| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেট-এর সম্পর্ক

Reporter
পেজ ফোর, বিশেষ প্রতিনিধি / ৩৯৮ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

কলকাতায় প্রথম মেয়র হন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং প্রথম মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক হন সুভাষচন্দ্র বসু। কর্মক্ষেত্র বিস্তৃত হয়ে পড়ায়, ভারতের প্রাচীনতম এই পৌর প্রতিষ্ঠানের একটি নিজস্ব মুখপত্র থাকার প্রয়োজনীয়তা অনূভুত হয়। উদ্দেশ্য দুটি প্রথমত — পৌর প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করা। পৌর প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম সম্বন্ধে জনগণকে অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গে কাজকর্ম কেমন হচ্ছে সেই সম্বন্ধে জনগণের মতামত মুখপত্রে প্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত — জনস্বাস্থ্য সম্বন্ধে নাগরিক চেতনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রচারের ভূমিকা পালন করা।

১৯২৪ সালের জুন মাসে কাউন্সিলর মদনমোহন বর্মণ একটি প্রস্তাব পেশ করেন — ‘মার্কেট প্রাইস কারেন্ট-এর’ নাম পরিবর্তন করে পয়লা জুলাই থেকে ‘ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেট’ করা হোক এবং পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করে জানাতে হবে কিভাবে ক্যালকাটা মিউনিসপ্যাল গেজেটপরিচালনা করলে কর্পোরেশন ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা হবে। বলা বাহুল্য, মিউনিসিপ্যাল গেজেট বেরোনোর আগে ‘মার্কেট প্রাইস কারেন্ট’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। যার মধ্যে থাকত মাছ, মাংস, সবজি, তরিতরকারি, ফল এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কর্পোরেশন বাজারগুলিতে যে দামে বিক্রি হত তার সাপ্তাহিক বাজার দর। এই পত্রিকা বার করা কর্পোরেশনের বাধ্যতামূলক ছিল। সুভাষচন্দ্র সম্পাদক হিসাবে অমল হোমের নাম অনুমোদন করেন এবং ১৯২৪ সালের ১৫ নভেম্বর ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেট-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। অমল হোম দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই পত্রিকার সম্পাদনা করে পত্রিকাটিকে সমগ্র এশিয়ার মধ্যে অন্যতম মিউনিসিপ্যাল পত্রিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেন।

সুভাষচন্দ্র দীর্ঘ ১৭ বছরের ১৯২৪ থেকে ১৯৪০ পর্যন্ত কর্পোরেশনে বিভিন্ন সূত্রে জড়িয়ে থাকার ফাঁকে-ফাঁকে এই পত্রিকা নিয়ে ভেবেছেন এবং পত্রিকার জন্য বাণী দিয়েছেন সুদূর মান্দালয় জেল থেকে, কখনও লেখা দিয়েছেন। পত্রিকা ভালভাবে চলতে থাকার আনন্দে সুভাষচন্দ্র এমন কথাও বলেছেন যে কৃতিত্বের দাবিদার কিছুটা তিনিও বটে কারণ সম্পাদক নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। যেমন ১৯৩০ সালে মেয়র থাকাকালীন বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি বলেছেন — “এই পত্রিকা সৃষ্টির জন্য যে কজনের প্রচেষ্টা কার্যকরী হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ব্যক্তি আমি হওয়াতে বিগত কয়েক বছর ধরে আমার হৃদয়ে এই পত্রিকার জন্য একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে। সেজন্য পত্রিকার ছয় বৎসর পূর্ণ হওয়ায় আমি অতীব আনন্দিত এবং আগামী বৎসরের জন্য রইল আমার অন্তরের প্রীতি এবং শুভেচ্ছা। আমি আরও আনন্দিত এই কারণে যে, যখন আমি ১৯২৪ সালে. চীফ এগজিকিউটিভ অফিসার ছিলাম তখন সম্পাদক নিযুক্ত করার আমার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে। গেজেট সুন্দরভাবে উচ্চমানে পরিচালিত হয়েছে। আমি এর সম্পাদক শ্রীহোমকে অভিনন্দন জানাচ্ছি তার এই উন্নতমানে পৌঁছানোর জন্য এবং আশা রাখি ভবিষ্যতে এই পত্রিকা আরও বেশি করে প্রয়োজনীয় এবং মূল্যবান হয়ে উঠবে।”

আবার ১৯৩৮ সালে অষ্টম স্বাস্থ্য সংখ্যায় তিনি এক বার্তায় এই কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি লিখেছেন — “ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেটে প্রকাশনী শুরু করার জন্য আমার হৃদয়ে এই পথিকৃৎ পৌর মুখপত্রের একটি বিশিষ্ট জায়গা আচে। পত্রিকাটি ভারতীয় সংবাদপত্র জগতে একটি উপযুক্ত শূন্যস্থান পূরণ করে দেশ এবং বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। ১৯২৪ সালে কর্পোরেশনের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক হিসাবে এই পত্রিকার সম্পাদক নির্বাচনের দায়িত্ব আমার ছিল এবং আমার নির্বাচন যে সঠিক ছিল তা সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করবেন। শ্রীঅমল হোম বিগত চৌদ্দ বছর ধরে যেভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করে এসেছেন তাতে তাঁর নিজের এবং সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা কর্পোরেশনের সুনাম বহু গুণ বেড়েছে। স্বভাবতই তাই তার ডাকে সাড়া দিয়ে পত্রিকার অষ্টম স্বাস্থ্য সংখ্যায় মুখবন্ধ  লিখতে রাজি হয়েছি। গত সাত বছর ধরে প্রতি বছরই বহু মূল্যবান লেখা, ছবি অলংকরণে সমৃদ্ধ হয়ে সংখ্যাগুলি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদবাহী হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এইভাবেই পত্রিকাটি নাগরিকদের মধ্যে স্বাস্থ্য সম্বন্ধে চেতনা জাগ্রত করেছে যা ছাড়া কোনরকম উন্নতি সম্ভবপর হত না।” … অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে সুভাষচন্দ্র বসুর স্বপ্নকে রূপ দিয়েছিলেন অমল হোম।

শুধুমাত্র শুভেচ্ছাবার্তা নয়। কারাবাসের সময় এই পত্রিকার মাধ্যমেই সুভাষচন্দ্র জানিয়েছেন তাঁর মতে আগামী বছর কলকাতা পুরসভায় কোন কোন বিষয়ের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যা যখন বেরোয়, তখন সুভাষচন্দ্র জেলে বন্দী। কিন্তু তার হাতে নিয়মিত পত্রিকা পৌঁছত। ফলে প্রথম বছর পূর্তির সময়ে তিনি মান্দালয় জেল থেকে পাঠানো তারবার্তায় বললেন — “ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেট-এর প্রথম পর্ষপূর্তিতে আমি পত্রিকাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। যদিও আরও উন্নতি করার সুযোগ আছে তবু বলব গত এক বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য গেজেট গর্বিত। পত্রিকিটি এক সুচারুরূপে দক্ষতার সঙ্গে চালানোর জন্য সম্পাদক ধন্যবাদের পাত্র। পথ প্রদর্শকের পথচলা সব সময়েই বাধাসঙ্কুল এবং আমি মনে করি গেজেট তার জগতে পথিকৃৎ। আমি আশা করি গেজেট খুব শীঘ্রই বিদেশের অন্যান্য পুরসভার মুখপত্রের মানে গিয়ে পৌঁছবে এবং ভারতের অন্যান্য পৌরসভার কাছে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। পুর প্রশাসনের সার্থকতা নির্ভর করে জনগণের মধ্যে পৌর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং করদাতাদের সঙ্গে পৌর প্রশাসনের সুসম্পর্কের ওপর। আমি বিশ্বাস করি গেজেট নাগরিকদের সচেতন করে তুলতে এবং করদাতাদের পুরসভার খবর দেওয়া এবং প্রত্যুত্তরে তাদের পরামর্শ লাভের মধ্য দিয়ে করদাতা এবং প্রশাসনের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের ভূমিকা আরও বেশি করে পালন করবে।”

পরের বছরে সুভাষচন্দ্রের বার্তা পড়লে দেখা যায় গেজেটের দুই বৎসর অতিক্রান্ত হওআ তাকে তিনি আরও কতকগুলি দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলেছেন এবং নতুন যে বিষয়গুলি গেজেটে স্থান পেয়েছে সেগুলিও তার নজর এড়ায়নি। তিনি বলেছেন — “দ্বিতীয় বছর পূর্তিতে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের পত্রিকা করে চলার জন্য গেজেটকে আমার অভিনন্দন এই পত্রিকার প্রতি নাগরিকদের আরও বেশি সক্রিয় আগ্রহ বাড়াতে আগামী বছর প্রচেষ্টা নিতে হবে। কেলাধুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমি আনন্দিত। জনস্বাস্থ্য, জলনিকাশি ব্যবস্থা, ভারতীয় স্থাপত্য, শিক্ষা দুধ সরবরাহ এবং পৌর রেলওয়ে সম্বন্ধে লেখাগুলি খুবই প্রয়োজনীয় হয়েছে, আমি মনে করি নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিয়ে কৌতূহল জাগ্রত করার প্রয়োজন —

১) বর্ধিত এলাকার উন্নয়ন।

২) বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার শুরু করা।

৩) রাস্তা বিভাগের পুনর্গঠন এবং যানবাহনের উন্নতিসাধন।

৪) মোটর-ভেহিক্যাল বিভাগের উন্নতি এবং পৌর রেলওয়ের বিলুপ্তি ঘটানো।

৫) বস্তি উন্নয়ন এবং গরীবদের বাসস্থানের ব্যবস্থা।

৬) ভিক্ষাবৃত্তির বিলোপ এবং সমাধান।

৭) পৌর সংগ্রহশালা স্থাপন।

৮) গণিকা বৃত্তির প্রশ্ন।

৯) বিদ্যাধরি সমস্যা এবং কলকাতার নতুন জলনিকাশি পরিকল্পনা।

সবশেষে আমি গেজেটের আরও উন্নত প্রয়োজনীয় দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং সম্পাদককে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাই।”

আবার তৃতীয় বৎসর পূর্তির সময়ে একই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তিনি শুভেচ্ছাবার্তায় বলেছেন — “ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেটের তৃতীয় বৎসর পূর্তিতে আমি অন্তর থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। গত কয়েক বছরে এই পত্রিকা প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে এবং আমি আশা করি জনগণের সেবায় ভবিষ্যতেও দীর্ঘদিন ধরে এই পত্রিকা তার ভূমিকা পালন করে যাবে। আমরা যাঁরা কলকাতা কর্পোরেশনের সত্যকারের উন্নতি চাই তাঁদের মনে রাখতে হবে যে নতুন কর্পোরেশন ১৯২৪ সালের আগের অবস্থা বজায় রাখার থেকেও আরও বেশি কাজ করতে হবে। শুধুমাত্র কাজের উন্নতি নয়, ধনীদের কর্পোরেশন থেকে গরীব মানুষদের কর্পোরেশন গড়ে তুলতে হবে অতি দ্রুত। সেইজন্য একদিকে যাঁরা সত্যকার এর উন্নতি চান তাঁদের কাছে নিদিষ্ট কর্মসূচি থাকতে হবে সঙ্গে সঙ্গে সারা বছর ধরে কী কী কাজ হল, কতটা বাকি থাকল তার একটা হিসেব-নিকেশ রাখতে হবে। এই হিসেব-নিকেশের কাজের ব্যাপারে গেজেট সাহায্য করতে পারে। জাতীর চেতনা বৃদ্ধি ছাড়া যেমন জাতীয় উন্নতি সম্ভব নয় তেমনি পুর সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া পুর উন্নতি সম্ভব নয়। বা একটু বেশি করে বললে কথাটা দাঁড়ায় পুর সচেতনতা ছাড়া জাতীয়তাবাদ অবাস্তব এবং অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ে। গেজেট এই সচেতনতার বৃদ্ধির কাজ করছে কিন্তু আরও বেশি করে করার প্রয়োজন। পুর সচেতনতার সঙ্গে পুর কর্তব্যকে মেশাতে হবে — কর্পোরেশনের অফিসার, শ্রমিক, কর্মচারি এবং সবশেষে নাগরিকদের মধ্যে। বর্তমান দিনে জনজীবনের দারিদ্রের মূলে রয়েছে আমাদের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকা এবং অন্তর্কলহ। বৃহত্তর বিষয়ে ঐকমত এবং উচ্চ আদর্শই আমাদের শুদ্ধ করে তুলতে পারে। আমি গেজেটকে এই ব্যাপারে সচেষ্ট হতে আহ্বান করছি। সব শেষে আমি আবার গেজেট এবং এর সম্পাদককে গত এক বছরের কাজকর্মের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

প্রতিটি গেজেটের সংখ্যার সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের বক্তব্যকে মেলালে দেখা যাবে — সুভাষচন্দ্র নির্দেশিত পথেই গেজেট পরিচালিত হয়েছে। বিদেশের পুরসভার কাজকর্মের রূপরেখা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বিশেষ সমস্যা ও তার সমাধানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে গেছেন এর সম্পাদক।

অনেক সময়েই দেখা গেছে সুভাষচন্দ্র এই বার্ষিক সংখ্যাতেই তাঁর লেখা প্রকাশ করেছেন। চতুর্থ সংখ্যায় তাঁর বিখ্যাত ‘আমাদের দুটি সমস্যা’ লিখেছিলেন। কলকাতার জলনিকাশি সমস্যা এবং রাস্তার সমস্যা নিয়ে এই লেখা আমাদের সুভাষচন্দ্রের আধুনিক উপায়ে কলকাতার এই সমস্যাগুলিকে মোকাবিলা করার ভাবনার সঙ্গে পরিচয় ঘটায়।

সুভাষচন্দ্র যখন ইউরোপে চিকিৎসাধীন ছিলেন তখনও নিয়মিত প্রতিটি সংখ্যা দেখতেন এবং সেগুলি ভিয়েনার মেয়র, রোমের মেয়র প্রমুখকে দিয়েছেন। বিভিন্ন চিঠিপত্রের মধ্যে এই খবর পাওয়া যায়। অর্থাৎ তাঁর কর্মময় জীবনে ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেটের একটা বিশিষ্ট স্থান ছিল। এ যেন তাঁর নিজেরই পত্রিকা। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রতি বছরে এক-একটি বিশেষ সংখ্যা তাঁর মূল্যবান উপদেশের পরিচয় বহন করে।

অন্যদিকে সুভাষচন্দ্রের কর্মময় জীবনকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ব্যাপারে গেজেটের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর সম্পাদক অমল হোম যথার্থই দূরদর্শীসম্পন্ন অসাধারণ মেধার পরিচয় রেখেছেন এর প্রতিটি পাতায়। বিদেশ থেকে লেখা সুভাষচন্দ্রের চিঠিপত্র, দেশে প্রতিটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সারমম৪, খবরাখবর, কংগ্রেসের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রদত্ত বক্তৃতা, তাঁর বিবৃতি, বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মহাপ্রয়াণে স্মৃতিচারণ, প্রভৃতি ঐতিহাসিক মূল্য সম্পদে এই পত্রিকা সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে।

গোড়াতে পত্রিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য যেকথাগুলির মধ্যে ব্যক্ত হয়েছিল তার প্রতিটি কথাই অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়েছিল। তার সঙ্গে যেটি ঘটেছিল তা হলো শুধুমাত্র কলকাতা কর্পোরেশন নিয়েই এর চৌহদ্দি সীমাবদ্ধ ছিল না। কলকাতার বাইরে বৃহত্তর ভারতের পুরসভাগুলির চেহারা, কর্মপদ্ধতি, সমস্যার পাশাপাশি বিদেশের বিখ্যাত সমসাময়িক পুরসভাগুলির কাজকর্মকেও তুলে ধরা হতো। ফলে ক্রমশ এই পত্রিকা আন্তর্জাতিক চেহারা পেতে শুরু করে।

সুভাষচন্দ্রের বিশিষ্টতা এখানেই — বহু ব্যক্তিত্বের এই মানুষটি এই পত্রিকার মাধ্যমেই তখনকার রাজনীতির এবং স্বায়ত্তশাসন পদ্ধতির সাফল্য সাধারণ মনুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করেছিলেন। পাশে পেয়েছিলেন অমল হোমের মতো সম্পাদককে। যিনি সুভাষচন্দ্রের প্রতিটি উপদেশকে কাজে রূপান্তরিত করেছেন। পত্রিকার প্রথম সংখ্যা যখন প্রকাশিত হলো, তখন সুভাষচন্দ্র কারাবন্দী। সম্পাদকীয়তে এই ঘটনার উল্লেখ করে অমল হোম লিখেছিলেন “এই মানুষটি গ্রেপ্তার ও কারারুদ্ধ হওয়ায় কর্পোরেশনের বিশেষ ক্ষতি হচ্ছে। গেজেটের ভাবনার সূত্রপাত সুভাষচন্দ্রের এবং যখন গ্রেপ্তার হলেন সেই সময়ে কী উপায়ে পত্রিকা চলবে তার একটি পরিকল্পনা রচনা করেছিলেন।” অর্থাৎ সুভাষচন্দ্রের ইচ্ছায় অমল হোম স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব নিয়ে আবার সুভাষচন্দ্রের প্রশংসাও আদায় করতে পেরেছেন কারণ তিনি তাঁর ভাবনামতই পত্রিকা চালাতে পেরেছেন।

বাংলার কথা বা ফরওয়ার্ড পত্রিকার সম্পাদনা করার জন্য সুভাষচন্দ্রের পত্রিকা সম্বন্ধীয় কাজকর্মগুলির সঙ্গে পরিচয় ছিল। ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজেট পত্রিকা তাঁর সেই অন্য ভাবনার ফসল। বাইরে থেকে উপদেশ দিয়ে, লেখা দিয়ে, প্রশংসা করে সুভাষচন্দ্র এর উন্নতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন, যোগ্য লোক খুঁজে বার করার কৃতিত্ব সুভাষচন্দ্রের — যাঁর হাতে এই পত্রিকার ভার তুলে দিয়ে তিনি নিশ্চিন্ত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev