প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অপশনাল বিষয় নিয়েছিলাম অ্যানথ্রোপলজি, বাংলায় যাকে বলে নৃতত্ত্ববিদ্যা। তখনই শবর সম্পর্কে কিছুটা জেনেছিলাম। জেনেছিলাম লোধারা মূলত পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ ও ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলায় এদের কিছু দেখা যায়। লোধারা নিজেদের শবর বলে পরিচয় দেয় এবং ওড়িশার নীলাচলের শবর দেশের এক ছত্রাধিপতি রাজা বিশ্ববসুর বংশধর। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরীর মন্দিরের গল্প। তার আগে পেপারে পড়া খবর “চুনী কোটালে’র আত্মহত্যা”। যা সারা ভারতবর্ষকে নাড়া দিয়েছিল, আমাকেও অন্যদের মতো দোলা দিয়েছিল। খবরের কাগজে পড়তাম মহেশ্বেতা দেবীর শবরদের নিয়ে নানা আন্দোলন বা কাজকর্মের খবর।
এভাবে চলতে চলতে জীবনের বাঁকে এসে উপস্থিত হল খড়্গপুর মহকুমায়, মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দায়িত্ব নিয়ে। সরাসরি সংস্পর্শে এলাম শবরদের। থানায় থানায় শবরদের নামে অজস্র তামিল না হওয়া পরওয়ানা (ওয়ারেন্ট)। রাস্তায় ফলা ফেলে গাড়িতে ছিনতাই করতে ওস্তাদ লোধারা। মেদিনীপুরে শবরদের লোধা বলে। পুরুলিয়ায় বলে খেড়িয়া।

মহাশ্বেতাদেবীর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই শবর মেলা।
১৮৭১ সালে ব্রিটিশ সরকার লোধা সমেত অন্যান্য আদিবাসী গোষ্ঠীর উপর লাগু করে “দ্য ক্রিমিনাল ট্রাইবস অ্যাক্ট”। স্বাধীন ভারতে এই আইন উঠে গেলেও লোধারা অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত ছিল। এইসব কারণে পুলিশের চোখে লোধাদের খুব একটা উজ্জ্বল চিত্র ছিলনা। তবে লোধা মাত্রই চোর, ডাকাত, এরকম চিন্তা ভাবনা আমাদের পুলিশের মধ্যে ছিলনা। কারণ আমাদের মহকুমায় যত অপরাধ হতো তার দশ শতাংশও লোধারা করতো না। লোধারা তবু পেটের দায়ে চুরি-ডাকাতি করতো, কিন্তু অন্যদের অন্য দায়ও ছিল। লোধারা চুরি-ডাকাতি করলে রান্নাঘর থেকে পান্তা ভাত বা অন্যান্য খাবার খেয়ে যেতো, যেটা অন্যরা করতো না। তাহলে বোঝা যাচ্ছে লোধাদের পেটের দায় কতটা ছিল। বাড়িতে খাবার থাকলে লোধারা যেমন কাজে বের হয় না, তেমনি চুরি করতেও যায় না। অন্যান্য ক্রিমিনালরা স্ফূর্তি করার জন্য, সম্পদ সঞ্চয়ের জন্যও চুরি-ছিনতাই করে।
লোধাদের মধ্যে কোনো সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি ছিল না। এত নিস্পৃহভাবে কোন জাতি জীবন যাপন করতে পারে ভাবতেই পারতাম না। জমি জায়গার প্রতি কোন মোহ নেই। পুলিশ বেশি বিরক্ত করলে ঘর দুয়ার ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যায়। তাই তাদের নামে পরওয়ানা গুলো তামিল হয়না।
স্বাধীনতার পর এতগুলো বছর চলে গেলো, তবুও এদের কোন পরিস্থিতির উন্নতি হলো না! উন্নতি কে করবে? যতই কল্যাণকর রাষ্ট্র হোক, দেশের লোকের কল্যাণের জন্য রাষ্ট্রতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত আমলা বা কর্মচারী খুব বেশি উদ্যোগ নেয় না। উদ্যোগ নেওয়া লোকগুলো ঘুরিয়ে নিন্দিত হয়। “নিজের ভালো না চাইলে, কেউ ভালো করতে পারবে না” -এই চরম সত্যটাকে মেনে নিয়ে মনকে প্রবোধ দিয়ে চলছিলাম।

এত অন্ধকারের মধ্যে আলোর শিখা হিসাবে দেখেছিলাম নারায়নগড়ের ‘বিদিশা’ কে। প্রখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ প্রবোধ কুমার বন্দোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত আশ্রম। এখানে লোধা শিশুরা থেকে পড়াশোনা করে। শিক্ষাই পারে একমাত্র জাতিকে পথ দেখাতে। বিদিশায় গেলাম একদিন, খুব ভালো লাগলো, গান শোনালো শবর শিশুরা।
এরপর আলাপ হলো মেদিনীপুর শবর কল্যাণ সমিতির কর্তাব্যক্তি বলাই নায়েকের সঙ্গে। তিনি গ্রামে গ্রামে শবর টোলায় আইনী সচেতনতা শিবির করতেন। মাসে একটা দুটো করে শিবির যাওয়ার আমন্ত্রণ জুটে যেতো। আমি প্রতিটি শিবিরে যেতাম, ধৈর্য ধরে মিটিংয়ের শেষ পর্যন্ত থাকতাম। শুনতাম শবরদের প্রতি পুলিশের নানা অবিচারের কথা। সেখানে নানা ব্যক্তিরা বলতেন পুলিশের অ্যারেস্ট করার নিয়মাবলীর সম্পর্কে। এভাবে গ্রেপ্তার করতে পারেনা, ওভাবে ধরতে পারেনা। আমি শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম দুটো কথা বলার জন্য, “আপনারা আপনাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠান” আর “নেশা করে নিজের শরীরটাকে শেষ করে দেবেন না।”
একদিন বলাইবাবুকে বললাম, “এত আইন জানিয়ে আপনাদের লোকদের লাভ কি, ওরা তো আইন কী জিনিস সেটাই জানেনা। ওদের লেখাপড়ার কথা বলুন। সামাজিকভাবে সচেতন হতে বলুন।” আমার অনুরোধে ‘আইনী সচেতনতা শিবির’ -এর পরিবর্তে ‘সামাজিক সচেতনতা শিবির’ করতে শুরু করলেন। আমাদের তৎকালীন এস.পি. পশ্চিম মেদিনীপুর “অজয় নন্দ” সাহেবের অনুরোধে উনি অনেক ওয়ারেন্টিদের সারেন্ডার করিয়েছিলেন। তার মধ্যে বিখ্যাত ছিল বেলদার কুখ্যাত ডাকাত ‘নিবারণ ভক্তা’। সবার সহজে জামিন হয়ে গেলেও নিবারণের জামিন হতে অসুবিধা হচ্ছিল। তখন আমাদের কিছু অর্থ সাহায্য করতে হয়। একটা অনুষ্ঠান করে এদের আত্মসমর্পণ করিয়েছিল, আমার চম্বলের দস্যুদের আত্মসমর্পণের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। নিবারণ যখন মঞ্চে উঠে আত্মসমর্পণের সময় আমার পা জড়িয়ে ধরেছিল, আমি তখন দুহাত দিয়ে ওনাকে তুলে ধরি, তখন দেখি উনি থর থর করে কাঁপছেন। ঐ সময় কয়েকটি লোধা ছেলে পুলিশে চাকরি পেয়েছিল।

কর্মসূত্রে আমি চলে আসি খড়্গপুর ছেড়ে। বহুদিন শবরদের সংস্পর্শে ছিলাম না। ঝাড়গ্রাম ও পরে বাঁকুড়া জেলাতে যখন এলাম তখন শবরদের বিশেষ সংস্পর্শে আসিনি। বাঁকুড়া জেলা শবরদের সেরকম কোন সমস্যা আমার সামনে আসেনি। আসলে পুলিশের কাছেতো সাধারণভাবে কোন লোকজন আসে না; ভীষণ দায়ে পড়লে, অপরাধ সংক্রান্ত ব্যাপারে জটিলতায় জড়ালে পুলিশের কাছে মানুষ যায়। হঠাৎ একদিন ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ (১৬ ই মার্চ ২০২১) পত্রিকায় হীরক করের একটি নিবন্ধ পড়লাম, “প্রান্তিক জনজাতি শবর”। সেখানে জানতে পারলাম পশ্চিমবঙ্গ শবর খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির সি.এল.সি. অর্থাৎ কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার সম্পর্কে। যা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছে। আগে ছিল N.F.C (নন ফর্মাল সেন্টার) সেখানে শবর শিশুদের স্কুলে ভর্তির উপযোগী করে তোলার জন্য অক্ষরজ্ঞান থেকে হাতেখড়ি শুরু করে দেওয়া হতো। অধিকাংশ শবর পরিবার গুলিতে এগুলো শেখানোর মতো কেউ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্তমান পড়ুয়ারা হচ্ছে প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া।
N.F.C. চলত কেন্দ্রীয় সরকারের একটি স্কীমে। N.F.C-র সংখ্যা ছিল ৬৫, চলেছিল ২০০১–২০০৭। চলত বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে। কিছু সরকারী কমিউনিটি সেন্টারে, কিছু কমিউনিটি হল শবর সমিতি বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি করে নিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান বন্ধ হলে N.F.C. গুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ২০১৯ সালে শবর সমিতি শুরু করে C.L.C.। বর্তমানে আছে ১৭ টি। সিদ্ধান্ত হয় আর সরকারী সাহায্যে নয় শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছায় চালানো হবে এই সহজপাঠ স্কুল। সমিতি চাইছে এই পাঠশালা গুলোকে কোন মানবিক মানুষ দত্তক নিক। লেখক ও সাংবাদিক হীরক কর একটি C.L.C দত্তক নিয়েছেন। সেটি পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান থানার মৃগীচামিতে অবস্থিত। দুয়ারসিনির কাছে মৃগীচামি গ্রামে C.L.C. -টির নাম দিয়েছেন হীরক কর তার মায়ের নামে, ‘বহ্নিকর সহজপাঠ’।

আমরা কয়েকজন বন্ধু উৎসাহিত হয়ে বাঁকুড়ার রানীবাঁধ থানার সারেসডাঙ্গার C.L.C. দত্তক নিয়ে নিলাম। যদি কেউ আগ্রহী হন দত্তক নিতে পারেন যে কোন C.L.C.। একবার দেখতে গেলাম মৃগীচামি C.L.C.। পাহাড়ের কোলে, সবুজ ঘেরা গ্রাম দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ফিরতি পথে গেলাম ‘রাজনওয়াগড়’। পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির রাজধানী অর্থাৎ সদর দপ্তর। মহাশ্বেতা দেবী ও সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গোপীবল্লভ লাল সিংহদেওর স্মৃতিধন্য এই স্থান। কাজকর্ম সম্পর্কে বিস্তৃত জানলাম। দেখলাম শবরদের হস্তশিল্পের সুন্দর নমুনা। আর যেটা প্রাপ্তি হল প্রশান্ত রক্ষিতের কাছ থেকে আগামী শবর মেলায় আসার নেমন্তন্ন। এক কথায় রাজী হয়ে গেলাম। সেই আমন্ত্রণ পরিণতি পেল মেলার উদ্বোধক হিসাবে।
এবছর (২০২২) ১৫ অক্টোবর শনিবার বিকাল পাঁচটায় ছিল উদ্বোধন। আমার যেতে দেরি হল, তার ওপর পথ হারালাম। সবাইকে উৎকণ্ঠায় রেখে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ গিয়ে পৌঁছালাম। গিয়ে দেখি মেলা জমে গেছে। প্রচুর শবর বন্ধুরা মেলা চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মঞ্চের সামনেও লোকের অভাব নেই। হস্তশিল্পের স্টলেও ভালোই ভীড়। খিচুড়ি খাওয়ার জায়গায়ও মস্ত লাইন। সমিতির অফিসে লিকার চা খেলাম মঞ্চে ওঠার আগে। মঞ্চে ওঠার আগে শবর মেলার একটু ইতিহাস জেনে নিই।
১৯৬৮ সালের ৭ জানুয়ারী শবর কল্যাণ সমিতি সৃষ্টি হয়েছিল মানবাজার ১ নং ব্লকের কুন্দাগ্রামে। শবর মেলার প্রচলন ১৯৮৩ সালে ১১ নভেম্বর। প্রথমবার হয়েছিল পুরুলিয়া থানার মালডি — কোলডি মৌজাতে। ১৯৯০ সাল থেকে মেলা হচ্ছে রাজনওয়াগড় সমিতির অফিসের সামনে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর থেকে শবর বন্ধুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলে আসে এই মেলায়। ধামসা মাদল বাজিয়ে, নাচতে নাচতে, গাইতে গাইতে নিজেরাই গাড়ি ভাড়া করে বা হেঁটে চলে আসে মেলায়।

আমার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিল পশ্চিমবঙ্গ শবর কল্যাণ সমিতির সম্পাদক জলধর শবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের বলাই নায়েক, যিনি বর্তমানের শবর বোর্ডের সভাপতি। শবর জনজাতির প্রথম স্নাতক ও প্রাথমিক শিক্ষক নির্মল প্রসাদ শবর, শবর জাতির প্রথম স্নাতকোত্তর কুমারী রমনিতা শবর, পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির সভাপতি রত্নাবলী শবর। নির্মল খুব জোর দিয়ে শিক্ষার কথা বলল। আরো বলল, “সরকারী সাহায্য প্রচুর আছে, আমাকে তার যোগ্য করে তুলতে হবে। শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, প্রতিযোগিতার মনোভাব আনতে হবে। আমি মাধ্যমিক পাস করলাম, উচ্চমাধ্যমিক পাস করলাম, স্নাতক হলাম, হলেই চাকরি পাবো না। আমাকে চাকরির পরীক্ষা দিতে হবে। আমার মতো আরো উপজাতি আছে, তাদের সঙ্গে লড়ে আমাদের চাকরি পেতে হবে। তবে যেসব সরকারি কাজে খুব দক্ষ লোকের প্রয়োজন নেই যেমন ‘সিভিক ভলেন্টিয়ার’ সেগুলি যদি আমাদের দেয় তবে ভালো হয়।” নেশার বিরুদ্ধে জোর গলায় বলল রমনিতা। বলাই নায়েক বাবু আমার পূর্ব পরিচিতির কথা বলতে ভুললেন না। আমি আর কী বলবো! এদের সবার কথা মিলিয়ে মিশিয়ে বললাম।

মঞ্চ থেকে অনেকজন শবর সমাজের পথ প্রদর্শক, যেমন — চাষী, হস্তশিল্পী, ছৌনৃত্য শিল্পী, বনসম্প্রসারক, পশুপালক, গাড়িচালক, ব্যবসায়ীদের সম্বর্ধনা দেওয়া হল। বিশেষভাবে সম্বর্ধনা দেওয়া হল নির্মল ও রমনিতাকে শিক্ষার অগ্রগতির জন্য। কাশিডিহ গ্রামের গোপাল শবর ও তার সম্প্রদায়ের ঝুমুর নাচ দেখলাম। এছাড়া শবর নাচ, মহিলা ছৌনৃত্য, নাটুয়া নৃত্য ছিল। সেগুলো দেখার অবসর হল না। প্রদর্শনীর স্থানটা ঘুরে দেখলাম। শবর হস্তশিল্পের কথাতো আগেই বলেছি, কী সুন্দর বাবুই ঘাস দিয়ে দৈনন্দিন কাজের ও ঘর সাজানোর জিনিস বানায়। ট্রে, ফুলদানি, সাজি, ঝাঁপি, টুপি ইত্যাদি। ডোকড়া শিল্পের স্টল দিয়েছেন কেন্দা গ্রামের (কেন্দা থানা) রুটু মালের দুই ছেলে পিয়ারুদ্দিন মাল ও জিন্নত মাল। পিয়ারুদ্দিন মুকুটমণিপুরে ডোকড়া পণ্য নিয়ে বসেন, তাই উনাকে আগে থেকে চিনি। খাদি উদ্যোগের দোকান আছে। আছে জীব বৈচিত্রের প্রদর্শনী; শবরদের কৃষিকাজের প্রদর্শনী। সবচেয়ে আকর্ষণ করল শবরদের বনখাদ্যের প্রদর্শনীটি। এত রকম আলু হয় আমার জানা ছিল না। কিছু বন্য আলু আছে বিষাক্ত। সেগুলো খেলে বিপদ হতে পারে, সেগুলো চেনানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এরপর আমরা চলে এলাম পংক্তিভোজের স্থানে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে এবার কুপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবার সঙ্গে বসে খিচুড়ি, চাটনি খেলাম তৃপ্তি করে। খাওয়ার শেষে শালপাতা তুলে ফেলে এলাম পাশে কাটা বড় গর্তে। পরিবেশ সচেতনতার এই পরিচয়ে খুশি হলাম।
মেলার পরদিনের (১৬.১০.২০২২) কর্মকাণ্ডের তালিকা বেশ দীর্ঘ। শিক্ষা আলোচনা, তীরন্দাজ প্রতিযোগিতা (মহিলা ও পুরুষ), স্বাস্থ্য আলোচনা, ছাত্রছাত্রীদের সম্বর্ধনা, সমিতির বিভিন্ন কর্মীদের সম্বর্ধনা, এছাড়া শবর নৃত্য ও গানতো আছেই।
পরদিনের উৎসব দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। আগের রাতে খিচুড়ি খেয়েই চলে এসেছিলাম। যখন ছেড়ে গেলাম তখন কানে আসছে ধামসা, মাদলের শব্দ। স্মৃতির মনিকোঠায় গেঁথে থাকল শবর পুরুষ, নারীদের সুসজ্জিত বেশে ঘুরে বেড়ানো, সবার মুখমণ্ডলে খুশির ঝিলিক। সব মিলিয়ে এক স্বতঃস্ফূর্ত মেলায় এসে এত আনন্দ হল, তা ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল। আবার আসিব ফিরে, এই মানব সাগর তীরে…।
শবর-মেলা এই প্রথম দেখলাম। আগে দেখার সুযোগ হয়নি। আসলে শবর-জনজাতি সম্পর্কে জানতাম ই কম। বর্তমান লেখাটি অতি চমৎকার, সুন্দর ও হুবুহু এবারের মেলার চিত্র টাই তুলে ধরেছে। ভীষণ ভালো লাগলো। তাই প্রবন্ধকার কে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। এবং তার কাছে চাইবো আরো লেখা।
Khubi shundor????
Shobar jati sambhandhe ai protham sunlam .
Khub bhalo laglo,apnar lekha porteo bhalo lage..aro notun kichhu likhun amra apnar lekha theke onek notun ghatona jante pari..
শুধু মেলা নয়, শবরদের বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। লেখকেকে ধন্যবাদ। ????