ট্রাডিশন ধরে রাখাটাই যখন একটা চ্যালেঞ্জ সেই কঠিন সময়ে দাড়িয়ে এ বছরেই পায়ে পায়ে ১২৭-এ পড়লো হাওড়া জয়পুরের ঝিখিরার মল্লিক বাড়ির রথযাত্রা। এ উপলক্ষে রথটি সুসংকৃত হয়েছে। এই রথটি আরও একটি কারনে বিখ্যাত। তা হলো পুতুল নাচ আর অপ্রচলিত পালা গান যা আজ লুপ্ত প্রায়।
১৮৯৬ খ্রীস্টাব্দে শ্রী হরিনারায়ন মল্লিকের হাত ধরে এই রথযাত্রা শুরু হয়েছিল। এখনও রথযাত্রার মূল উদ্যোক্তা ওই পরিবারই। এখানে জগন্নাথ নয়, মল্লিক বাড়ির ইষ্ট দেবতা দামোদরকে রথে বসিয়ে রথের রশিতে টান দেওয়া হয়। কাঠের তৈরি নয়নাভিরাম রথটি উচ্চতায় প্রায় ৪০ ফুট। নানা প্রশাসনিক অসুবিধার কারনে এখন এটির যাত্রাপথের দুরত্ব কমেছে। আবাল বৃদ্ধ বনিতা মিলে অনুপম রথটিকে টেনে আনেন পাঁচশো গজ দূরে। উল্টো রথ পর্যন্ত সেখানেই থাকে রথটি। জাঁকজমক কমলেও উৎসবের আয়োজনে ভাঁটা পড়তে দেয়নি মল্লিক পরিবার ও রথ পরিচালন সমিতি। এবারও মেলার প্রধান আকর্ষণ হল কাঠের পুতুল নাচ।

হাওড়ারই শ্যামপুর থেকে এসেছে পুতুল নাচের দলটি। পুতুল নাচ দেখতে ভিড় জমিয়েছে গ্রামের সবাই। এক সময়ে মেলায় আসত কৃষ্ণযাত্রা, রামযাত্রার মতো লোকসংস্কৃতির মাধ্যমগুলি। “কালের নিয়মে লোকসংস্কৃতির এই সব মাধ্যম প্রায় লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। অনেক খুঁজেও কৃষ্ণযাত্রা বা রামযাত্রার দলের খোঁজ পাইনি। টিঁকে আছে শুধু পুতুল নাচ।” জানালেন পরিচালন সমিতির সম্পাদক হরিপদ রায় এবং মল্লিক পরিবারের সদস্য অতনু মল্লিক। গত বছর করোনার করাল গ্রাস রথের চাকাকেও অচল করে রেখেছিল। এ বছর আবার স্বমহিমায় ফিরেছে ‘মন্দিরের গ্রাম’ খ্যাত ঝিখিরার মল্লিক বাড়ির রথ। কলকাতা থেকে মাত্র দু-ঘন্টার পথ এই গ্রাম। উলটো রথযাত্রায় সাক্ষী থাকতে পারেন আপনিও।