রাজ্যের হিমঘরের শ্রমিকদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে। ইতিমধ্যে করোনাকালেই বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। এরপরই হিমঘরের মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য গত আগস্ট মাস থেকেই সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীকালে সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখ আলাদা করে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়। এর পর গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের শ্রম দফতরের মন্ত্রী বেচারাম মান্নার সঙ্গেও ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হয়। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের হিমঘরের শ্রমিকদের পেশ করা দাবি নিয়েও হিমঘরের মালিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় মালিকপক্ষ জানায়, হিমঘর মালিকদের সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
ফের শ্রম মন্ত্রীর উদ্যোগে হিমঘর মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা হয় ২৯ সেপ্টেম্বর। সেই আলোচনায় কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও অবশ্য মালিকপক্ষ নিজেদের অপারগতার কথা বলেন। এরপর শ্রমিকদের তরফে সর্বাধিক ২৪৯ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে অ্যাডহক বৃদ্ধি ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট খাতে ১৮২ টাকা বৃদ্ধি, ভিডিএ খাতে ৬০ টাকা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য খাতে ৭ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তার সঙ্গে বোনাস ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়। প্রসঙ্গত, এই বোনাস বৃদ্ধি শেষবারের মতো হয়েছিল ২০০০ সালে। মালিকপক্ষ অ্যাডহক বৃদ্ধি ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট খাতে বৃদ্ধি মানতে রাজি হলেও ভিডিএ খাতে বৃদ্ধি ১.৬৩ থেকে ১.৬৪ করতে সম্মত হন।
সেদিনের ওই আলোচনাকে আরও একটু সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে শ্রম দফতরের মন্ত্রী বেচারাম মান্নার সঙ্গে বইঠকে বসেন শ্রম মহাধক্ষ্য জাভেদ আখতার, অতিরিক্ত শ্রম মহাধক্ষ্যা শর্মিলা খাটুয়া, শ্রমিক সংঘের তরফে উপস্থিত ছিলেন নয়ন গোস্বামী, অশোক পালধি, মনোজ চক্রবর্তী, কিঙ্কর পোশাক, মালিকদের তরফে হাজির ছিলেন তরুনকান্তি ঘোষ, পতিতপাবন দে ও রমেশ পেরিয়াল।
এদিনের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই খবর। আলোচনায় ঠিক হয়েছে আগের চুক্তির তুলনায় হিমঘর শ্রমিকদের বেতন প্রায় ১৮০০ টাকা বৃদ্ধি হবে। বোনাসের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি প্রায় ৮০০ টাকা।