| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

মহিম হালদারের গল্প : অমর মিত্র

Reporter
অমর মিত্র / ৬৭৪ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২

রাধানাথ মণ্ডলের সঙ্গে পরিচয় ১৯৮৪ নাগাদ, সমীর চট্টোপাধ্যায় ও ললিতা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিয়েতে। রাধানাথ ‘আনন্দবাজার পত্রিকায় চাকরি করত। মেদিনীপুরের রামজীবনপুরের নিকটবর্তী এক গ্রামের ছেলে। গ্রামের নাম বিষ্ণুদাসপুর। চাষিবাসী ঘরের ছেলে। এমএ পাশ করে ভাগ্যান্বেষণে কলকাতা এসেছিল। অসামান্য ছিল তার ভাষাজ্ঞান। শিল্পবােধ। ধুতিপাঞ্জাবি পরত। তখন আমি ‘দেশ’ পত্রিকায় একটি গল্প লিখেছি। ‘আগুনের দিন’। বিয়েবাড়িতে রাধানাথ নিজে উঠে এসে আমার সঙ্গে আলাপ করল। গল্প নিয়ে কথা বলল। সেই থেকে বন্ধুতার শুরু। পারস্পরিক পাঠের আরম্ভ। রাধানাথ থাকত বৈষ্ণবঘাটা, গড়িয়ায়। গড়িয়াহাট থেকে গড়িয়া মেন রোডে নেমে ভিতরে ঢুকতে হত। রবীন দেবরায়ের বাড়িতে ভাড়া থাকত। রবীন দেবরায় একটি পত্রিকা করতেন। শিল্প সংস্কৃতি’। আমি সেখানে লিখেছি। রাধানাথের বাড়িতে নতুন লেখা গল্প পড়া হত। চুলচেরা বিচার হত। তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়, অমিতাভ দত্ত, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, নবকুমার বসু, দীপঙ্কর দাস, কানাই কুণ্ডু… অনেক। গল্পলেখক যেতেন সেখানে। সকলেই দক্ষিণের বাসিন্দা, আমিই কেবল উত্তরের। ঝড়েশ্বর অমিতাভ ডায়মন্ড হারবার থেকে আসত। আমাদের অমোঘ আকর্ষণ ছিল বন্ধুতার, ভালোবাসার আর গল্প শোনানোর। গল্প। লিখে শোনাতে হয়। শুনিয়ে মতামত নিতে হয়। নিলে লেখক নিজেকে সংশোধন করে নিতে পারেন। রাধানাথ ছিল ক্লাসিক ঘরানার লেখক। ওর প্রথম বইয়ে ফর্ম ভাঙার কারিকুরি ছিল। অমিতাভ অথবা সে নয়’— সেই বই কোথায় হারিয়ে গেছে জানি না। মনে পড়ে রাধানাথের বাড়িতে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত সমরেশ বসুর কাছে শুনেছি তাঁর শেষ অসমাপ্ত উপন্যাস, ‘দেখি নাই ফিরে’ নির্মাণের অনেক কথা। তিনি তখন উপাদান সংগ্রহ করতে শান্তিনিকেতন, বাঁকুড়ায় যাচ্ছেন বারবার। রাধানাথের সঙ্গে মাত্র। কয়েক বছরের মেলামেশায় দেখেছিলাম একজন অসামান্য বন্ধুবৎসল প্রতিভাবান লেখককে। এক জায়গায় জনৈক ঈর্ষাকাতর ব্যক্তি আমাকে অপমান করতে আরম্ভ করায়, সে উঠে তার কলার ধরেছিল। একই অভিজ্ঞতা আবার হয়েছে। সেখানে বন্ধু-লেখক চুপ করে বসে থেকে উপভােগ করেছিলেন। অনুজ লেখক প্রতিবাদ করেছিলেন। রাধানাথ ছিল আপাদমস্তক লেখক। এবং সে যেভাবে গ্রামজীবন চিনত, আমাদের সমসময়ে তেমন আর দেখিনি। তার গদ্যভাষা ছিল নির্ভার, মায়াময়। তার গল্পের বিষয় ছিল ঘটনাবহুলতাবর্জিত। বানিয়ে লিখত না। উপলব্ধ বিষয় নিয়ে লিখত। গল্প তার স্বাভাবিক চলনে এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেত, যার পরে যেন আর কিছু না-লেখা থেকে যেত। এই সংকলনের সব গল্পই ছিল ওর নির্বাচন। বইটি ১৯৮৫ সাল নাগাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর ১৯৯৪ নাগাদ এক মর্মন্তুদ সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। লেখক চলে গেলে তার পরিবার নিঃসঙ্গ হয়। বইটি আমি মাস ছয় আগে আমার পুরোনো বইয়ের ভিতর থেকে আচমকা খুঁজে পাই। বন্ধুর কথা মনে পড়ে যায়। সেদিন মুহ্যমান হয়ে বসেছিলাম। আমার বইটি ছিল পোকায় কাটা। একটি পাতাও পড়া যায় না। কিন্তু ফেসবুকে লিখতে দেখলাম তাকে কেউ কেউ মনে রেখেছেন। ইংল্যান্ড থেকে নবকুমার, বা বর্ধমান থেকে স্বপ্নকমল সরকার বললেন তাঁদের কাছে বইটি আছে। বন্ধু ঝড়েশ্বর, রাধানাথের স্ত্রী মাধবী মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরোনো বইয়ের ফোটোকপি এবং সম্মতিপত্র এনে দেন। তারপর এই উজ্জ্বল উদ্ধার সম্ভব হল।

রাধানাথের গ্রাম বিষ্ণুদাসপুরে আমি একবার গিয়েছিলাম। চাষি পরিবার। কম বয়সে পিতৃহারা। মা তাকে আগলে রাখতেন। তিনি পুত্রশোক পেয়েছিলেন। আসলে রাধানাথের গল্পের কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলা হল মৃত বন্ধুকে স্মরণ করা। তার গল্প অবশ্য স্মরণের শ্রেষ্ঠ জায়গা। তাই-ই করি।

এই বই হল রামজীবনপুর অঞ্চলের এক অখ্যাত গ্রামের সামান্য চাষি পরিবারের যুবক মহিম হালদারের জীবনের নানা গল্প। মহিমকে। নিয়েই সব গল্প। মহিমের বাল্যকাল থেকে বড়ো হয়ে ওঠা, বিবাহ, কলকাতায় আসা, কলকাতায় এসে একটুখানি বেঁচে থাকা— আশ্চর্য এক গল্পগ্রন্থ আটঘরার মহিম হালদার। মহিম হালদারের জীবনচরিত এই বই। প্রতি গল্প আলাদা গল্প। কিন্তু প্রতি গল্প মহিমের গল্প। এক গল্পের সঙ্গে কি অন্য গল্পের যোগ আছে? নেই। কিন্তু সমস্ত গল্প পড়া হয়ে গেলে এমন এক বিষাদ ঘিরে ফ্যালে, মনে হয় একটিই কাহিনি পড়েছি। মহিম হালদারের কাহিনি। এমন এক প্রশান্তিও আসে, মনে হয় মহিমের জীবনের সঙ্গে বুঝি আমার জীবনের কিছু মিল থাকলেও থাকতে পারে। চিরায়ত অনুভবে সেই মিল। না হলে মহিম চাষি পরিবারের ছেলে আমি কলকাতায় ভাড়াটে বাড়িতে বড়ো হওয়া যুবক। আমি তাহলে রাধানাথের গল্প পড়ে ঝিম মেরে বসে থাকি কেন। কেন চোখের কোণে জল আসে ‘চালে যখন কাক গলছে’ বা ‘আটঘরার মহিম হালদার’ গল্পটি পড়লে রাধানাথ চেখভীয় ঘরানার লেখক।

প্রথম গল্প ‘শীতের মানচিত্র। এখানে বালক মহিমের কথা। তার বাবা চাষি। অবস্থা ভালো নয়। তাদের বাড়িতে সারাবছরের কোনও মুনিশ নেই। বাবাকেই সব করতে হয়। লাঙল দিতে হয় জমিতে, নিড়েন দিতে হয়। যা করেন এক কৃষক। তার কথা এত মায়াময় ভাষায় লিখেছে। রাধানাথ, বুক দম মেরে আসে। বালক মহিম ক্লাসে উঠতে পারে না। ভূগোল ব্যতীত আর-কোনো বিষয় তার ভালো লাগে না। না অঙ্ক, না ইংরেজি। বাড়িতে অভাব। চাষের সময় ছাড়া মুনিশ রাখার ক্ষমতাও নেই। বাবার। অগ্রহায়ণে ধান ওঠে। রেজাল্ট বেরোয় ইস্কুলে। মহিমের রেজাল্ট খারাপ। চাষি বাবাকে হাত জোড় করে দাঁড়াতে হয় পরের ক্লাসের জন্য। মহিম কীভাবে শীতের সকালে পড়তে বসে, রাধানাথ লিখছেন, —

