দেশের বিখ্যাত ল্যাংচাহাব বর্ধমানের শক্তিগড়। দেশের বাইরেও যার কদর। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে আসা যাওয়ার পথে এই সুস্বাদু মিষ্টি ল্যাংচা বিক্রি শতাধিক বছর ধরে বর্ধমানের রাজার আমল থেকে চলে আসছে। আর সেই সুস্বাদু নামকরা ল্যাংচা অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে বিষাক্ত ও ফাংগ্ৰাসে গ্ৰাস করা ক্রেতাদের হাতে চলে যাচ্ছে।যা ভাবলে গা শিউরে উঠে।

অসাধু ব্যবসায়ীদের এই রমরমা কারবারের কথা গোপন সূত্রে জানতে পারে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। শনিবার জেলা পুলিশ, ক্রেতা সুরক্ষা দফতর ও লিগ্যাল মেট্রোলজি দফতরকে সঙ্গে ল্যাংচাহাবে হানা দেয়। ল্যাংচা পরীক্ষা করে দেখার পর পদস্থ কর্মকর্তাদের চক্ষু চড়কগাছ। ল্যাংচায় ফাংগাসে ভরেছে। এখানেই শেষ নয়। সেই ল্যাংচায় বিষাক্ত রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেটাই ক্রেতা ও পর্যটকদের দেদার বিক্রি করছে।

সূত্রের খবর, এদিন অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী ও ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিইবি) এ এস চ্যাটার্জী।এই হানাদারিতে পদস্থ কর্মকর্তারা দেখেন, অধিকাংশ দোকানের রান্নাঘর এখনো অস্বাস্থ্যকর, মিষ্টির কড়াই আ-ঢাকা, কারিগরদের কোনও স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয় না। নেই সামান্য পরিচ্ছন্নতা। কোথাও বা বিষাক্ত রং মেশানো হচ্ছে মিষ্টিতে। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবারও অনেকগুলি দোকানের গুদামে হানা পুলিশ। দেখা যায় আগে থেকে ভেজে রাখা আছে ল্যাংচা। তাতে ফাংগাসে ভরে গেছে। এমনকি প্রচুর ল্যাংচা মেঝের উপর ডাঁই করে রাখা আছে খোলা অবস্থায়।এই দেখে হতবাক হানাদারি টিম।

প্রাথমিকভাবে এই টিমের অনুমান এই সমস্ত বাসি মিষ্টি, যা ২১জুলাই শহিদ দিবসে পুনরায় ভেজে ও রসে ডুবিয়ে বিক্রী করবার পরিকল্পনা ছিল। কারণ ২১ জুলাই জাতীয় সড়ক ধরে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়িতে করে বহু তৃণমূলকর্মী আসা-যাওয়া করবেন। সেই সুযোগে অস্বাস্থ্যকর খাবার তাদের তুলে দিয়ে মুনাফা করবেন। এরজন্য শক্তিগড়ে ল্যাংচার চাহিদা থাকে তুঙ্গে। হানাদার বাহিনী পরীক্ষার জন্য কিছু ল্যাংচা নমুনা রেখে বাকী প্রায় তিন কুইন্ট্যাল ভাজা ল্যাংচা উদ্ধার করেন।

রবিবার সেই বাজেয়াপ্ত করা ল্যাংচা পরিবেশ-বান্ধব উপায়ে মাটিতে গর্ত করে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। সাতজন দোকানদারকে আইনী নোটিশ ধরানো হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে শক্তিগড় থানায় ডায়েরীও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর,সমস্ত অসাধু দোকানদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা রুজু করা হচ্ছে। তাঁদের প্রত্যেকের দশ লক্ষ টাকা অব্দি জরিমানা ও সাত বছর পর্যন্ত হাজতবাস বা উভয়ই হতে পারে। এদিকে এদিন ক্রেতাদের শক্তিগড়ে ল্যাংচা কেনার আগে যথেষ্ট সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। একইসঙ্গে রবিবার কলকাতামুখী ও কলকাতা ফেরৎ ক্রেতাদের স্বার্থে স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারী জারি রাখতে ফুড সেফটি অফিসারদের মোতায়েন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুবর্ণ গোস্বামী।