ক্যান্সার পরপর দু’দিনে কেড়ে নিল বলিউডের দুই তারকা। ইরফান খানের প্রয়াণের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার চলে গেলেন ঋষি কাপুর। বুধবার ২৯ এপ্রিল রাতেই সংবাদ সংস্থাকে রণধীর কাপুর জানিয়েছিলেন, মুম্বাইতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ঋষি। অবস্থা ভালো নয়। আইসিইউতে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে নীতু, রণবীর কাপুররা রয়েছেন। শেষমেশ সব আশঙ্কা সত্যি করে ৬৭ বছর বয়সে চলেই গেলেন বলিউডের হার্টথ্রব। আমেরিকায় প্রায় এক বছর ক্যান্সারের চিকিৎসা করে গত সেপ্টেম্বরে দেশে ফেরেন। ফেব্রুয়ারি মাসে অসুস্থ হয়ে দিল্লিতে ভর্তি হয়েছিলেন।

পরে মুম্বাইতে নিয়ে আসা হয়। জানা গিয়েছে, ক্যান্সার ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় ঋষির। তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয় ছিলেন। ২ এপ্রিল নিজের শেষ টুইটে করোনাকে দেশ জয় করবে বলেও প্রত্যয়ী ছিলেন, আহ্বান জানিয়েছিলেন চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো করোনা যোদ্ধাদের উপর হামলা থেকে বিরত থাকার। রাজ কাপুরের পুত্র ঋষির প্রয়াণে শোকাহত সকলেই।




টুইট করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকবার্তায় লিখেছেন, কিংবদন্তী ও প্রতিভাবান চলচ্চিত্র অভিনেতা ঋষি কাপুরের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত ঋষি কাপুর দেড় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছেন সম্ভ্রম ও মর্যাদার সাথে। তাঁর মৃত্যুতে অভিনয় জগতে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। আমি ঋষি কাপুরের পরিবার- পরিজন, সহকর্মী ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। বহু হিট ছবিতে সহকর্মীর প্রয়াণের খবর শুনে অমিতাভ বচ্চন লিখেছেন আমি ধ্বংস হয়ে গেলাম। বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে কমল হাসান, হেমা মালিনী, নুসরত জাহান সকলেই টুইট করে শোকপ্রকাশ করেছেন।

মুম্বাইয়ের চেম্বুরে ১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বরে জন্ম পৃথ্বীরাজ কাপুরের নাতি ও রাজ কাপুরের দ্বিতীয় পুত্রসন্তান ঋষির। রাজ কাপুরের তিন পুত্র রণধীর, ঋষি ও রাজীব, দুই মেয়ে ঋতু ও রিমা। ঋতুদেবী এ বছরই জানুয়ারি মাসে প্রয়াত হন। ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে বলিউডের নায়িকা নীতু সিংকে বিয়ে করেন ঋষি, ওই বছর সেপ্টেম্বর মাসে জন্ম তাঁদের কন্যা ঋদ্ধিমার। দু বছর পর জন্ম পুত্র রণবীরের। বছর তিনেকের ঋষিকে নিজের ছবি শ্রী ৪২০-তে প্যার হুয়া ইকরার হুয়া গানে পর্দায় আনেন রাজ কাপুর। ১৯৭০ সালে মেরা নাম জোকার ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা শিশুশিল্পীর জাতীয় পুরস্কার পান ঋষি।

১৯৭৩ সালে ববি ছবিতে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। রফু চক্কর, খেল খেল মে, কভি কভি, হম কিসিসে কম নেহি, অমর আকবর অ্যান্টনি, ফুল খিলতে হ্যায় গুলশন গুলশন, নসিব, প্রেম রোগ, নাগিনা, খুদগর্জ, চাঁদনি, হেনা, দিওয়ানা, দামিনী, ইনা মিনা ডিকা, ইয়ারানা, বোল রাধা বোল, প্রেমগ্রন্থ, নমস্তে লন্ডন, ওম শান্তি ওম-সহ বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। ২০০০ সাল অবধি লিড হিরো হিসেবে তিনি ৫১টি ছবিতে ও ৪১টি মাল্টি হিরো ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে বহু হিট ছবি রয়েছে।

২০০০ সালের পর থেকে সাপোর্টিং রোলে অভিনয় করেছেন। একটি ছবি পরিচালনা করেছেন (আ অব লৌট চলে)। ২০১৯-এ দ্য বডি তাঁর অভিনীত শেষ ছবি। হিমেশ ভাটিয়ার শর্মাজি নমকিন ছবিতে অভিনয় করছিলেন, যদিও সেই কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। আত্মজীবনী লেখার পাশাপাশি বই লিখেছেন। ২০১৮ সালে বোন ম্যারো ক্যান্সার ধরা পড়ে। লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। বুধবার শ্বাসকষ্ট শুরু হতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।








We are really shocked to hear this news when I was class 7 Bobby was released and from that day going to love our beloved Rishi rest his soul in peace.