দেখতে দেখতে ২৫ বছর যে কোথা থেকে ফুরুৎ করে উড়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। অনেক ঝড়-জল উপেক্ষা করে আজও সোজা হয়ে রয়েছে সমতা কো অপারেটিভ ব্যাংক। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে অর্থাৎ করোনাকালে সেই প্রতিষ্ঠানটির আমানত বেড়েছে বিগত বছরের থেকেও কুড়ি কোটির বেশি৷ ২৬ বছর আগে সেই প্রতিষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল মাত্র ৪ জনকে নিয়ে৷ এই অর্থনৈতিক মন্দারকালেও চলতি আর্থিক বর্ষেও লভ্যাংশ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। প্রত্যেক শেয়ার হোল্ডারকে ৯ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া হয়েছে। একে এই ভীষণ সময়ে আশাব্যাঞ্জক বললেও কম বলা হয়। প্রতিষ্ঠান্টির নাম সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড৷ একটু থামলেন দেবাশিষবাবু। আজ পরিচালন কমিটির পক্ষ থেকে আমরা আর একটা সিদ্ধান্ত নিলাম, ২৫ বৎসর পূর্তি উপলক্ষে ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে প্রতিটি সদস্যকে ব্যাঙ্কের নিজস্ব খরচায় ১ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা জনিত বীমা করে দেওয়া হবে।

১৯৯৭ সালে প্রথম এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় সল্টলেকে। করুণাময়ীতে এই ব্যাংক শাখা খুলেছিল ২০০৮/৯ নাগাদ৷ আর সে বছরই শ্রেষ্ঠ সমবায় ব্যাংক হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিল সমবায় রত্ন পুরস্কার৷ এরপর পলতায় আরও একটি নতুন শাখা খোলে সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ রজত জয়ন্তী বর্ষে পা রেখেছে সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড৷ এই রজত জয়ন্তী বর্ষে আরো দুটো ব্রাঞ্চের উদ্বোধন হয়েছে সমতা ব্যাঙ্কের। একটি উত্তর ২৪ পরগনার দুর্গানগরে ৮ আগস্ট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমবায় দফতরের মন্ত্রী অরূপ রায়। হাজির ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সৌগত রায় প্রমুখ। মন্ত্রী চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য বলেন, সমবায় একটি আন্দোলন; সেই আন্দোলনে অনস্বীকার্য ভূমিকা থাকে সমবায় ব্যাংকের, সেই ব্যাংকগুলির মধ্যে সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড একটি বিশেষ অবদান রেখেছে। চতুর্থ শাখার উদ্বোধন হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়া-লস্করপুরে। গোটা বিশ্বজুড়ে আজ চরম অর্থনৈতিক মন্দা। আমাদের দেশে জিডিপি-র হার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। যার জের এসে পড়ছে সমগ্র অর্থনীতি থেকে শুরু করে সমাজ ব্যবস্থা ও ব্যবসা বানিজ্যের ওপর। পারিপার্শিক সুস্থিরতা বজায় রেখে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই যেখানে একটা বড় ব্যাপার সেখানে একটি সমবায় ব্যাংক তাদের চতুর্থ শাখার কাজ শুরু করলো। ২৫ বছর আগে মাত্র ৩৮ লক্ষ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ মহীরুহের মতো একটি প্রতিষ্ঠান৷

সমতা কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড-এর কর্ণধার দেবাশিস ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘এ কথা জোর গলায় বলতে পারি যে, যত যা-ই হোক না কেন, এ রাজ্যর টাকা বিদেশে যেতে দেব না৷’ সেদিন সমতা ১৭ হাজার সদস্য আর ৪৭ হাজার গ্রাহক করে ফেলেছে৷ তখন তিনি সমবায় ব্যাংকের উপযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন জেলায় কর্মশালাও করছেন৷ অনেক তরুণ-তরুণী উদ্বুদ্ধ হন দেবাশিসবাবুর শিক্ষণ শিবিরে৷

প্রসঙ্গত আজ গোটা বিশ্বজুড়ে চরম অর্থনৈতিক মন্দা, দেশে জিডিপি-র হার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। তার জের এসে পড়ছে সমগ্র অর্থনীতি থেকে শুরু করে সমাজ ব্যবস্থা ও ব্যবসা বানিজ্যের ওপর। সেখানে পারিপার্শিক সুস্থিরতা বজায় রেখে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই যেখানে একটা বড় ব্যাপার সেখানে একটি সমবায় ব্যাংকের পক্ষে অগ্রগতি বজায় রাখাটা একটা উদাহরণ। অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব যে সমতার ওপর পড়েনি সে কথা বলা ভুল। তবে তাঁরা নিজেদের সক্ষমতা দিয়েই টালমাটাল পরিস্থিতিকে সামাল দিয়েছেন এবং মানুষের সঙ্গে থেকেছেন। আশা করা যায় এই ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে তারা যখন দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পেরেছেন তখন আগামী দিনে তাদের আগ্রগতি আরও বিস্তৃতি লাভ করবে।
Yes