‘আয় আয় আয় রে আয়!/আয় রে আয়! আয় রে আয়!/আয় রে বোঝাই হাঁড়ি হাঁড়ি/মন্ডা মিঠাই কাঁড়ি কাঁড়ি, আয়!’
কাঁড়ি কাঁড়ি এসেছে ঠিকই তবে মন্ডা, মিঠাই নয়—মাছ। এখন অবধি শিলাবৃষ্টি দেখার সুযোগ মিলেছে, তবে আজব মাছ বৃষ্টির কথা শোনা গেলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সসাসে টেক্সারকানায়। গত ৩ জানুয়ারি আচমকাই আকাশ থেকে নামতে থাকে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ। ছবি আর ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়াগুলোয়।
বৃষ্টির ভারী শব্দ শুনে টেক্সারকানাবাসীরা ভাবেন শিলা বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু বাইরে দেখে অবাক হয় সকলেই! আকাশ থেকে নেমে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ। বাড়ির ছাদে, রাস্তায় পরে আছে ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি সব লম্বা মাছ। সঙ্গে গোটা শহর ভরে গেছে মাছের দুর্গন্ধেও ।

তবে এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে আগেও। শ্রীলঙ্কা, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকার প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হন্ডুরাস-সহ কিছু জায়গায়। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ অংশে ২০১২ সালে চিংড়ি মাছের বৃষ্টি হয়েছিল। হন্ডুরাসে মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে দেখা যায় এই আশ্চর্য বৃষ্টির ঘটনা।
এই অদ্ভুত ঘটনার পিছনে অনেক হন্ডুরাসবাসীগণ মনে করেন এক সাধুর জন্য ঘটেছিল এই ঘটনা। কথিত আছে, ১৮৫৬-৬৪ সালের মধ্যে এ দেশে আসেন স্প্যানিশ ধর্মযাজক জোস ম্যানুয়েল সুবিরানা। এখানকার গরীব মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, অভাব দেখে আকুল হয়ে ওঠে সাধুর মন। মানুষগুলো কে ক্ষুধার্ত থাকতে দেখে তিনদিন তিনরাত ধরে প্রার্থনা করেন স্রষ্টার কাছে ‘কোন মানুষকে যেন অভুক্ত থাকতে না হয়’। যাজকের আকুল প্রার্থনাই হয়তো ধরাধামে দৈবাৎ নিয়ে আসে মাছ-বৃষ্টি।
এই বিষয়ে নানা বিজ্ঞানীর নানা মত পাওয়া যায়। মনে করা হয় আটলান্টিক মহাসাগরে সংগঠিত টর্নেডোই জলের মধ্যে থাকা মাছ, ব্যাঙ কিম্বা অন্য জলজ প্রাণীগুলো ২০০ কিলোমিটার দূরে হন্ডুরাসের ইউরো শহরে ফেলেছে ।

ইউরোবাসীরা বৈজ্ঞানিকব্যাখ্যার চেয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যাই বেশি মানেন। এই ঘটনা ওখানে এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে এই বৃষ্টিকে কেন্দ্র করে ১৯৯৮ সাল থেকে একটি উৎসব ‘লুভিয়া দি পিসেস’ পালন করা হয়। সাধু সুবিরানার ছবি নিয়ে রাস্তায় প্যারেড ও মিছিল বের হয়। শহরবাসী বৃষ্টিতে প্রাপ্ত মাছগুলোকে রান্না করে খান।
এবার এই বৃষ্টি দেখতে পাওয়া গেলো গত বছরের অক্টোবর মাসে উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি জেলার চৌরি এলাকায়। বৃষ্টির সঙ্গে ছোট মাছ ঝরে পড়তে দেখা যায়। বৃষ্টির সাথে শিলাবৃষ্টি দেখা সাধারণ কিন্তু মাছ বৃষ্টির সাক্ষী হওয়া বিরল। স্থানীয়রা মাছের বৃষ্টি দেখে বিস্মিত হয়েছেন আবার কয়েকজন কিছু মাছ রং ও আকারে ভিন্ন হওয়ায় আতঙ্কিতও হয়েছেন। স্থানীয়রা প্রায় ৫০ কেজি মাছ সংগ্রহ করলেও মাছগুলো বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় পুকুর ও গর্তে ফেলে দেয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝোড়ো হাওয়া-সহ বৃষ্টির সময় আকাশ থেকে ছোট মাছ পড়তে শুরু করে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মাছ সংগ্রহ শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা ছাদ, মাঠ, বাগান এবং অন্যান্য এলাকা থেকে মাছ সংগ্রহ করে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কখনও কখনও নিম্নচাপ এলাকা তৈরির কারণে এমনটা হয়। নদী, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের কাছে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসও মাছকে উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং বৃষ্টির সময় আশপাশের এলাকায় এ ধরনের আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখা যায়।
প্রকৃতির বরে আমাদের নদী-নালা-পুকুর, খাল-বিল মাছে ভর্তি থাকতো। মহানন্দে বাঙালি সে মাছ ধরে, মেরে খেয়ে এসেছে—”মৎস্য মারিব খাইব সুখে”। তবে সে দিন আর নেই। এখন বাজার থেকে কিনে মাছ খেতে হয়। ভাবুন যদি এই পরিস্থিতিতে বঙ্গে এই মাছ বৃষ্টি হয়!!

সত্যি বলতে, বাঙালির রসনা তৃপ্তির সিংহভাগ জুড়ে আছে মাছ, তা সে মিঠা জলের হোক বা সমুদ্রের। প্রাণীজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস মাছ। এমনিতেই বাঙালি বন্যা-খরা-ঘূর্ণিঝড়-অর্শ-গেঁটেবাত-করোনা অনেক কিছুতেই ভুগছে, তা বলে কী আর নোলাটা সামলে থাকবে!! আবার সেটি যদি হয় বঙ্গোপসাগরের ইলিশ, আহা!! বর্ষার জল বাড়লে কচিকাঁচার দল বাড়ির উঠোন আর জল থৈ থৈ রাস্তা থেকে গামছা দিয়ে তেলাপিয়া মাছ ধরে। সেই গামছা দিয়ে ইলিশ মাছ ধরলে হেঁশেলে খুশির উৎসব হবে বৈ কি।
Source : Adapted from multiple News articles and scientific journals pertinent to subject matter.
বেশ তো!!
আনন্দম ????
Baah eta jantam na
Onek notun kicchu jante pari
থ্যাঙ্ক ইউ,❤️
চমৎকার সুন্দর অসামান্য নিবেদন *মাছ*বৃষ্টি
ভাগ্যিস দৃষ্টিটা আছে তাই পড়তে জানতে পেরে
ধন্য হলাম রিঙ্কি ম্যাডামের মাছ সংবাদ। ভাদোহির কাছে থেকেও জানতে পারিনি এই মিষ্টি বৃষ্টির কথা।ভালো লেখা তথ্য সম্মৃদ্ধ সুন্দর
মাছেরা শুধু জলে নয় আকাশেও সুন্দর।
মৎস মারিবো(কিনিবো)খাইবো সুখে,আকাশে
থাকিলে দেখিবো দুঃখে*
বেড়ে বললেন।???? অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে????
Rinki apnar protiti lekha unique ebong full of knowledge…apni eto patience Nea news gulo collect korechen..u deserve a reward for this
ধন্যবাদ জানাই আপনাকে???? ভালো থাকুন সবাই।