দেবাশিস ভট্টাচার্য
লকডাউনের পর বিগত ক’দিনে উত্তর ভারতের বহু রাজ্যে জাতীয় সড়ক ধরে ভুখাপেটে শ্রমিকদের গ্রামমুখী মিছিল চলছে। শনিবার গাজিয়াবাদে হাজার হাজার শ্রমিকের জমায়েত ফিজিক্যাল ডিসটান্সিং মানতে পারেনি। বোঝাই যাচ্ছে, এমন ঘটনা হতে পারে সেটা মোদী সরকারের কোনও আন্দাজই ছিল না। সমস্যার মোকাবিলা কীভাবে করতে হয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে শিখতে হবে।
ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার মানুষদের দেখার জন্য তিনি সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি লিখেছেন। আবার বাংলায় কর্মরত ভিন রাজ্যের মানুষদের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছেন। কলকাতা ও আশপাশের সব হোটেল ও লজ রিক্যুইজিশান করা হয়েছে। ডুমুরজলা, কিশোর ভারতী, যুবভারতী, বারাসত, কল্যাণী, নৈহাটি বঙ্কিম স্টেডিয়াম-সহ সব ইন্ডোর স্টেডিয়াম রেডি রাখা হয়েছে। কী কী হতে পারে, কী হলে কী করা হবে, কোনটা করলে মানুষের সুবিধে হয়, করোনা মোকাবিলার সঙ্গেই অনাহারে যাতে মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে সে জন্য তিনি ষোলো আনা সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। আবার এত কাজের মধ্যেও গান লিখে সুর দিয়েছেন, ইন্দ্রনীলের গলায় সেই গান বাজছে ‘করোনা কে ভয় পেও না, লড়াই করো লড়াই করো’। অন্যদিকে, এই সময়তেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অযোধ্যায় অস্থায়ী মন্দির বানিয়ে, রামলালাকে অধিষ্ঠিত করতে ব্যস্ত। তেলেঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, লকডাউনের মধ্যে রাস্তায় বেরোলে পুলিশ গুলি করে মারবে। অথচ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন—চাল, ডাল, সবজি ঘরে বেশি থাকে না। তাই দোকানে কেনা-কাটা করতে যেতে হবে, তবে দোকানে একসঙ্গে গাদাগাদি হয়ে ভিড় করলে বিপদ হতে পারে। একজনের থেকে আর একজনের মধ্যে যাতে ফাঁক থাকে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকানগুলি আগে যেমন খোলা থাকত, তেমনই থাকবে। কেউ তাড়াহুড়ো করবেন না। পর্যাপ্ত জিনিস আছে। মানুষের অসুবিধে লাঘব করার কথাই মমতার মাথায় ঘোরে। আসুন আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই।