণ জানাতে হয় রবীন্দ্রনাথকে?
‘নাগরিক’ পত্রিকার তথ্য পেয়েছি আসাদ জামান ও অরুণ বসুর নজরুল জীবনী থেকে । নজরুল কোন ঠিকানায় রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লেখেন, তা জানতে পারি নি । তবে রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে ১৯৩৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর উত্তর দেন ।