| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

পাঠ্যবইয়ের রবীন্দ্রনাথ : অমৃতাভ দে

Reporter
অমৃতাভ দে / ৮৭২ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

রবীন্দ্রনাথ কেমন করে তোমার কাছে আসে?

সহজপাঠের লেখায়-রেখায় ছোট্ট নদীর পাশে

যেমন করে পালতোলা নাও ছন্দদোলায় ভাসে।

রবীন্দ্রনাথ কেমন করে তোমায় কাছে ডাকে?

যেমন করে ছোট্ট শিশু আঁকড়ে ধরে মাকে

রোদের ঝিলিক যেমন নাচে শিউলি গাছের ফাঁকে।

সেই ছোট্টবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথ হয়তো এভাবেই আমাদের কাছে ধরা দেন। ছোটদের কাছে রবীন্দ্রনাথ শরৎ মেঘের মতোই এসে পৌঁছায়। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যম স্কুলের বাংলা পাঠ্যবইয়ে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে আছেন তাই নিয়েই আমার এই লেখা। রবীন্দ্রনাথের ছোটদের জন্য লেখা পদ্য, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, রবীন্দ্রনাথের গান, রবীন্দ্রনাথের নাটক,ছোটগল্প বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সম্পদ। প্রথম আর দ্বিতীয় শ্রেণিতে ‘সহজপাঠ’-এর হাত ধরে ছোট্ট শিশুরা চিনে নেয় ওদের নিজেদের জগতকে, পৌঁছে যায় প্রকৃতির কাছে,ভালবাসতে শেখে সবাইকে। তমিজ মিঞার গরুর গাড়ি চড়ে সকাল হলে সেও চলে যায় শহরের দিকে। শুক্রবারে হাট বসে,কুমোরপাড়ার গরুর গাড়ি হাঁড়ি কলসি বোঝাই করে পদ্মাপারে চলে আসে। শিশুমন হারিয়ে যায়। অঞ্জনা নদী তীরে জীর্ণ ফাটল ধরা পোড়ো মন্দিরখানা ওদের ডাকে। ভোরের বেলা দেখতে পায় বাঁশের ডালে ডালে রোদ উঠেছে ঝিলমিলিয়ে। পুজোর সানাই বেজে ওঠে দূরে,ছুটির দিনে মন কেমন করে ওদের। শরতের আকাশের সোনা রোদ্দুর দেখতে দেখতে ওরা উঠে যায় তৃতীয় শ্রেণিতে। রবীন্দ্রনাথ ওদের ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ার লুকোচুরি খেলা দেখতে শেখান। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায়, আকাশ ভেঙে বাহিরকে ওরা লুট করে নেয়। ওরা দেখতে পায় রৌদ্র ওঠে, বৃষ্টি পড়ে। বাঁশের বনে পাতা নড়ে। ধানের শিষে পুলক ছোটে, অঘ্রাণের সোনার রোদে ওদের মনও ঝিলমিল করে ওঠে। ওরা মধু মাঝির নৌকা নিয়ে ‘নৌকাযাত্রা’র কথা ভাবে। বলে,”আমি কেবল যাব একটিবার/ সাতসমুদ্র তেরো নদীর পার। ”

কোথাও ওদের হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা। তাই চতুর্থ শ্রেণিতে উঠেই ওরা রবীন্দ্রনাথের গানের সুরে মেতে ওঠে এবং ডানা মেলে দেয়। সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে দূর দেশে চলে যেতে চায়,তেপান্তরের পাথার পেরোয়। পারুলবনের চম্পাকেও জানতে পারে ওরা। ওদের মনেও ‘বিচিত্র সাধ’ জাগে। ফেরিওয়ালা হতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে ফুল বাগানের মালি হতে কিংবা লন্ঠন হাতে সারারাত জেগে-থাকা সেই পাহারাওয়ালা হতে। এরকম ইচ্ছা রবিঠাকুর ছাড়া আর কেই বা জাগাতে পারে ওদের মনে।

পঞ্চম শ্রেণির ‘পাতাবাহার’, ওরা পড়ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’। গানের সুরে মেতে উঠছে মন, ক্লাসরুমে ছন্দদোলা, স্থলে জলে বনতলে লেগেছে যে দোল। নবীন পাতায় রাঙা হিল্লোল। ওরা জানে এই সময় প্রজাপতি দোলে ঘাসে ঘাসে, মৌমাছিরা ফুলের দাক্ষিণ্য পেতে চায়, মাধবীবিতানে বাতাসও গন্ধে আত্মহারা, ওরা ওদের মনের দুয়ার খুলে দেয়। ওরা চোখ রাখে রবীন্দ্রনাথের ‘ছেলেবেলা’য়। যেখানে রবীন্দ্রনাথ লেখেন, “আমার জীবনে বাইরের খোলা ছাদ ছিল প্রধান ছুটির দেশ। “ওরাও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে চলে যায় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সেই ছাদে, যেখানে গেলে কলকাতার মাথার উপর দিয়ে পা ফেলে মন চলে যায় পৃথিবীর শেষ সবুজে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সঙ্গে ওরাও শুনতে পায় মন্দিরেতে ঠঙ্ ঠঙ্ করে কাসর ঘন্টা বাজছে। ওপারে বৃষ্টি এলো, গাছপালা ঝাপসা হয়ে যায় আর এই পারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিক জ্বালা। ওরা পড়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’। মেঘের উপর মেঘ করে,রঙের উপর রং ছড়িয়ে দেয় কেউ। মেঘের খেলা দেখে কত খেলা মনে পড়ে, মনে পড়ে অভিমানী কঙ্কাবতীর ব্যথা আর মেঘলা দিনের গান — “বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর/ নদেয় এলো বান! ” শরৎ আসে, রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে গাইতে ওরা দেখে বনের-পথে-লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে প্রভাতের হৃদয় চঞ্চল হয়ে উঠেছে। কুঞ্জ ছায়া গুঞ্জরণের সঙ্গীতে নাচের ভঙ্গিতে ওড়না ওড়ায়, শিউলি বনের বুক আন্দোলিত হয়ে ওঠে।

চলো এবার যাই ষষ্ঠ শ্রেণিতে। ছোট থেকে আমার খুব প্রিয় সেই গান আজ গাইছে ওরা সবাই মিলে — ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্ব ভরা প্রাণ’। বিস্ময় জাগছে ওদের মনেও। ঘাসে ঘাসে পা ফেলে ওরা বনের পথে যেতে যেতে, আবার ফুলের গন্ধে চমক লেগে ওদের মনও যেন মেতে ওঠে। ওরা বুঝতে পারে আনন্দেরই দান ছড়িয়ে আছে এই সমগ্র বিশ্বে, কান পাতে ওরা, চোখ মেলে দেয়, ধরার বুকে প্রাণ ঢেলে দিয়ে জানার মাঝেই অজানার সন্ধান করে। ওরা পড়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘ধরাতল’। ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের এই কবিতা ওদের নিয়ে যায় ছায়াময় গ্রামগুলির দিকে, গ্রামগুলি প্রেম দিয়ে ঘেরা। নৌকোয় যেতে যেতে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ওরাও দেখতে পায় কূলে কূলে শ্যামল ধরণী, তীর থেকে সুখ-দুঃখ দুই ভাইবোনে করুণ নয়নে চেয়ে আছে ওদের দিকে। ওরাও পৌঁছে যায় সেই সত্যের সামনে — “ভালো মন্দ সুখ-দুঃখ অন্ধকার-আলো/ মনে হয়, এসব নিয়ে এ ধরণী ভালো।”নিজের প্রাণকে ওরা মিশিয়ে দেয় বৃহত্তর পৃথিবীর সঙ্গে।

রবীন্দ্রনাথের গান শিশুমনে খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করে বলেই মনে করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাই পাঠ্য বইয়ের পাতায় পাতায় রবীন্দ্রনাথের গানকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে খুব বেশি। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’ রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বলে আমারও মনে হয়। সপ্তম শ্রেণির ‘সাহিত্যমেলা’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের তিনটি গান কবিতার আকারে রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই হৃদয় স্পর্শ করা যে গানের সঙ্গে আমাদের মন নেচে উঠতো সেই, ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে’ গানটি রয়েছে এই বইয়ে। এই ভয়ংকর অসুখের সময়ও বাচ্চারা যদি বারবার গেয়ে ওঠে ‘কী আনন্দ, কী আনন্দ, কী আনন্দ’ তাহলে সেই তরঙ্গে নিজেকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে কার না ভালো লাগে। হৃদয় দোলায় দোলা দিয়ে যায় রবীন্দ্রনাথের গান। বসন্ত আসে বকুল বিছানো পথে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা বসন্ত উৎসবে মেতে ওঠে — ‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা’, তাইতো বসন্ত পিয়ালফুলের রেণু মেখে হাজির হয় ওদের মনে। আবার রবীন্দ্রনাথের গানে বর্ষাকে আহ্বান করে ওরা। ‘বর্ষণগীত মুখরিত হয় মেঘমন্দ্রিত ছন্দে।’ নীল-অঞ্জনঘন পুঞ্জ ছায়ায় সম্ বৃত হয় অম্বর। রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই ওরা পৌঁছে যায় ‘ভারততীর্থ’-এ। সবার পরশে পবিত্র করা এই তীর্থনীরে দাঁড়িয়ে ওরা বুঝতে পারে এখানেই একদিন বিরামহীন মহা-ওংকার ধ্বনি সবার হৃদয়তন্ত্রে বেজে উঠেছিল। এই কবিতা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে ভারতবর্ষের মানবাত্মার সাথে মিশে যায় ওরা।

এবার চোখ রাখি অষ্টম শ্রেণির সাহিত্যমেলা’য়। এই বইটির শুরুতেই আছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘বোঝাপড়া’। সেই চিরপরিচিত কবিতার পঙক্তি — “মন রে আজ কহ যে/ভালো-মন্দ যাহাই আসুক/ সত্যরে লও সহজে।” ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থের এই কবিতা অষ্টম শ্রেণির কিশোরদের বুঝতে শেখায় ভালো-মন্দ মিলিয়ে এই পৃথিবী বাস্তবে কী সুন্দর। বাধা-বিপত্তিকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। জগৎ-সংসারে সকলের প্রতি বন্ধুর মতো হাত বাড়ালেই প্রকৃত সুখের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। জীবনও তখন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।অন্ধকার ঘরে প্রদীপ জ্বলে ওঠার মতোই জীবন তখন স্নিগ্ধ আলোয় ভরে ওঠে। রবীন্দ্রনাথের গল্প ‘সুভা’ অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত। সুভার সঙ্গে মনুষ্যেতর প্রাণীর বন্ধুত্ব কেমন ছিল তা গল্প পাঠ করলে ওরা বুঝতে পারে, ‘প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়। ‘একটি মেয়ের প্রকৃতিকে ভালোবাসার এমন গল্প শুনতে শুনতে ওরাও প্রকৃতির সঙ্গে লগ্ন হয়ে যায়। সুভার যন্ত্রণায় সমব্যথী হয়। পাশাপাশি চিনে নিতে পারে বৃহত্তর সমাজকে। প্রকৃতি একটি মেয়ের কথা বুঝলেও আমাদের প্রচলিত সমাজ তার কথা বুঝতে পারেনা। ওদের মন কেঁদে ওঠে।

নবম শ্রেণির ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’-এ রয়েছে রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা, একটি গল্প। যদিও কেবলমাত্র কবিতাটি পড়ানো হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে ফুটে ওঠে একটা ছবি — একটা খেয়া নৌকা পারাপার করে নদীর স্রোতে। কেউ ঘরে ফেরে, কেউ ঘর থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়। দুই তীরের দুটো গ্রামের মধ্যে জানাশোনা থাকে। দুপারের মানুষ খেয়া নৌকায় পারাপার করে। চিরদিন নদীর স্রোতে চলতে থাকে এই খেয়া নৌকা। পৃথিবীতে হানাহানি রক্তপাত চলে। সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনও স্বাভাবিক। কিন্তু দোঁহাপানে চেয়ে থাকে দুইখানি গ্রাম। নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এই নদীর মতোই,এই গ্রাম বাংলার শান্ত পরিবেশের মতোই স্নিগ্ধ। রবীন্দ্রনাথ তাদের সামনে তুলে ধরেন বেঁচে থাকার এক অন্যরকম চালচিত্র। চৈতালি কাব্যগ্রন্থের ‘খেয়া’ কবিতাটি পড়তে পড়তে শান্ত স্নিগ্ধ মমতার সম্পর্ক মাখা গ্রামীণ জীবনের ছবি এঁকে ফেলে ওরা।

এবার চোখ রাখি দশম শ্রেণির ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’এর পাতায়। ওরা পৌঁছে যায় ‘আফ্রিকা’র সেই ছায়াঘেরা অরণ্যে। ওরা দেখতে পায় এই আফ্রিকাতেই একদিন এলো মানুষ ধরার দল, গর্বে যারা অন্ধ আফ্রিকার সেই সূর্যহারা অরণ্যের চেয়েও। সভ্যের বর্বর লোভ নগ্ন করেছিল তার নির্লজ্জ অমানুষতা। ওরা চিনে নিতে পারল প্রতিবাদী রবীন্দ্রনাথকে। সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপ এশিয়া, আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলোকে লুণ্ঠন অত্যাচার শোষণ করে পরিণত করেছিল কলোনিতে, যা ছিল মানবতার চরম লজ্জা।

আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর শিক্ষাচিন্তা আমাদের প্রাণিত করে, উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু আমরা বাস্তবায়িত করতে পারিনা রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারাকে। একাদশ শ্রেণির সিলেবাসে এমন একটি নাটক পড়ানো হয় যা মিথ্যা আচার আর সংস্কারের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা। নাটক যে কথা বলে সে কথা আমরা রূপায়িত করতে পারি না। ‘গুরু’ নাটকের কথা বলছি। এই নাটকে গুরু জীবনে আলোর পথ দেখান, মুক্তির গান শোনান। অচলায়তনকে ভাঙার কথা বলেছেন তিনি। মন্ত্রসর্বস্বতা নয়, গান আমাদের বন্ধন মুক্তি ঘটাবে। সিলেবাসে এ ধরনের একটি নাটকের অন্তর্ভুক্তি অন্য মাত্রা সংযোজন করেছে। একাদশ শ্রেণিতেই পড়ানো হয় রবীন্দ্রনাথের ‘লিপিকা’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত ‘কর্তার ভূত’। রবীন্দ্রনাথই লিখেছিলেন “আমাদের সেই সর্বাঙ্গসম্পন্ন প্রাচীন সভ্যতা বহুদিন হল পঞ্চত্বপ্রাপ্ত হয়েছে। আমাদের বর্তমান সমাজ তারই প্রেতযোনি মাত্র।” ‘কর্তার ভূত’ গল্পে আমরা এ কথারই আভাস পাই। এই গল্প পড়তে পড়তে ছাত্রছাত্রীরা উপলব্ধি করতে পারে নিজেদের অস্তিত্বকে, চিনে নিতে পারে আমাদের ঘুণধরা সমাজব্যবস্থাকে, হয়ে উঠতে পারে আত্মনির্ভরশীল এবং সাহসী। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা পড়ে রবীন্দ্রনাথের জীবনের একেবারেই শেষ লগ্নে লেখা একটি কবিতা ‘রূপনারানের কূলে’। রবীন্দ্রজীবনদর্শনকে বুঝতে গেলে এই কবিতাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিকভাবেই পাঠ্যসূচিতে এরকম একটি কবিতার অন্তর্ভুক্তি খুব প্রয়োজন ছিল। এই বয়সে এসেই হয়তো ওরা উপলব্ধি করে — “সত্য যে কঠিন, /কঠিনরে ভালোবাসিলাম, /সে কখনো করে না বঞ্চনা।”

সব মিলিয়ে রবীন্দ্রনাথ ওদের কাছে নানা রঙে ধরা দিয়েছেন। কিশোর-কিশোরীদের মনের কথা শোনার সময় হয়তো আমাদের নেই, তাই রবীন্দ্রনাথ ওদের কাছে প্রাণের মানুষ, মনের মানুষ হয়ে থাকুক অনন্তকাল।

সেরা খবর পত্রিকায় প্রকাশিত

আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “পাঠ্যবইয়ের রবীন্দ্রনাথ : অমৃতাভ দে”

  1. সুভাষ মুখোপাধ্যায় says:

    চমৎকার।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev