| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

অসংলগ্ন ভাবনা : শাঁওলি মিত্র

Reporter
শাঁওলি মিত্র / ৩৬০ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২২

পূজা সংখ্যা অর্থাৎ আনন্দ সংখ্যা। কিন্তু ‘আমি’ ব্যক্তিটি ঠিক আনন্দ উপভোগ করতে পারছি না। তার কারণ আমাদের পরিপার্শ্বে যা ঘটে চলেছে তা আর ঢেকে রাখবার উপায় নেই। অনেকেই বলেন, বয়স হয়ে গেলে মানুষ সর্বসময়ে নিজেদের যুগ কতো ভালো ছিল এইরকম বলে থাকেন। তাঁরা মনে করেন, আজ বর্তমানে যা ঘটছে তার সবই অবক্ষয়ের চিহ্ন। কিন্তু আজকের সময় সম্পর্কে এই মন্তব্য বড়ো বেশি সরলীকরণের পরিচয়। আজকের সময়টা সর্বক্ষেত্রে— রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক— সর্ব পরিসরেই বড়ো দুঃসময়ের পরিচয় দেয়। আর তা নিয়ে নামী সমাজবিদ্‌ সম্প্রদায়ও চিন্তিত।

কিন্তু এই অবস্থায় কেন পৌঁছোলাম আমরা? আমরা কি নিজেদের অন্দর খুঁজে দেখেছি যে এই ভয়ংকর অবস্থায় পৌঁছোনোর কোনও দায় আমাদের আছে কিনা? নিজেরে ক্ষুদ্র সংসারেই প্রায় অজান্তে পরিবারের মধ্যে ঈর্ষা, দ্বেষ, আক্রোশ—এই সবই উপজিত হয়। আমাদের বাড়ির শিশুদের মধ্যেও তা সংক্রামিত হয়। আমরা কি তা খেয়াল করি?

পূর্বে হয়তো আমরা মারামারি, খুনোখুনি দেখেছি আর ভেবেছি এ এক অপরাধপ্রবণ আলাদা শ্রেণি যারা আমাদের সঙ্গে সম্পর্কহীন। তারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এই সমস্ত করে জীবন নির্বাহ করে। তারা সাধারণ ভদ্রসমাজকে কিঞ্চিৎ এড়িয়ে চলে। তারা নিজেদের মধ্যে যথেচ্ছ নেশা করে। কিন্তু সাধারণভাবে পাড়ায় মাতলামো করে বেড়ায় না।

এখন আমাদের মতো বাড়িতেই সেই ‘বাজে’ ছেলেরা ছড়িয়ে পড়েছে। তৈরি হয়েছে ‘মস্তান’। তার বীজ রাজনৈতিক ঘটনাবলি, আর নেতাদের এসব কাজে উস্কানির দরুণ। তাঁদের কল্যাণেই পাড়ায় পাড়ায় সৃষ্টি হয়েছে গুন্ডার দল। এ আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। আমার বয়সি বা আমার চেয়ে কিঞ্চিৎ বড়ো ছেলেরা হয়ে উঠলো ‘মস্তান’। আমরা তাদের ভয় পেতে শুরু করলুম।

আমাদের বড়ো হওয়ার মধ্যেই দেখতে পেলুম ‘মহৎ আদর্শ’-র নাম নিয়ে কত মেধাবী ছাত্র ছড়িয়ে পড়লো বীভৎস কর্মকাণ্ডে। তাতে যে কোনও মানুষকে ‘শ্রেণিশত্রু’ বা ‘খোচর’ বলে অভিহিত করে হত্যা করা এবং শ্রদ্ধেয়কে অসম্মান করাই প্রথম এবং প্রধান শিক্ষা। কিন্তু যে আদর্শের জন্য তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং বিশ্বাস করেছিল এইটিই একমাত্র মুক্তির পথ সেই আদর্শের প্রতিফলন ঘটলো না তাঁদের কাজকর্মে। বৃহত্তর মুক্তির জগতের দিশা দেখালেন না তাঁরা।

আর যাঁরা সত্যি সত্যি একসময়ে আদর্শকে শিরোধার্য করে পিছনে না তাকিয়ে এই হত্যার খেলাকেই পুণ্যকর্ম বলে ধরে নিয়েছিলেন তাঁদের অধিকাংশের জীবনে কোনও আশার আলো দেখা দিলো না। রথের চাকায় তাঁদের হাড় গেল গুঁড়িয়ে। মন্ত্রদাতার পরামর্শে তাঁরা বিশ্বাস করেছিলেন বোমাবাজি, খুনোখুনির আড়ম্বরই হলো শক্তি প্রদর্শনের একমাত্র পথ। কিন্তু সেই কল্পনা তাঁদের পথের কণ্টকময়তাকে দূরীভূত করলো না। যা হলো সে পরিণামে দুঃখের অবধি রইলো না। একটি দশকের ভরা যৌবন নষ্ট হয়ে গেলো। তাঁরা ফুল ফোটাতে পারলেন না।

যে সময়ে আমাদের দেশে এটি ঘটেছে ইতিহাস ঘাঁটলে সহজেই দেখা যাবে আমাদের প্রতিবেশী চীন দেশে ঠিক এই সময়েই ‘কালচারাল রেভল্যুশন’-এর নামে শুরু হয়েছে নিষ্ঠুরতার চরম নিরীক্ষা। চার বছর ধরে সেই বিশৃঙ্খলা চলেছিলেন আর তা সে দেশের সর্বপ্রধান রাষ্ট্রনেতা মাও জে দঙের প্রশ্রয়ে। রেডগার্ড তৈরি হয়েছিল। এদের নাম শুনলেই সাধারণ মানুষের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেতো। এমনই ভয়ংকর ছিল তাদের আচরণ। ঠিক যেমন শুনে থাকি হিটলারের জমানায় গেস্টাপোদের নাম শুনলেই মানুষ ভয়ে কাঁপতেন!

তারপরে জীবনের সাধারণ নিয়মেই দল ভাঙলো। শুরু হলো পারস্পরিক হত্যা। স্বাধীন অঞ্চল তৈরি করে ফেললো এই খুনের দল। অবস্থা এমন স্তরে পৌঁছোলো যে তখন স্বয়ং মন্ত্রদাতাকেই পুলিশ দিয়ে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যন্ত্র ব্যবহার করে তা সামাল দিতে হলো।

খেয়াল করলে বুঝতে পারবো প্রায় একই গতি ধারণ করেছিল আমাদের এখানকার বিপ্লব। আর সেই বিপ্লবের ঠ্যালাতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রদেশে এই বাণী প্রচারিত হয়েছিল ‘চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’। এই নিষ্ঠুর সময়ে কত নেতার মৃত্যু হলো, কত নেতাকে স্বীকার করে নিতে হলো সেই রাজনৈতিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠ দলকেই যাদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল তাঁদের লড়াই। তাঁদেরই স্তুতি করে কাটাতে হয়েছে তাঁদের বাকি জীবন। কারও কারও ভাগ্যে সেই শান্তি এখনও চলছে। পঙ্গুত্ব আর নানান ধরনের ব্যাধির শিকার হয়ে কর্তাভজনার দ্বারা জীবনযাপন। কী দুঃখের এই কাহিনি।

সেই সময়ে বুদ্ধিমান ছেলে যাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাঁদের দু-একজনের পরিবারকে ঘটনাচক্রে আমি চিনতাম। দেখেছি সেই কিশোরদের প্রচণ্ড ক্রোধ তাঁদের গুরুজনদের প্রতি। শুধু ক্রোধ নয়, ঘৃণাও। তার কারণ তাঁরা দেখেছেন তাঁদের অভিভাবকদের বিশৃঙ্খল আচরণ। তাঁদের ভণ্ডামি। তাঁদের মিথ্যা আচরণ। তাঁরা কোন বাড়ির ছেলে সেই পরিচয় দিতে তাঁরা লজ্জা বোধ করেন। তাই তাঁরা মনে করে নিয়েছিলেন নতুন যুগ উদিত হলে এই গ্লানি থেকে তাঁরা মুক্তি পাবেন। তাঁরা তাঁদের মন্ত্রদাতাদের বিশ্বাস করেছিলেন।

যখন আন্ডারগ্রাউন্ডে যেতে হলো তখন দলের কর্দমাক্ত চেহারা তাঁরা উপলব্ধি করলেন। তাঁরা দেখলেন তাঁদের নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে বিভাজন প্রবল। তাঁরা দেখেঁন গুপ্তচরবৃত্তি কেমন প্রবল হয়ে উঠেছে তাঁদের নিজেদের মধ্যে। যাকে বন্ধু ভাবছেন সে-ই হয়তো বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। আমরা বুঝতে পারি কী নিদারুণ সে অভিজ্ঞতা! এবার ভাবি যে এই তরুণদের এই অধঃপাতের মুখে ঠেলে দেওয়ার মুখ্য তথা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কারা?

আমাদের মতো অনেকের মনে হয় সন্তানদের মূল্যবোধ শিক্ষার যে অনিবার্য দায়িত্ব তাঁদের অভিভাবকদের হাতে রাখতেই হয় সেখানে তাঁরা ঠিক সফল নন। হয় তাঁরা ইচ্ছুক নন, নয় অপারগ। আজকের অভিভাবকেরা অনেকাংশেই খুব সচেতন নন এ বিষয়ে। তাঁদের এই সচেতনতার অভাবেই তাঁরা শিশুকাল থেকে সন্তানদের ঘুষ দেওয়া শুরু করেন।

তারাও তাদের অবচেতনে বুঝে যায় কীভাবে তার পিতা-মাতাদের ব্ল্যাকমেল করে তাঁদের কাছ থেকে পাওনা আদায় করা সম্ভব। এ এক প্রচণ্ড ব্যাধি এই আধুনিক সময়ে। এতে যে শিশুটিকে লুব্ধ করে তোলা হচ্ছে তা-ও তাঁরা বা আমরা বুঝি না। নিছক দুষ্টুমি মনে করে প্রশ্রয়ের হাসি হাসি। ফলে যা হবার তাই হয়। মিথ্যাচার, স্বার্থপরতা, লোভ, হিংসা তাদের মনে শিকড় গেঁথে দেয়। যখন সে ক্রমে বড়ো হয় ততই সেই শিকড় প্রসারিত হতে থাকে। একটি মোবাইল বা একটি বাইকের অপ্রাপ্তিতে আত্মঘাতী হচ্ছে কিশোরেরা। কী ভয়ংকর এই ঘটনা। সামান্য ঘটনায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে এই কাপুরুষ সন্তানসন্ততি।

আর বিশেষ করে এই শতকে ভোগবাদের চেহারা এমন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে যে তা থেকে সন্তানদের বাঁচানো যে কত জরুরি তার তোয়াক্কা না করে অভিভাবকেরা নিজেরাই সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন। তাতে ক্ষতি হচ্ছে সমাজেরই। কারণ সেই জীবনযাপন স্বাভাবিক নয়। বিত্তশালী থেকে শুরু করে গরিব বস্তিবাসী পর্যন্ত এই অসুখের শিকার। সকলের লোভই সীমাহীন। আর সীমানা বাঁধা নেই বলেই তার আকার বিকারে পর্যবসিত হয়। আর তাই নিজের সুখের জন্য মা তার সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে দ্বিধা করে না। সূচবিদ্ধ শিশুকে উদ্ধার করা হয় এক আস্তানা থেকে।

স্ত্রী তার স্বামীকে খুন করে দিতে পারে রাত্রে। যখন সে কাজ থেকে ফিরে এসে বাড়িটাকে নিজের আশ্রয় মনে করে স্বস্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছেন তখন তাঁর নিজের স্ত্রী তার প্রেমিকের সহায়তায় তাকে রক্তাক্ত করেছে। আবার ঠিক উল্টোটাও এমনি করেই ঘটে যায়। আপন সন্তান সরিয়ে দেয় রুগ্ন জননীকে, ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে। বাপ ছেলেকে মারে। ছেলে বাপের-মায়ের শরীরের রক্ত দেখে উল্লসিত হয়।

অর্থাৎ এ প্রজন্মের কোনও সামাজিক প্রয়োজন সম্পর্কে ভাবনার উদ্দেশ্য অনুপস্থিত। সমাজ সংস্কারের কোনও উৎসাহ নেই। অধিকাংশেরই। সেসব যেন অত্যন্ত হাস্যকর ব্যাপার। সভ্যতা অন্ধ বেগে দুদ্দাড় এগিয়ে চলেছে। লক্ষ্যহীন।

রক্ত দেখতে কেন এত ভালোবাসে এ সমাজ? সর্বস্তরে? সকলে নয়, কিন্তু যারা সেই দিকে এগোচ্ছে তাদের সংখ্যাও কম নয়! নিজের বন্ধুকে মৃত্যুপথে ঠেলে দিয়ে আনন্দ পায় বাল্য? কৈশোর? এ কেমন সমাজ? আগে মনে হতো সভ্যতার এই অভিশাপ বুঝি নগরকেন্দ্রিক। বিশ্বাস ছিল যেখানে অনেক সবুজ, যেখানে মাঠে ধান গাছ ক্রমে বেড়ে উঠে অদ্ভুত শিহরন জাগাতে পারে শরীর মনে— যেখানে জীবনের জন্ম ও বৃদ্ধি এমন দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংলগ্ন সেখানে নিশ্চিত সেই বিশুদ্ধতার আধার রক্ষিত আছে জীবনযাপনে। কিন্তু সে বিশ্বাসও ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এ কেমন যাপনে, কেমন চর্যায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি আমরা?

তারই সঙ্গে লালসা ও শরীরের ক্ষুধা। এবং নিষ্ঠুরতা। নির্ভয়া কাণ্ডের কথা আমরা তো ভুলতে পারব না। আর তখন তারই সঙ্গে মনের মধ্যে ভেসে উঠবে আরও কত অনুরূপ ঘটনা। মনে পড়বে বাপ-মা জেনেশুনে কেমন করে বালিকা কন্যাকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবসাদারদের হাতে তুলে দেয়। বাপ তার শিশুকন্যাকে রেহাই দেয় না। এই যাপন আমরা নির্বিকার মনে মেনে নিই। ধিক্কার জাগে না? এই সমাজে বসবাস করতে হচ্ছে বলে? এই ঘটনা পড়ে কিংবা নিজের মধ্যে ক্কচিৎ কখনও ‘ছি-ছি এসব কী হচ্ছে!’ তারপরে নতুন সুস্বাদু খাবার কোন রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় তা নিয়ে সরস আলোচনা করি। কিংবা কোন কোম্পানির কোন দ্রব্য ব্যবহার করলে সুন্দরী বা রূপবান হয়ে উঠবো তা নিয়ে জল্পনা করি। বা সেদিনই সন্ধ্যায় বন্ধু আগমনে কোন বোতলটি সার্ভ করে চমক দেওয়া যাবে তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

প্রত্যহ এই হত্যা আর লালসার বিবরণ খবরে পড়ে বা দেখে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি হয়তো। যেমন নাতসি বাহিনীর অত্যাচার দেখতে দেখতে বহু মানুষ তাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলো। ‘ফ্যুয়েরার’কে সম্মান জানাতে তাঁদের বাধতো না। মনে করতেন এতেই জার্মানির উন্নতির ভিত পাকা হচ্ছে! তাই পার্টি হতো—মদ্যপান, নাচানাচি, ফূর্তি—সবই চলতো। আর কোনও কোনও মানুষের দল তখন গ্যাস চেম্বারে ছটফট করে মরতেন। বরফ-পড়া হিমেল আবহাওয়াতেও তাঁদের গায়ে সুতোটি থাকতো না, তাঁদের কেশ মুণ্ডিত, বিনা খাদ্যে দিনের পর দিন অতিবাহিত করায় তাঁদের কঙ্কাল বলে ভ্রম হতো। আজ আমাদের দেশে এখনও তেমন ঘটনা প্রসারিত হতে পারেনি এ দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্রের জন্য। যতই তার অপব্যবহার হোক না কেন!

কিন্তু এমনটিই যে চলবে তার কোনও নিশ্চয়তা আছে কিনা বুঝতে পারি না এই ২০১৮ সালে দাঁড়িয়ে যেভাবে নোটের বাঘবন্দির জুয়ো খেলা চললো, আধার কার্ড নিয়ে যেভাবে তথ্যাদি অনভিপ্রেয় মানুষের কাছে চলে গেল তাতে ভয় হয়। কারণ এরই মধ্যে ব্যাঙ্ক লুঠ করে তো ব্যবসাদার বিদেশে পালাতে সক্ষম হলো! তাকে ধরতে পারা গেল না। তাই মনে হয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় গিয়ে কেউ যদি ধীরে ধীরে আমাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা হরণ করবার পরিকল্পনা করে, খুব আশ্চর্য হবো কি? যেখানে ‘গণপিটুনি’তে মানুষকে হত্যা করলে প্রশাসনের বাহবা পাওয়া যায়, আশ্রয় পাওয়া যায় ‘একুশে আইন’-এর ছত্রছায়ায়?

তার ওপরে আমাদের সেক্যুলার স্টেটকে যেভাবে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করবার চেষ্টা চলেছে তাতে আমাদের, যারা কিঞ্চিৎ শুভবুদ্ধি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই, তাদের ভয় করাই তো স্বাভাবিক। আমরা দেখছি ‘বাবা’ পরিচিতি নিয়ে কত মানুষ অক্লেশে ব্যবসায়ী হয়ে নিজেদের পরিচিতিকে উজ্জ্বলতর করে তুলছেন আমাদের কাছে। আর আমরা বিশ্বাস করছি তাঁদের! তাঁদের গড় হয়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করতে তাঁহা তাঁহা লোকেরও বাধছে না। আর তা যখন ছোটোপর্দায় ভেসে ওঠে তখন তো সে এক ‘অভিজ্ঞতা’! আমরা বিগলিত হয়ে পড়ি। দেশের প্রধানেরাও তো বাহবা দিচ্ছেন এই ‘সাধু বাবা’দের! কেউ হরেক জিনিসের দোকানদারি করছেন, কেউ এয়ার কন্ডিশন্‌ড ইস্কুল খুলে বসছেন।

আমাদের একবারের জন্যও মনে হয় না এই লোভার্তদের কাছে নিজেদের সমর্পণ করে আমরা নিজেদের ছোটো করছি। আমাদের আত্মবিশ্বাস ক্রমে তলানিতে ঠেকছে। আমরা ভাবছি পুজো-আচ্চা করে, এইসব ‘বাবা’দের গড় করে, তাঁদের প্রদত্ত ভুয়ো মন্ত্র পাঠ করে আমরা ধনে-মানে বড়ো হয়ে উঠে সটান স্বর্গদ্বারে পৌঁছে যাবো। আর তাইতেই যদি মোক্ষ হয় তাহলে তো নীচে নামতে নামতে ক্লেদাক্ত হতে কোনও বাধা নেই!

চতুর্দিকে এই পতন দেখি। বিশ্বাস করতে যাই, বিশ্বাস ভাঙে। আমাদের লেখক বন্ধু, অভিনেতা বন্ধু—যাঁরা সমাজে আধুনিক ও বুদ্ধিজীবী বলে পরিচিত তাঁরাও অন্ধবিশ্বাসের যূপকাষ্ঠে নিজেদের বলি দিচ্ছেন তা প্রত্যক্ষ করে মনে হয় এই গোমূত্র বা গো অক্ষরের সঙ্গে সর্ব বস্তুকে নিয়ে মাতামাতি করাই যদি আমাদের জাতীয় পরিচয় হয়ে ওঠে এবং তারই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অধিবাসীদের প্রতি সম্মান জানাতে ভুলে যাই তাহলে কি আমরা ‘মানুষ’ বলে পরিচিত হবো আর? কী পরিচয় নিয়ে বাঁচবো আমরা? কী পরিচয় নিয়ে বাঁচবে আমাদের সন্তানেরা, আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের শিশুরা?

পুরো লেখাটাই হয়তো বড়োই নেতিবাচক ভাবনা প্রকাশ করল। এর বিপরীত দিকও সমাজে বর্তমান। কিন্তু ক্রমে তাঁরা সংখ্যালঘুতে রূপান্তরিত হচ্ছেন। আর তা-ই তো এত ভয়!

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev