সমীর কুমার পাঁজা, বিধায়ক
২০১১-র ১৩ই মে সর্বস্তরের সর্বধর্মের মানুষকে নিয়ে যাত্রা শুরু হল পরিবর্তনের সংগ্রামী ‘মা মাটি মানুষ’ সরকারের। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বের সরকার শান্তি ও উন্নয়নের যে জোয়ার এনেছেন তাতে সারা দেশের গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী মানুষ কুর্নিশ জানায়। জনকল্যাণের অনন্য ভাবনার দ্যুতিময় ব্যক্তিদের নেতৃত্বে এই সরকার আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে। মানুষের প্রতি দরদ ও বিচক্ষনতার জোরে অবিসংবাদি নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ১৯৮৪ সালে যাদবপুর কেন্দ্রে লোকসভা নির্বাচন থেকে শুরু, ২০১১ সালে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বে বাংলার মানুষ যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধে’ জয়লাভ করলো সে যুদ্ধের কান্ডারীর আজীবন আজ্ঞাবহ থেকে আমি ধন্য।
বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে টানা ৩৪ বছর বিকল্প উন্নয়নের কথার আড়ালে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে চরম অবহেলা করেছে। তৈরী করে গিয়েছে অবিশ্বাস আর সন্ত্রাসের বাতাবরণ। এই সরকারের জন্যে রেখে গিয়েছে ব্যাপক ঋণের বোঝা। সমাজের প্রতি অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা থেকে তাঁর প্রতিভাপ্রসূত মানবিক পরিকল্পনার জন্যে সমাজ সংস্কারক হিসাবে বন্দিত। তাঁর ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা লাভ করেছে। কন্যাশ্রী, রুপশ্রী প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্য লক্ষ্য গরীব ঘরের মেয়েরা উপকার পাচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চালু হয়েছে মানবিক প্রকল্প। অক্ষম বয়স্ক দের পাশে দাঁড়ানো, বিধবা, সমাজের বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত মানুষদের পেনশন সুরক্ষার মধ্যে এনে অনন্য নজির গড়েছেন। জীবনকে গতিময় করতে আনন্দধারা, গতিধারা, সবুজসাথী, আপনারই অনুভাবনা। কৃষকবন্ধু প্রকল্পে শুধু নিয়মিত সাহায্যই নয় তাদের উৎপাদিত শস্য সরকার কিনে নেয়। কৃষকের মৃত্যু হলে তার পরিবারের হাতে দেওয়া হয় ২লক্ষ টাকার সাহায্য। দিচ্ছে বীমার টাকা। ‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ গরীব জনসাধারণ ২টাকা মূল্যে খাদ্যদ্রব্য পাচ্ছেন।

৪২টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ২৮ হাজারেরও বেশি হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প এক যুগান্তকারী কর্মসূচি রূপায়িত হয়েছে। ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান আজ গ্রামীণ জীবন। চিরকাল অবহেলিত সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে বিশেষ আর্থিক পরিকল্পনা তাদের মর্যাদার সোপানে দাঁড় করিয়েছে। উন্নয়নমুখী বাংলায় আমরা পেয়েছি বহুবিধ প্রকল্প গীতাঞ্জলি থেকে শুরু করে জল ধরো-জল ভরো, কিষাণ মান্ডি, জয় বাংলা, পথসাথী, সহ অজস্র। সমস্ত ভাবনাগুলি অফুরন্ত প্রাণশক্তি সম্পন্ন মানবদরদী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষ পরিকল্পনার ফল। এই সকল প্রকল্পগুলিকে বিপ্লবী পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে সচিবালয় নয়, সরকারি আধিকারিকদের সাথে মুখ্যমন্ত্রী ছুটে গিয়েছেন এক জেলা থেকে আর এক জেলায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বামফ্রন্ট হঠিয়ে ক্ষমতায় আসার অনন্য ইতিহাস স্মরণ করতেই হয়, তা হল জান কবুল করা সিঙ্গুর আন্দোলন। তাঁর ২৬ দিনের অনশন, দীর্ঘ সময়ের টানা অহিংস অসহযোগ আন্দোলন নজিরবিহীন। আন্দোলনের ‘গর্ভগৃহ’ নন্দীগ্রাম আমাদের পথচলা দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।
বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদর্শ প্রতিবাদী জাতীয় নেত্রী। তিনিই প্রথম নোটবন্দীর বিপজ্জনক ভাইরাস ধরেছিলেন। NRC এর বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে প্রথম তীব্র প্রতিবাদের কন্ঠস্বর হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাশ্মীর সংক্রান্ত ৩৭০ ধারা বাতিল, জনগণের প্রতিবাদে তিনিই প্রধান কন্ঠস্বর। ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন ছোটো মাঝারি শিল্পকে আঘাত হানবে জি.এস.টি। বিভেদকামীদের বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে সতর্ক ও সংহত হতে বলেছেন। দেখিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শক্তির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলির দখলদারির উদ্দেশ্য। রোহিঙ্গা সমস্যার মতো একটা আন্তর্জাতিক বিষয়েও মানবিক দায়িত্বে পদক্ষেপ নিয়েছেন দিদি। জাতীয় স্তরে প্রতিবাদী নেতৃত্বের উজ্জ্বল দ্বীপশিখা জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনুন্নয়নের করাল গ্রাস থেকে আমার উদয়নারায়ণপুর কেন্দ্রকে তুলে আনার যে দায়িত্ব ৯ বছর আগে বিধায়ক হিসাবে দিয়েছিলেন, সেই মাতৃরুপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম জানাই। প্রতিটি গ্রামের সঙ্গে সংযোগকারী পাকা রাস্তা, বাসস্ট্যান্ড, স্কুল, কলেজ, গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় কারিগরি শিক্ষার মানকে উন্নত করার জন্য ITI কলেজ, হাসপাতাল এর পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ কিষাণ মান্ডি, তাঁতের হাট, ব্রিজ নির্মাণ, কমিউনিটি সেন্টার, কর্মতীর্থ প্রতিষ্ঠা উন্নয়নের অজস্রবিধ বিকাশ ধারায় আজ ঐতিহাসিক। এমনকি ঐতিহাসিক রায়বাঘিনী রাণী ভবশঙ্করী স্মৃতি পর্যটন কেন্দ্রের রূপায়ণ আপনার বহুমুখী ভাবনার ফল।
উদয়নারায়ণপুর WBMIFNP-র ২৯৩১ কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যারম্ভের যে সূচনা মাননীয় মন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী করেছেন শুধু উদয়নারায়ণপুর কেন্দ্র নয়, বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চোখের জলের জলছবি মুছে দিতে আপনি আবির্ভূতা হয়েছেন মা মহামায়া রুপে।
বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে দেশের সাথে বাংলাও যখন অক্লান্ত, আপনি তখন বরাভয়দাত্রী হিসাবে পথে। কর্মহীন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে দু-মুঠো ভাত না দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পনা দেখায়, স্বেত প্রাসাদে রাজ করার। কর্মহীন মানুষদের বাঁচার দিশা নয়, দেশ বিক্রী করা ব্যাপারীদের কন্ঠে আজ লাট-সাহেবী গণতন্ত্রের কন্ঠীমালা। জাতীয় সম্পত্তি গুলির বিলগ্নীকরনের মধ্যে দিয়ে দেশকে বিক্রী করার যে ‘আচ্ছে দিন’-এর অপেক্ষা ওরা করছিলো, করোনায় অসংখ্য মুমূর্ষ দেহের উপর দিয়ে তা কার্যকর করার সুযোগ করে নিচ্ছে। বিপন্ন এই সময়ে, অস্তিত্বের সংকটে ডুবে যাওয়া বোবাকান্না ভরা মানুষদের বাঁচাতে বিপদত্তারিণী মা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক ভাবনার চির প্রহরী আমরা। আপনিই আমাদের বিবেকী আলোর স্তম্ভ। আপনার করুণাধারায় স্নাত হয়ে জানাই ‘মা তুঝে সালাম’।
‘মা- মাটি- মানুষ’ সরকারের নবম বর্ষ পূর্তিতে বিধায়ক সমীর পাঁজার শ্রদ্ধার্ঘ
Dada jindabad
I am proud of you. Glad to be a bengalee.Bamgla is lucky to get such a political leader and Chief Minister. The people of Udaynarayanpur are lucky to get such fearless mass leader, friend, Philosopher, Guide and MLA.