আগস্ট মাস মানেই রিমঝিম বৃষ্টির দিন। আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ বা ঘনকালো মেঘের আনাগোনা, মাটির ভেজা ভেজা গন্ধে মন হয়ে ওঠে আকুল। তাইতো, পশ্চিমের দেশে অগাষ্টকে বলা হয় রোম্যান্স অ্যাওয়্যারনেস মান্থ। এমনকি দম্পতি বা প্রেমিক যুগল একান্তে অবকাশ যাপন করার রীতি রয়েছে ইংল্যাণ্ডের রাজবাড়ীতে।
এ ব্যাপারে বাঙালিও কিন্ত কম যায়না। রোজকার কেজো দুনিয়া থেকে সরে এসে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে বরাবরই ভালোবাসেন বাঙালি। এই রোম্যান্স যাপনের উদ্দেশ্যে কিছু সময় ম্যানেজ করতে পারলে গাড়িতেই পাড়ি দিতে পারেন হানিমুন ট্যুরে। অবসর বা রোম্যান্স যাপনের সঙ্গে প্রকৃতিকে উপভোগ করার কিছু ঠিকানা রইলো আজকের লেখায়।

পুরুলিয়ার খয়রাবেড়া ইকো অ্যাডভেঞ্চার রিসর্ট : পুরুলিয়া শহর থেকে সিরকাবাদ হয়ে দু-পাশে সবুজ প্রকৃতি আর রাঙা মাটির পথের উপর দিয়ে অযোধ্যা পাহাড়ের বাঁক নিলেই পরে খয়রাবেড়া গ্রাম। পুরুলিয়ার হৃদয় এবং আত্মা তার এই গ্রামেই যেন অবস্থিত। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বিস্তৃত ইকো রিসর্ট। সাজানো গোছানো ঝাঁ চকচকে পরিবেশে দেখলেই মনে হবে কোন ফ্লিমের শ্যুটিং স্পটে ঢুকেছেন।
রিসর্টটি প্রিয়া এন্টারটেইনমেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের (PEPL) একটি অসাধারণ প্রজেক্ট। PEPL-হল ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশন এবং এক্সিবিশন গ্রুপের কর্পোরেট শাখা যার মধ্যে রয়েছে প্রিয়া সিনেমা, পিয়ালী ফিল্ম এবং পূর্ণিমা পিকচার যারা আমাদের জগৎজয়ী এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত সত্যজিৎ রায়ের “গুপি গাইনে বাঘা বাইন”, “আরণ্যের দিনরাত্রি”, “প্রতিদ্বন্দী”, অরুন্ধতী দেবীর ‘ছুটি’ এবং তপন সিনহার “হাটে বাজারে” ছবি উপহার দিয়েছে।
রিসর্টে টেন্ট ও কটেজ দুয়েরই ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করার আয়োজন। রিসর্টের মাঝখানে রয়েছে বিশাল জলাধার। পোশাকি নাম খয়রাবেড়া ড্যাম। এখানে কায়াকিং করার ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও রয়েছে মাউন্টেন বাইসাইক্লিং, ট্রেকিং আর জঙ্গল সাফারি। আপনি চাইলে করতে পারেন নাইট সাফারিও। এছাড়া রিসর্টের পরিসরে ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে বাচ্ছাদের খেলার মাঠ।
সঙ্গে গাড়ি না আনলে এখান থেকেই সাইড সিনের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। চাইলে বাইক ভাড়াও নিতে পারেন। এই এলাকাটি সাইকেল চালানোর জন্য জনপ্রিয়। সাইড সিনে বাগমুণ্ডি, মুরগুমা, দেউলঘাটা, চড়িদা, অযোধ্যা পাহাড় ঘুরে আসা যায়।
সন্ধ্যাবেলায় মাতাল করা হাওয়া আর বুনো ফুলের সুবাসে কানে বাজবে আদিবাসী যুবকের বাঁশির সুর বা ধামসা মাদলের দ্রিমি দ্রিমি। আকাশে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা দেখে মন আপনা হতেই গুনগুনিয়ে উঠবে “শাঙনগগনে ঘোর ঘনঘটা”।
রিসর্টে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাও খুব ভালো। জৈব সারে ফলানো সব্জি, পুকুরের মাছ, দেশি মুরগির মাংস…যেটা চাইবেন। বন ফায়ারের ব্যবস্থা আছে। খরচ মোটামুটি পকেট ফ্রেন্ডলি।
গ্রামীণ ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নির্মলতা, আঞ্চলিক সংস্কৃতির এই অভিজ্ঞতা আপনার মানব প্রেমের দ্বার উন্মুক্ত করে দেবে। এটাই আনএক্সপ্লোরড-ইন্ডিয়ার মূলমন্ত্র।

টাকিতে হোটেল সোনার বাংলা : ইছামতী নদীর তীরে উত্তর ২৪ পরগণার ছোট শহরটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। রাজা প্রতাপাদিত্যের বংশধর কৃষ্ণদাস রায়চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে টাকি সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারের বাসভূমিতে পরিণত হয়।
হোটেল সোনার বাংলা রেস্টুরেন্ট সমন্বিত অপূর্ব সুন্দর একটি ৩ তারা রিসর্ট। এখনো এখানেকোভিড প্রটোকল মেইনটেইন করা হচ্ছে। হোটেল বুকিং এর সময় আপনি কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট পেয়ে যাবেন। ডিলাক্স, সুপার ডিলাক্স, প্রিমিয়াম রুম ভাড়া দেওয়া হয়। রুমের ভাড়া বিভিন্ন সিজনে বিভিন্ন। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সাজানো গোছানো হোটেলের দুগ্ধফেননিভ শয্যায় শুয়ে শুয়ে কাঁচের জানালা দিয়ে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার মজাই আলাদা এখানে।

হোটেলের খাওয়াদাওয়া আপনার বাজেটের মধ্যে। রুম বুকিং করতে চাইলে এদের ওয়েবসাইটে গিয়ে বুকিং করতে পারবেন। এছাড়া হোটেলে ডাইরেক্ট ফোন করেও করতে পারেন।
কাটোয়ার কেতুগ্রামের জলবাড়ি : চারিদিকে সবুজে ঘেরা প্রকৃতির কোলে এক অন্য জগতের আমেজ পেতে যেতে পারেন বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার কেতুগ্রামের বেলুন গ্রামে অবস্থিত ‘জলবাড়ি-তে’। পোশাকি নাম ‘ওয়াইল্ড লাইফ রিসার্চ সেন্টার’। ২৭ একর জমির উপর বেসরকারি উদ্যোগে তপবনের আদলে নির্মিত পদ্ম, শালুক ফোটা জলাশয় দিয়ে ঘেরা এই জলবাড়ি।
আধুনিক সমস্ত সুবিধাযুক্ত ঘর পাওয়া যাবে এখানে। ঘরের মেঝের নীচে নির্ভয়ে বিচরণ করছে মাছেরা। ঘরের ভিতরে রয়েছে প্রাকৃতিক স্নানঘর। এছাড়া প্রকৃতির সঙ্গে পর্যটকদের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতে লোকচক্ষুর আড়ালে প্রকৃতির কোলে রয়েছে আধুনিক সুবিধাযুক্ত শৌচাগার।

এখানে দেখা মিলবে বিলুপ্তপ্রায় কিছু জীব। রয়েছে ১১৮ ধরণের মাছ, ২৫০ প্রজাতির পাখি, ১৮০ রকমের প্রজাপতি, ২৪ রকম সাপ। রাতে গভীর জঙ্গলে সাফারি করে বিলুপ্তপ্রায় মেছো বিড়াল বা লেপার্ড ক্যাটের দেখা মিলবে। শীতের সময় বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি ভিড় করে এখানে।
শীর্ণকায়া শিবাই নদী পরম স্নেহে আগলে রেখেছে এই জলবাড়িকে। নদীতে রয়েছে নৌকাবিহারের আয়োজন। কাছেই অট্টহাস সতীপীঠ দর্শনেরও ব্যবস্থা আছে।

দৈনন্দিন ক্লান্তি আর মনের ভার কমাতে ব্যস্ত শহরের জীবন থেকে সড়ে গিয়ে…. প্রিয়জনকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ আর একাত্ম হওয়ার সুখ পেতে ঘুরে আসতে পারেন লেখা ঠিকানায়। বর্ষার এই মরশুমে রোম্যান্সের দোলাচলে ভাসিয়ে দিতে পারেন জীবনের পানসি তরী।
তথ্য সূত্র: সম্পর্কিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন, বই, ভিডিও, নিজস্ব অভিজ্ঞতা।
মনে হচ্ছে এখুনি বেরিয়ে পড়ি।
সুযোগ হলে ঘুরে এসো ????
লেখিকার সব লেখাই পড়ি । সন্দেহ নেই খুবই ভালো লাগে । বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করার ফোন নং যদি দেওয়া থাকতো তাহলে (আমার মনে হয়) আমার মতো অনেকেই উপকৃত হতো ।
এদের ওয়েব সাইটে ডিটেইল দেওয়া থাকে। সেখানেই কারেন্ট ফোন নাম্বার থাকে। তবে, প্রস্তাব মনে রাখলাম। অনেক ধন্যবাদ ????
Beautiful places. খুবই সুন্দর সময় উপযোগী প্রতিবেদন।
থ্যাংক ইউ ????
পেজ ফোর* আমাকে ম্যাডাম রিঙ্কি সামন্তের সব
চমৎকার প্রতিবেদনগুলি পড়তে পারার সুযোগ করে দেয়।রিসর্টে রোমান্স* পড়ে আনন্দ পেলাম
খুব খুশি হলাম। ভালো থাকুন ????????
পেজ ফোর* আমাকে ম্যাডাম রিঙ্কি সামন্তের সব
চমৎকার প্রতিবেদনগুলি পড়তে পারার সুযোগ করে দেয়।রিসর্টে রোমান্স* পড়ে আনন্দ পেলাম
প্রথমবার মন্তব্য করছি কেন লিখছেন,আগেও
লিখেছি*
লেখাটি সেভ করে রাখা দরকার। খুবই তথ্যবহুল।
থ্যাংক ইউ ❤️????
অনেক অজানা তথ্য জানানোর জন্য অজস্র ধন্যবাদ…
থ্যাংক ইউ গো