পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতির একটা সামগ্রিক ছবি ফুটে ওঠে শবর মেলায়। ছৌ, মহিলা ছৌ, নাটুয়া, ঘোড়া নাচ, পাতা নাচ, বুলবুলি নাচ, কাঠি নাচ এবং দাসাই, সেংরাই, ঝুমুর, বাউল, আহিরা, মনসা মঙ্গল, ভাদু, জাওয়া, শবর গান সবমিলিয়ে এই মেলা যেন পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতির এক মহাভোজ। এই একটা মেলাতেই আপনি পরিচিত হতে পারেন জেলার সবকটি লোকসংস্কৃতির ধারার সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতি আয়োজিত দুদিন ব্যাপী এই মেলার দিকে তাকিয়ে থাকেন গোটা জেলার মানুষ। এখন এখানে লোকসংস্কৃতিপ্রেমী বাইরের মানুষেরও ভিড় বাড়ছে। বিষয়বস্তুর বৈচিত্রই টানছে তাদের।

এবছর মেলা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ ও ১৬ই অক্টোবর। দুদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে প্রতিবারের মত সারারাত। মেলা মানেই তো প্রাণের মিলন। দুদিনের এই মেলায় থাকে সবাই মিলে পাত পেড়ে খাওয়ার ব্যবস্থা। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ ছাড়াও চাল, ডাল, আলু, শাকসবজি, তেলমশলা, নুন সংগ্রহ করে হয় এই ভোজনের আয়োজন। মেলা সফল করতে স্থানীয় মানুষ সাগ্রহে বাড়িয়ে দেন সহায়তার হাত। তা নাহলে এই বিপুল আয়োজন সামাল দেওয়া সম্ভবপর হত না। খেড়িয়া শবর সমাজের কৃতী মানুষদের সংবর্ধনা প্রদান এই মেলার এক বিশেষ আকর্ষণ। শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে মেলা প্রাঙ্গণে চলে খেড়িয়া শবরদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা সভা। থাকে নানা বিষয় নিয়ে বিশেষ অধিবেশন। সবকিছুর লক্ষ্য একটাই, খেড়িয়া ও শবরদের উন্নতিসাধন।
পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির সম্পাদক জলধর শবর ও সভাপতি রত্নাবলী শবর এই মেলায় সব মানুষকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছেন, মানভূমের অবহেলিত লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরা মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি নিয়ে আগ্রহীদের কাছে খেড়িয়া শবরদের এই মেলার এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুরুলিয়ার পুঞ্ছা ব্লকের রাজনোওয়া গড়ের এই মেলায় আসার আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মেলা সমিতি। মেলার সূচনা হবে ১৫ই অক্টোবর বেলা ৪টায়।