পুজোর ঠিক আগে ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপের জেরে জলমগ্ন হল উদয়নারায়ণপুরে ৭টি পঞ্চায়েত। বিগত কিছুদিন আগে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর-সহ বহু জায়গায়। ফের ভারী বৃষ্টিতে প্লাবন পরিস্থিতি তরি হয়েছে ১০০টিরও বেশি গ্রাম। একাধিক নদী ফুঁসছে। একের পর এক বাঁধ ভাঙছে। ফের এই বন্যা পরিস্থিতির জন্য আবারও ডিভিসিকে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইতিমধ্যেই বন্যায় সর্বস্বান্ত ওই এলাকার নরনারায়ণপুর চকের প্রায় ৩০০টি পরিবার। রাস্তাতেই ভাসছে বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে বিপদের মুখে সাধারণ মানুষ। নিজেদের জীবন বিপন্ন করেই এলাকায় রয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন অন্যত্র। যে হারে জলস্তর বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

উদয়নারায়ণপুরে বন্যা নতুন কোনও ঘটনা নয়। আগেও বহুবার বানভাসি হয়েছে এই এলাকা। এর আগে বন্যায় ভেসেছিল উদয়নারায়ণপুর ব্লকের এগারোটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। ঘরবাড়ি, ফসলের খেত জলে ডুবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল প্রচুর৷ ব্লকের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুড়চি ব্রিজের এক দিক বসে গিয়েছিল। সেই সেতুর পাশে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় একটি লোহার সেতু গড়ে দেয় পূর্ত দফতর। তবে সেই সেতু পরে খুলেও দেওয়া হয়।

উদয়নারায়ণপুরের অধিকাংশ এলাকাই জলের নীচে। কুরচি, হরালি, সিংটি, কানুপাট মনসুকা, সোনাতলা, পাথিয়া গড়ি, নরনারায়ণ চক আরও… টোটাল ৯টা পঞ্চায়েত জলের তোলায়। সবথেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি নারায়ণপুর চকের। জলমগ্ন হয়েছে উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। জলের মধ্যেই সঙ্কটজনক রোগীদের স্ট্রেচারে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। ভারী বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে প্রতিবারই বানভাসি হয়ে থাকে উদয়নারায়ণপুর। এই মুহূর্তে এই এলাকার প্রায় সাতটি ব্লক জলের তলায়। বন্যা দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাজির এলাকার বিধায়ক সমীর পাঁজা। দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকেও। শনিবার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্গত এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও এনডিআরএফ টিম। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে পৌঁছেছে ২ কলম সেনা। দুর্গতদের উদ্ধারকাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৮ হাজার মানুষ দুর্গম এলাকা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। হাওড়ার নরনারায়ণচকের একটি বাঁধ ভেঙে ভেসে যায় গোটা গ্রাম। ইতিমধ্যেই নবান্নে বৈঠক করে মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে একাধিক জায়গায় দুর্গতদের উদ্ধারে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, নামানো হয়েছে এনডিআরএফ টিম।

উল্লেখ্য, দু-মাস আগেই হাওড়ার বানভাসি এলাকা, আমতা পরিদর্শনে গিয়ে ডিভিসিকে দায়ী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ম্যান মেড বন্যা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। ২০০০ সালে রাজ্য জুড়ে বন্যার পর মমতা ‘ম্যান মেড’ তত্ত্ব। তার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ২০১৭ সালে এই হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়েও এমনটাই বলেছিলেন তিনি। দু-মাস আগে বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিভিসি ইস্যুতে সরকারিভাবে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি।