বার.
রামকথার প্রচার কিভাবে ভারত ও বর্হিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল, কেদারনাথ তার একটি রেখাচিত্র অঙ্কন করেছেন তাঁর বইতে। আজ থেকে একশো বছর আগে সে কাজ সহজ ছিল না। তখন তথ্য এত সহজলভ্য ছিল না। কেদারনাথ বলেছেন মহাভারতের ২৭৩-২৯০ পর্যন্তমোট ১৮টি অধ্যায়ে রামায়ণের বিবরণ আছে। এতে উত্তরকাণ্ডের কথা নেই। যোগবাশিষ্ট রামায়ণে ধর্মদর্শন সংক্রান্ত বিষয় উল্লিখিত হয়েছে।
এরপর বৌদ্ধসাহিত্যে রামকথার আলোচনা। লঙ্কাবতার সূত্র, দশরথজাতক, মহাবিভাষায় রামকথা আছে। কিন্তু বাল্মীকির রামকথার সঙ্গে তাদের অনেক পার্থক্য আছে। বৌদ্ধ রামায়ণ প্রসঙ্গে তীর্থ পাল ও দেবজয় প্রণীত রামায়ণের উল্লেখ আছে।
পুরাণগুলির মধ্যে পদ্মপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ, ভাগবতপুরাণ, মার্কণ্ডেয়পুরাণ, গরুড়পুরাণ, স্কন্দপুরাণ, অগ্নিপুরাণ, বায়ুপুরাণ, মৎস্যপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, শিবপুরাণ, দেবীভাগবত, বৃহৎধর্মপুরাণ প্রভৃতিতে রামায়ণ সম্পর্কিত কথা আছে। এই পুরাণগুলি মহাভারত রচয়িতা ব্যাসের নামে পরিচিত। ব্যাসদেবের নামে একখানা রামায়ণও প্রচারিত আছে। তার নাম অধ্যাত্ম রামায়ণ।
প্রসঙ্গত কেদারনাথ অগ্নিবেশ্য রামায়ণ, বৌধায়ন রামায়ণ, আনন্দ রামায়ণ, অদ্ভুত রামায়ণ, চম্পুরামায়ণের উল্লেখ করে বলেছেন যে এদের মধ্যে অদ্ভুত রামায়ণের কিছু বিশেষত্ব আছে। এই রামায়ণ বাল্মীকিরচিত বলে প্রচারিত আছে।
কালিদাসের রঘুবংশ, ভাসের অভিষেক, ভবভূতির উত্তররামচরিত ও মহাবীর চরিত, মহানাটক, অনর্ঘরাঘব, রামরসায়ন প্রভৃতিতে পরিবেশিত হয়েছে রামকথা। রামায়ণের ২৯টি টীকাগ্রন্থের সন্ধান দিয়েছে বিশ্বকোষ। রামায়ণের মোট টীকার সংখ্যা সাড়ে সাঁইত্রিশ হাজার।
রামোপনিষৎ, শ্রীরাম পূর্বতাপনিয়োগপনিষৎ, শ্রীরামোত্তর তপনীয়োপনিষৎ, রামরহস্যোপনিষৎ প্রভৃতিতেও রামকথা আছে। রামকথা আছে স্মৃতিগ্রন্থে, যেমন পরাশরস্মৃতি, কাত্যায়নস্মৃতি প্রভৃতিতে।
প্রাদেশিক ভাষাতেও রামায়ণ রচিত হয়েছে কেদারনাথ দ্রাবিড় রামায়ণ, জৈন রামায়ণের উল্লেখ করেছেন। ভারতের বাহিরে যবদ্বীপের রামকবি, বালীদ্বীপের রামায়ণ, ব্রহ্মদেশের রামযৎ, শ্যামদেশের রামায়ণ, চিনভাষার রামায়ণ উল্লিখিত হয়েছে কেদারনাথের গ্রন্থে। এরপরে তিনি ইয়ুরোপীয় ভাষায় রামায়ণের প্রচারের কথা বলেছেন। [সমাপ্ত]