অ্যালেক্স আবেগী। অ্যালেক্স জিততে চান। অ্যাবারডিনের কোচ অ্যালেক্স রেঞ্জার্সকে হারিয়ে স্কটিশ কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও শান্ত হতে চাননা,টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভিক্ট্রি ল্যাপ না দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বলে যান—”ডিসগ্রেসফুল পারফরম্যান্স”। যে রেঞ্জার্স তাঁকে ভিলেন সাজিয়েছে একজন ক্যাথলিককে বিবাহ করবার জন্যে, সেই রেঞ্জার্সকে আসলে তিনি দুরমুশ করতে চান তিল তিল করে সাজানো অ্যবারডিনের মাধ্যমে। মাত্র এক গোলের ব্যবধান তাঁকে কি করেই বা শান্ত করবে। কারণ অ্যালেক্স আবেগী। অ্যালেক্স জিততে চান…ফুটবলেও..জীবনেও। অ্যালেক্স ছাঁকনির মতো গিগসকে বেছে নিতে পারেন। অ্যালেক্স বদমেজাজি ক্যান্টোনাকে নিয়ে আসতে পারেন, ক্যান্টোনার স্বাধীনতার চাহিদাকে পড়ে ফেলতে পারেন নিমেষে।
সোলস্কজারকে দিয়ে সুপারসাবের সংজ্ঞা বদলে দেন। অ্যালেক্স যখন চলে যান, তখন বৃষ্টি পড়ে। মাইকম্যান অ্যালেক্সের বিদায়ী দিনে ঘোষণা করতে থাকেন অ্যালেক্সের ঝোলাভর্তি ট্রফির হিসাব। অ্যালেক্সের সেদিকে লক্ষ্য থাকেনা। চশমা চোখে চুইংগাম চেবাতে চেবাতে তিনি দেখতে থাকেন সাধের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডকে। যেদিন এসেছিলেন পুরো মাঠ ছিলো ফাঁকা। আর আজ শুধু তাঁকে দেখতেই বৃষ্টিতে ভেজে ম্যানচেস্টারবাসী।
ট্রফির ঝোলা তিনি তো রেখেই যাবেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে, শুধু নিয়ে যাবেন বৃষ্টিতে ভেজা ম্যাঞ্চেস্টারবাসীকে। মাইকম্যানের ট্রফির স্ট্যাটেসটিকস তাঁর কানে লাগেনা। বৃষ্টির ফোঁটা লেগে ফিল্ড ক্যামেরার স্ক্রিনটা ঝাপসা হয়ে যায়। ঝাপসা হয়ে যান অ্যালেক্স। ঝাপসা হয়ে যায় ম্যাঞ্চেস্টার। যাবার আগে হাততালি দিয়ে ওঠেন। গ্যালারিতে ফ্লেক্সের ছবিটা ভেসে ওঠে— “The Impossible Dream Sir Alex…”।
সাত বছর পরে স্মাইকেল-নেভিল-বেকহ্যাম-নেভিলদের স্যার জবুথুবু হাতে মাঠে নামেন। হাতের তালুতে রাখা ইউরোপকে দেখিয়ে দেন মরশুমের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ বিস্ময়কর ট্র্যান্সফারটিকে। ফুটবলের আকাশে বারবার ভেসে ওঠে তাঁর শাশ্বতবাণী—”Psychology—Someone else’s word. I’d call it-MANAGEMENT”।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আরেকবার যদি সাতবছরের পুরোনো ফ্লেক্সটা কেউ নিয়ে আসেন তো অবাক হবোনা—”The Impossible Dream Sir Alex…”।