“I had not thought death had undone so many” লন্ডন ব্রীজের উপর চলমান জনস্রোতের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন T.S.Eliot তাঁর বিখ্যাত Wasteland কবিতায় — এত মানুষ, সব মৃত! অর্থাৎ হৃদপিন্ড সচল থাকলেও অন্তরে তারা সব মৃত। কবি তাঁর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অনুভব করেছিলেন যে এরা মানুষের দেহধারী অথচ মনুষ্যত্বরহিত, এক কথায় জীবন্মৃত। প্রায় একই অনুভব থেকে ঠাকুর রামকৃষ্ণ তাঁর নশ্বর দেহ অনন্তে বিলীন হওয়ার আগে সারদা মা কে বলেছিলেন— “কলকাতার লোকগুলো অন্ধকারে পোকার মত কিলবিল করছে। তাদের তুমি দেখো।” অর্থাৎ ঠাকুর তাঁর সহধর্মিণীকে এক গুরু দায়িত্ব দিয়ে গেলেন, লোকশিক্ষা দিয়ে জীবন্মৃত মানবজাতিকে প্রকৃত মনুষ্যত্বের মর্যাদায় উন্নীত করার দায়িত্ব। অসহায়, অনাথ, আতুর, অবলের মুক্তিদাত্রী হিসেবে তিনি শ্রী মায়ের ভূমিকা নির্দিষ্ট করে দিলেন। “অন্ধজনে দেহো আলো, মৃতজনে দেহো প্রাণ”। ঠাকুরের নির্দেশ শিরোধার্য করে শ্রী মা তাঁর বাকি জীবন উৎসর্গ করে দিলেন জগতকল্যাণব্রতে। প্রথাগত ও পুঁথিগত শিক্ষাবঞ্চিতা অথচ অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা ও পরিশীলিত জীবনবোধের দীপ্তিতে ভাস্বর সারদামায়ের পবিত্র জীবনই তাঁর বাণী। পল্লিবালিকা সারদামণি থেকে বিশ্ববিশ্রুত সন্ন্যাসী সঙ্ঘের ‘সংঘজননী’ হবার পথে তাঁর চলার পথের সকল কাঁটা ধন্য হয়ে ফুল হয়ে ফুটে উঠেছিল।
শ্রীরামকৃষ্ণের উচ্চ আদর্শকে সম্বল করে ব্যবহারিক বা আধ্যাত্মিক জীবনে কিভাবে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করা যায়, তা জগৎকে জানিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। আর শ্রী শ্রী মায়ের জীবনে আমরা দেখি সেই অত্যুচ্চ আদর্শের ব্যবহারিক প্রয়োগ। ‘আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শিখায়’ এই বাণী মূর্ত হয়েছে শ্রী মায়ের জীবনে। তাঁর পুণ্য জীবনকথার প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের শিক্ষণীয় পাঠ্যবস্তু। যুক্তিনিষ্ঠা, সমাজচেতনা, বুদ্ধিমত্তা, সর্বোপরি অকৃত্রিমভাবে জগতের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে শ্রী মা হয়ে উঠেছিলেন রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের প্রকৃত পরিচালিকা,সার্থক সংঘজননী। সূর্য্যসম তেজস্বী ব্যক্তিত্বের অধিকারী সন্ন্যাসীদের চালিকাশক্তি, জগন্মাতা।ভগিনী নিবেদিতা সশ্রদ্ধ চিত্তে জানিয়েছেন মায়ের প্রতি সন্ন্যাসীদের বীরোচিত সম্ভ্রম প্রদর্শনের কথা। তাঁর জীবনালেখ্যটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি উপদেশ দিতেন কম,বুঝিয়ে দিতেন সবকিছু আর নিজেই করে দেখাতেন কিভাবে চলতে হয়। স্বামী ভূতেশানন্দ এই সারকথা-টি তুলে ধরেছেন তাঁর ‘লীলাসঙ্গিনী’ প্রবন্ধে: “তাঁর গুরুভাব মাতৃত্বের আবরণে মন্ডিত।” …”মায়ের শিক্ষা, স্নেহের ভিতর দিয়ে শিক্ষা। অদ্ভূত শিক্ষা এটি। কোন ভর্ৎসনা না করে, “আমি তোমাদের শিক্ষা দিচ্ছি” এই অভিমান না নিয়ে, কোন বড় বড় দার্শনিক কথা না বলে শুধু “আমি তোমাদের মা” এই ভাব নিয়ে সকলকে শিক্ষা দিয়েছেন — পদে পদে তাদের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন”। আর কেই বা অস্বীকার করতে পারে মা হলেন মানবজীবনের প্রথম এবং প্রধানতম শিক্ষয়িত্রী।সেইজন্যেই তো শ্রীমা শ্রেষ্ঠ শিক্ষয়িত্রী, শরণাগত দীনার্ত পরিত্রাণপরায়ণা ‘পরম গুরু’।
মা বলতেন “আমি সত্যিকারের মা; গুরুপত্নী নয়, পাতানো মা নয়, কথার কথা মা নয় — সত্য জননী।” কখনো বলেছেন “আমি তোমাদের জন্ম জন্মান্তরের মা।” যিনি নিজেকে ইতর প্রাণীদের ও মা বলে দাবী করেন সেই জগন্মাতা তাঁর প্রাণের ঠাকুরের দেহাবসানের পর আকুল হয়ে প্রার্থনা করেছিলেন তাঁর সন্ন্যাসী ছেলেদের যেন একটি নিশ্চিত আশ্রয় হয় যেখানে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঠাকুরের আরব্ধ কর্মে নিযুক্ত থাকতে পারবে। তিনি নিজের জাগতিক দুঃখ কষ্ট নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নন, কিন্তু তাঁর প্রখর বাস্তববোধ তাঁকে বুঝিয়েছিল রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলন এর প্রবাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে একটি মঠ স্থাপনার আশু প্রয়োজন। ঠাকুরের দেহাবসানের পরে তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা প্রবল বৈরাগ্যের তাড়নায় বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। মঠ স্থাপনার মাধ্যমে তাঁদের এক সূত্রে বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজনটি তিনিই প্রথম অনুভব করেছিলেন। “ওরা সব তোমাকে, আর তোমার ভাব উপদেশ নিয়ে একত্রে থাকবে। আর এই সংসার তাপদগ্ধ লোকেরা তাদের কাছে এসে তোমার কথা শুনে শান্তি পাবে।” প্রাচ্যে পাশ্চাত্যে স্বামী বিবেকানন্দ ছড়িয়ে দিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ-ভাব। অন্তঃপুরবাসিনী শ্রীমাও সেই ভাবকেই নিজের জীবনচর্যায়, উপদেশ ও শিক্ষায় ফুটিয়ে তুললেন। মায়ের ভূমিকা তখনকার প্রেক্ষাপটে ছিল অকল্পনীয়। মানবকল্যাণে তাঁকে যে অনেক বেশী নিজেকে প্রয়োগ করতে হবে, একথা ঠাকুরই বলে গিয়েছিলেন মা’কে। প্রেমানন্দ বলেছিলেন যে বিষ তাঁরা হজম করতে পারেন না, সব মা কে চালান করে দেন। “সকলকেই মা কোলে তুলে নিচ্ছেন। অনন্ত শক্তি। অপার করুণা।” অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্তের ভাষায় “অন্নের মত মন্ত্র বিলিয়েছেন মা। সেই মন্ত্রই উপবাসী জীবনের পরমান্ন।” পরমার্থকামী ভক্তকে মা বলেছেন ঈশ্বরলাভ করলে দুটো শিং গজায় না বরং মন টা ফুলের মত হয়ে যায়, শিশুর মত হয়ে যায়, জ্যোৎস্নার মত হয়ে যায়। আর মন পবিত্র হলেই জ্বলে ওঠে নিষ্কম্প দীপশিখার মত আর তখনই বিশ্বরূপ দর্শন সম্ভব। যা ছিল শুষ্ক কাষ্ঠ, হয়ে উঠল সঞ্চারিনী পল্লবিনী শাখা। আত্মবিলয়ী ত্যাগ ও চিরসহিষ্ণু তিতিক্ষার প্রতিমূর্তি শ্রী মা তাঁর পূত পবিত্র জীবনদীপটি জ্বালিয়ে ক্রমশঃ শরণাগত, দীন, আর্তের অলোক পথের আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছেন।
স্বামী সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী। কিন্তু অধ্যাত্ম চেতনার সুউচ্চ শিখরে সমারূহা হয়েও শ্রীমা বাস করেছেন সংসার সমতলে। আর পাঁচজনের একজন হয়ে। তাই তিনি ঠাকুরের তুলনায় অনেক বেশি ‘worldly wise’, অসাধারণ বাস্তববোধ সম্পন্না। প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিতা মা জীবনের শিক্ষায় শিক্ষিতা। স্বামী বিবেকানন্দের আমেরিকা যাত্রা কালে তাঁকে উদার সমর্থন করলেন ও আশীর্বাদ করলেন। তিনি বুঝেছিলেন এতেই সার্বিক কল্যাণ। সেই সময়ের তুলনায় কত উদার ও প্রগতিশীল তাঁর হৃদয়। বিমুগ্ধ প্রণতি জানাই এই বিবেচনাশক্তি ও দূরদর্শিতার আধারকে। তিনি সর্বদা সদসৎ বিচার করতে বলতেন। গুরুর নাম করে যে কোন হিতকর সিদ্ধান্ত নিলে তা সর্বদা সুসমাপ্ত করতে বলতেন। তিনি নিজেও তাঁর জাগ্রত বিবেকের অনুশাসনে সর্বদা মঙ্গলকামী ও হিতকর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ও সেই সিদ্ধান্ত থেকে কখনও সরে আসেননি। বাহ্যিক চাপের কাছে মাথা নত করেননি কখনও। মানবিক ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নেওয়া তাঁর অনেক সিদ্ধান্তই সাধারণ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, সামাজিক বিধিনিষেধের শৃঙ্খলে বাঁধা এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বোধের অগম্য ছিল। তাই তাঁকে বিবিধ বিষয়ে বিরূপ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করে নিজের শ্রেয়বোধের চেতনাকেই অনুসরণ করেছেন। ভ্রাতুষ্পুত্রীদের বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণের জন্য প্রেরণ, বিদেশিনী ও বিধর্মীদের সঙ্গে বসে খাদ্যগ্রহণ, নীচু জাতির ভক্তের উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার করা, মুসলমান ভক্তকে ছেলে বলে সম্বোধন, মুসলমানের দেওয়া ফল ঠাকুরের পুজোতে দেওয়া, বারাঙ্গনাদের অভিনয় দেখতে গিয়ে তাদের প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করা ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে নিহিত ছিল তাঁর নিঃশব্দ বিপ্লবের বীজ।
প্রখর বাস্তব বোধ সম্পন্না মা যুক্তিনিষ্ঠ চিন্তাকে কুলপ্লাবী আবেগের উপরে স্থান দিয়েছেন বরাবর। প্লেগ মহামারী-র সময় স্বামীজি সঙ্ঘের জমি বিক্রয় করে সেবাকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইলে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে তাঁকে নিবৃত্ত করেছেন। অদ্বৈতবাদি রামকৃষ্ণ সংঘের মায়াবতী আশ্রমে ঠাকুরের পটপূজা হবে কি না এই সংশয় কালে তিনি কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ পরিচালিকার মতই পটপূজার বিপক্ষে মত দিয়ে সঙ্ঘের অদ্বৈতবাদী সত্বাতে সময়োচিত ও জরুরী সিলমোহরটি প্রয়োগ করতে তিলমাত্র দ্বিধা করেন নি। স্বয়ং বিবেকানন্দ যে ভৃত্য কে বহিষ্কার করেছেন, তাকে আবার মঠে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন মা। সংঘ পরিচালনা কালে এমত অসংখ্য ছোট বড় ঘটনায় তাঁর যুক্তিনির্ভর, উদার ও জগতের সার্বিক কল্যাণকামী হৃদয়ের পরিচয় পাই। একজন সুদক্ষ প্রশাসক এর মতই বিপদে সম্পদে তাঁর প্রাণের ঠাকুরের মঠকে তিনি অবিচল সংকল্পে রক্ষা করেছেন। সংঘজননী হিসেবে বিভিন্ন জটিল ও বিপন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি অনায়াসে দেশকালের সীমানা পেরিয়ে বর্তমান যুগের ‘management institution’ গুলির পাঠ্য তালিকায় স্থান পেতে পারে। ঠাকুরের নাম করে যা হিতকর এমন কাজ দ্বিধাশুণ্য মনে করে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর আরও একটি পরামর্শ ব্যবহারিক জীবনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেছেন সংসারে সকলকেই একটু সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে চলতে। সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে যে কোন ব্যক্তির (শত্রুভাবাপন্ন হলেও) বিশ্বাস অর্জন করে নিতে পারলে যে কোন কাজ সুষ্ঠু ভাবে করা সম্ভব হয়। ভগবান তথাগত বুদ্ধ প্রবর্তিত ‘মজঝিম পন্থা’ অর্থাৎ কোন পক্ষেই চরম কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন, দুদিকের বা দুই পথের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা, এই ছিল মায়ের পথ। আজও পর্যন্ত এই ভারসাম্য রক্ষাকারী মধ্যপন্থাই কি ব্যবহারিক কি আধ্যাত্মিক জীবনে শ্রেষ্ঠ পন্থা হিসেবে স্বীকৃত।
নিবেদিতা তাঁর ‘Master as I saw him’ গ্রন্থে লিখেছেন— “প্রজ্ঞা ও মাধুর্যের সমন্বয় সরলতম নারী জীবনেও কিভাবে করা সম্ভবপর, তাঁকে দেখলে তা বোঝা যায়। কিন্তু সেই সঙ্গে আমার কাছে তাঁর অধ্যাত্ম মহিমার মতোই অপূর্ব ঠেকেছিল তাঁর সম্ভ্রান্ত সৌজন্যের সৌন্দর্য, তাঁর উদার মুক্তমনের মহিমা। যত নূতন বা জটিল সমস্যাই তাঁর কাছে উপস্থিত করা হোক, আমি কখনো তাঁকে উদার ও মহৎ সিদ্ধান্ত জ্ঞাপনে কুণ্ঠিত দেখিনি। এক দীর্ঘ নীরব প্রার্থনার মতো তাঁর সমগ্র জীবন। ব্রাহ্মণ্যশাসিত সমাজের মধ্যে তাঁর জীবন অতিবাহিত হলেও তিনি প্রতি ক্ষেত্রে নিজেকে পরিবেশের উপরে উন্নীত করতে পারেন। অপকৃষ্ট আচরণে যদি কেউ পীড়িত করে থাকে তাঁকে — আর কিছু না করে এক সঘন বিচিত্র নীরবতায় নিজেকে গুটিয়ে নেন। যদি কেউ তাঁর অভিজ্ঞতার বহির্বর্তি সামাজিক সমস্যার যন্ত্রণার কথা জানায়, তিনি তৎক্ষনাৎ অভ্রান্ত অন্তর্দৃষ্টিতে ঘটনার মর্মে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে সমাধানের সঠিক পথ দেখিয়ে দেন। আর যখন কঠোরতার প্রয়োজন? সেক্ষেত্রে কোনোরকম বুদ্ধিহীন ভাবালুতায় বিভ্রান্ত হন না।” ভগিনী নিবেদিতার মতো মহীয়সীর পক্ষেই সম্ভব লেখনীর মাধ্যমে শ্রী শ্রী মায়ের অপার মহিমাকে এমন নিখুঁত রূপে ফুটিয়ে তোলা। নিবেদিতার এই অসাধারণ বিশ্লেষণ আমাদের সম্যকভাবে বুঝিয়ে দেয় কেন আজও মায়ের জীবনচর্যা ও জীবনবোধ আমাদের জন্যে এক অমূল্য শিক্ষণীয় সম্পদ। জীবন দিয়ে যিনি শিক্ষা দিয়ে গেলেন, আজ শিক্ষক দিবসের পুণ্য লগ্নে সেই মহাশিক্ষয়িত্রী সারদা সরস্বতীর চরণপ্রান্তে সমস্ত হৃদয় দিয়ে প্রণতি জানাই।
সৎ, অসৎ, অনাথ, আতুর, সবল, দুর্বল তিনি সকলের মা, এককথায় জগজ্জননী। ‘বিগলিত করুণা জাহ্নবী যমুনা’ স্বরূপিনী মায়ের অতুলনীয় সহনশীলতা, ঐকান্তিক সেবা, স্বচ্ছ বুদ্ধি, যুক্তিনিষ্ঠ বিবেচনাশক্তি, গভীর মননশীলতা, উদার মানবিক মূল্যবোধ ও অপার করুণার উদাহরণ থেকে আমরা যদি সামান্য শিক্ষা নিতে পারি তাতেই আমাদের নশ্বর জীবন ধন্য হয়ে যাবে।… “যখন দুঃখ পাবে, আঘাত পাবে, বিফলতা আসবে তখন নিশ্চিত জেনো আমি তোমার সঙ্গে রয়েছি। ভয় পেয়ো না, হতাশ হয়ে না, বাবা! আমি থাকতে তোমাদের ভয় কি? আমি তোমাদের মা — সত্যিকারের মা।… জেনো, বিধতারও সাধ্য নেই যে আমার সন্তানদের কোন ক্ষতি করেন। আমার উপর ভার দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে থাক।… আমি তোমাদের ইহকালের মা, তোমাদের পরকালের মা। আমি তোমাদের জন্ম জন্মান্তরের মা। আমি মা থাকতে তোমাদের ভয় কি?”… এমন অভয়বাণীকে সম্বল করেই তো সংসার রূপী মারের সাগর পাড়ি দেওয়া যায়—
“দিন ফুরালে জানি জানি পৌঁছে ঘাটে দেব আনি
আমার দুঃখ দিনের রক্তকমল তোমার করুণ পায় ..
আমি মারের সাগর পাড়ি দেব বিষম ঝড়ের বায়ে
আমার ভয়ভাঙা এই নায়ে …”
কৃতজ্ঞতা স্বীকার : ১) শতরূপে সারদা (সম্পাদক স্বামী লো কেশ্বরানন্দ)। ২) সারদা অনুধ্যান (সম্পাদক স্বামী প্রভানন্দ)। ৩) Master as I saw him (Sister Nivedita)
অসাধারণ। এত সুন্দর তথ্যবহুল লেখা সমৃদ্ধ করবে পাঠকদের।প্রণাম জানাই জগৎজননী মা সারদা কে। আজকের দিনে ও তাঁর সহজ সরল কথা অশান্ত মনের বড়ো ভরসা।
জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণ জগদগুরং পাদপদ্মে তয়োশ্রিত্বা প্রণমামি মুর্হূমুর্হূ????????????