সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই এবার মালবাজার মহকুমার ওদলাবাড়িতে দুর্গা পুজো হচ্ছে। প্রথম বর্ষের এই দুর্গা পুজোয় সব ধর্মের মানুষজন সামিল হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটপুজোর মাধ্যমে কাঠি পড়ল পুজোর ঢাকে। উপস্থিত ছিলো সব ধর্মের মানুষেরা। এই পুজোর মাধ্যমে সবাইকে সাম্প্রদায়িকতার বার্তা দিতে চায় এই পুজো কমিটি। তবে প্রথম বছরে ভালোই জাঁকজমক করে হচ্ছে এই পুজো। পুজো কমেটির প্রেসিডেন্ট দিলীপ চৌধুরী বলেন, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পুজো। সবধর্মের মানুষকে নিয়েই শুরু করলেন দুর্গাপুজো।
হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষকে নিয়েই হচ্ছে এই পুজো। এই পুজো থেকে সবাইকে বার্তা দিতে চাই আমরা একই ফুলের দুটি কুসুম হিন্দু-মসুলমান। বললেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিরোজ খান। মালবাজার ব্লকের ওদলাবাড়ি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে দেবীপাড়ায় হচ্ছে এই পুজো। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। এই পরিস্থিতিতে মন্ডপ তৈরীর কাজ চলছে জোর কদমে। পুজোর চার দিন ভোগের পাশাপাশি রয়েছে নানা অনুষ্ঠান।

এই পুজোর কমেটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিরোজ খান, নফসর আলী বলেন, গত দু-বছর করোনার জন্য সবাই গৃহবন্দী। সেই জন্য একে অপরের সাথে ভাব বিনিময় বন্ধ। এই পুজোর মাধ্যমে সবাইকে এক বন্ধনে আবদ্ধ করতেই পুজোর আয়োজন। আমাদের একটাই বিশেষত্ব যে আমাদের সব কিছুই ভাগ করে হয় এখানে হিন্দু মুসলমানের কোনও বিভেদ নেই। মুসলমান হিন্দু বলে আমাদের পূজোতে কোন বাধা আসে না, আমরা আমাদের পূজোর দায়িত্ব পুরোপুরি ভাগ করে নিই। আমাদের এখানে প্রত্যেকের মতামত নিয়েই সব কাজ করা হয়, ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী, নবমী থেকে দশমী হিন্দু-মুসলিম মিলেই এই পুজো করা হয়। আমাদের সবাইকে নিয়েই চলতে হয়, তাই আমরা কোন বিভেদ বিচ্ছেদ মানি না, সে কারনেই হয়ত আমাদের পুজো এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমাকে পূর্ন সহযোগীতা করেন আমার হিন্দু ভাইরা। তাদের সাহায্য না পেলে আমি হয়ত সফলভাবে এই কাজটা সম্পূর্ন করে উঠতে পারতাম না, জানালেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিরোজ খান, তিনি জানান আমাদের পূজোতে কোন বিভেদ না থাকায় আমরা হয়ত সফলভাবে কাজ করতে পারি। যখন চাঁদা তুলতে যাই তখন কিন্তু আমি নিজেকে মুসলমান ভাবি না একজন মানুষ ভাবি। এখন আমাদের পুজো যে জায়গাতে চলে গেছে এখান থেকে আমাদের ভবিষ্যতে আরো বড় পরিকল্পনা আছে বলে জানালেন ফিরোজ খান।
আমাদের এই পূজোতে সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া করে একই সাথে বসে আনন্দ করে কোন বিভেদ বিচ্ছেদ আমাদের এখানে কাজ করে না। শুধু পূজোই নয় সারা বছরই আমরা এইভাবে একসাথে মিলেমিশে থাকি জানিয়ে দিলেন এই পূজোর অন্যতম উদ্যেক্তা ফিরোজ খান।