করোনার খবরে এটা হয়তো অনেকেই খেয়াল করেননি। জানেন কি, ইতিমধ্যেই আপনার পকেট কাটার বন্দোবস্ত করে ফেলেছে ভারতীয় রেল। করোনায় যাতে স্টেশনে বেশি লোক ভিড় না করেন, সেই যুক্তি দিয়ে কয়েকগুণ বাড়ানো হলো প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম। আগে মোদী সরকার এই টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা করেছিল। অথচ অন্য কোনও স্টেশনে যেতে লোকাল ট্রেনে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৫ টাকা। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক বছর ধরে প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম আরও বাড়ানোর পক্ষে ছিল রেল। সুযোগ এনে দিল করোনা! বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি দেশের অন্যতম সেরা রেলমন্ত্রী ছিলেন, তিনি বলেছিলেন, ট্রেনে যাতে বেশি ভিড় না হয় সেজন্য কম সময়ের ব্যবধানে বেশি ট্রেন চালাতে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দিনের পর দিন যাত্রী কম অজুহাত দিয়ে মেল, এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজের ছুতোয় বাতিল থাকছে লোকাল, প্যাসেঞ্জার ট্রেন! এবার প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম বাড়ানো হলো। মঙ্গলবার ১৭ মার্চ বলা হয় দেশের ২৫০টি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হবে। বুধবার ১৮ মার্চ দক্ষিণ-পূর্ব রেল সেই পথে হাঁটল। এই ডিভিশনের বেশ কিছু স্টেশন বাংলায় আছে। হাওড়া নিউ কমপ্লেক্সে ঢুকলেই লাগবে ৫০ টাকা। খড়গপুরে ৪০ টাকা। সাঁতরাগাছি, শালিমার, মেচেদা স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম হয়েছে ৩০ টাকা। পাঁশকুড়া, বাগনান, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, আদ্রা, বিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়া ও দিঘায় প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার স্টেশনেও এই টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে। মানুষ কাউকে ট্রেনে তুলতে বা রিসিভ করতে স্টেশনে যান, প্ল্যাটফর্ম টিকিট কেটে প্রবেশ করেন। সেই টিকিটের দাম অগ্নিমূল্য করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ। সবার প্রশ্ন, দাম বাড়ল, কমাবে তো মোদী সরকার? সেই সঙ্গে অনেক ট্রেন বাতিল মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াল।


