রামকৃষ্ণ কথামৃত-এ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে নিয়ে শ্রীম লিখেছেন —
‘শ্রীমুখে ঈশ্বরকথা বই আর কিছুই নাই; মন সর্বদা অন্তর্মুখ, ব্যবহার পঞ্চমবর্ষীয় বালকের ন্যায়। প্রতি নিঃশ্বাসের সহিত মায়ের নাম করিতেছেন। একেবারে অভিমানশূন্য পঞ্চমবর্ষীয় বালকের ন্যায় ব্যবহার। পঞ্চমবর্ষীয় বালক বিষয়ে আসক্তিশূন্য, সদানন্দ, সরল ও উদার প্রকৃতি। এক কথা —“ঈশ্বর সত্য, আর সমস্ত অনিত্য”, দুইদিনের জন্য। চল, সেই প্রেমোন্মত্ত বালককে দেখিতে যাই। মহাযোগী! অনন্ত সাগরের তীরে একাকী বিচরণ করিতেছেন। সেই অনন্ত সচ্চিদানন্দ-সাগরমধ্যে কি যেন দেখিতেছেন! দেখিয়া প্রেমে উন্মত্ত হইয়া বেড়াইতেছেন।’
অযোধ্যায় রামমন্দিরে যে রামের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তার বয়স মাত্র পাঁচ। নাম দেওয়া হয়েছে ‘বালক রাম’। পঞ্চমবর্ষীয় বালকের বৈশিষ্ট্য কী?

তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সূত্রে বলা হচ্ছে, এই রামলালার বয়স মাত্র ৫ বছর। অর্থাৎ তিনি নাবালক, বালক রাম। তিনি সাবালক নন। চোদ্দ বছর বনবাসের পর সীতা ও লক্ষ্ণণকে নিয়ে অযোধ্যা নগরীতে ফিরে আসা রাম তিনি নন।
আসলে বাবরি মসজিদ তথা রাম মন্দির মামলায় গোড়া থেকেই বলা হয়েছিল, রাম এখানে নাবালক। তাই তিনি তো মামলা করতে পারবেন না। তাঁর অভিভাবক দরকার। সেই কারণে রামের হয়ে মামলা করেছিলেন সাধু সন্তরা এবং বিশ্বহিন্দু পরিষদ।
অযোধ্যার এই রাম বালক বলেই গর্ভগৃহে তিনি একা বিরাজমান থাকবেন। তাঁর পাশে সীতাকে দেখা যাবে না। লক্ষ্ণণ বা রামের অন্য ভাইয়েদের মূর্তিও সেখানে থাকতে পারে। কিন্তু মূল মূর্তির পাশে সীতাকে দেখা যাবে না।

মঙ্গলবার থেকে অযোধ্যার রামলালার দর্শন শুরু সাধারণের জন্য। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০টা অবধি দর্শনের সুযোগ। দুপুর ১টা নাগাদ ভোগ দেওয়ার পর মন্দির বন্ধ রাখার সম্ভাবনা। ভিড় সামলাতে সকাল থেকেই হিমশিম পুলিশ। সকালে রামলালাকে লাল চন্দন আর মধুতে স্নান করানো হয়েছে।
শ্রী রামজন্মভূমি ট্রাস্টের তরফে খবর, দুপুরে বিশ্রাম, সন্ধ্যার ভোগ ও আরতির পর শয়ন। দিনে ৫বার আরতি হবে মন্দিরে। সপ্তাহের এক একদিন এক এক রঙের পোশাক পরানো হবে রামলালাকে। সাধারণ দিনে রামলালার সোমবারে পোশাক সাদা। মঙ্গলবার লাল, বুধবার সবুজ পোশাক, বৃহস্পতিবার হলুদ। শুক্রবার আবার হালকা হলুদ বা ক্রিম রঙের পোশাক। শনিবার নীল, রবিবার গোলাপি। নিয়ম মেনে নিয়মিত এখানে চলবে রামের ভজন।

জানা গিয়েছে, সোনা ও হীরের গয়নার পাশাপাশি রামের বিগ্রহের হাতের তির-ধনুকটিও সোনায় মোড়া। পরনে হলুদ ধুতি, মাথায় হীরের মুকুট, কানে সোনার পাশা, গলায় সোনার নেকলেস এবং কপালে তিলক দিয়ে সাজানো রামলালা। ফুলের মালায় ঢেকে প্রথমবারের মতো দেশবাসীর সামনে হাজির হন রামলালা। সন্ধ্যায় লক্ষাধিক দীপে আলোকিত হয়ে ওঠে অযোধ্যার রাম মন্দির।
প্রসঙ্গত, কর্ণাটকের প্রখ্যাত ভাস্কর অরুণ যোগীরাজের হাতে তৈরি রামলালা মূর্তি অযোধ্যার রাম মন্দিরের পবিত্র গর্ভগৃহে স্থাপন করা হয়েছে। রামলালার মূর্তিটিই মন্দির ট্রাস্ট তিনটি মূর্তির মধ্যে থেকে বেছে নিয়েছেন। যে নতুন মূর্তিটির অভিষেক হল অযোধ্যায় সেটি পাথর দিয়ে তৈরি এবং ওজন ১৫০-২০০ কেজি। মূর্তিটিতে ভগবান শ্রী রামকে দাঁড়ানো ভঙ্গিতে একটি ৫ বছর বয়সি বালক হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে। ভক্তি, আবেগের মিশেলে আকাশে বাতাসে শুধুই ‘জয় সিয়ারাম’ ধ্বনি।

পাঁচ বছর বয়সে রাম কী এমন কম্মো করেছিলেন যে অযোধ্যার বহুপ্রচারিত রামমন্দিরের গর্ভগৃহে পাঁচ বছরের ‘বালক রাম’-কে স্থাপন করতে হল? তিনি কি তখনও কোনও বীরত্ব দেখাতে পেরেছিলেন? নাকি মা কৌশল্যার কোলে দোল খাচ্ছেন?
তাহলে রামকৃষ্ণ কথামৃতে বর্ণিত পঞ্চমবর্ষীয় বালকের গুণের জন্যেই কি রামকে পঞ্চমবর্ষীয় দেখানো হয়েছে? রামলালা মানেও তো বালক রাম।
নাকি সবটাই আইনকে ফাঁকি দেওয়ার জন্যে?