আজ থেকে ২৪ বছর আগে মাত্র ৩৮ লক্ষ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ মহীরুহের মতো একটি প্রতিষ্ঠান৷ ২০২০-২১ অর্থবর্ষে অর্থাৎ করোনাকালে সেই প্রতিষ্ঠানটির আমানত বেড়েছে বিগত বছরের থেকেও কুড়ি কোটির বেশি৷ ২৪ বছর আগে সেই প্রতিষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল মাত্র ৪ জনকে নিয়ে৷ এই অর্থনৈতিক মন্দারকালেও চলতি আর্থিক বর্ষেও লভ্যাংশ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। একে এই ভীষণ সময়ে আশাব্যাঞ্জক বললেও কম বলা হয়। প্রতিষ্ঠানটির নাম সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (Samata Co-operative Development Bank Ltd.)৷ আজ সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড পা দিল ২৫ বছরে।

তিন বছর আগে সল্টলেক, করুণাময়ীতে এই ব্যাঙ্ক দুটি শাখা খুলেছিল৷ আর সে বছরই শ্রেষ্ঠ সমবায় ব্যাংক হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিল সমবায় রত্ন পুরস্কার৷ এরপর পলতায় আরও একটি নতুন শাখা খোলে সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। তখন থেকেই তারা আরও শাখাপ্রশাখা বিস্তারে রিজার্ভ ব্যাংকের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন৷
গত ৮ আগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হৃদয়পুরে সমতার আরও একটি শাখার যাত্রা শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, সমবায় একটি আন্দোলন; সেই আন্দোলনে অনস্বীকার্য ভূমিকা রেখেছে সমবায় ব্যাঙ্ক। আরও অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড একটি বিশেষ অবদান রেখেছে।

গত ১৪ আগষ্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়া-লস্করপুরে সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড তাদের আরও একটি শাখা খুলেছে। কেবল তাই নয়, সমতা-র সিইও দেবাশিস ভট্টাচার্য জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে কলকাতা-বেহালা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তাদের আরও শাখা চালু হবে।

একসময় সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড-এর কর্ণধার দেবাশিস ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘এ কথা জোর গলায় বলতে পারি যে, যত যা-ই হোক না কেন, এ রাজ্যর টাকা বিদেশে যেতে দেব না৷’ সেদিনের সমতা ১৭ হাজার সদস্য আর ৪৭ হাজার গ্রাহক করে ফেলেছে৷ তখন তিনি সমবায় ব্যাংকের উপযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন জেলায় কর্মশালাও করছেন৷ অনেক তরুণ-তরুণী উদ্বুদ্ধ হন দেবাশিসের শিক্ষণ শিবিরে৷ আজ তাদের ওয়ারকিং ক্যাপিটল ২৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। তখন তাদের কোনও গ্রাহক ছিল না। সদস্য ছিল ৩ হাজার। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ৪০ হাজার ও সদস্য সংখ্যা ১৮ হাজার।

প্রসঙ্গত আজ গোটা বিশ্বজুড়ে চরম অর্থনৈতিক মন্দা, দেশে জিডিপি-র হার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। তার জের এসে পড়ছে সমগ্র অর্থনীতি থেকে শুরু করে সমাজ ব্যবস্থা ও ব্যবসা বানিজ্যের ওপর। সেখানে পারিপার্শিক সুস্থিরতা বজায় রেখে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই যেখানে একটা বড় ব্যাপার সেখানে একটি সমবায় ব্যাঙ্কের পক্ষে অগ্রগতি বজায় রাখাটা একটা উদাহরণ। অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব যে সমতার ওপর পড়েনি সে কথা বলা ভুল। তবে তাঁরা নিজেদের সক্ষমতা দিয়েই টালমাটাল পরিস্থিতিকে সামাল দিয়েছেন এবং মানুষের সঙ্গে থেকেছেন। আশা করা যায় এই ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে তারা যখন দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পেরেছেন তখন আগামী দিনে তাদের আগ্রগতি আরও বিস্তৃতি লাভ করবে।