দিনটা ১৪ই নভেম্বর। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে বাঙালি ধুমধাম করে পালন করছে ‘রসগোল্লা দিবস’। এ যেন ডাক্তার আর ময়রার লড়াই করার দিন। সেই লড়াই দেখে খিলখিলিয়ে হেসে উঠছে ছোট্ট শিশুর দল, আজ যে ‘শিশু দিবস’ ও। আর রসনা ও অসুখ কেউ কারোর শত্রু নয়, সতর্কতা অবলম্বন করলে পুরোটাই কন্ট্রোলে।
রসগোল্লা বাঙালির মিষ্টির জগতে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। ভূ-ভারতে এমন রসনাতৃপ্তিকর উপাদেয় মিষ্টি ‘কোথাও পাবে নাকো তুমি’। রসগোল্লা কাদের ঐতিহ্য, সেই নিয়ে বাংলা বনাম ওড়িশার লড়াই চলছিল অনেক দিন। অবশেষে ২০১৭ সালে রসগোল্লার ‘জিআই’ ট্যাগ নিয়ে জয়ের শিরোপা পায় বাংলা।
গত আটশো বছরের পুরোন আবিষ্কার বলে দাবি করেন ওড়িশা। প্রভু জগন্নাথ দেব রথযাত্রায় দেবী লক্ষ্মীকে সঙ্গে নেননি বলে, অভিমান করেন দেবী। স্ত্রী লক্ষীর মান ভাঙিয়ে জগন্নাথদেব মন্দিরে ঢোকার পাসওয়ার্ড হিসাবে ব্যবহার করেন রসগোল্লা।
যদি প্রশ্ন করা হয়— ‘রসগোল্লা তুমি কার?’ উত্তর হবে, ‘যে আমার প্রেমে মজে আমি তার।’ হাতাহাতি নাকি মিষ্টিযুদ্ধ হওয়ার পর, রসগোল্লার বিজয়ী খেতাব পায় বাংলা।
বাংলায় রসগোল্লার আবিষ্কার নিয়ে কিছু মতভেদ আছে। কলকাতার সীতারাম ঘোষ স্ট্রীটের দীনু ময়রার পূর্বপুরুষ ব্রজ ময়রা ১৮৬৬ সালে হাইকোর্টের কাছাকাছি একটি দোকানে প্রথম রসগোল্লা তৈরি করেন বলে মনে করেন। ভিন্ন মতে, ১৮৪৬-৪৭ সালে নদীয়া জেলার ফুলিয়া গ্রামে হারাধন ময়রা প্রথম রসগোল্লা আবিষ্কার করেন। তবে, কলকাতা বাগবাজারের প্রখ্যাত ময়রা নবীনচন্দ্র দাস রসগোল্লার আবিষ্কারক হিসাবে একজন ওজনদার দাবিদার। অনেকেই মনে করেন, স্পঞ্জ রসগোল্লার উদ্ভাবক নবীনচন্দ্র দাস।
কথায় বলে, রসে বসে বাঙালি। আর ফর্সা রংটার ওপর কেমন যেন একটা দুর্বলতা রয়েছে বাঙালির, সেই কলোনিয়াল এফেক্ট। তাই বাংলার সেরা মিষ্টান্নটি তুলতুলে নরম ধবধবে সাদা রসের গোল্লা। বাঙালির পেটের ব্যারামটিও নাকি সারে গরম গরম রসগোল্লা উদরস্থ করলে। এতটাই প্রিয় মিষ্টি যে, ‘দেখনে যারে মনের ভিতর লাগে সুখ’। একটি গল্প বলি…
সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছেলের বিয়ের পর তাঁর বাড়ীতে গেছেন। বন্ধুটি ডায়াবেটিস রোগী। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুটি ফ্রিজ খুলে কিছু একটা দেখে আসছেন। বার পাঁচেক এই ঘটনা দেখার পর সঞ্জীববাবু জানতে চান ব্যাপার টা কী? বন্ধুটি জানান, তিনি ফ্রিজ খুলে দেখে আসেন কী কী ধরনের কটা রসগোল্লা স্টকে আছে। অবাক হলেন সাহিত্যিক। বললেন, ‘তোর না সুগার?’ বন্ধুটির সপ্রতিভ উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, তাতে কী? দেখতে তো বারণ নেই।’

পেটুক, বেহিসেবি, উদ্ভট, অঘটনঘটনপটিয়সী শব্দগুলো বললে যে রসিক বাঙালির নামটি মনে আসে তিনি হলেন শিব্রাম অর্থৎ বিখ্যাত লেখক শিবরাম চক্রবর্তী। রোজগারের জন্য কাগজ বেচতেন কখনো হেদুয়া, কখনো শ্যামবাজার, বউবাজার বা গোলদিঘি তে। সারাদিন কাগজ বেচে যা কমিশন হাতে আসতো তা দিয়েই আগে কিনতেন রাবড়ি, রসগোল্লা আর চপ-কাটলেট। রোজের রোজগার রোজই শেষ।
সেন্ট্রাল জেলে ঢুকেছিলেন বন্দেমাতরম স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে একহাতে মিষ্টি মুখে পুরে।
যুগান্তর পত্রিকার কাজ সেরে একদিন মেসে ফিরছেন শিবরাম, খবর পেলেন পুলিশ তাকে খুঁজছে। পুলিশের জেরায় অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকতে হবে, এই ভেবেই ঢুকে পড়লেন একটি মিষ্টির দোকানে। কুড়িটি বড় সাইজের রসগোল্লার অর্ডার। যদিও টপাটপ কুড়িটি রসগোল্লা আত্মসাৎ করার পর পকেটে হাত দিয়ে বুঝলেন একটি টাকাও নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ১৬ লক্ষ লোকের মৃত্যু হয় ডায়াবেটিসে। ২০২০ সালে, ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF) অনুসারে, বিশ্বে ৪৬৩ মিলিয়ন লোকের ডায়াবেটিস আছে এবং ৭৭ মিলিয়ন মানুষ ভারতের। অর্থ্যৎ, বিশ্বে প্রতি ৬ জন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে একজন ভারতীয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের প্রতিটি ঘরে একজন ডায়াবেটিস রোগী থাকবেন।
ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় রোগ যা রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে। এ রোগ কখনো সারে না, কিন্তু সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। উচ্চশর্করাযুক্ত খাবার, মানসিক চিন্তা ও অবসাদ, মেদবহুল শরীর ইত্যাদি সুগারের ঝুঁকি বাড়ায়। লাইফস্টাইল ডিসঅর্ডারের এফেক্ট হলো ডায়াবেটিস।
সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে দিয়ে এ রোগের উপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়া সম্ভব। ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েট নিয়েও রয়েছে নানান ভুল ধারণা। বাড়িতে সবাই যা খাচ্ছেন তা একজন ডায়াবেটিস রোগীও খেতে পারেন তবে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, মিনারেল, ভিটামিনের সঠিক অনুপাত বজায় রেখে। সঠিক মেডিসিনের সঙ্গে কোন খাবার কতটা খাবেন তার পরামর্শ নিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পুষ্টিবিদের কাছে আপনার ওজন ও প্রতিদিনের পরিশ্রমকে মাথায় রেখে। নিয়মিত সময়ান্তরে অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে। ব্যায়াম করুন নিয়মিত। ব্যায়ামে অনীহা থাকলে ঘাম ঝরিয়ে হাঁটুন, সাইকেল চালান বা সাঁতার কাটুন। দুশ্চিন্তা দূর করার পথ খুঁজতে হবে। সুস্থ জীবনযাপন করলে সুগার নিয়েও স্বাস্থ্যবান হয়ে থাকা যায়।
একটা রসগোল্লা খেলেই সুগার বাড়বে, এ ধারণাও ঠিক নয়। নিন্দুকেরা বলেন, বাঙালির রসগোল্লার প্রতি টান রুখতেই নাকি দুটি দিন একসাথে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে, সুগারের দিনে রসগোল্লা দিবস পালন করতে শুধু বাংলাই পারে।
খুব ভালো।
ধন্যবাদ????
কোনো কথা হবে না। ফাটাফাটি
Rossogolla nea eto sundor lekha pore mon ta vore …amar most favorite misti eta kintu sugar e karon e besi khete parina…kintu Dr khete bolechen maje maje…Thank you so much Rinki
Thank you.