| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর সরকারের একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ : ব্রিঃ জেঃ (অবঃ) হাসান মোঃ শামসুদ্দীন

Reporter
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হাসান মোঃ শামসুদ্দীন / ৬১৫ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২

বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বসবাস করছে। মানবতার জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও নির্যাতিত মিয়ানমারের নাগরিকদেরকে তাঁদের চরম দুর্দশার সময় বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দ্রুততার সাথে আশ্রয় দেয়ার জন্য কক্সবাজারে আশ্রয় শিবির স্থাপন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ আশা করেছিল মিয়ানমারের সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে ও রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই করেছিল। আর ওই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশই ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে চুক্তি সই করেছে। দুই দফা তারিখ চূড়ান্ত করেও মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর হয়ে যাচ্ছে, মিয়ানমার সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছার অভাবে ঠিক কখন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে তা এখন ও অনিশ্চিত।

এই দীর্ঘ সময়ে ক্যাম্পগুলোতে নানা ধরনের অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই মানবিক সংকট বর্তমানে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। ক্যাম্পগুলো বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ার কারনে অবৈধ ভাবে ইয়াবা, অস্ত্র ও মাদক বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করছে। এছাড়া ও এই ক্যাম্পগুলো পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই সীমান্তবর্তী এলাকার দুর্গম ও অরক্ষিত অঞ্চল দুষ্কৃতিকারী, চোরাকারবারি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচারকারীর স্বর্গরাজ্য এবং অপরাধ সংগঠনের উপযুক্ত ক্ষেত্র।  বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দিয়ে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং অপরাধীরা এদেশে প্রবেশের কারনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে একের পর এক নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠিত হচ্ছে। এই সীমান্ত এলাকার অনেক জায়গা দুর্গম বলে সব সময় তা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এখানে ছোট ছোট দলে দুষ্কৃতিকারীরা  সাময়িক অবস্থান গ্রহণ করে সেখান থেকে ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে আবার এসব জায়গায় আশ্রয় নেয়। সীমান্ত সংলগ্ন ক্যাম্পের অবস্থান, কর্মক্ষম কর্মহীন জনগোষ্ঠীকে সহজেই এসব নেটওয়ার্কের ভেতর নিয়ে নানা ধরনের অবৈধ ও নাশকতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করছে।

মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবাতে বাংলাদেশের হাজার হাজার যুবক আসক্ত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের তথ্য মতে বাংলাদেশে ৭ মিলিয়ন মাদকাসক্তের মধ্যে ৫ মিলিয়ন ইয়াবা ব্যবহার করে। ইয়াবা চোরাকারবারিদের জন্য সীমান্ত সংলগ্ন ক্যাম্পগুলো তাদেরকে নিরাপদে বাংলাদেশে ইয়াবা আনার সুযোগ করে দিচ্ছে। মিয়ানমারের শান ও রাখাইন স্টেটের ইয়াবার কারখানা থেকে প্রথমে এগুলো মংডুতে আসে সেখান থেকে জিরো লাইনের পাশের তামব্রু সীমান্ত হয়ে এই চালান ক্যাম্পগুলোতে চলে আসে। এই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মিয়ানমার থেকে প্রথমে ইয়াবা এনে রাখা হয়, পরবর্তীতে এখান থেকে কক্সবাজারে পাঠানো হয় এবং এরপর সারা দেশে তা ছড়িয়ে পরে। জানুয়ারী ২০২২ এ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৭৭ লাখ ইয়াবা পিল উদ্ধার করেছে। ক্যাম্পগুলোতে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভেতরে ছোট ছোট স্থাপনায় স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা এই অস্ত্র মজুদ করে  পরে তা ক্যাম্পে এনে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পগুলো থেকে বেশ কিছু অস্ত্র মাঝে মাঝেই উদ্ধার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে আগের বছরগুলোর চেয়ে এখন বেশী অস্ত্র  উদ্ধার হচ্ছে। বেশ কয়েকটা সন্ত্রাসী দল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাঁদের তাণ্ডব চালাছে।

যতদিন ক্যাম্পগুলো সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকবে ততদিন রোহিঙ্গারা এই ফাঁদে পড়বে। এই অরক্ষিত ও দুর্গম সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত ব্যয় বহুল ও কষ্টসাধ্য। অপরাধীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাঁদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন থাকার কারনে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে এবং এর সদস্যরা নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িয়ে গেছে এবং যাচ্ছে।ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবনতা বন্ধে এবং পরিবেশ রক্ষায় পর্যায়ক্রমে সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর স্থানান্তর এখন সময়ের দাবী।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজেদের ভূমিতে ফেরাতে চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। তবে তাঁর আগে রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সে কারণে নোয়াখালীর ভাসানচরে তাদের জন্য নতুন ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রন, পরিবেশ বিপর্যয় এবং কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোর ওপর থেকে  চাপ কমাতে বাংলাদেশ সরকার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম হাতে নিয়েছে যা একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ । ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ দফায় সর্বমোট ২৯ হাজার ১১৬ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আশ্রয়ণ-৩ নামের ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের জীবন ও জীবিকা স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রোহিঙ্গাদেরকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে নেওয়া পর্যন্ত আরআরআরসির দপ্তর, নৌবাহিনী, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো, জেলা প্রশাসন ও এনজিওদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে।ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচরে নিরাপদ আর স্বস্তিতে আছে। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস্থাকে যুক্ত করে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার, রসদ ও সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ভাসানচর পরিদর্শন করে এবং এর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়।  পরিদর্শন শেষে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ৯ অক্টোবর ২০২১ তারিখে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইইউএনএইচসিআর)। চুক্তি অনুযায়ী, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়োনিষ্কাশন, চিকিৎসা, মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম ও ভাষায় অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জীবিকায়নের ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তির পর ভাসানচরে বিদেশি অর্থায়ন শুরু হয়েছে।

জাপান ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের সহায়তায় দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহায়তার লক্ষ্যে ২০২১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে এই সহায়তা দিচ্ছে জাপান। তার মধ্যে ১০ লাখ ডলার জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ১০ লাখ ডলার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে (ডব্লিউএফপি) দেওয়া হবে। তারা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জরুরি খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবায় এই অর্থ ব্যয় করবে। জাপান এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় জাপান সরকার। জাপান রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ থাকা জরুরি বলে মনে করে। তবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে খুব শিগগির রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁদের মত ব্যক্ত করেছে।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে রাজি করানোর জন্য আসিয়ানের ওপর প্রভাব খাটানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও চাপ তৈরি করতে পারে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনই হল এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; বরং গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইউ এন এইচ সি আর ও ডব্লিউএফপি ভাসানচরে তাঁদের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সহযোগিতা চেয়েছে। ইউএসএইড রোহিঙ্গাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তায় পরিচালিত ‘যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায়’ (জেআরপি) তহবিলে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের খুব শিগগির রাখাইনে ফিরে যাওয়া শুরু হবে, এমন কোনো সম্ভাবনা দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, সেখানকার পরিবেশ এখনো ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মার্কিন সরকার কয়েক মাস আগে মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।রোহিঙ্গা সমস্যাটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়। নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের পাশাপাশি নিজেদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। যুক্তরাষ্ট্র আসিয়ানের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত অবসানের জন্য কাজ করছে এবং সবাইকে আশাবাদী থাকতে হবে যে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের শরনার্থীদের  নিরাপদ, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো আগ্রহ এবং সক্রিয় সমর্থন আশা করে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ইউক্রেনের বিপর্যয়কর জরুরি পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের ওপরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন। কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি তাঁর সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন। নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পেলেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। নিজ দেশে ফেরার পর চলাফেরার স্বাধীনতা ও কাজের নিশ্চয়তা চায় রোহিঙ্গারা। তাঁর আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ চলমান রাখতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা, পরিবেশ বিপর্যয় এবং অস্ত্র ও মাদক চরাচালানের মত অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে ভবিষ্যতে ভাসানচরের মত অন্যান্য জায়গায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য নেয়া উদ্যোগে জাতিসংঘ, বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এগিয়ে আসবে এটাই কাম্য।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হাসান মোঃ শামসুদ্দীন, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এম ফিল, মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev