উত্তরাধিকারসূত্রে ব্যবসাবুদ্ধির জিন ছিল রবীন্দ্রনাথের। কৃষ্ণ কৃপালনী বলেছেন যে মানস-গঠনের দিক থেকে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর পিতামহ দ্বারকানাথের মিল ছিল। দ্বারকানাথ আমাদের দেশে আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পথিকৃৎ। এ কথা আজ দেশি-বিদেশি গবেষকরা প্রমাণ করেছেন। দ্বারকানাথ সাধু বা ঋষি ছিলেন না। বন্ধু রামমোহনের মতো তিনি ছিলেন বাস্তববাদী ও ভোগী মানুষ। হয়তো বা এই কারণে, দেবেন্দ্রনাথের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে তাঁর উত্তরসূরীরা তাঁর কর্মকাণ্ডের দলিল-দস্তাবেজ সংগ্রহ করে রাখেন নি। রবীন্দ্রনাথের আচরণ আরও অদ্ভুত। তিনি পিতামহের কার-টেগোর কোম্পানির সমস্ত কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলেছিলেন।
দ্বারকানাথ বেনিয়ান না হয়ে ব্যাঙ্কার হয়েছিলেন। কর্মাশিয়াল ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়ে যাবার পরে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন তিনি। শুরু করেন বিমা কোম্পানি। অসীম অধ্যবসায়ে গড়ে তোলেন কার টেগোর অ্যান্ড কোম্পানি। রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয় এই কোম্পানি থেকে। নীল, চিনি, রেশম, আফিম প্রভৃতি রপ্তানি হত। বিদেশে পণ্য রপ্তানির জন্য প্রয়োজন জাহাজের। তখন ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ ছিল কয়েকটা। দ্বারকানাথ গড়ে তুলেন জাহাজ তৈরির কারখানা। জয়েন্ট স্টক কোম্পানি গড়ার উৎসাহও ছিল দ্বারকানাথের। লর্ড বেন্টিংক চা-ব্যবসার অনুমতি দিলে দ্বারকানাথ নেমে পড়েন সে কাজে। রানিগঞ্জে কয়লাখনি কিনে কালো হিরে আহরণের ক্ষেত্রেও তিনি আমাদের দেশে পথিকৃৎ।
ব্যবসাবুদ্ধি দ্বারকানাথের পুত্র দেবেন্দ্রনাথেরও ছিল। পিতার অকাল মৃত্যুর পরে তিনি ঠাকুর এস্টেটকে দেউলিয়া হবার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। তাছাড়া, পূর্ব বাংলার শিলাইদহ, পতিসর, সাজাদপুর এবং ওড়িশার বালিয়া ও পাণ্ডুয়ার বিশাল জমিদারিও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছিলেন দেবেন্দ্রনাথ। বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রতিনিধিরূপে জমিদারি পরিচালনা করেছেন দ্বিজেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ, সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর পুত্র সত্যপ্রসাদ।
সর্বশেষে জমিদারি পরিচালনায় আসেন রবীন্দ্রনাথ। ১৮৮৯-১৯২০ সাল-মোট ৩১ বছর ঠাকুর এস্টেটের প্রতিনিধিরূপে (বেতনভোগী) রবীন্দ্রনাথ জমিদারি পরিচালনা করেন। জমিদারিব্যবসার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ পিতামহের মতো আধুনিক (অ-সামন্ততান্ত্রিক?) দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন। রাহুল রায় একে ‘উদার জমিদারি বাণিজ্যনীতি’ বলেছেন। যেমন, হিন্দু ও মুসলমান প্রজাদের ধর্মীয় পরিচয়টাকে প্রাধান্য না দেওয়া, খাজনা সংগ্রহের ব্যাপারে ‘পুণ্যাহে’র ব্যবস্থা, পল্লির দরিদ্র কৃষকরা যাতে ক্ষুদ্র ঋণের দ্বারা উপকৃত হয় তার জন্য কৃষি সমবায় ব্যাঙ্কের পত্তন (শিলাইদহ ও শ্রীনিকেতনে)।
কুষ্টিয়ার উত্তর-পূর্বে মোহিনী মিলের দিকে যেতে রাস্তার ডান দিকে লাল রঙের যে দোতলা বাড়িটি এখন ‘টেগোর লজ’ নামে পরিচিত, সেটি ছিল ‘কার-টেগোর কোম্পানি’র শাখা। এখানে পাট, কলাই, ভূষিমালের ব্যবসা হত। এখানে যেমন তাঁতশালা গড়ে ওঠে, তেমনি আখ মাড়াইএর যন্ত্র নির্মাণের কারখানাও খোলা হয়। সুরেন্দ্রনাথ, বলেন্দ্রনাথ, রমণীমোহন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ৪নং মুনশিবাজার থেকে কাঁচা চামড়া কেনা-বেচার জন্য একটা কোম্পানি খুলেছিলেন। যৌথ কারবারে আগ্রহ ছিল রবীন্দ্রনাথের। অম্বিকাচৃরণ উকিল ও রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগে বড়বাজারে স্থাপিত হয় ‘স্বদেশি ভাণ্ডার’।
বিজ্ঞাপনের মতো বাণিজ্যিক বিষয়ের সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের যোগ ছিল। তিনি নিজে কতটা আর্থিক প্রয়োজনে তার সঙ্গে যুক্ত হন, তা আমাদের জানা নেই। তবে আপনাপন পণ্য প্রচারের জন্য বিভিন্ন সংস্থা যে তাঁর দ্বারস্থ হত, সে বিষয়ে সংশয় নেই। বিশেষ করে নোবেল পুরস্কার লাভের পরে এ ব্যাপারে তাঁর বিশেষ চাহিদা হয় (এ কালের ভাষায় ‘ব্র্যাণ্ড’)। লিপটন কোম্পানি খুব সুকৌশলে রবীন্দ্রনাথকে তাঁদের কাজে ব্যবহার করেন। কাজলকালি, ভারতীয় ফাউন্টেনপেন, নেপিয়ার পেন্টস ওয়ার্কস, শ্রীঘৃত, গোদরেজ, কুন্তলীন, হিন্দুস্থান রেকর্ডস, কলম্বিয়া, রেডিয়াম স্নো, মল্লিক ব্রাদার্স প্রভৃতি সংস্থা রবীন্দ্রনাথের নাম ও ছবি ব্যবহার করেছেন। এর জন্য তাঁরা রবীন্দ্রনাথকে কত টাকা দিয়েছিলেন, তা অবশ্য আমাদের জানা নেই।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর অর্থের। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার অনুদান না হলে তা সম্ভব হত না। এখানেও এসে পড়ে সঠিক ম্যানেজমেন্টের প্রশ্ন। ব্যবসাবুদ্ধি না থাকলে সেটা সম্ভব নয়।
আশিস পাঠক লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ এখন বহুমুখী বাণিজ্যের উপকরণ’। কথাটা শুনে তথাকথিত রবীন্দ্রভক্তরা কানে আঙুল দিলেও বক্তব্যটি সত্য ও বাস্তব। রবীন্দ্রনাথের বই, গান, ছবি এ সব নিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চলছে, চলবে। নোবেল পুরস্কারের পর রবীন্দ্রব্যবসা গতিবেগ লাভ করে কিন্তু সে ব্যবসা যৌবনের শ্রী ও সমৃদ্ধি লাভ করে তাঁর মৃত্যুর পরে। কথায় বলে, মরা হাতি লাখ টাকা। রবীন্দ্রজন্মশতবার্ষিকী থেকে বান ডাকে সে ব্যবসার। রবীন্দ্র সংস্কার ও রবীন্দ্র-ম্যানিয়া মদত দেয় সে ব্যবসাকে।
প্রথমে রবীন্দ্রনাথের বইএর কথা ধরা যাক। তাঁর প্রথম বই ‘কবিকাহিনি’। সে বই বিক্রি হয় নি।প্রথম গানের বই ‘রবিচ্ছায়া’-র কাটতি হচ্ছিল না বলে তার দাম কমিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সত্যপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের যে কাব্যগ্রন্থাবলি প্রকাশ করেন, তারও একই দশা হয়। শিলাইদহ থেকে ১৯০০ সালের ৮ আগস্ট রবীন্দ্রনাথ প্রিয়নাথ সেনকে গভীর দুঃখে লিখছেন :
“নিজের বই ও নিজের দেহটা ছাড়া সম্প্রতি আর কিছু বিক্রয় পদার্থ আমার আয়ত্তের মধ্যে নেই। বই কেনার মহাজন পাওয়া দুর্লভ এবং নিজেকে বিক্রয় করতে গেলে খরিদ্দার পাওয়া যেত কি না সন্দেহ। … আমার গ্রন্থাবলি এবং ‘ক্ষণিকা’ পর্যন্ত সমস্ত কাব্যের copyright কোনও ব্যক্তিকে ৬,০০০ টাকায় কেনাতে পারো? শেষের যে বইগুলি বাজারে আছে সে আমি সিকিমূল্যে তারই কাছে বিক্রি করব—গ্রন্থাবলি যে আছে সে এক তৃতীয়াংশ দামে দিতে পারব”।
ভাগ্যিস রবীন্দ্রনাথ কপিরাইট বিক্রি করে দেন নি ; তাহলে বিশ্বভারতী ও রবীন্দ্রনাথের বিরাট ক্ষতি হয়ে যেত। নোবেল পুরস্কার লাভের পর থেকে তাঁর বইএর বিক্রি বাড়তে থাকে। সাধারণ কৌতূহলী সাহিত্যরসিক পাঠক যেমন তাঁর বই কেনেন, তেমনি শোকেসে তাঁর বই সাজিয়ে রেখে নিজেদের স্ট্যাটাস বাড়াবার জন্যও তাঁর বই বিক্রি হতে থাকে। শিক্ষার্থীদের পাঠক্রমে রবীন্দ্রনাথ অনুপ্রবিষ্ট হলে বিক্রির পরিমাণ বাড়ে। বিশ্বভারতী তাঁর সমস্ত বইএর প্রকাশক ছিলেন দীর্ঘদিন। এ ব্যবস্থা রবীন্দ্রনাথই করে গেছেন। এখানেও তাঁর বাণিজ্যমনস্কতার ছাপ। সম্ভবত quality control-এর কথা ভেবেছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের বই বিক্রি করে আজ পর্যন্ত বিশ্বভারতী কত টাকার ব্যবসা করেছেন, তার সঠিক হিসেব আমরা জানি না।। প্রশান্তকুমার পাল মহাশয় জীবিত থাকলে হয়তো কিছুটা হদিশ দিতে পারতেন।
এর পরে আসে রবীন্দ্র বিষয়ক বই-এর কথা। বছর কয়েক আগে আমি ব্যক্তিগত কৌতূহলবশত রবীন্দ্রবিষয়ক বইএর একটি তালিকা তৈরি করেছিলাম। আমার সংগ্রহে ছিল রবীন্দ্রবিষয়ক ১৫০০ বাংলা বই। এখন তার কলেবর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রন্থাগারে জমা দেন নি, বা পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও সমালোচনা বেরোয় নি, এমন বইএর নাম আমার তালিকায় ছিল না। রবীন্দ্র সাহিত্য অর্থাৎ তাঁর গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র, রম্য রচনা, ভ্রমণ কাহিনি এসব নিয়ে যেমন লেখা হয়েছে বই, তেমনি লেখা হয়েছে দর্শন-ধর্ম-রাজনীতিভাবনা — প্রকৃতি সম্বন্ধে রবীন্দ্র ভাবনা বিষয়ক বই। বাদ যাচ্ছে না তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি। জমিদার হিসেবে কেমন ছিলেন, পত্রিকা সম্পাদক ও কেরানি হিসেবে কেমন ছিলেন, কেমন ছিল মানুষের সঙ্গে সম্বন্ধ . কি রকম ব্যবহার করতেন ভৃত্যদের সঙ্গে, কোন কোন নারীর সঙ্গে তাঁর গোপন বা প্রকাশ্য প্রেমসম্বন্ধ ছিল—এসব নিয়ে লেখা হয়েছে একাধিক বই। দেখে সত্যি অবাক লাগে, মনে হয় রবীন্দ্রনাথ যেন God’s plenty, তাঁকে একটু নাড়া দিলে ঝরে পড়বে লেখার বিষয়, তরতর করে বেরিয়ে যাবে বই, বিক্রি হবে ঝপাঝপ। সম্ভবত এমন কোন প্রকাশক নেই যাঁর ঘরে একটাও রবীন্দ্রবিষয়ক বই নেই। প্রকাশক আদতে একজন ব্যবসায়ী, বই প্রকাশ করে লোকসান হলে তিনি কি বই ছাপতেন ? এই যে বই ব্যবসা, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন প্রকাশক-মুদ্রক-কম্পিজিটার — বাইণ্ডার, চিত্রশিল্পী, বিজ্ঞাপন সংগ্রাহক এবং আরও অনেকে। রবীন্দ্রনাথ না থেকেও এঁদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।
শুধু বই কেন, কম পত্রিকা বেরোয় আমাদের দেশে? আমাদের বন্ধু জাহিরুল হাসানের ‘সাহিত্যের ইয়ারবুক’এর পাতা ওল্টালে তা বোঝা যাবে। আর পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ থাকবেনই। পত্রিকা প্রকাশের ফলে অনেকের উপার্জন হয়।
এবার আসি রবীন্দ্রনাথের গানের কথায়। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন তাঁর অন্যান্য সৃষ্টি লুপ্ত হলেও গান বেঁচে থাকবে। প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো গান আছে তাঁর। গানের স্বরলিপি আছে ‘স্বরবিতানে’। রাহুল রায় বলেছেন, — ‘রবীন্দ্রনাথ যদি নিজের গানের ওপর খবরদারি না করতেন তা হলে যে কোন শিল্পী তাঁর ইচ্ছেমতো রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারতেন। স্বরলিপির বিশেষ কোন প্রয়োজন লাগত না। আর ধীরে ধীরে রবীন্দ্রসংগীতের স্বকীয়তা হারিয়ে যেত’। তাঁর মতে এটাই quality control। আর ঠিক এই কারণে দিলীপ রায়ের মতো শিল্পীকেও রবীন্দ্রনাথ স্বাধীনতা দেন নি। সাহানা দেবী, অমিয়া ঠাকুর, মালতী ঘোষাল, শান্তিদেব ঘোষ, সন্তোষ সেনগুপ্ত, কনক দাস, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, পঙ্কজ মল্লিক, সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, বনানী ঘোষ থেকে পরবর্তীকালের অসংখ্য শিল্পী রবীন্দ্রনাথের গান গেয়ে চলেছেন। রবীন্দ্র সংগীত শেখার কত প্রতিষ্ঠান আছে, কত শিক্ষক সেখানে আছেন, কত রেকর্ড বেরিয়েছে—এ সবের আয়-ব্যয়ের হিসেব কেউ করেন নি। গানের সঙ্গে নাচ ও আবৃত্তি, নাটক, শ্রুতিনাটক এসবও যোগ করতে হবে। রবীন্দ্রনাথের গান, নাচ, নাটকের এই ব্যবসা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের নানা রাজ্য, প্রতিবেশী দেশ, ইউরোপ, আমেরিকা, চিন, জাপানেও বিস্তৃত। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে নানা অনিষ্ঠান হয়। বহু শিল্পী, শিক্ষক, ঘোষক, অনুষ্ঠান পরিচালক, ডেকরেটর, বৈদ্যুতিন যন্ত্রাদি সরবরাহকারী, ক্যাসেট ও সিডি কোম্পানিগুলির জীবিকা নির্বাহ হয় এতে। রবীন্দ্রনাথের গল্প বা উপন্যাসকে চলচ্চিত্রায়িত করারও চেষ্টা আছে। তবে সেটা খুব জমাট বাঁধে নি বলেই মনে হয়।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পঠন-পাঠন ও গবেষণার ব্যাপারটিকেও ব্যবসার আঙ্গিকে দেখা যায়। এটাও বহু মানুষের কর্ম সংস্থানের উপায়। রবীন্দ্রসাহিত্য বিষয়ে পড়ুয়াদের রেফারেন্স বই ও নোটবই কিনতে হয়, পড়াবার জন্য মাইনে দিয়ে শিক্ষক-অধ্যাপক রাখতে হয়, যথাযথ ফিজ দিয়ে গবেষণার জন্য নাম লেখাতে হয়, গবেষণা পরিচালনার জন্য গাইডকে সাম্মানিক দিতে হয়।
রবীন্দ্রনাথ পর্যটন শিল্পকেও সমৃদ্ধ করেছেন। দেশি-বিদেশি বহু মানুষ জোড়াসাঁকো, শান্তিনিকেতন, শ্রীনিকেতন দেখতে যান। তাই যানবাহন, হোটেল, গেস্ট হাউসের আয়-উপায় হয়। না থেকেও রবীন্দ্রনাথ এ সব ব্যবসাকে যেমন বাঁচিয়ে রেখেছেন, তেমনি উল্টোদিকে এ সব ব্যবসাও রবীন্দ্রস্মৃতিকে অমলিন রাখতে সাহায্য করে।
লেখক সিনিয়র ফেলোশিপপ্রাপ্ত গবেষক
ঠিকই তো, রবীন্দ্র বিষয়ক বই ছাপলে বিক্রি বাটা ভালো হবে। তাতে লাভ ভালো হবে। এই জন্য এক শ্রেণির প্রকাশক রবীন্দ্র বিষয়ক বই ছাপতে মুহূর্তে রাজি হয়ে যান। আর রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ব্যবসা তো অনেক দিন থেকেই চলছে।