আবারও কিছুটা স্বস্তির খবর। আগেই বাংলার দশটি জেলা করোনা-মুক্ত বলে ঘোষিত হয়েছিল। কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে গত ১৪ দিনে নতুন করে কেউ করোনা-আক্রান্ত হননি। ২ এপ্রিলের পর কালিম্পঙে এবং ৪ এপ্রিলের পর জলপাইগুড়ি নতুন করে সংক্রমণ ছড়ায়নি বলে শনিবার ১৮ এপ্রিল জানান মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে ২৩ জনের নমুনায় সংক্রমণ করোনা পজিটিভের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৮। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২। ৭ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ায় সুস্থ হওয়ার সংখ্যা হলো ৬২।
মুখ্য সচিব জানান, সংক্রমিত এলাকাগুলিতে কনটেনমেন্টে জোর দিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। Rapid টেস্ট করতেও রাজ্য প্রস্তুত, তবে কিট আসেনি। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রবিবার থেকে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে। নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে বলে দাবি করে মুখ্য সচিব বলেন, নাইসেড, এসএসকেএম-সহ কোনও বড়ো ল্যাব দিনে ১০০টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে পারে না। ফলে দিনে হাজারটি টেস্ট করতে পারার দাবি ভুয়ো। দুর্গাপুর, বর্ধমানে ল্যাবের জন্য অনুমতি চাওয়া হলেও তা এখনও দেয়নি কেন্দ্র। এটা চালু হলে নমুনা পরীক্ষায় কম সময় লাগবে। এমন ব্যবস্থা হচ্ছে যাতে নমুনা নিয়ে অনেক দূর যেতে না হয়। এখনও অবধি ৪৬৩০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। হাওড়ার ৫৮০টি নমুনা পরীক্ষার পর ৬২টি পজিটিভ মিলেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ৩০০টি নমুনায় ১৮ জনের দেহে করোনা পজিটিভ মিলেছে। ল্যাবগুলিতে শিফট ডাবল করার পরিকল্পনা হচ্ছে। রাজ্যে ৬৬টি কোভিড চিকিৎসার হাসপাতাল রয়েছে, বেড রয়েছে ৭৯৬৯টি, যার ১৭৮টিতে রোগী ভর্তি। ১৫০০ ভেন্টিলেটর থাকলেও কাজে লেগেছে মাত্র ১০টি। ভেন্টিলেটর ছাড়াই রোগীরা সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। স্নেহের পরশ প্রকল্পে ভিনরাজ্যতে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের এক হাজার টাকা সোমবার থেকে দেওয়া হবে। স্নেহের পরশ অ্যাপ, যা জয় বাংলার সঙ্গেও যুক্ত আছে, তার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
মুখ্য সচিব জানান, এই মুহূর্তে ৩৮৫৫ জন সরকারি কোয়ারেন্টিনে এবং ৩৫২০৯ জন গৃহ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।সংক্রমণ যেখানে মিলছে সেখানে কনট্যাক্ট ট্রেসিং করে আইসোলেশনে ও কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে।