রক্তদান জীবন বাঁচায়। যাদের রক্তের প্রয়োজন আছে তারা যাতে সময়মত সুলভে রক্ত পান তার জন্যই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। মানুষের জীবন বাঁচানো মনুষ্যত্বের একটি বড় দিক। যে কোনো সুস্থ ব্যক্তি ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত রক্তদান করতে পারেন। বছরে চারবার রক্তদান করলে সুস্থ থাকা যায়। রক্তদান করলে রক্তদান কারীরাও অনেক রকম ভাবে সুস্থ থাকতে পারেন। রক্তদান করলে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে, পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন, কোলস্টরেলের মাত্রা কম হয়, তাতে মেদবহুলতা কমে।
করোনা আবহে ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলিতে রক্তের সংকট তৈরি হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন লকডাউন এর ফলে জামায়াত নিষিদ্ধ তখন বন্ধ ছিল রক্তদান শিবিরের মত অনুষ্ঠানও। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে রাজ্যে রক্তের অনেকটাই ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউয়ে কিছুটা শিথিল করে বিধি নিষেধ পালন করছে রাজ্য সরকার। তার ফলে এক বছরের বেশি সময়কালে আমাদের দেশে প্রায় কোনও রক্তদান শিবির করা সম্ভব হয় নি।

প্রসঙ্গত, ২০০৬-২০০৮ সালে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংখ্যা ৫৪.৪% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১১-২১ সালে ৮৩.১% হয়েছে, যার মধ্যে ২০০৬ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ২ লাখ, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সালে রক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৩ মিলিয়ন ইউনিট। সব মিলিয়ে ভারতে রক্তদাতাদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫০ মিলিলিটার রক্ত পাওয়া যায়।
আজ ছিল রাখী বন্ধন। এই উপলক্ষ্যে হরিপাল চৌধুরী পাড়ায় একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির এবং প্রীতিবন্ধনের অনুষ্ঠান পালিত হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্না, হরিপালের বিধায়ক ডাঃ করবী মান্না, প্রধান সুমিত সরকার, প্রধান দেবাশীষ পাঠক, পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বাবুল গায়েন, কর্মাধ্যক্ষ অলোক সাঁতরা এবং শিবনাথ হালদার, বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপক সিংহরায়, স্বরূপ মিত্র এবং সুশীল দাস-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ।
রাখির সঙ্গে অনেক আঙ্গিকে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস জড়িয়ে। সেখানে ধর্ম যেমন রয়েছে, আছে ইতিহাসের ছোঁয়া, আছে আবেগ। মহাভারতের শিশুপাল বধ হত্যায় শ্রীকৃষ্ণের রক্তাক্ত হাতে ওড়না বেঁধে দিয়েছিলেন দ্রৌপদী। আবার বঙ্গভঙ্গ আইনে যখন ভাগ হচ্ছে দুই বাংলা, সেই অশান্ত মূহুর্তকে সম্প্রীতির বন্ধনে বেঁধেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।