“সারা শীতকাল মহিম খামারে বসে রোদ পোহাবে চাটাই পেতে, পাশের বেড়ায় বরবটির শুড় ঠোঁট বাড়াবে তার দিকে, জামবাটি-ভর্তি মুড়ি আর কড়াইশুটি, কলি-পেঁয়াজ দিয়ে মুখে মুড়ি তুলতে তুলতে এক হাত দিয়ে ওলটাবে পৃথিবীর মানচিত্রের পাতা। একটু পরে পরে রোদ সরে সরে যাবে আর মহিম চাটাইটাও টেনে নিয়ে যাবে একটু একটু। তারপর একসময় যখন পাশের দেওয়ালে দাগ দেওয়া অংশটায় রোদ উঠে যাবে, অমনি। বইপত্র গুটিয়ে ব্যাগে ভরে উঠে পড়বে।”

একটি বালকের স্বপ্ন, ভালোলাগা, বাড়ির অভাব অনটন, এই নিয়ে তাঁর গল্প। খুব বড়ো কথা নেই, কিন্তু ছােটো ছােটো অনুভব বড়ো হয়ে গেছে অনেক। তাঁর দেখা ছিল নিবিড়। অগ্রহায়ণে ধান উঠলে সেই ধান। বেচতে ঘাটাল চলল গ্রামের অনেক চাষি একসঙ্গে। পরপর গাড়ি চলল। সারারাত ধরে। ধান বেচে জামাকাপড়, নুন তেল, মশলাপাতি, সংসারের জিনিস আর মহিমের পাঠ্যপুস্তক। মহিম চায় একটি গ্লোব, যার ভিতরে সমস্ত পৃথিবী আছে। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখবে জগৎটাকে।

“সে অঙ্ক বুঝতে পারে না, জ্যামিতির উপপাদ্য তার মাথায় ঢােকে না, সহজ বানান সে বারবার ভুলে যায়, দিনরাত তার কাছে শুধু মানচিত্র আর মানচিত্র। আফ্রিকা কিংবা আমেরিকা, চিন কিংবা মঙ্গোলিয়া, হাঙ্গেরি কিংবা চেকোস্লোভাকিয়া। সে চটপট বলে দেয় ইংলিশ চ্যানেল বা । আর্জেন্টিনা কোথায়, মিশরের রাজধানীর নাম কী। সে অবলীলায় দক্ষিণ আমেরিকার মানচিত্র এঁকে দেখিয়ে দিতে পারে দক্ষিণ আটলান্টিক এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর কীভাবে তাকে ছুঁয়ে আছে, ইউরোপের মানচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে সে মুহূর্তের মধ্যে দেখিয়ে দিতে পারে জুরিখ কিংবা ফ্রাঙ্কফুর্ট কোথায় অবস্থিত। ক্লাসের সবাই যখন বীজগণিতের এ স্কোয়ার প্লাস বি স্কোয়ারের ফরমুলা মনোযোগ দিয়ে শুনছে তখন হয়তো মহিমের চোখের সামনে ভাসছে আল্পস পর্বতমালার অবস্থান কিংবা মূল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাসমানিয়ার দূরত্ব। মহিম তাই প্রতিবার বাংলায় কোনোক্রমে পাস করে, ইংরেজিতে পাস নম্বরের চেয়ে দু-চার নম্বর কম পায়, অঙ্কে ফেল করে, আর ভূগোলে সকলের চেয়ে বেশি নম্বর পায়। প্রতিবার, প্রতিটি পরীক্ষায় এরকম।”

‘শীতের মানচিত্র’ এক আশ্চর্য গল্প। অভাবী কৃষক পরিবারের জীবন এবং একটি বালকের স্বপ্ন মিলেমিশে যে-রূপ ধারণ করেছে, তা বিরল আমাদের সাহিত্যে।

‘চালে যখন কাক গলছে’ সেই অভাবী চাষি পরিবারের গল্প। গত শতকের সত্তর দশকে যাঁরা লিখতে এসেছিলেন, তাঁরা গ্রামে ফিরেছিলেন নগর ছেড়ে। এ যেন ছিল গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরা। রাধানাথ যে-গল্প লিখেছেন, তার ভিতরে ছিল এমন গ্রাম, যা তেমন করে আমরা চিনতাম। এই গ্রাম ছিল বিভূতিভূষণে, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ে। আমি বলতে চাইছি এই অন্তরাত্মার কথা। গ্রামের বদল যে হয়েছে তা রাধানাথের গল্পে ছিল। কিন্তু অভাব অনটনে ভরা চাষিবাড়ির কথা, তিনি যা লিখতে পেরেছিলেন এই গল্পগুলিতে, তা ছিল সকলের থেকে আলাদা।

‘চালে যখন কাক গলছে, অভাবী মানুষের মুখে ঘােরা গ্রামীণ প্রবাদ। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন… অভাবের মাস, অভাবের মাসে যা হয়ে থাকে চাষিবাড়িতে। মহিম বি.এ পাশ করে বসে আছে। বেকার। ট্রেন্ড নয় বলে মাস্টারি হয়নি, আর তা পেতেও হাজার দশ-পনেরো ঘুষ লাগে। কে দেবে? মহিম বিএ পাশ, তাই সে তার সমবয়সিদের মতো লাঙল কাঁধে জমিতে যেতে পারে না। তার বাবা বুড়ো হয়েছে। আগের মতো জমিতে খাটতে পারে না। জমির আলে বসে বাড়িতে থাকা বাঁধা মুনিশ নিতাইকাকাকে বলে জমির এটা ওটা করতে। আগে বাবা নিজেই সব করত। তাদের আর মুনিশ রাখার ক্ষমতা নেই। অথচ বেকার মহিম গঞ্জে কলেজে গেছে বলে আর জমিতে যেতে পারে না। কী করে মহিম?

তখন তার দিনগুলি রেডিয়োর সময় ধরে চলে। সংগীতাঞ্জলির সময় ঘুম ভাঙে, ন-টার খবরের সময় মুড়ি খায়, দেড়টার খবরের সময় ভাত। সন্ধেবেলা মজদুরমণ্ডলীর অনুষ্ঠানের সময় বেড়িয়ে ফেরে, রাত্রের রবীন্দ্রসংগীত শুনে ঘুমোয়। তাদের বাড়িতে একমাত্র সাচ্ছল্যের চিহ্ন ওই রেডিয়ো। মহিমের বেকার-জীবনের একমাত্র সঙ্গী। এহেন মহিমের সম্বন্ধ নিয়ে এল তারই সহপাঠী গোপীনাথ ভট্টাচায্যি। সে ঘটক হয়েছে। ভুলভাল সংস্কৃত শ্লোক বলেই কাজ উদ্ধার করে। মেয়ের বাবাকে নিয়েই হাজির ঠিক দুপুরবেলা। খাওয়ার সময়। মহিমদের বাড়ি দুপুরে ভাত বিউলির ডাল আর পোস্ত। অতিথি বাড়িতে। তার আপ্যায়ন কী করে হবে? ডিম যদি পাওয়া যায়। না হলে ঘুসাে মাছ। কী অসামান্য লিখেছেন রাধানাথ। দারিদ্র্যে নুয়ে আছে যে-বাড়িটি, সেখানে কিনা যে মেয়ে আসবে তার রং দুধে-আলতায়, কোমরসমান চুল; ঘটক গোপীনাথ তার রূপ। বর্ণনা করে মহিমের কাছে। মহিম বেকার। টিউশনি করে ২০ টাকা পায়। বরপণ নাকি ২০০০ পাবে, বিএ পাশ তো। মেয়ের বাবার ধানকল। অনেক পয়সা। ধনী শ্বশুর হবে মহিমের। মহিম কত কিছু কল্পনা করে, তারপর তার ঝুঁকে পড়া বাবা, ধ্বস্ত ঘরবাড়ি, চালের পচা খড়…, গল্প চলতে চলতে থেমে যায়। এই তার বাড়ি, এই তাদের দারিদ্র্যে ভরা সংসার, এখানে সে রাখবে কোথায় অমন দুধে-আলতা রঙের মেয়েকে? গল্প যেন গল্প-ই নয়। এমন সুরে বাজে রাধানাথের গল্প, পরশ লেগে থাকে বহু সময়।

সব গল্পই কল্পনাপ্রবণ স্বপ্নপ্রবণ মহিমের। এই মহিম বিবাহিত। তার স্বপ্ন কলকাতায় আসা। গাঁয়ের ইস্কুলের টেম্পোরারি মাস্টারি ছেড়ে এসেছে শহরে। এক লোহার দোকানে হিসেব দ্যাখে। এক এক সময় মনে হয় হিসেবের খাতায় অন্য কিছু লিখে দেয়। হিসেবে ভুল হয়। চাকরি থাকে না। তখন মহিম শরৎ বুক হাউসের প্রুফ রিডার। কলেজ স্ট্রিট এসেছে রাধানাথের ‘আটঘরার মহিম হালদার’ ও ‘টাকার গাছ’ গল্পে নিবিড় হয়ে। আটঘরার মহিম হালদার গল্প থেকে একটুখানি অংশ উদ্ধৃত করি, —

“জানালার বাইরে তাকালে লম্বা হ্যারিসন রোড, ট্রামলাইন, মানুষজন, রিকশা-ঠেলা, হুড়োহুড়ি, আর জানালার এপারে সারি সারি শব্দ, বর্ণমালার সবকটি বর্ণ একসঙ্গে ভিড় করে মাথা তুলে থাকে। মহিম একে একে। তাদের শনাক্ত করে, তাদের ছুঁয়ে ছুঁয়ে দ্যাখে, তাদের অর্থ নিয়ে ভাবে, ভুল শব্দটির গায়ে খুব সাবধানে তার কলমের ডগা চেপে ধরে। বড়ো কঠিন। কাজ- মহিম সবসময় ভাবে— এভাবে একটির পর একটি শব্দের উপর চোখ বুলিয়ে যাওয়া। এদের একসঙ্গে কখনও সে দ্যাখে না। প্রতিটি স্বতন্ত্র শব্দ। প্রতিটির গন্ধ আলাদা, প্রতিটির রং অন্যরকম। ফলে তার সামনে কখনও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের একটা পৃষ্ঠা সম্পূর্ণ ফুটে ওঠে না, তার বদলে কিছু শব্দ, ছােটোবেলায় বাড়ির পিছনের খামারে গর্ত খুঁড়ে মার্বেল খেলার মতো তার চোখের সামনে ঝনঝন করতে করতে গড়িয়ে যায় মুঠো মুঠো শব্দ। অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে মহিম। আমি কি এদের চিনতে পারব?”

এতই অনুভূতিপ্রবণ প্রুফ রিডার মহিম হালদার, কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় প্রকাশকের ঘুপচি ঘরে বসে প্রুফ দেখার সময় ‘আ’ বর্ণ তার কাছে ‘আটঘরা’ হয়ে আসে। শব্দ নিয়ে খেলাও আছে যেন এই গল্পে। আছে হারিয়ে যাওয়া বউবাজারের অন্ধকার ঘরে ময়লা আলোর ভিতরে নিঃশব্দ লেটারপ্রেস। সিসের অক্ষরে কম্পোজ হয়েই যাচ্ছে। মহিম সেখান থেকে ভিজে গালি প্রুফ নেয়, ট্রামে করে যায় রাশভারী লেখক অধ্যাপকের বাড়ি। অধ্যাপকের ব্যক্তিত্বের কী তেজ, আটঘরার মহিম হালদার সেখানে অসহায়। কী সেই গল্পের সৌন্দর্য, ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

খরা এবং বৃষ্টির প্রার্থনা নিয়ে একটি গল্প ‘বৃষ্টির জন্য’। অনুপুঙ্খ বর্ণনা আছে আটঘরা গ্রামে অনাবৃষ্টির দিনগুলির। সেই আটঘরার মহিম হালদার, তার বউ রমলা, অশ্রুপাত যেন অনাগত বৃষ্টির সমার্থক হয়ে দাঁড়ায় এই গল্পে। এই গল্পও আমার পড়া অনেক সেরা গল্পের একটি। রাধানাথের মহিম হালদার এক স্বপ্নপ্রবণ পুরুষ। দারিদ্র্য তার সঙ্গী। আটঘরা তার গ্রাম। আটঘরা নিয়েই প্রায় সব গল্প। মহিমের কলকাতা বাস নিয়ে দুটি গল্প। সেই গল্প দুটিতেও আটঘরা ঘিরে থাকে মহিম ও তার বউ রমলাকে। প্রস্তুতি, অবেলায়, মান্দারণ যাত্রা, আশ্চর্য অতিথি… সব গল্পই। একটি গল্পের কথা বলি, ‘বিয়েবাড়ি থেকে ফেরা’। মহিম গ্রামের ইস্কুলমাস্টার। সন্ধেয় এ-ধার ও-ধার ঘুরে বাড়ি ফিরে খাতা দেখতে দেখতে তার চোখে ঘুম জড়িয়ে আসে। তার তেমন কোনও বন্ধু নেই গ্রামে যে সন্ধেয় তাস খেলতে পারে, আড্ডা মারতে পারে। বিমর্ষ মহিম। সামান্য গ্রাম আটঘরায় তার কোনও স্বপ্নপূরণ হয় না। এই মহিম স্কুলের বন্ধু ভোলানাথের বিয়েতে যায় বরযাত্রী। হাঁটাপথে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়া। ফেরার পথে তাকে চন্দ্রবোড়া দংশন করে। সেই দংশনের পর তার মৃত্যুভয়, দুই গ্রাম্য মানুষ বাঁকাখুড়ো এবং হরিসাধনের জন্য সাপের ওঝার থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে বিয়েবাড়ির পালকি করে হাসপাতালের উদ্দেশে যাত্রা নিয়েই গল্প। পালকির ভিতরে বসে যন্ত্রণাকাতর মহিমের মনে পড়ে যায়, এক বছর আগে অন্য একটা বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার কথা।

“সেবার পালকিতে সামনে আর-একজন বসেছিল। তার লাল চেলি উড়ে এসে লাগছিল মহিমের চোখে-মুখে। একটু নুয়ে দেখেছিল বিকেল। গমের খেতের ওপরে সূর্য অস্ত যাচ্ছে লাল আলোয় ভরে আছে গোটা মাঠ। সামান্য পরিচিত তরুণীটির মুখ সে আস্তে আস্তে নিজের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিল।”

প্রতিটি গল্প সামান্য মানুষের সামান্য কাহিনি। সামান্য কাহিনিই অসামান্য হয়েছে রাধানাথের নির্ভার কথনের গুণে। কাহিনিই বা কোথায়, প্রায় কাহিনিহীন গল্প লিখেছিলেন রাধানাথ। একটি গল্পের কথা বলি, ‘টাকার গাছ’। মহিম হালদার এখানে কলেজ স্ট্রিটের মাতৃভূমি প্রকাশনীর টেক্সট বুক ক্যানভাসার। তার কাজ ইস্কুলে ইস্কুলে বুক লিস্টে মাতৃভূমি প্রকাশনীর বই ঢুকিয়ে দেওয়া। এর জন্য সেক্রেটারিকে ঘুষ দিতে হয়, মাস্টারকে মিষ্টি খাওয়াতে হয়। মহিম চায় একটা কিছু করতে। ঘর পেলে সেও পাবলিকেশন করবে। প্রেসের মদনবাবুর সঙ্গে মহিম আলোচনা করে। ৬৫,০০০ সেলামিতে ঘর পাওয়া যাবে, ২০০ টাকা ভাড়া। মহিম। খুব খোঁজ নেয়, যেন তার অনেক টাকা। খাওয়াই জোটে না। মেসের টাকা বাকি। সকালে এক কাপ চা আর দুটো বিস্কুট দিয়ে তার ব্রেকফাস্ট। দুপুরে চেনা লোকের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায় যেন আচমকা। তিনি তখন হােটেলে যাচ্ছেন মিল খেতে। মহিমকে আহ্বান করেন সঙ্গে যেতে, ইলিশ দিয়ে ভাত খায় মহিম, তিনি তাকে একটা রিজেন্ট স্পেশাল সিগারেটও অফার করেন। কিন্তু এভাবে তো হয় না সব দিন। বেকারত্ব, কলেজ স্ট্রিটে এসে মেদিনীপুরের এক যুবকের টিকে থাকার লড়াই, কী আশ্চর্য ডকুমেন্টেশন। আশি কিংবা সত্তর দশকের শেষ দিকের কলেজ স্ট্রিটকে দেখতে পাই চোখের সামনে। সাহিত্য থেকেই তো ইতিহাসের উপাদান পাওয়া যায়, এই গল্প সময়ের ইতিহাস। লেখক আমাকে যেন সময়যন্ত্রে চল্লিশ বছর আগের পৃথিবীতে নিয়ে যান। অভাবী বেকার মহিম ভাবে কত লোকের পকেটে কত টাকা, তার পকেটে এক টাকা কিংবা আট আনা। বাঁধাইখানা থেকে বই বয়ে আনা মজুরও ট্যাঁক থেকে একশো টাকার নোট বের করে, প্রেসের মদনবাবুও কুড়ি টাকা বের করে চা বিস্কুট আনতে দেয়। একটা টাকার গাছ যদি পাওয়া যেত। মহিমকে সেই মাতৃভূমি প্রকাশনীর মালিক হরিসাধনবাবু মেদিনীপুর শহরে যেতে বলেন ইস্কুলের সেক্রেটারিকে ঘুষ দিতে। বেশ কিছু কাজ দিয়েই পাঠান। যেতে যেতে মহিম ভাবে সত্যিই একটা টাকার গাছ যদি পাওয়া যেত। মেদিনীপুর শহরে সে পৌঁছোল সন্ধেয়, রাধানাথ লিখছেন, —

“প্রতিটা শহরের নিজস্ব একটা গন্ধ আছে। সেটা আমি এক যুগ পরেও ঠিক টের পাই বটতলা চকে দাঁড়িয়ে। এখান থেকে একদিকে চলে গেছে কলেজের রাস্তা, অন্যদিকে স্টেশন। কলেজের রাস্তার দিকে তাকিয়ে আমার চোখে জল এসে যায়। এই রাস্তা ধরে এসে এখান থেকে একজন কুড়ি বছরের ছেলে কলকাতা গিয়েছিল, সেখানে বৃহত্তর জীবনের খোঁজ করবে বলে। কিন্তু কোথায় সেই জীবন? বউবাজারে একটা অন্ধকার ঘরে দোতলার পাটাতনে সে জীবন কুঁকড়ে আছে।”

বন্ধু অশোকের বাড়িতে দুদিন থেকে কাজ করে হোটেল খরচ এবং মিল খরচ বাঁচাবে মহিম। এই অশোক হলেন কবি বীতশোক ভট্টাচার্য, রাধানাথের সহপাঠী। বহুদিন আগে রাধানাথ বলেছিল আমাকে। ফিরে এল মহিম। কদিন বাদে শুনল এবার টেক্সট বুক সিজনের ব্যবসা ভালো হয়নি। মহিমের অপরাধ বুঝি। গল্পে মহিম টাকার গাছের সন্ধান পায়। দুঃস্থ মহিমের জীবন একদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রায় রূপকথা হয়ে উঠল। থাক, গল্প আমি শেষ করছি না। কিন্তু পাঠ শেষে মনে হয় জীবনদেবতার চোখ ছিল রাধানাথের ভিতর। না হলে এমন গল্প লেখা যায় না। এমন দারিদ্র্য, এমন করে জীবনকে চিনে নেওয়া, তখন যেভাবে বুঝেছিলাম, এখন বােঝা অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। জীবনরহস্যকে ছুঁয়ে ফেলার ক্ষমতা ছিল রাধানাথের। আটঘরার মহিম হালদারের আরও গল্প আছে। প্রতিটি গল্প যেন বৃষ্টির বিন্দু, মৃদুমন্দ বাতাস, মধ্যরাতে ভেসে আসা এক সুর। বইটি আবার প্রকাশ করছেন রোহণ কুদুস তাঁর সৃষ্টিসুখ প্রকাশন থেকে। বই প্রকাশ হয়ে গেলে সব গল্পের হদিশ পাবেন অনুসন্ধানী পাঠক।

রাধানাথ আমার স্বল্পকালের বন্ধু ছিল। তার জীবন ক্রমশ গতিময় হয়ে উঠছিল। সে যেন আলোর গতিসম্পন্ন একটি গাড়িতে করে সমুদ্রগামী হত। তার গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল। না। তার গল্পের আমি অনুরাগী ছিলাম। আছি। এখন ফিরেছি পুনঃপাঠে, যত পড়ছি, বিস্ময় গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। রাধানাথ একা চলে গেছে মহাকাশযাত্রায়। আমরা তাকে আর ছুঁতে পারব না। পারব। এই গল্পগুলিতে তাকে ছোঁয়া যায়। এই লেখাটি বন্ধুর জন্য বন্ধুর লেখা নয়, ভিনগ্রহ থেকে আসা এক প্রায় অচেনা হয়ে যাওয়া লেখকের অকালপ্রয়াণে আমার হাহাকার বলে ভেবে নিন।

৩১.০৫. ২০২০

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev