দেশের রাজ্যগুলিকে কোনও সাহায্য না করে নরেন্দ্র মোদীর মিথ্যা ভাষণ অবধি তবুও সহ্য করা যাচ্ছিল। করোনায় দেশে আক্রান্ত ৫০০ পেরিয়েছে, মৃত ১০। এই অবস্থায় যে খবর সামনে এলো আজ রাত ৮টায় মোদীর ভাষণের আগে তাঁকে ধিক্কার জানাতেই হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে কোনও সাহায্য করছে না। আর্থিক প্যাকেজ দিচ্ছে না। রাজনীতি বন্ধ রাখতে বলেও রাজনীতি করছে। পেটোয়া কিছু মিডিয়া মালিককে নিয়ে লোকদেখানো ভিডিও কনফারেন্স করছেন মোদী। প্রভাব খাটিয়ে করোনার খবর দেখানোর পিছনে দখল করছেন মধ্যপ্রদেশ আর দিল্লিতে নিজের সুবিধা করতে ঢাললেন ২০ হাজার কোটি! প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও জহর সরকার তাই সার্থকভাবেই মোদীকে বিঁধে বলেছেন, শাহজাহান নয়, মোদীকে মহম্মদ বিন তুঘলক বলেই মনে রাখবে ইতিহাস। নোটবন্দির ব্যর্থ পদক্ষেপও প্রমাণ করেছিল তাঁর লড়াই পাগলা রাজা হওয়ার দৌড়ে তুঘলকের সঙ্গেই।

Lutyens’ Delhi, মোদীর স্বপ্নের সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প রূপায়ণে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলো প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কিছু পরেই। রাষ্ট্রপতি ভবন, নর্থ ব্লক, সাউথ ব্লক, সংসদ-সহ ওই এলাকায় আমূল সংস্কার করানো হবে, মোদীর দলের পেটোয়া অনামি স্থপতিকে নাকি এই কাজের ভার দেওয়া হয়েছে। ৮৬ একর জমি ব্যবহারের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদনও সংসদ থেকে পাশ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও অফিস স্থানান্তর করা হবে। প্রশ্ন উঠছে প্রকল্প অনুমোদন আর ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে।

করোনা মোকাবিলায় রাজ্যগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সামগ্রী মিলছে না কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। বাংলা এখনও বুলবুলের টাকাই পেলো না, আর মোদী হাজার হাজার কোটি টাকা উড়াচ্ছেন! জহর সরকার সঠিকভাবেই বলেছেন, এই টাকার কিছু দিয়ে তো কয়েক লাখ টেস্টিং কিট, যা স্বাস্থ্য মন্ত্রক মাসের পর মাস আটকে রেখেছে, দেওয়া যেতো। ভেন্টিলেটর দেওয়া যেত। যুদ্ধকালীনভাবে কিছু হাসপাতাল তৈরি করা যেত।
আসলে সুস্থ মানুষেরা বুঝছেন। ভক্তদের কানে ঢোকে না বলে তাঁরা এই পরিস্থিতিতেও খোল-করতাল নিয়ে রাস্তায় নামেন। গোমূত্র পান করে ভর্তি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা হাসপাতালে। সত্যি, তুঘলকী মোদী প্রধানমন্ত্রী, এটা দেশের দুর্ভাগ্য।