গত ২৬ মে সাইক্লোন ইয়াসের ধাক্কায় প্রায় তলিয়ে গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাগর ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। একদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস অন্যদিকে পূর্ণিমার ভরা কোটালে মুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ ভেঙে, বাঁধ উপচে প্লাবিত হয়েছে বঙ্কিমনগর মৌজার ধসপাড়া-সুমতিনগর (২) গ্রাম পঞ্চায়েতের বঙ্কিমনগর, ভাঙ্গা, বিশালক্ষ্মী, মোড়বাজার-সহ নটি গ্রাম। বেশ কিছু জায়গার জমা জল ধীরে ধীরে সরে গেলেও এখনও জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে কয়েকটি গ্রাম। এখানকার মানুষজন তাদের ধ্বসে পড়া ঘরদোর আর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া জীবন কোনওমতে আঁকড়ে ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা করছেন।

ইয়াসের আঘাতে নদীর বাঁধ উপচে জল ঢুকছে গ্রামে। নদীর জল ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ উপচে এলাকায় জল ঢুকছে। পূর্ণিমা এবং অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস বৃদ্ধি পেলে, নোনা জলে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, বাঁধ মেরামতির জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। তার নির্দেশে ইরিগেশন ডিপার্টমেন্টের জেসিবি এবং স্থানীয় মানুষরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নদী বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করেছেন।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার নির্দেশ ক্রমে ও ব্যবস্থাপনায় ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী সময় থেকে এবং বিডিও ও শ্রী মাতাজি নির্মালাদেবি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ফ্লাড সেন্টার, স্কুল বাড়ী ও অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে বানভাসী মানুষদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনিক উদ্যোগে সাগর এলাকার ঘোড়ামারা থেকে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের কাছেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তা সন্দীপ পাত্র জানালেন, এছাড়াও প্রত্যেকদিন এক থেকে দেড় হাজার মানুষের দ্বিপ্রাহরিক আহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাছাড়া ইতিমধ্যে যারা ঘরে ফিরে গিয়েছেন বা যাদের ঘরবাড়ি অক্ষত আছে তাদেরকে নিয়মিত খাওয়ার প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই বিশাল উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন বহু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা।