করোনা লকডাউনে বিদ্যালয়গুলো ছুটি হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা তাদের মানবিক দায়িত্ব পালনে ত্রুটি রাখছেন না। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অশোক রুদ্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জীর ডাকে সাড়া দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করোনা মোকাবিলায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করে চলেছে।

ডুয়ার্সের নক্সালবাড়ি থেকে জঙ্গলমহলের বেলপাহাড়ী কিংবা বর্ধমানের কালনা থেকে আলিপুরদুয়ার সর্বত্রই মাঠে থেকে সাহায্য করছে তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির শিক্ষক শিক্ষিকারা। তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি ও যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অশোক রুদ্রের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর এমারজেন্সি ত্রাণ তহবিলে তাদের সংগঠন প্রায় ৩ কোটি টাকা তুলে দিয়েছেন ও এখনো সাহায্য চলছে। এছাড়াও রাজ্যজুড়ে লক্ষাধিক মানুষের কাছে বিভিন্ন প্রান্তে তার সংগঠনের শিক্ষক শিক্ষিকারা খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন।

অসময়ে রক্তের আকাল দেখা দিল। তৎক্ষনাত তা জানতে পেরে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এগিয়ে এলেন তিনি। পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে রক্তদান শিবির শুরু হলো প্রাথমিক শিক্ষকদের। পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা হাসপাতালে রক্তের সংকটের আপদকালীন চাহিদা মেটাতে ২৮ জন প্রাথমিক শিক্ষক রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ-সহ শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বের উপস্থিতিতে রক্তদান করেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি তপন পোড়েলও।

অপরদিকে দার্জিলিং-এর শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিভাস চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ও জেলা কমিটির উপস্থিতিতে আজ নক্সালবাড়ি এলাকায় চা শ্রমিক-সহ অন্যান্য দুঃস্থ ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়। তাছাড়া আলিপুরদুয়ারে প্রায় ১৫০টি পরিবারকে জেলা সভাপতি কৌশিক সরকার-সহ জেলা নেতৃত্ব ও রাজ্য নেতৃত্ব মৌমিতা অধিকারী, দীপংকর বিশ্বাস-এর উপস্থিতিতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র জানান যেভাবে শিক্ষক শিক্ষিকারা ‘সব শোনে মাস্টারমশাই’-এর সচেতনতা বার্তা থেকে শুরু করে দুঃস্থ মানুষদের সাহায্যার্থে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, শিশুমনকে আনন্দে রাখতে খেলার সামগ্রী হাতে তুলে দেওয়া এবং ‘রক্তদান জীবনদান’-এর মত একের পর এক কর্মসূচি নিয়েই চলছে। এবার অসহায় মানুষদের ও পাশে এসে দাঁড়াল তাঁরা। তাই আরও একবার সমস্ত শিক্ষক নেতৃত্ব ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের ধন্যবাদ জানান ও মা-মাটি-মানুষের সরকারের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে এভাবেই মহামারীকে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান।
ছবি ও সংবাদ : সুদীপ্ত চক্রবর্তী